Latest News

বাংলা গানের মুকুটহীন সম্রাট, চ্যালেঞ্জ ধরে রাত জেগে লিখেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গান

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ডেস্ক: একবার দীর্ঘকায় এক বাঙালি তরুণকে সঙ্গে নিয়ে বম্বের একটি বিখ্যাত রেস্তরাঁয় ঢুকেছিলেন শচীন দেববর্মন। সেখানে বিখ্যাত সুরকার জয়কিষণের সঙ্গে হঠাৎ দেখা। শঙ্কর-জয়কিষণ জুটি তখন বম্বের জীবন্ত কিংবদন্তি। জয়কিষণ উঠে এসে শচীন দেবের সঙ্গে সৌজন্যমূলক কিছু কথা বললেন। কিন্তু সেই তরুণটিকে আদৌ পাত্তা দিলেন না। সেটা লক্ষ করে শচীন দেব কিছুক্ষণ পরে ছেলেটিকে দেখিয়ে জয়কিষণকে বলেছিলেন, ‘‘জানতা হ্যায়, ইয়ে কৌন হ্যায়? ইয়ে হ্যায় কলকাত্তা কা মজরুহ্ সুলতানপুরি!’’

কথাটা শুনে ছেলেটি নিজেও চমকে গিয়েছিল। কারণ মজরুহ সুলতানপুরি তখন এ দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার। কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন মানুষ মজরুহ ছিলেন ‘পিপল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্য। বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সম্মেলনে গান গাইতেন। মুম্বাইয়ে নৌ-বিদ্রোহের সময় নিয়মিত গান শুনিয়ে বিপ্লবীদের প্রাণে আগুন জ্বালিয়ে দিতেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে গান লেখার অপরাধে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মোরারজি দেশাই মজরুহকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠান। দীর্ঘ এক বছরের কারাবাস হয় তাঁর। পরবর্তীকালে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন।

মজরুহ সুলতানপুরি

রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়ে ছেলেটি জানতে চেয়েছিল, এই অবিশ্বাস্য তুলনার কারণ কী? উত্তরে শচীন দেববর্মন বলেছিলেন, ‘‘এরা আমাকে মূল্য দেবে আর আমার সঙ্গে তুই রয়েছিস, তোকে মূল্য দেবে না? আমার বিশ্বাস, তুইও একদিন মজরুহ্ সুলতানপুরি হবি, কিংবা তার চেয়েও বড়।’’

সেদিনের সেই সম্ভাবনাময় তরুণ বাঙালি গীতিকার হলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। যাঁর গানের কথায় বাঙালি শ্রোতারা আজও সম্মোহিত হন। আহা, কী অবিশ্বাস্য মর্মস্পর্শী সেইসব সুবর্ণযুগের গান :

‘কিছু ক্ষণ আরও না হয় রহিতে কাছে’
‘আমার গানের স্বরলিপি’
‘গানে মোর ইন্দ্রধনু’
‘ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’
‘এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়, এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু”
‘এই পথ যদি না শেষ হয়’
‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে’
‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’
‘প্রেম একবার এসেছিল নীরবে’
‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’
‘কী আশায় বাঁধি খেলাঘর’
‘তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা’
বাংলাদেশের পাবনার গোপালনগর গ্রামে জন্মেছিলেন গৌরীপ্রসন্ন ১৯২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর। ডাকনাম ছিল বাচ্চু। বাবা গিরিজাপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক। মা সুধা মজুমদার ছিলেন একজন স্নাতক। তাঁর ছিল কবিতা ও প্রবন্ধ লেখার প্রতি অসীম আগ্রহ। সেই সাহিত্যপ্রীতি সঞ্চারিত হয়েছিল গৌরীপ্রসন্নের রক্তে। বাড়িতেই ছিল প্রচুর বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃত ভাষার বই। খুব অল্প বয়সেই তিনি মাত্র ১৫ দিনে ইংরেজিতে অনুবাদ করে ফেলেছিলেন কালিদাসের ‘মেঘদূতম’। পরবর্তীকালে ইংরেজি ও বাংলা দু’টি ভাষাতেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন তিনি। বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে বিলেতে গিয়ে সিভিল সার্ভিস পাশ করে আসুক। নতুবা ব্যারিস্টার হোক। কিন্তু বাংলা গানের টানে তিনি বঙ্গদেশেই রয়ে গেলেন। খুব বেশি সচ্ছল ছিল না তাঁর জীবন। কলকাতায় গান লেখার বিনিময়ে খুব বেশি পারিশ্রমিকও পেতেন না। অনেকেই ঠিকমতো সম্মান-মূল্য দিতেন না। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে শুধু শব্দ সাজিয়েছি। নিজের জীবন নিয়ে অন্য কিছু ভাববার সময় পাইনি।’খুব ছোটোবেলায় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হলেও ক্রমশ তিনি আকৃষ্ট হন ছবি আঁকা, লেখালেখি, কবিতা রচনা ও সঙ্গীতের মায়ায়। বেশ কিছুদিন অনুপম ঘটকের কাছে গানও শেখেন। অনুপম ঘটককে তিনি আজীবন গুরু বলে সম্মান দিতেন। কলেজে পড়ার সময় পার্কস্ট্রিটের সংগীত সম্মিলনীতে গৌরীপ্রসন্ন গিরিজাশংকর চক্রবর্তীর কাছে গান এবং মিহিরকিরণ ভট্টাচার্যের কাছে বেহালা শেখেন। তিনি যখন প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র তখন তাঁর লেখা ‘বঁধু গো এই মধুমাস’ গানটিতে শচীন দেববর্মন নিজে সুর সৃষ্টি করে রেকর্ড করেন। তারপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে দেখতে হয়নি। শচীনদেব ছিলেন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। বস্তুত তিনিই তাঁর রক্তে সংগীতের নেশা পোক্ত করে দিয়েছিলেন। গ্রামোফোন রেকর্ডে শচীনদেবের গান চালিয়ে গৌরীপ্রসন্ন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সম্মোহিত’হয়ে শুনতেন।
একদিন শচীনদেব একটি সুর শুনিয়ে তাঁকে বললেন, সুরের মধ্যে কথা বসাতে। তরুণ গৌরীপ্রসন্ন সেদিন লিখেছিলেন- ‘যেন আলেয়ারে বন্ধু ভাবিয়া হায়, সহেলি গো যে কাছে গেলে দূরে সরে যায়।’ এই গানটিও খুব পছন্দ হয়েছিল শচীনদেব বর্মনের। শচীনদেব ছাড়াও সেকালের বহু বিখ্যাত গায়ক গায়িকা তাঁর লেখা গান গেয়েছিলেন নিজেদের কণ্ঠের সমস্ত ঐশ্বর্য উজাড় করে দিয়ে। লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, কিশোরকুমার, রাহুল দেববর্মণ, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, ভূপেন হাজারিকা… কে নেই সেই তালিকায়?

কিশোরকুমার ও গৌরীপ্রসন্ন

প্রখ্যাত সুরকার নচিকেতা ঘোষের সঙ্গে গৌরীপ্রসন্নের ছিল দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব। নচিকেতার পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষকে নিঃসন্তান গৌরীপ্রসন্ন নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। একবার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘সে আমার ছোটো বোন” গানটিতে সুর দেবার কারণে গৌরীপ্রসন্ন সুপর্ণকান্তির উপরে মৃদু অভিমান করেন। একদিন সুপর্ণকে দেরি করতে বাসায় ফিরতে দেখে তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বলেন: ‘খুব আড্ডা দিয়ে বেড়ানো হচ্ছে?’ উত্তরে কিছুক্ষণ বিতর্কের পর সুপর্ণকান্তি তাঁকে বলেন, ‘গৌরীকাকু, তুমি কী সব গদগদে প্রেমের গান লিখছ! একটা অন্যরকমের গান তো লিখতে পারো। এই কফি হাউসের আড্ডা নিয়েও তো একটা গান লিখতে পারো।… পারবে?’

এরপর ‘অক্সফোর্ডের ছাত্র’ সুপর্ণকান্তির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সারারাত জেগে গৌরীপ্রসন্ন লিখে ফেলেছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয় সেই গান। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, সুপর্ণকান্তি ঘোষ অক্সফোর্ডের ছাত্র নন। উনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম কম। স্নেহের সুপর্ণকে গৌরীপ্রসন্ন ঠাট্টা করে বলতেন, তুমি কোথাকার অক্সফোর্ডের এম এ। গৌরীপ্রসন্নর কলমে সাড়া জাগানো সেই গান:
‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই…’সুপর্ণকান্তি ঘোষের সুরে মান্না দের জাদুকরী কণ্ঠে গাওয়া এই গান আজ ইতিহাস হয়ে গেছে। এর শেষ স্তবকটি কিছুতেই মনঃপূত হচ্ছিল না সুরকারের। গৌরীপ্রসন্নও চাইছিলেন না আরও একটি স্তবক লিখতে। তিনি তখন অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাবেন। শেষ পর্যন্ত হাওড়া স্টেশনে বসে একটা সিগারেটের প্যাকেটের ভিতরের সাদা অংশে তিনি লিখে ফেললেন শেষ ক’টি লাইন। বিশ্বস্ত লোকের হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন সুপর্ণকান্তির কাছে:
‘সেই সাত জন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে
সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই
একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি
শুধু সেই সেদিনের মালী নেই
কত স্বপ্নের রোদ ওঠে এই কফি হাউসে
কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়
কত জন এল গেল, কতজনই আসবে
কফি হাউসটা শুধু থেকে যায়…’১৯৮৩ সালে এই কালজয়ী গানটি মুক্তি পাবার পর ২০০৬ সালে বিবিসির বিচারে এটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গানের তালিকায় চতুর্থ স্থান লাভ করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর গান দুই বাংলার বিপ্লবীদের গভীরভাবে উজ্জীবিত করেছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত বক্তৃতা শুনেছিলেন তিনি আকাশবাণীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রেকর্ড প্লেয়ারে। অগ্নিবর্ষী সেই ভাষণ শুনে গৌরীপ্রসন্ন এক চায়ের দোকানের আড্ডায় বসেই সিগারেটের প্যাকেটের সাদা কাগজেই লিখেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ী সেই গান :
‘শোনো, একটি মুজিবরের থেকে/ লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি/ আকাশে-বাতাসে ওঠে রণি/বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ..।।

৭১ মুক্তিযুদ্ধ দলিল চিত্র

গানটি সুর দিয়ে গেয়েছিলেন অংশুমান রায়। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বাজানো হয়েছিল এই গান। পরবর্তীকালে এই গানটি ‘মিলিয়ন মুজিবর সিঙ্গিং’ নামে অনূদিত হয় ইংরেজি ভাষায়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাদেশ বেতারের জন্য তিনি লিখেছিলেন অন্য একটি স্মরণীয় গান: ‘মাগো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে / তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এই গানটি বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ঢাকায় যান। বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই তাঁর মনে পড়েছিল জন্মস্থানের কথা। ছুটে যান শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পাবনায়। সেখানে এক সংগীত মহাবিদ্যালয়ে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা জানানো হয়।শুধুমাত্র গানের জাদুতেই সেকালের বহু ছায়াছবিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন গৌরীপ্রসন্ন। একদিন ‘শেষ পর্যন্ত’ ছবির প্রযোজক গৌরীপ্রসন্নকে অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘আমার প্রত্যেক ছবি ফ্লপ করছে। এবার আপনি আর হেমন্তদাই আমার ভরসা। এ ছবিটাই ফ্লপ করলে আমি পথে বসব’। সেদিন গৌরীপ্রসন্ন লিখেছিলেন অসামান্য কয়েকটি গান:
‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন’,
‘কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো’,
‘এই বালুকাবেলায় আমি লিখেছিনু’… বলা বাহুল্য ছবিটি রাতারাতি সুপারহিট হয়েছিল।

একদিন সঙ্গীত পরিচালক অমল মুখোপাধ্যায় গৌরীপ্রসন্নের কাছে এসে বললেন: ‘দাদা, আমাকে এমন একটা গান লিখে দিন, যাতে আমি চিরদিন বাংলা গানের জগতে থেকে যেতে পারি।’
সেদিন তিনি লিখেছিলেন :
‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায় এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু’!

কবিতা ও গান অনেকটা সহোদর ভাইবোনের মতো। দুটোই তো এক হিসেবে লিরিক। দুটোই মানুষের অন্তর্গত ভাবের ছন্দোবদ্ধ অস্ফুট বহিঃপ্রকাশ। গঠনগত কিছু পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এদের পারস্পরিক আত্মীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না। তবু গীতিকারদের সেই কাঙ্ক্ষিত সম্মান দেওয়া হয় না, যা একজন কবিকে দেওয়া হয়। এই আক্ষেপ ও বিক্ষোভ গুমরে মরত গৌরীপ্রসন্নের অন্তরে।

১৯৮৫ সালে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি গভীর দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন: ‘‘কাব্য সাহিত্যের ইতিহাসে গীতিকারদের স্থান দেওয়া হয় না।… কবি সম্মেলনে কোনও গীতিকারকে ডাকা হয় না। কবিতায় সুর দিলেই গান হয় না। গানের ভাষা সম্পূর্ণ আলাদা। তা না হলে রবীন্দ্রনাথ কবিতা ছাড়াও অত গান লিখতেন না। তিনি যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তা একটি গানের বইয়ের জন্য।’’

সৈকত মিত্র একবার বলেছিলেন, ‘’গৌরীকাকুর স্পেশ্যালিটি ছিল শব্দপ্রয়োগে। ওঁর মতো শব্দ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে আমি খুব কম লোককেই দেখেছি।’

একদিন ক্যানসার ধরা পড়ল তাঁর। ভেঙে পড়ল ছ’ ফুটের বেশি দীর্ঘ শরীরটা। ২৫ জুন ১৯৮৬ সালে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হল মুম্বাইয়ে। সেই শেষ মুহূর্তে যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল তাঁরই লেখা গান
‘যেতে দাও আমায় ডেকো না, কবে কি আমি বলেছি মনে রেখো না’।
১৯৬৯ সালে আশা ভোঁসলের কণ্ঠে বিখ্যাত হয়েছিল এই গান। গৌরীপ্রসন্নর মৃত্যুর পর ওটা প্রাসঙ্গিক ছিল বলে আবার এলবাম হিসেবে বেরোয়। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি লিখেছিলেন জীবনের শেষ গান:
‘এবার তাহলে আমি যাই, সুখে থাক ভালো থাক, মন থেকে এই চাই।’
১৯৮৬ সালের ২০ অগস্ট, ৬২ বছর বয়সে শেষ বিদায় নিলেন বাংলা গানের জাদুকর গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। তাঁর মৃত্যুর পর সন্ধ্যা মুখােপাধ্যায় বলেছিলেন: “গৌরীদা ক্যানসারে মারা যান। তাঁর মতাে এত বড়াে একজন গীতিকার বম্বের অতিসাধারণ এক হাসপাতালে প্রায় মাটিতে শুয়েই শেষের দিনগুলাে এক দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে কাটান। এ কথা ভাবতে পারা যায়? তার তাে রাজার মতাে চলে যাওয়ার কথা, একটা ভিখিরির মতাে তাঁর মৃত্যু কেন হবে?”

You might also like