Latest News

Chambal Putlibai: বদলার রাইফেল হাতে তুলে নিয়েছিল চম্বলের নর্তকী পুতলি

রূপাঞ্জন গোস্বামী

Chambal Putlibai

মধ্যপ্রদেশ , রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশের সুবিশাল এলাকা  জুড়ে আছে চম্বল (Chambal) উপত্যকা। যার মাঝখান দিয়ে ৯৬৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে  চম্বল নদী।  ভূমিক্ষয়ের ফলে  প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট মাটির টিলা,অগভীর খাত। অঞ্চলটির স্থানীয় নাম বেহড়। এক আতঙ্কের উপত্যকা।

এখন বিশ্বের পর্যটকদের জন্য চম্বলের বেহড় উন্মুক্ত হলেও, একসময় এখানে দিনের বেলাও ঢুকতে ভয় পেত তিন রাজ্যের পুলিশ। আইনের প্রশাসন এখানে চলত না। চম্বলের বেহড়ে শেষ কথা বলত বাগীরা। যাদের আমরা চিনি চম্বলের ডাকাত হিসেবে।Chambal Ravines and Shergarh Fort | About Chambal Ravines Th… | Flickr

অভিশপ্ত নদী চম্বল (Chambal)

একটি লোকগাথা বলছে, দ্রৌপদী অভিশাপ দেন চম্বল নদীকে। আবার অন্য একটি লোকগাথা থেকে জানা যায় আর্যরাজ রন্তিদেবের গোমেদ যজ্ঞের সময় কয়েক সহস্র গাভি বলি দেওয়ার ফলে চম্বল নদীর জল হয়ে উঠেছিল রক্তবর্ণ। রাজা ও চম্বল নদীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণরা।

চম্বল ভারতের একমাত্র নদী, যে পূজা পায়না। যার জল দিয়ে কোনও পবিত্র কাজ হয়না। প্রবাদে বলে, “চম্বল নদীর জল যে পান করে সে বাগী হয়ে যায়।”

The many lives of Chambal River | Times of India Travel
চম্বল নদী

চম্বলের (Chambal) বেহড় বলে ‘খুন কা বদলা খুন’

এক সময় চম্বল ছিল দস্যুদের মুক্তাঞ্চল। তবে এখানকার দস্যুরা নিজেদের দস্যু বলত না, বলত বাগী, যার অর্থ বিদ্রোহী। তারা বাগী হতো বদলা নেওয়ার জন্য। অত্যাচার সইতে সইতে অত্যচারীকে হয়তো খুন করে বসত গ্রামের সবচেয়ে শান্ত ছেলেটি কিংবা দিনের পর দিন ধর্ষিতা হতে থাকা মহিলাটি।

খুনের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তারা পালিয়ে যেত বেহড়ে। তাদের আশ্রয় দিত চম্বলের বেহড়ে লুকিয়ে থাকা দস্যুদল। কমপক্ষে একটা খুন করলে তবেই জায়গা মিলত দলে। কারণ যে খুন করেছে সে পুলিশ ও বদলার ভয়ে দল ছেড়ে পালাবে না। এভাবেই বেহড়ে বেড়ে চলেছিল বাগীদের সংখ্যা।

এভাবেই চম্বল নদী খুব কাছ থেকে দেখেছে মান সিং, লাখন সিং, সুলতান সিং, মালখান সিং, মোহর সিং,সুলতানা গুর্জর ,বাবু গুর্জর, বাবা মুস্তাকিন, পান সিং তোমর, ফুলন দেবী, সীমা পরিহার, নির্ভয় সিং গুর্জর ইত্যাদি নামকরা বাগীদের। আর দেখেছিল দস্যুরানি পুতলীবাঈকে (Chambal Putlibai)। চম্বলের প্রথম দস্যুরানি। চম্বলের রুক্ষ মাটিকে যে নারী রক্তে রাঙিয়ে দিয়েছিল অপরিসীম আক্রোশে।

dacoit mohar singh gurjar passes away: he kidnapped delhi man from chambal: मोहर सिंह: जिसने चंबल में बैठे-बैठे दिल्ली से कर लिया था अपहरण - Navbharat Times
চম্বলের কুখ্যাত দস্যু মোহর সিং

গোহরবানু থেকে পুতলীবাঈ (Chambal Putlibai)

বেহড়ের সমতল এলাকায় লুকিয়ে আছে বিভিন্ন গ্রাম। মধ্যপ্রদেশের অম্বা তহশিলের বারাবাই  এলাকার এক গ্রামে ছিল গোহরবানুর বাড়ি। বারাবাই  আরও একটা কারণে বিখ্যাত ছিল। এই এলাকাতেই জন্ম নিয়েছিলেন পন্ডিত রামপ্রসাদ বিস্মিল।  এখানকার এক হতদরিদ্র পরিবারে ১৯২৬ সালে জন্ম নিয়েছিল গোহরবানু।

মা আসগরিবাঈ ছিলেন অসামান্য রূপসী। নাচ ও গান জানতেন। মায়ের রূপ আর গুণ পেয়েছিল গোহরবানু। সে ও তার বোন ‘তারা‘ পেটের তাগিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়ে বাড়িতে নাচ গান করত। তবলা বাজাত দাদা আলাদীন। পুতুলের মত ছোট্টখাট্টো ও মিষ্টি হওয়ার জন্য রসিকরা গোহরবানুর নাম দিয়েছিল পুতলীবাঈ (Chambal Putlibai)

আসগরিবাঈ বুঝেছিলেন পুতলীবাঈয়ের নাচ ও গানের প্রতিভাকে ছোট এলাকার মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত হবে না। মেয়েকে নিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন আগ্রা। পুতলীবাঈয়ের নাচে আর গানে মোহিত হয়ে গিয়েছিল আগ্রা শহর। পুতলীবাঈয়ের প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল লখনৌ এবং কানপুরেও।

  অপহৃত হয়েছিল পুতলীবাঈ (Chambal Putlibai)

ঢোলপুরের জমিদারের ছেলের বিয়েতে  পুতলীবাঈকে (Chambal Putlibai) গান গাওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের আশায় গিয়েছিল পুতলীবাঈ। নাচ গান আর সুরার নেশায় সবাই যখন বুঁদ, বিয়েবাড়িতে হানা দিয়েছিল চম্বলের ত্রাস সুলতানা ডাকু। শোনা যায় পুতলীবাঈ একটুও না ঘাবড়ে  সুলতানাকে জিজ্ঞেস করেছিল ,”কোন হ্যায় তু?”।

সুলতানা উত্তর দিয়েছিল , “তুমারি চাহনেওয়ালে”। পুতলীবাঈকে ভালোবেসে ফেলেছিল চম্বলের এই ‘খুনখার’ ডাকু। সুলতানা পুতলীবাঈকে তার সঙ্গে যেতে বলেছিল। কিন্তু পুতলীবাঈ তা অস্বীকার করায় সুলতানা পুতলীর দাদা আলাদীনকে গুলি করে মারার হুমকি দেয়। দাদাকে বাঁচাতে পুতলীবাঈ সুলতানা ডাকুর সঙ্গে যেতে রাজি হয়। পুতলীর বয়েস তখন ছিল প্রায় ২৫ বছর।

পুতলীবাঈকে (Chambal Putlibai) সুলতান সিং নিয়ে গিয়েছিল বেহড়ের গোপন ডেরায়। কালের স্রোতে সুলতানার প্রেম কবুল করেছিল পুতলীবাঈ। দাবানলের মতো খবরটি ছড়িয়ে পড়েছিল চম্বলে। তখনও সুলতানার পরিচয় জানত না সদ্য যুবতী পুতলীবাঈ। কিন্তু সুলতানার  মাথার ওপর ৮৪ টি নরহত্যার শমন রয়েছে জেনে এক রাতে ডেরা ছেড়ে পালিয়েছিল  পুতলীবাঈ।

অনেক কষ্টে ও কাঠখড় পুড়িয়ে ফিরে এসেছিল নিজের গ্রামে। প্রবল ঘৃণায় গ্রামবাসী একঘরে করে দিয়েছিল পুতলীকে। কিন্তু তার অপরাধ কী সেটা পুতলী বুঝতে পারেনি। সবাই মুখ ফেরালেও  মা আসগরীবাঈ তাঁর গহরকে ফিরিয়ে দেননি।

পুলিশের অত্যাচারে বেহড়ে ফিরেছিল পুতলীবাঈ (Chambal Putlibai)

গ্রামে ফেরার পর পুতলীবাঈকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সুলতান সিংয়ের সন্ধান জানতে ঘন্টার পর ঘন্টা অত্যাচার চালিয়েছিল নিরীহ পুতলীর ওপর। সুলতান সিংয়ের বদলার ভয়ে মুখ খোলেনি পুতলী। দিনে রাতে পুতলীকে ডেকে পাঠানো হত থানায়। কখনও কখনও অফিসারেরা নিজেদের বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন। পাশবিক অত্যাচার চলত পুতলীর ওপর। একসময় এটাই রুটিন হয়ে গিয়েছিল বিধ্বস্ত পুতলীর।

পুলিশ ও গ্রামবাসীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে,  একদিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পুতলী। ফিরে গিয়েছিল সুলতান সিংয়ের কাছে। খোলা আকাশের নীচে, চম্বলের বেহড়ের রুক্ষ নিরাপত্তায় শুরু করেছিল সংসার। আজ এখানে তো কাল কুড়ি কিলোমিটার দূরে কোনও নিরাপদ ডেরায় কাটত পুতলীর (Chambal Putlibai) রাত।

বাগী জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল পুতলী (Chambal Putlibai)

বেহড়ের মধ্যেই জন্ম নিয়েছিল সুলতানা ও পুতলীর মেয়ে ‘তান্নো’। তান্নোকে পুতলী  রেখে এসেছিল তার মায়ের কাছে। বন্দুক আর রক্ত থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল মেয়েকে। কারণ বেহড়ের জীবন নির্ভর করে একটি মাত্র গুলির ওপরে। কে কতক্ষণ গুলিটিকে দূরে রাখতে পারে তারই লড়াই চলে প্রতিনিয়ত।

পুতলীবাঈকে বন্দুক চালানো শিখিয়েছিল সুলতানা। পুলিশের সঙ্গে একটি এনকাউন্টারে পুতলীর নিখুঁত নিশানায় উড়ে গিয়েছিল পুলিশের চরের মাথার খুলি। সেদিন পুতলীবাঈ উপহার পেয়েছিল একটি রাইফেল। কিন্তু পুতলীবাঈ সেদিন নামিয়ে রেখেছিল রাইফেল, বেহড়ের জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।

হত্যার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে পুতলী ফিরতে চেয়েছিল মেয়ের কাছে। মেয়েকে একটিবার চোখে দেখার জন্য। কারণ পুতলী জানত সেদিন থেকে পুলিশের রাইফেলের নল ঘুরে গিয়েছিল তারও দিকে। কিন্তু সেদিন পুতলীকে  বেহড় ছাড়তে দেয়নি সুলতানা।

দলে ভারি হতে লাখন সিংয়ের গ্যাং-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল সুলতানা। কিন্তু লাখন সিং-এর খারাপ নজর পড়েছিল রুপসী পুতলীর  ওপর।

বেহড়ের নির্মমতায় একা হয়ে গিয়েছিল পুতলী (Chambal Putlibai)

২৫ মে ১৯৫৫, গোপন ডেরায় শুয়েছিল সুলতান আর পুতলী। কয়েকজন পাহারা দিচ্ছিল। দলের বাকি সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আশেপাশে। অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। শুরু হয় ‘মুঠভেড়’। সেই রাতের এনকাউন্টারে মারা যায় সুলতানা।কিন্তু বেহড়ে গুঞ্জন ওঠে যায় লাখন সিং-এর ইশারায় কল্লা ডাকাত  গুলি মেরে ফেলেছিল সুলতানাকে। পুতলীর চোখের জলে ভিজেছিল বেহড়ের মাটি।

পুতলী বুঝতে পেরেছিল তার স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। একদিন পুতলী তার মেয়েকে দেখতে রজই গ্রামে গিয়েছিল। সেখানে পুতলীর দলের সঙ্গে পুলিশের এনকাউন্টার হয়। পুতলী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। পুতলীকে আগ্রা নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন পর পুতলী জামিন পেয়ে জেলের বাইরে আসে এবং ফেরার হয়ে  যায়।

চম্বলের বেহড়ে আবার পা পড়ে পুতলীর। কিন্তু এ পুতলীবাঈ সে পুতলীবাঈ নয়, বেহড়ের পুতলীবাঈয়ের পায়ে ঘুঙুর ছিল না। চম্বল নদীর জল পুতলীবাঈকে তার নিজের অজান্তেই করে তুলেছিল হায়নার মতোই হিংস্র। স্বামীর মৃত্যু ও পুলিশের অত্যাচারের বদলা নিতে পুতলীবাঈ এবার হাতে তুলে নিয়েছিল বদলার রাইফেল।

সবার আগে খুন করেছিল তার স্বামীর হত্যাকারী কল্লা ডাকাতকে। তারপর সুলতানার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সদস্যদের ঠান্ডা মাথায় একে একে খুন করেছিল পুতলী। চম্বলের পোড় খাওয়া বাগীরা চমকে উঠেছিল পুতলীবাঈয়ের নৃশংসতায়।

পুতলীবাঈ থেকে দস্যুরাণী পুতলী (Chambal Putlibai)

সুলতানা ডাকুর দলের কর্তৃত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল পুতলী। তারপর পুলিশদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পুষে রাখা ক্ষোভ নিয়ে। এক রাতে দাতিয়া গ্রামের ১১ গ্রামবাসীকে পুতলীবাঈ গুলি করে হত্যা করেছিল। তার সন্দেহ হয়েছিল সেই গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশের চর। কারণ পুতলীর ‘মুখবীর’ ( চর) সেরকমই তথ্য দিয়েছিল।

১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮, চম্বলে নিরবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাস চালিয়েছিল পুতলীবাঈ। খুন, অপহরণ, তোলা আদায় কিছুই বাদ দেয়নি পুতলী। বার বার পুতলীকে এনকাউন্টারে মারতে চেষ্টা করেছে পুলিশ। কিন্তু বেহড়ের ভেতরে থাকা পুতলীবাঈ চম্বল নদীর জলে থাকা কুমীরের চেয়েও চালাক ও ভয়ঙ্কর।

১৯৬৫ সালের নভেম্বরে পুতলী চিঠি লিখেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুকে। পুলিশ নয় গ্যাং-এর লোকের গুলিতে মারা গিয়েছিল সুলতানা। পুলিশ যথারীতি তা অস্বীকার করেছিল। পরে আবার চিঠি লিখছিল পুতলি  আত্মসমর্পণের জন্য । আগের চিঠির মতো এই চিঠিরও উত্তর আসেনি।

পুলিসের সঙ্গে একটি এনকাউন্টারে হাতে এক হাত হারিয়েছিল পুতলীবাঈ। গোয়ালিয়রের  এক ডাক্তার গুলি লাগা  হাতটি কনুই থেকে বাদ দিয়েছিলেন। বিনিময়ে পেয়েছিলেন ২০০০০ টাকা। ছিপছিপে ছোটখাটো চেহারার পুতলীবাঈ এক হাতে ভারী রাইফেল তুলে নিখুঁতভাবে গুলিবর্ষণ করে একইভাবে তার সন্ত্রাসের রাজত্ব ধরে রেখেছিল।

চম্বলের (Chambal) জলে বয় বিশ্বাসঘাতকতার স্রোত

সুলতানা ডাকুর মৃত্যু ও দলের বিশ্বাসঘাতকদের হত্যার পর একাধিক সদস্য পুতলীকে বিয়ে করতে চায়। সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছিল পুতলীবাঈ।

২৩ জানুয়ারি, ১৯৫৮। মোরেনার কোহর গ্রামের অদূরে ছিল পুতলীর গ্যাং ( মতান্তরে শিবপুরীর জঙ্গল)।  লাখন সিংয়ের গ্যাংকে এনকাউন্টার করতে গিয়ে পুতলীর গ্যাংয়ের সামনে গিয়ে পড়ে পুলিশ। সেদিন চম্বলের বেহড় দেখেছিল এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই।

মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজে কাঁপছিল চম্বলের বেহড়। রাতভোর চলেছিল গুলির লড়াই। পুতলী বুঝতে পেরেছিল তার দলের বন্দুকগুলি ক্রমশ শান্ত হয়ে যাচ্ছে। সেদিন নিদারুণভাবে প্রতারিত হয়েছিল পুতলী। চম্বলের বেহড় এক নারীর দখলে থাকবে, হয়তো মেনে নিতে পারেনি বেহড়ের পৌরুষ।

গ্রামের কিছু দূর দিয়ে বয়ে চলেছিল চম্বল নদী। কুমীর ভর্তি নদী একহাতে সাঁতরে পার হতে চেয়েছিল পুতলীবাঈ।  আর মাত্র কয়েক ফুট, তারপরে পুতলী চলে যেত পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু বাতাসে শীষ কাটতে কাটতে উড়ে এসেছিল বুলেট। একটার পর একটা। পুলিশের নাকি নিজের দলের বিশ্বাসঘাতকদের বুলেট, তা বুঝতে পারেনি পুতলী।

অভিশপ্ত চম্বল নদীর স্রোত তাকে আঁকড়ে ধরেছিল। জল ছেড়ে পুরো শরীরটা ডাঙায় তুলতে পারেনি পুতলী। চম্বল নদীর রুক্ষ তীরে পিঠ ঠেকিয়ে ৩২ বছরের পুতলী শেষ করেছিল তার অভিশপ্ত জীবন। মৃত্যুর সময় চোখটা খোলাই ছিল। হয়তো সে দেখতে চেয়েছিল বিশ্বাসঘাতকদের, হয়তো তার মেয়ে তান্নোকে। কিন্তু সুযোগ কাউকে দ্বিতীয়বার দেয় না চম্বল। দেয়নি দস্যুরাণী হয়ে ওঠা গোহরবানুকেও।

‘রিভলভার দাদি’, বাজের মতো তীক্ষ্ণ নিশানায় হার মেনেছে বয়সের পরাধীনতা

You might also like