Latest News

ইতিহাসে দাগ কেটে যাওয়া কিছু ছবি, যেগুলিকে ক্যামেরাবন্দি গল্প বললেও ভুল হবে না

ঊনবিংশ শতাব্দী ও বিংশ শতাব্দীর ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছু সাদাকালো ছবি। যেগুলি পরবর্তীকালে বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল।

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  অনেকের কাছে অতীত অনেক বেশি আকর্ষণীয়,বর্তমান ও ভবিষ্যতের থেকে। ইতিহাসের পাতা থেকে এই সমস্ত মানুষেরা খুঁজে নেন বিভিন্ন ঘটনা। মনের পাখায় পৌঁছে যান সেই সব দিনে। এছাড়াও অনেকের নেশা থাকে অতীতের দুস্প্রাপ্য ও দুর্মূল্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করার। এর জন্য যে কোনও পরিমাণ অর্থ খরচ করতে তাঁরা রাজি। কারও শখ থাকে পুরোনো পান্ডুলিপি, বই, ম্যাগাজিন, পেপার কাটিংস সংগ্রহ করার।

কেউ খোঁজেন অ্যান্টিক হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন মডেলের গাড়ি ও আরও কত কিছু। অনেকে আবার ব্যক্তিগত আর্কাইভে সংগহ করে রাখেন বিগত শতাব্দীগুলির চাঞ্চল্যকর ফটোগ্রাফ। আজ আমরা দেখব ঊনবিংশ শতাব্দী ও বিংশ শতাব্দীর ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেরকমই কিছু সাদাকালো ছবি।

নিজের আবিষ্কৃত প্রথম ব্যাটারি চালিত গাড়ির সঙ্গে প্রবাদপ্রতিম মার্কিন উদ্ভাবক টমাস আলভা এডিসন। বনেট খুলে দেখাচ্ছেন তাঁর তৈরি করা ব্যাটারিটিও। ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। এর পরেও আরও তিনটি মডেলের ব্যাটারি চালিত গাড়ি বানিয়েছিলেন। শেষটি তৈরি করেছিলেন ১৯১২ সালে।

১৯২৬ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেছিলেন। তবে বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছিল  ১৯৪০ সালে। ১৯৪০ সালে বাজারে এলেও পঞ্চাশের দশকে টেলিভিশন হয়ে উঠেছিল শক্তিশালী গণমাধ্যম। ১৯৫১ সালে তোলা ছবিটিতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে প্রথম যুগের টেলিভিশনে সিনেমা দেখছে একটি ব্রিটিশ পরিবার।

ইতিহাসের নৃশংসতম যুদ্ধ হিসেবে ধরা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে ও যুদ্ধের প্রভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৮ কোটি মানুষ। ওপরের ছবিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা এক ব্রিটিশ সৈনিকের। কোলে তাঁর আট মাসের শিশুকন্যা। বাবা যুদ্ধে যাওয়ার সময় মায়ের পেটে সদ্য এসেছিল সে। বাবাকে প্রথম দেখে একরত্তি শিশুর মুখে দেখা দিয়েছে ভুবনভোলানো হাসি। শিশুটির হাসিটি যেন বারুদের ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশের ফাঁকে প্রথম সূর্যের ঝিলিক। 

নিজের আবিষ্কৃত ফোনোগ্রাফ যন্ত্রের সামনে টমাস আলভা এডিসন। যন্ত্রটিকে কেউ বলতেন ‘টকিং মেশিন’। এই যন্ত্র দিয়েই শুরু হয়েছিল শব্দগ্রহণের জয়যাত্রা। ১৯৭৭ সালে আবিষ্কার করলেও যন্ত্রটি বাজারে এসেছিল ১৮৮০ সালে। ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৮৭৮ সালে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে এডিসন কান পেতে শুনছেন রেকর্ড করা শব্দ।

ছবিটি ১৯২২ সালের। আমেরিকার ওয়াশিংটনের রাস্তায় এক ব্যক্তি রিসিভারের মাধ্যমে শুনছেন কয়েন-রেডিওর অনুষ্ঠান। শহরের প্রতিটি সেলুনের সামনে এই রেডিওগুলো বসানো থাকত। মেশিনে পয়সা ফেলে রেডিও শুনতে হতো। সেলুনে লাইন পড়ে গেলে মানুষেরা সময় কাটাতেন এই কয়েন-রেডিও শুনে। রেডিওতে প্রেসিডেন্টের ভাষণ থেকে নামী শিল্পীর গান সবই শুনতে পাওয়া যেত। কিন্তু বেতারকেন্দ্র থেকে যা চালানো হতো তাই শুনতে হতো শ্রোতাদের। চ্যানেল পাল্টাবার ব্যবস্থা ছিল না।

প্যারিসে হওয়া ট্রেন দুর্ঘটনার সেই বিখ্যাত ছবি। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৯৫ সালের ২২ অক্টোবর। সেদিন বিকেল চারটের সময় ‘গ্র্যানভিল-প্যারিস এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটি গের-মন্টপার্নাসে নামের প্রান্তিক স্টেশনে ঢুকেও  থামতে পারেনি। কারণ ট্রেনটির ব্রেক কাজ করছিল না। প্রচণ্ডগতিতে ছুটে আসা ট্রেনটির ইঞ্জিন স্টেশনের দেওয়াল ভেঙে বাইরে চলে এসেছিল। বাইরের রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল ইঞ্জিনটি। প্রাণ হারিয়েছিলেন রাস্তায় থাকা এক মহিলা।

১৯৪৫ সাল। তখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ইংল্যান্ডের বর্তমান রানি এলিজাবেথের বয়স তখন মাত্র আঠেরো। এলিজাবেথ যোগ দিয়েছিলেন ব্রিটেনের মফঃস্বলে থাকা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে। সেখানে ট্রাক মেকানিক ও ট্রাক ড্রাইভার হওয়ার ট্রেনিং নিয়েছিলেন। ছবিতে এলিজাবেথকে গাড়ির চাকা পাল্টাতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তোলা। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর ট্রেনার।

১৯১০ সালের ছবি। আমেরিকার মিচিগানের পেলস্টোনে পাতা রেলের ট্র্যাকে চলেছে দুটি বাইসাইকেল। পিছনে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন এক যাত্রী। সেই সময় ওই লাইনে চলতো একটি মাত্র ট্রেন। ট্রেনটির আসার নির্দিষ্ট কোনও সময় ছিল না। তাই স্থানীয় গ্রামবাসীরা বানিয়ে নিয়েছিলেন ট্র্যাক-সাইকেল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে রেললাইন ধরে নির্ভয়ে চলেছে পিতাপুত্র। স্টিম ইঞ্জিনের শব্দ এক কিলোমিটার দূর থেকেই শুনতে পাওয়া যাবে। তখন তারা লাইন ছেড়ে দেবে। দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীটিকে কি একটু হতাশ লাগছে!

লন্ডনের রাস্তায় দিয়ে ১৯২৫ সালে হেঁটে চলেছেন সে যুগের গ্ল্যামার কুইনেরা। ছবিটি ভালো করে দেখুন, বর্তমান যুগের নিরিখেও ওঁদের পোশাক ও হাবভাব আধুনিক বলে মনে হবে। ভাবলে অবাক হতে হয়, ছবিটি ৯৫ বছর আগে তোলা।

ফটোগ্রাফার হার্বাট পন্টিং ১৯১১ সালে পৌঁছে গিয়েছিলেন আন্টার্কটিকার রস আইল্যান্ডে থাকা পাথুরে এলাকা কেপ রয়েডে। দু’পায়ে হেঁটে এক বিজাতীয় প্রাণীকে আসতে দেখে প্রাণীটিকে ঘিরে ধরেছিল অ্যাডেলি পেঙ্গুইনেরা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি পেঙ্গুইন ফটোগ্রাফার পন্টিংকে এগোতে বাধা দিচ্ছে। তাদের বাসা ও বাসায় থাকা বাচ্চাদের দিকে কিছুতেই সে এগোতে দেবেনা বিজাতীয় প্রাণীটিকে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পন্টিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল পেঙ্গুইনদের। পন্টিংয়ের সঙ্গে সারা ‘কেপ রয়েড’ ঘুরেছিল পেঙ্গুইনেরা। নতুন অতিথিকে তাদের বাড়িঘর ঘুরে দেখিয়েছিল। আতিথেয়তায় তারাও কম যায় না, এটাই বুঝি প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

You might also like