Latest News

প্রাচীন সাহিত্যের নগরবধূ তাঁরা, বহু শিল্পের প্রেরণা, বাস্তবে কেমন আছেন এ দেশের যৌনকর্মীরা?

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ব্যুরো: যে দেশে পুরুষ নেই, সে দেশে কোনও পতিতাও নেই। একসময় পুরুষের প্রয়োজনেই সৃষ্টি হয়েছিল এই আদিম পেশার। অথচ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ঘৃণা আর বিবমিষা বহন করতে হয়েছে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নারীদের। সমাজে তাঁদের পরিচয় বারাঙ্গনা, গণিকা, বেশ্যা। (History of Prostitution)

Image - প্রাচীন সাহিত্যের নগরবধূ তাঁরা, বহু শিল্পের প্রেরণা, বাস্তবে কেমন আছেন এ দেশের যৌনকর্মীরা?

যুগ যুগ ধরে দেশে-বিদেশে ভ্রাম্যমাণ বণিক, নাবিক, সৈনিক, পর্যটক ও প্রবাসী পুরুষদের জন্য তৈরি হয়েছে গণিকালয়। পৃথিবীর আদিমতম এই ব্যবসা, যার একমাত্র পুঁজি নারীর শরীর আর সৌন্দর্য। আর যেখানে যত বিকৃতি ও অনাচার সেখানেই তত ব্যাধি ও অপমৃত্যু। যুগের পর যুগ ধরে নারীকে এভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে পুরুষের স্বার্থে। বিশ্বামিত্রের মতো প্রবল প্রতাপান্বিত ঋষিদের কঠোর তপস্যা ভঙ্গের জন্য অমরাবতীর দেবতারা রূপবতী ও লাস্যময়ী মেনকাদের ব্যবহার করেছেন। দুই দৈত্যভ্রাতা সুন্দ উপসুন্দের ভ্রাতৃত্বের সুদৃঢ় জোট ভেঙে তাদের সাক্ষাৎ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয়েছিল তিলোত্তমার। বিগত মহাযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের গোপন সংবাদ বের করে আনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল মাতাহারির মতো আরও কত নারীকে। এখনও বিজ্ঞাপনে নারীর মুখ আর শরীর সাজিয়ে মুনাফা লুটে চলেছে বিখ্যাত বাণিজ্যসংস্থাগুলি।

রাজা রবি বর্মার আঁকা ছবিতে বিশ্বামিত্র আর মেনকা

কবিতায় শিল্পে ও পূজার মন্ত্রে নারীকে বন্দনা করেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর বাস্তবে তাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ভোগ্যপণ্যের সারিতে। একদিকে গণিকাপল্লীর মেয়েদের সমাজের প্রান্তিক মানুষের মতো ব্রাত্য করে রেখেছে, অন্যদিকে বেশ্যাবাড়ির মাটি দিয়ে দুর্গা প্রতিমার অবয়ব নির্মাণের তামাসা করেছে। (History of Prostitution)

শাস্ত্রমতে মৃন্ময়ী দুর্গা প্রতিমাকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। যেমন, গাভীর মূত্র, গোবর, ধানের শিস, পবিত্র গঙ্গার জল আর নিষিদ্ধপল্লীর মাটি। এসবের মিশ্রণেই তৈরি হবে দেবীমূর্তি ৷ কী হাস্যকর দ্বিচারিতা। সমাজ যাদের চিরকাল দূরে ঠেলে দিয়েছে, তাচ্ছিল্য করেছে, অবজ্ঞা আর বঞ্চনার অন্ধকারে বাস করতে বাধ্য করেছে, ঘৃণা আর নোংরা দৃষ্টি ছাড়া যাদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটেনি, তাদের ঘরের মাটিই আবার দেবীমূর্তি নির্মাণের অপরিহার্য অঙ্গ! মানুষকে চিরদিন বিশ্বাস করানো হয়েছে যে, পুরুষের মধ্যে যে কুৎসিত কামনা, বাসনা, লালসার বিষ থাকে … পতিতারা সেই বিষ নিজেদের ভিতরে গ্রহণ করে। তারা নিজেদের অশুচি, অপবিত্র ও নোংরা করে সমাজকে শুদ্ধ রাখে, পবিত্র রাখে। ফলে হাজার হাজার পুরুষের পুণ্যে বেশ্যাদ্বারের মাটি হয়ে ওঠে পবিত্র ৷ আর সেই কারণেই এই মাটি দিয়ে নির্মাণ করতে হয় দেবী মূর্তি ৷ (History of Prostitution)

Image - প্রাচীন সাহিত্যের নগরবধূ তাঁরা, বহু শিল্পের প্রেরণা, বাস্তবে কেমন আছেন এ দেশের যৌনকর্মীরা?

যৌন ব্যবসা পৃথিবীর প্রাচীনতম ব্যবসা হলেও “যৌনকর্মী” শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন যৌনকর্মী-অধিকারবাদী ক্যারল লেই (Carol Leigh) ১৯৭৮ সালে। ১৯৮৭ সাল নাগাদ Frederique Delacoste এবং Priscilla Alexander সম্পাদিত মহিলা যৌনকর্মীদের লেখা ‘Sex Work’ নামক কবিতা সংকলন প্রকাশিত হওয়ার থেকে যৌনকর্মী শব্দটি ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতেও শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এমন কী ‘sex worker’ শব্দবন্ধের সংজ্ঞা Oxford Dictionary এবং Webster অভিধানেও স্থান পায়।

গবেষকেরা বলেছেন, ‘বেশ্যা’ সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে। সংস্কৃত ভাষায় এর মূল শব্দটি হল ‘বেশ’। অর্থাৎ বেশ + য + আ = বেশ্যা। এই শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের নাম।
মহারাজা একদা তৃষ্ণার্ত পথিকদের বিনামূল্যে জল দান করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেই উপলক্ষ্যে পথের ধারে তৈরি করলেন বহু জলসত্র বা পানশালা। তিনি এই জলসত্রগুলির নাম দিলেন ‘বেশ’। সেগুলি পরিচালনার জন্য কিছু মহিলা কর্মচারী নিয়োগ করা হয়।

রাজপথের চলমান পথিক, বণিক, সৈনিক, পর্যটকরা সেখানে এসে জল খেতেন। পথিকদের দাবি মেনে ক্রমশ জলের সঙ্গে সংযুক্ত হল খাবারদাবারও। আর খাদ্য পরিবেশনের জন্য বৃদ্ধি পেল নারীর সংখ্যা।

এরপর তারা সেখানে থাকতে আরম্ভ করল। সেই সুবাদে পথিকেরাও সেখানে রাত কাটাতে শুরু করে। অর্থের বিনিময়ে শুরু হল সেবা। সেই সেবাই সময়ের ব্যবধানে যৌনতায় রূপ নিল।
আর এইভাবেই ‘বেশ’-এর মালকিন ‘বেশ্যা’য় পরিণত হল এবং ‘বেশ্যা’ শব্দটির উৎপত্তি ঘটল। তবে শব্দটির এই জাতীয় ব্যুৎপত্তি নিয়ে বেশ কিছুটা বিতর্কও আছে। (History of Prostitution)

কালীঘাটের পটে গণিকার ছবি

প্রাচীন ভারতবর্ষে, বিত্তবান সমাজে একটি রীতি প্রচলিত ছিল – তারা ‘নগরবধূ’দের নৃত্যগীতের জন্য আহ্বান জানাত। বৈশালীর নগরবধূ ভগবান বুদ্ধের শিষ্যা আম্রপালি কিংবা শূদ্রকের ‘মৃচ্ছকটিক’ নাটকের বসন্তসেনা সেযুগের অভিজাত পতিতাদের দৃষ্টান্ত।

Image - প্রাচীন সাহিত্যের নগরবধূ তাঁরা, বহু শিল্পের প্রেরণা, বাস্তবে কেমন আছেন এ দেশের যৌনকর্মীরা?
অভিজাত নগরবধূ

১৬শ শতাব্দীতে ভারতের গোয়া ছিল পর্তুগিজ দাস নামক সম্প্রদায় নিয়ে গঠিত পর্তুগিজদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি তথা উপনিবেশ। এই পর্তুগিজ দাস সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল অল্পবয়সী জাপানি মেয়েরা, যাদের পর্তুগিজ বণিকেরা জোর করে ধরে এনে যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার করত। এদের বলা হত জাপানী দাস।

অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে এবং উনিশ শতকের সূচনায় ভারতে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির শাসনের আমলে, ব্রিটিশ সৈন্যরা তাদের কামনা চরিতার্থ করবার জন্য অল্পবয়সি মেয়েদের সেক্স টুল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। শ্বেতাঙ্গ প্রভুরা তাদের আদিম চাহিদা মেটানোর স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা তৈরি করে নিয়েছিল। ব্রিটিশ সৈন্যরা এই অঞ্চলগুলিকে নিজেদের প্রয়োজনে বেশ্যাবলয় হিসেবে ব্যবহার করত।

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে বেশ্যাবলয়

শুনলে অবাক হবেন, ভারতে এই মুহূর্তে ৩০ লক্ষের বেশি মেয়ে পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত।
পতিতালয় বেআইনি হলেও কার্যত প্রায় প্রত্যেক বড় শহরের কিছু কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে এর কার্যকলাপ নিত্য বহমান।
ভারতের বৃহত্তম এবং বহুল পরিচিত নিষিদ্ধপল্লীগুলি হল কলকাতার সোনাগাছি, হাড়কাটা, গোয়ালিয়রের রেশমপুর, মুম্বাইয়ের কামাঠিপুর ও সোনাপুর এবং নতুন দিল্লির জি. বি. রোড। এইসব অঞ্চলে হাজার হাজার যৌনকর্মী কাজ করে। রাশি রাশি বে-আইনি টাকা ওড়ে। এ প্রসঙ্গে সাহারাহানপুরের নাক্কাসা বাজার, মুজফফরপুরের চতুর্ভুজ স্থান, বারাণসীর লালপুর, মাধুবেদী, এলাহাবাদের মীরগঞ্জ এবং মীরাটের কাবাডিবাজারেরও নাম করা যায়। (History of Prostitution)

Image - প্রাচীন সাহিত্যের নগরবধূ তাঁরা, বহু শিল্পের প্রেরণা, বাস্তবে কেমন আছেন এ দেশের যৌনকর্মীরা?

ভারতীয় সাহিত্যে ও শিল্পে পতিতাবৃত্তি নিয়ে নানা সফল কাজ হয়েছে। বসন্তসেনা ও আম্রপালিকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে বহু আগেই।
এছাড়া পাকিজা (১৯৭২), উমরাও জান(১৯৮১), তোয়াইফ (১৯৮৫) শরাবি, অমর প্রেম (১৯৭২), মাসুম (১৯৭৫), মাণ্ডি (১৯৮৩), চাঁদনি বার (২০০১), দেবদাস (২০০২), চামেলি (২০০৩), লগা চুনরি মেঁ দাগ (২০০৭), থিরা (২০১৩) ইত্যাদি যথেষ্ট জনপ্রিয় ছবি।

হিন্দি ‘দেবদাস’ ছবির একটি দৃশ্য

কলকাতার সোনাগাছির পতিতাদের সন্তানদের নিয়ে ২০০৪ সালে নির্মিত হয় একটি আমেরিকান তথ্যচিত্র ‘বর্ন ইন্টু ব্রথেলস্‌’। ছবিটি ঐ একই বছরে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড ফর ডকুমেন্টারি ফিচার পুরস্কার লাভ করে।
দেহব্যবসার পাশাপাশি এক জ্বলন্ত সামাজিক সমস্যা নিয়ে ২০১৪ সালে নগেশ কুকুনুর তৈরি করলেন ‘লক্ষ্মী’। ভারতের গ্রামাঞ্চলে কীভাবে মানব পাচার আর শিশু বেশ্যাবৃত্তি চলে তার কঠোর বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছিল এই ছবিতে।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, আনুমানিক ১২ লক্ষ নাবালিকা এই বেশ্যাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও রয়েছে জিগোলো, পুরুষ বেশ্যা, হিজড়ে বেশ্যা। কারু। কেউ আবার কোনও নির্দিষ্ট পল্লীতে থাকে না। রাস্তার মোড়ে, বড় স্টেশনের গা ঘেঁষে কিংবা ময়দানে গিয়ে দাঁড়ায় খদ্দেরের অপেক্ষায়। কেউ বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মাসাজ-পার্লারে অথবা মধুচক্রে কাজ করে। প্রতিনিয়ত পুলিশের ঝামেলা আছে, উটকো মাস্তানদের দাদাগিরি আছে, এইডসের ভয় আছে, সিফিলিস গনোরিয়া আছে। তবু এই ব্যবসা আবহমানকাল ধরে নিত্য বহমান।
ভারতের সমস্ত যৌনকর্মীই যে ভারতীয় তা নয়। এ দেশে বেশ্যাবৃত্তি করার জন্য আরব, জাপান, রাশিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং অন্যান্য বহু স্থান থেকে মহিলারা আসে। আফগান আর উজবেক মহিলাদেরও পতিতা হিসেবে ভারতে পাচার করা হয়।

এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই প্রথম বিশ্বের দেশগুলোও। হল্যান্ডের পতিতাপল্লী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়াতেও দেহব্যবসা বৈধ। সেখানকার পতিতারা নিয়মিত আয়কর দেন। তবে এ দুটি দেশে ১৯ বছর বয়স না হলে কেউ দেহব্যবসায় আসতে পারেন না। যৌনকর্মীদের যাতে কোনও যৌনরোগ না হয়, কিংবা তাদের মাধ্যমে যাতে কোনওভাবেই সমাজে এইডস, সিফিলিস বা অন্য কোনো রোগ ছড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যৌনকর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয়। স্পেন এবং পর্তুগালেও দেহব্যবসা বৈধ। কিন্তু স্পেনে কাউকে জোর করে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকর্মী বানানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জার্মানিতেও ওই একই নিয়ম।

Image - প্রাচীন সাহিত্যের নগরবধূ তাঁরা, বহু শিল্পের প্রেরণা, বাস্তবে কেমন আছেন এ দেশের যৌনকর্মীরা?

গ্রিস এবং তুরস্কে পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রিত। সেখানে দেহব্যবসার আইন বেশ কঠিন। জার্মানির মতো এই দুটি দেশেও যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যবীমা করা বাধ্যতামূলক। যৌনকর্মীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান কিনা, তাও তদারক করা হয়। স্বাস্থ্যকার্ডেই লেখা থাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সমস্ত তথ্য।

দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশেই যৌনব্যবসা বৈধ। তবে কিছু দেশে মাফিয়া এবং মানবপাচার বড় সমস্যা হয়ে ওঠায়, এই ব্যবসার ওপর কড়াকড়ি এবং তদারকি বেড়েছে। দেহব্যবসাকে মাফিয়াচক্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে ব্রাজিল এবং মেক্সিকোতে রয়েছে কঠোর আইন। তারপরেও দেশ দুটিতে মাফিয়াচক্রের আধিপত্য রয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডে যৌনব্যবসা বৈধ হলেও প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার অনেক রাজ্যে এই ব্যবসা এখনো অবৈধ।

এশিয়ায় আছে লুকোনো পতিতাবৃত্তি।
ভারতের পতিতাবৃত্তি অবৈধ। কিন্তু পতিতাবৃত্তি চলে আড়ালে-আবডালে। এখানে রাস্তায় নেমে পতিতারা খদ্দের সংগ্রহ করতে পারেন না। খদ্দেররা অর্থের বিনিময়ে যৌনক্ষুধা মেটাতে যায় রাতের অন্ধকারে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পতিতালয় কমলেও মাসাজ পার্লার এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে প্রায়ই চলে পুলিশি অভিযান। থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সে পতিতাবৃত্তি চলে বিনা বাধায়।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন : ‘পঞ্চশরে দগ্ধ করে করেছ এ কী সন্ন্যাসী
বিশ্বময় দিয়েছ তারে ছড়ায়ে।’
প্রকৃতির সর্বত্র রয়েছে এই পঞ্চশরের অমোঘ প্রভাব। জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন : ‘অবৈধ সঙ্গম ছাড়া সুখ নেই।’
যতদিন মানুষ থাকবে ততদিন বিশ্বময় ব্যাপ্ত হয়ে থাকবে এই পতিতাবৃত্তি। আইন করে একে বন্ধ করা যাবে না। হয়ত কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আত্মসংযম ও আত্মসচেতনতাই পারে এই অভিশপ্ত প্রথাকে উচ্ছেদ করতে। কিন্তু ‘সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ’। অনুন্নত দেশগুলিতে অবশ্য দারিদ্র্য এর একটা বড় কারণ। পতিতাদের পুনর্বাসন কতখানি সম্ভব জানি না, কিন্তু তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই। যাতে তারা আর ওই অন্ধকার জগতে বাস করতে বাধ্য না হয়। এগিয়ে আসতে হবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকেও। পাশে গিয়ে অন্তত কিছুটা মানবিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে প্রতিটি সংবেদনশীল নাগরিককেও। যৌনকর্মীর সন্তান কেন সমাজের মূল স্রোতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না। একালের সত্যকামেরা পরিচিত হোক মাতৃপরিচয়েই।

You might also like