Latest News

আর এক রাবণকে বধ করেছিলেন মা সীতা! উগ্রচণ্ডা মহাকালীর রূপ ধারণ করে

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ডেস্ক: পৃথিবীর প্রথম মহাকাব্য ‘রামায়ণ’। যেটি সুললিত অক্ষরমালায় ধরে রেখেছে সুপ্রাচীন ভারতের জীবনচর্যা ও সংস্কৃতির গৌরবময় অধ্যায়গুলিকে। প্রজাপতি ব্রহ্মার অনুরোধে মহর্ষি বাল্মীকি অনুষ্টুপ ছন্দে রচনা করেছিলেন সাত কাণ্ডের রামায়ণ। মহর্ষি বাল্মীকিকে প্রজাপতি ব্রহ্মা বলেছিলেন, “যতদিন পৃথিবীতে নদী, সাগর ও পর্বতমালা বিরাজ করবে, ততদিনই সপ্তলোকে বিরাজ করবে তোমার রচনা করা রামায়ণ।”
শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রীরামচন্দ্র সংক্রান্ত পৌরাণিক কাহিনির একমাত্র উৎস রামায়ণ। তবে আদি রামায়ণ ছাড়াও আছে আরও চারটি রামায়ণ, সেগুলি হল অধ্যাত্ম রামায়ণ, যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণ, আনন্দ রামায়ণ ও অদ্ভুত রামায়ণ। যেগুলি রচনার কৃতিত্ব শাস্ত্রজ্ঞরা দিয়েছেন মহামুনি বাল্মীকিকেই। এই চারটি রামায়ণের মধ্যে সবথেকে বিতর্কিত রামায়ণটি হল ‘অদ্ভুত রামায়ণ’। যেটির সঙ্গে আদি রামায়ণের বেশিরভাগ ঘটনাপঞ্জি ও ঘটনাক্রমের মিল থাকলেও, অমিলও বিস্তর।আদি রামায়ণ সাত কাণ্ডের হলেও অদ্ভুত রামায়ণের কাণ্ডের সংখ্যা আট। লঙ্কাকাণ্ড ও উত্তরাকাণ্ডের মাঝে ঠাঁই নিয়েছে ‘পুষ্কর কাণ্ড’ নামে অতিরিক্ত একটি কাণ্ড। এই পুষ্করকাণ্ডেই বর্ণিত হয়েছে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক ঘটনা, যা আদি রামায়ণে নেই। শ্রী শ্রী আদিলক্ষ্মীর অবতার, পবিত্রতার সর্বোত্তম প্রতীক সতী সীতা, এই পুষ্করকাণ্ডে সংহারমূর্তি ধারণ করে অবতীর্ণ হয়েছিলেন আদি পরাশক্তির ভূমিকায়। পাষাণকায়া মহাকালীর রূপ ধারণ করে বধ করেছিলেন রাবণের বড় ভাই সহস্র রাবণকে। আদি রামায়ণে ঘটনাটির উল্লেখ না থাকলেও হনুমানচরিত, বিলঙ্কা রামায়ণ, সীতা সহস্রনাম, এমনকি অধ্যাত্ম রামায়ণেও বর্ণিত আছে ঘটনাটি।

সহস্র রাবণ বধ
লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধের পর, মা সীতাকে নিয়ে পুষ্পক রথে চড়ে শ্রীরামচন্দ্র ফিরে এসেছিলেন অযোধ্যায়। হঠাৎই একদিন পুষ্কর থেকে অযোধ্যায় এসেছিলেন এক দূত। তিনি শ্রীরামচন্দ্রকে জানিয়েছিলেন, লঙ্কাধিপতি রাবণের দাদা পুষ্করনিবাসী মহাপরাক্রমশালী রাক্ষসরাজ ‘সহস্র-রাবণ’, অযোধ্যা আক্রমণের জন্য বিশাল রাক্ষসবাহিনী নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন। ভাই রাবণের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। শ্রীরামচন্দ্র যেন রণক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন। কথাগুলি শ্রীরামচন্দ্রকে জানিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন সহস্র-রাবণের দূত।

পুষ্পক রথে চড়ে শ্রীরামচন্দ্র-সীতা

রাক্ষসরাজ সহস্র-রাবণের প্রতি শ্রীরামচন্দ্রের কোনও বিদ্বেষ ছিল না। তবুও অযোধ্যার সম্মানরক্ষার্থেই নামিয়ে রাখা তির-ধনুক হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অযোধ্যাপতি। শ্রীলক্ষ্মণ ও পবনপুত্র হনুমানকে ডেকে রামসেনাকে একত্রিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন মা সীতা। তিনি শ্রীরামচন্দ্রকে বলেছিলেন, বাল্যকালে মিথিলার রাজা জনকের প্রাসাদে থাকাকালীন, তিনি এক ব্রাহ্মণের মুখে শুনেছিলেন রাবণের দাদা অমিত শক্তিধর সহস্র-রাবণের নাম।সহস্র মুণ্ড ও সহস্র হাতযুক্ত এই সহস্র-রাবণ, লঙ্কেশ্বর রাবণের থেকেও সহস্র গুণ শক্তির অধিকারী। তাঁকে বধ করা রাবণবধের মতো সহজ হবে না। তাই শ্রীরামচন্দ্রের উচিত বিভীষণের কাছ থেকে সহস্র-রাবণের দুর্বলতাগুলো জেনে নেওয়া। মা সীতার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসেছিলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র। মা সীতাকে চিন্তা করতে বারণ করেছিলেন। কথা দিয়েছিলেন, সহস্র-রাবণকে দ্রুত বধ করে ফিরে আসবেন অযোধ্যায়। শ্রীরামচন্দ্রের দিকে তাকিয়ে রহস্যের হাসি হেসেছিলেন মা সীতা।

পুষ্করের দিকে এগিয়ে চলেছিল রামসেনা
লক্ষ্মণের নেতৃত্বে মানবসেনা, হনুমানের নেতৃত্বে বানরসেনা ও বিভীষণের নেতৃত্বে রাক্ষসসেনা একত্রিত হয়েছিল রামসেনার পতাকাতলে। শত্রু আক্রমণ করার পূর্বেই শত্রুকে বিনাশ করার জন্য পুষ্করের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। পুব আকাশে ধুলোর ঝড় দেখে অবাক হয়েছিলেন সহস্র-রাবণ। দূত এসে খবর দিয়েছিল অযোধ্যার রাজা শ্রীরামচন্দ্র পুষ্করের দিকে এগিয়ে আসছেন বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে।

আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হেসেছিলেন সহস্র-রাবণ। তাঁকে অযোধ্যা যাওয়ার কষ্টটুকুও করতে হল না। শত্রু স্বয়ং উপস্থিত পুষ্করের বধ্যভূমিতে। পুষ্করের দিগন্তছোঁয়া রণক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে চলেছিল সহস্র-রাবণের রাক্ষসবাহিনী। দূর থেকে আকাশছোঁয়া উচ্চতার, সহস্র মুণ্ড ও সহস্র হাতবিশিষ্ট সহস্র-রাবণকে দেখে সত্যিই বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। এরপর তিনি রাক্ষসরাজকে একবার বাঁচার সুযোগ দিতে বলেছিলেন, দুরভিসন্ধি ত্যাগ করে রণক্ষেত্র থেকে ফিরে যেতে। কিন্তু দুরাত্মা সহস্র-রাবণ ব্যঙ্গের সুরে শ্রীরামচন্দ্রকে বলেছিলেন, এইরকম কাপুরুষোচিত কথাবার্তা পুরুষোত্তম রামের মুখে মানায় না। ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ তিনি নেবেনই, তাই শ্রীরামচন্দ্রকে যুদ্ধ করতেই হবে। অগত্যা যুদ্ধ শুরু করার আদেশ দিয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র।

বীরবিক্রমে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন রামানুজ লক্ষ্মণ ও হনুমান
রণক্ষেত্রে গড়িয়ে পড়ছিল সহস্র-রাবণের সেনাদের কাটামুণ্ড। রণক্ষেত্র থেকে কিছুটা দূ্রে দাঁড়িয়ে ছিলেন সহস্র-রাবণ। উঁচু পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা কালো মেঘের মতো দেখতে লাগছিল তাঁকে। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি তিনি আঁচ করতে পারছিলেন। লক্ষ্মণ ও হনুমানের নেতৃ্ত্বাধীন রামসেনাদের দাপটে, ক্রমশ পিছু হটতে শুরু করেছিল তাঁর রাক্ষসবাহিনী। সহস্র-রাবণের দুই হাজার চোখ থেকে নির্গত হতে শুরু করেছিল ক্রোধের আগুন। হাজার হাতে হাজারটি ভয়ঙ্কর অস্ত্র নিয়ে প্রবল হুংকার দিয়ে রণক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন সহস্র রাবণ।সহস্র-রাবণের অমিতশক্তির কথা সীতার মুখে আগেই শুনেছিলেন শ্রীরাম। তাই তিনি স্বয়ং সহস্র-রাবণের মোকাবিলা করার জন্য রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রবল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল শ্রীরামচন্দ্র ও সহস্র-রাবণের মধ্যে। সূর্য ঢাকা পড়ে গিয়েছিল তিরের মেঘে। প্রভু রামের কাছে ছিল এমন কিছু অস্ত্র, যা পৃথিবীর কারও কাছে ছিল না। এমনকি সেইসব অস্ত্র অন্য কারও হস্তগত হলেও, ব্যবহার করার ক্ষমতা ছিল না। অস্ত্রগুলির মধ্যে ছিল ইন্দ্রধনু, অক্ষয়বাণ ও ত্রিদেবের দেওয়া বৈষ্ণবাস্ত্র, পাশুপত ও ব্রহ্মাস্ত্র। সাথে ছিল ভয়াবহ ‘গান্ধর্বাস্ত্র’ যা দিয়ে পুরো একটি সেনাবাহিনীকে ধুলো করে দেওয়া যেত।

সহস্র-রাবণের অস্ত্রাঘাতে সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র
তবুও লঙ্কাধিপতি রাবণকে বধ করার জন্য ন’দিন ধরে যুদ্ধ করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। অথচ রাবণকে বধ করার জন্য তাঁর এক মুহূর্তের বেশি সময় লাগার কথা ছিল না। তাই সহস্র-রাবণ যতই অমিতশক্তিধর হন না কেন, অবতারশ্রেষ্ঠ শ্রীরামচন্দ্রের পরাক্রমের কাছে তাঁর শক্তি তুচ্ছাতিতুচ্ছ। তবুও শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে সমানে সমানে যুঝে যাচ্ছিলেন সহস্র-রাবণ। অন্তর্যামী শ্রীরামের এটিও এক লীলা। শত্রুকেও যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মান দিয়ে সামান্য লড়ার সুযোগ দেওয়াতেই তাঁর তৃপ্তি। কারণ যুদ্ধের পরিণতি তো তাঁরই হাতে।কিন্তু শ্রীরাম তাঁর সেরা অস্ত্রগুলি ব্যবহার না করায় সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন সহস্র-রাবণ। মন্ত্রপূত ভয়াবহাস্ত্র প্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিলেন রামসেনাকে। ক্রুদ্ধ শ্রীরাম তখন সহস্র-রাবণের ওপর নিক্ষেপ করেছিলেন তাঁর অক্ষয়বাণ। উল্কাগতিতে তাঁর দিকে ছুটে আসা বাণটিকে হাত দিয়ে ধরে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছিলেন সহস্র-রাবণ। পরমুহূর্তেই রামের ওপর নিক্ষেপ করেছিলেন মন্ত্রপূত আরও একটি বাণ। সে বাণ আঘাত করেছিল প্রভু রামের শরীরে। অন্য কেউ হলে হয়ত বাণের আঘাতে তৎক্ষণাৎ নিহত হতেন। কিন্তু শ্রীরামচন্দ্র শ্রীবিষ্ণুর অবতার। তাঁর শরীরে এতটুকুও আঁচড় কাটতে পারেনি সহস্র-রাবণের মারণাস্ত্র। কিন্তু বাণের আঘাতে সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন শ্রীরাম। হয়ত এটিও ছিল তাঁর লীলা।

মা সীতা ধারণ করেছিলেন সংহারমূর্তি
শ্রীরামকে মূর্ছিত অবস্থায় রণক্ষেত্রে শুয়ে থাকতে দেখে, দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন রামানুজ লক্ষ্মণ, হনুমান, বিভীষণ সহ রামসেনার সমস্ত রথী মহারথীরা। খবর গিয়েছিল মা সীতার কাছে। উদ্বিগ্ন সীতা ছুটে এসেছিলেন রণক্ষেত্রে। শ্রীরামচন্দ্রকে অচেতন হয়ে রণক্ষেত্রে শুয়ে থাকতে দেখে, ক্রুদ্ধ সীতা মায়ের বর্ণ হয়ে গিয়েছিল কালচে নীল। মুহূর্তের মধ্যে যমের থেকেও ভয়ংকর মহাকালীর রূপ ধারণ করেছিলেন মা সীতা। তাঁর ভ্রুকুটিকুটিল ললাট থেকে নির্গত হচ্ছিল ক্রোধের আগুন। প্রবল আক্রোশে মাটিতে পদাঘাত করেছিলেন মহাকালীরূপিনী মা সীতা। ভূপৃষ্ঠে উঠেছিল ধুলোর ঝড়। নীলাকাশ থেকে বজ্রপাত শুরু হয়েছিল বৃষ্টিধারার মতো। কাঁপতে শুরু করেছিল পৃথিবী।এরপর ভয়াবহ হুংকার দিয়ে উঠেছিলেন মহাকালী। কেঁপে উঠেছিল সহস্র-রাবণ সহ সমস্ত রক্ষসেনার বুক। ধ্বংসের প্রতিমূর্তি, ঘোররূপা মুক্তকেশী নৃমুণ্ডমালিনী মহাকালী ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণক্ষেত্রে। তাঁরই সঙ্গে অস্ত্রহাতে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন অন্যান্য শক্তিদেবীরা। নির্মমভাবে ও অকাতরে তাঁরা বধ করে চলেছিলেন রাক্ষস সেনাদের। খেলতে শুরু করেছিলেন রাক্ষসদের কাটা মুণ্ড নিয়ে। অন্যদিকে চার হাতে চারটি অস্ত্র ধরে মহাকালরূপিনী মহাকালী এগিয়ে চলেছিলেন সহস্র রাবণের দিকে।একসময় মুখোমুখি হয়েছিলেন মা মহাকালী ও সহস্র-রাবণ। মহাকালীর প্রলয়ঙ্করী মূর্তির সামনে সামান্যতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেননি সহস্র রাবণ। মা মহাকালী একের পর এক কেটে চলেছিলেন সহস্র-রাবণের মুণ্ডগুলি। রণক্ষেত্র ছেড়ে পালাবার চেষ্টা করেছিলেন আতঙ্কিত সহস্র-রাবণ। কিন্তু যেদিকেই তিনি ছুটে যাচ্ছিলেন, সেদিকেই আকাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মহাকালী। দশ দিকে শুধুই করালবদনী মহাকালীকে দেখতে পাচ্ছিলেন সহস্র-রাবণ। একসময় মহাকালী বিকট চিৎকার করে সহস্র-রাবণের ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন প্রধান মুণ্ডটিকে। পাহাড়ের মতো দেহ নিয়ে রণক্ষেত্রে লুটিয়ে পড়েছিলেন মুণ্ডহীন সহস্র-রাবণ।

সহস্র-রাবণকে বধ করার পরেও শান্ত হননি মা মহাকালী

মহাকালীর ক্রোধের হুংকারে রসাতলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল পৃথিবীর। আতঙ্কিত দেবতারা শুরু করেছিলেন ‘মহাকালী সহস্রনাম’ স্তোত্র উচ্চারণ। কিন্তু তাতেও শান্ত হননি মা মহাকালীরূপী মা সীতা। বাধ্য হয়ে দেবতারা আহ্বান করেছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবকে। রণক্ষেত্রে পড়ে থাকা শবগুলির মধ্যে শুয়ে পড়েছিলেন মহেশ্বর।তাণ্ডবনৃত্য করতে করতে ক্রোধে উন্মাদিনী মহাকালী পা দিয়ে ফেলেছিলেন মহাদেবের গায়ে। পতির গায়ে পা দেওয়ার লজ্জায় মহাকালীর মুখগহ্বর থেকে বেরিয়ে এসেছিল তাঁর রক্তলাল জিভ, যা ঘটেছিল রক্তবীজকে বধ করার সময়ও। শান্ত হয়েছিলেন মা মহাকালী। কিন্তু ক্রুদ্ধ কণ্ঠে রণক্ষেত্রে শুয়ে থাকা শ্রীরামচন্দ্রকে দেখিয়ে বলেছিলেন, যতক্ষণ প্রভু রাম অচেতন থাকবেন, ততক্ষণ তিনি স্থানত্যাগ করবেন না। প্রয়োজনে আবার শুরু হবে তাঁর ধ্বংসযজ্ঞ। এই কথা শোনার পর দ্রুত প্রভু রামের জ্ঞান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।

জ্ঞান ফিরে আসার পর, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রক্তস্নাত এক ভয়াবহ দেবীকে দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। শ্রীরামচন্দ্রকে ব্রহ্মা জানিয়েছিলেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা করলাবদনী দেবীই হলেন তাঁর স্ত্রী সীতা। খানিক আগেই যিনি বধ করেছেন সহস্র রাবণকে। বিস্মিত রাম এরপর নিজেই জানতে চেয়েছিলেন দেবীর পরিচয়। মা মহাকালী তখন তাঁর আদিরূপ দেখার জন্য শ্রীরামকে প্রদান করেছিলেন অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি। আদি পরাশক্তির ভুবনমোহিনী রূপ দেখে মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। জপ করেছিলেন আদ্যাশক্তির ১০০৮ নাম। তুষ্ট মহাকালী এরপর ধারণ করেছিলেন রামপ্রিয়া সীতার কল্যাণময়ী রূপ। স্ত্রী সীতাকে নিয়ে পুষ্পক রথে চড়ে অযোধ্যায় ফিরে এসেছিলেন দেবী সীতার লীলায় বিস্মিত শ্রীরামচন্দ্র।

You might also like