Latest News

নারীদের সম্ভ্রম বাঁচাতে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন বাস্তবের উদয়ন পণ্ডিত, সুঁটিয়ার মাস্টারদা

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ব্যুরো: ২০১২ সালের ৫ই জুলাই, সন্ধের মুখে রোজকার মতোই গোবরডাঙা স্টেশনে এসে থামল ভিড়ে ঠাঁসা বনগাঁ লোকাল। ট্রেন থেকে নামলেন তরুণ এক শিক্ষক। চোখমুখে সামান্য ক্লান্তি থাকলেও অসম্ভব সপ্রতিভ তাঁর চেহারা। বর্ষাকালের বিকেল, ঈশাণ কোণে মেঘ জমেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় স্টেশনচত্বরও বেশ কিছুটা নিস্তব্ধ। লোকজনের আনাগোনা এমনিতেও এই স্টেশনে কম। ট্রেন থেমেছিল তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে। সেখান থেকে সোজা এক নম্বর প্লাটফর্মের দিকে হাঁটা দিলেন সেই তরুণ। আপাতত স্টেশনের বাইরের বাইক-গুমটি, সেখান থেকে সোজা বাড়ি। কিন্তু সব হিসেব উল্টেপাল্টে দিল এক বিভৎস শব্দ। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো জমাট নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে ফেলল ধাতব শব্দ। গুলির আওয়াজ। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। পেছন থেকে আসা গরম সিসার দানা পাঁজর ভেদ করে বেরিয়ে গেল সেই তরুণের। ধুলোভর্তি রাস্তায় নিজের রক্তের উপরই মুখ থুবড়ে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। লুটিয়ে পড়ল প্রতিবাদের এক জ্বলন্ত প্রতিমূর্তি। বরুণ বিশ্বাস। এই নির্ভীক অকুতোভয় মানুষটি সমস্তরকমের রাজনৈতিক ছত্রছায়ার বাইরে এসে এককভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছিলেন একদিন। একার চেষ্টায় গড়ে তুলেছিলেন সংগঠিত প্রতিবাদ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভাষা জুগিয়েছিলেন গ্রামের মানুষেরও। তিনি হয়ে উঠেছিলেন আক্ষরিক অর্থে জননেতা। (Barun Biswas)

Image - নারীদের সম্ভ্রম বাঁচাতে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন বাস্তবের উদয়ন পণ্ডিত, সুঁটিয়ার মাস্টারদা

বরুণ বিশ্বাস। পেশায় শিক্ষক এই মানুষটাকে নিয়ে আজকাল তেমন কথা হয় না। রাজনৈতিক ডামাডোলের বাজারে, স্মৃতিভ্রষ্ট বাংলার মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভুলে গেছে অকালে চলে যাওয়া এক তরুণ মাস্টারমশাইকে। দশ বছর আগের পুরোনো কথা কে-ই বা মনে রাখে? তবু, প্রতিবছর শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে আমোদগেঁড়ে বাঙালির স্মৃতিকাতরতা দেখে ক্লান্ত লাগে, মনে পড়ে যায়, আমাদের বাংলার বুকেও জন্ম নিয়েছিল বরুণের মতো অকুতোভয় দুএকজন উদয়ন পণ্ডিত। (Barun Biswas)

১৯৭২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উত্তর চব্বিশ পরগণার এক প্রত্যন্ত গ্রাম সুঁটিয়ায় জন্ম হয় বরুণ বিশ্বাসের। বরুণের বাবার নাম জগদীশ বিশ্বাস ও মায়ের নাম গীতা বিশ্বাস। বরুণ তাঁদের ছোট ছেলে। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বাংলাদেশের ফরিদপুর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁরা ওদেশ ছেড়ে উত্তর চব্বিশ পরগণার সুঁটিয়ায় এসে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য দিনে দিনমজুরি করতেন জগদীশ বিশ্বাস, আর রাত্রে যাত্রাদলে গান গাইতেন। ছোটবেলাটা খুব অভাবের মধ্যে দিয়েই কেটেছে বরুণের। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার, নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তবু পড়াশোনার ইচ্ছে আর তাগিদের অভাব হয়নি। বরুণের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ভরাডাঙ্গা হাইস্কুলে। এই স্কুল থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর খাতরা হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক আর গোবরডাঙ্গা হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে আসেন কলকাতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন বরুণ। পাশাপাশি নিউ ব্যারাকপুরের বিটি কলেজ থেকে বি.এড ট্রেনিং ও করেন। সেসময় পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েও সাধারণ মানুষের মাঝখানে থেকে কাজ করবেন বলে শিক্ষকতার পেশাই বেছে নেন বরুণ। (Barun Biswas)

১৯৯৮ সালে কলকাতার বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মিত্র ইনষ্টিটিউশন’-এর শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বরুণ। মৃত্যুর দিন অবধি তিনি ঐ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। চশমা আঁটা গতেবাঁধা মাস্টারমশাই তিনি কোনওকালেই ছিলেন না। ছাত্রদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে যেতে পারতেন। সহজ হাসিখুশি যাপনে বিশ্বাসী ছিলেন। তেমনই সহজ ছিল তাঁর পড়ানোর ধরণ। সিলেবাসের বাইরের জগটাকেও মেলে ধরতে চাইতেন ছাত্রদের সামনে। কথায় কথায় উঠে আসত দেশ বিদেশের কথা, সাহিত্য নিয়ে নানান টুকিটাকি গল্প। আড্ডার ছলে নিজের মাতৃভাষাটাকে আর একটু ভালোবাসতে শেখাতেন ছাত্রদের। সকলের কাছেই প্রিয় শিক্ষক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি নিজের কর্মক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করতে ভুলতেন না। (Barun Biswas)

Image - নারীদের সম্ভ্রম বাঁচাতে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন বাস্তবের উদয়ন পণ্ডিত, সুঁটিয়ার মাস্টারদা

ছাত্র জীবন থেকেই প্রতিবাদী হিসেবে এলাকায় পরিচিত বরুণ বিশ্বাস। মুখ বুজে সমস্ত অন্যায় মেনে নেওয়ার এই যুগে স্রোতের বিপরীতে হাঁটতেন বরুণ। শুধু প্রতিবাদ নয়, অজুহাত দিয়ে যখন এ সমাজ পাশ কাটায় মানবিক দায়িত্ব থেকে তখন বারবার নিজের কাঁধে সব দায়ভার তুলে নিতেন অনায়াসে। সেসময় গাইঘাটা অঞ্চলে প্রতিবছরই বন্যা দেখা দিত। ২০০০ সাল নাগাদ ইচ্ছামতী ও যমুনা নদীর বন্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে এলাকার মানুষকে একত্রিত করে খাল তৈরি করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন বরুণ। প্রথম দিকে এলাকার নেতারা বিরোধিতা করলেও বরুণের জেদ আর উদ্যমের কাছে পরাস্ত হয় সব রাজনৈতিক বাধা। বলতে গেলে, এই আন্দোলন থেকেই বরুণের পথচলা শুরু।

তৎকালীন গাইঘাটার সুঁটিয়া ছিল বেশ কুখ্যাত অঞ্চল, এই গ্রামকে বলা হত ‘ধর্ষণ গ্রাম’। চব্বিশ পরগণা জেলার সুঁটিয়া ও তার আশপাশের গ্রামগুলোতে সেসময় তাণ্ডব চালাত এক দল মানুষরূপী পিশাচ। কুখ্যাত সুশান্ত চৌধুরী ও বীরেশ্বর ঢালীর নেতৃত্বে বেশ কয়েক বছর ধরে দাপিয়ে বেড়াত কুড়ি পঁচিশজনের একটি সমাজবিরোধী দল। খুন জখম, তোলা আদায়, জোরজুলুম তো ছিলই, তার পাশাপাশি শুরু হয়েছিল ব্যাপকভাবে নারী নির্যাতন আর ধর্ষণ। সুঁটিয়া অঞ্চলকে কার্যত নরকে পরিণত করে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট এই সমাজবিরোধীরা। যৌন নির্যাতনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিলো। একের পর এক গণধর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল জলভাত। আতঙ্ক সৃষ্টি করে চুপ করিয়ে রাখা হত মানুষকে। বাড়ির চৌকাঠ পেরোতে ভয় পেত মেয়েরা। চাঁদাবাজি, লুটপাটের প্রতিবাদ করতে এলে সেই পরিবারের প্রত্যেক নারীর ওপর নেমে আসত ধর্ষণের বিষাক্ত ছোবল। পরিবারের সদস্যদের সামনেই চলত অকথ্য যৌন নিপীড়ন।৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা আর দাদাদের মদত প্রশ্রয়ে দুঃসাহসী হয়ে ওঠে একদল শয়তান। অত্যাচারের সেই নারকীয় রূপ মধ্যযুগীয় বর্বরতা এবং বৃটিশ অত্যাচারকেও ছাপিয়ে যায়।

তথ্য ঘাঁটলে দেখা যাবে, ২০০০-২০০২, এই দুবছরে প্রায় ৩৩টি ধর্ষণ ও ১২টি খুন হয় সুঁটিয়া এলাকায়। এরকম বিভীষিকাময় দমবন্ধ অবস্থা দিনের পর দিন মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছিল সাধারণ মানুষ। ক্ষোভে-অপমানে ভেতরে ভেতরে ফুঁসলেও সবার মনেই চাপা ভয়, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর আওতাধীন হয়েও সাহস নেই অভিযোগের। এমনই যখন অবস্থা, তখন ২০০২ সালের ১ আগস্ট সুঁটিয়া বাজারে ডাক দেওয়া হল প্রথম প্রকাশ্য এক প্রতিবাদসভার। সভায় ভিড় হল ভালোই, এলেন অনেকেই, কিন্তু মঞ্চে উঠে বক্তৃতা করার সাহস পেল না কেউ। সেই থমথমে পরিবেশে সবাইকে চমকে দিয়ে ভিড়ের ভিতর থেকে মাথা উঁচু করে এগিয়ে এলেন এক যুবক। মাইক হাতে তুলে নিয়ে বললেন,
“আমরা যদি আমাদের মা,বোন,স্ত্রী ও মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে না পারি, তবে আমরা সভ্য সমাজে বাস করার যোগ্য নই।আমাদের যদি ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস না থাকে,তাহলে আমাদের শাস্তি পাওয়া উচিত….আসুন আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আমাদের মহিলাদের সম্মান রক্ষা করুন।” মঞ্চে সেই প্রথম সমাজবিরোধীদের চোখে চোখ রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে উঠল এক নতুন প্রতিবাদী কণ্ঠ।

বলাই বাহুল্য, প্রতিবাদের এই স্বর সুঁটিয়াবাসীর নাড়িয়ে দিয়ে যায়। এতদিনের চাপা ক্ষোভ বেরিয়ে আসে প্রতিবাদ হয়ে। পরদিনই সুঁটিয়ার হাটচালায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে ‘সুঁটিয়া গণধর্ষণ প্রতিবাদ মঞ্চ’। সেই প্রতিবাদী মঞ্চের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন সেই দৃঢ়চেতা নির্ভীক যুবক। বরুণ বিশ্বাস। শুরু হয় আন্দোলন, নৃশংসতা আর নিপীড়নের প্রতিবাদ। সেই প্রথম তালিকা করে শাস্তির দাবি করা হল সেই সব পিশাচদের। সকলের দরজায় গিয়ে কড়া নেড়ে সাহস দেওয়া হল এদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে। ১৬ আগস্ট ১৮টি গাড়ির কনভয় সাজিয়ে এসডিও, এসডিপিও, ওসি’র কাছে ডেপুটেশন দিল সুঁটিয়ার মানুষ। সেদিন সাহস করে রাস্তায় নেমেছিলেন নারীরাও। এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল রাজ্য মহিলা কমিশনের সদস্যদের। ধর্ষিতাদের সঙ্গে কথা বলে আর এলাকার পরিস্থিতি ঘুরে দেখে স্তম্ভিত সদস্যরা রিপোর্ট করলেন, খবর গেল পুলিশের উঁচু মহলে।

প্রতিবাদের এই পর্বে আগাগোড়া সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বরুণ বিশ্বাস। তিনি তখন সুঁটিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে সাহসের প্রতীক। নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার যারা, তাদের স্বাভাবিক জীবনে আসার জন্য উৎসাহিত করতেন তিনি, কয়েকজনের ধর্ষিতা মহিলার বিয়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। বিচার পাওয়ার আশায় অনেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার শক্তি পান বরুণের চেষ্টাতেই। যার ফলে ধরা পড়ে বীরেশ্বরসহ পাঁচজন। শাস্তি হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

মূল অপরাধীরা ধরা পড়ার পর গ্রামে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু জেলে বসেই সুশান্ত চৌধুরীরা অঙ্ক কষতে থাকেন, বরুণ বিশ্বাসকে চিরতরে সরিয়ে ফেলার অঙ্ক। জেলে বসেই ঠিক করা হয় ভাড়াটে খুনিদের। অবশেষে ২০১২ সালের ৫ জুলাই, সেই কালো দিনে গোবরডাঙা স্টেশনে পেছন থেকে বরুণবাবুকে গুলি করে দুষ্কৃতিরা। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রায় আধঘণ্টা স্টেশনে পড়ে ছিলেন বরুণ। সেদিন ভয়ে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি একটাও লোক। ‘পুলিশ কেস’ হবে বলে হত্যাকারীদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করতে সাহস করেনি। রক্তক্ষরণ হচ্ছিল ক্রমাগত, ঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচতে পারতেন। কিন্তু যতক্ষণে বরুণ বিশ্বাসকে সেখানে নেওয়া হলো, ততক্ষণে তাঁর আর কিছু দেবার নেই। অনেক রক্ত ঝরে গেছে তাঁর জন্মভূমিতে, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন তিনি। এর বেশ কিছুদিন পর বরুণবাবুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সুমন্ত দেবনাথ ওরফে ফটকে, দেবাশিষ সরকার, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও রাজু সরকারকে। কিন্তু ভাড়াটে খুনিরা ধরা পড়লেও কার বা কাদের নির্দেশে এ খুন, তাঁর নামের উল্লেখমাত্র নেই সিআইডি’র চার্জশিটে।

Image - নারীদের সম্ভ্রম বাঁচাতে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন বাস্তবের উদয়ন পণ্ডিত, সুঁটিয়ার মাস্টারদা

বরুণ বিশ্বাসকে হারিয়ে আরও একবার ফুঁসে উঠেছিল সুঁটিয়াবাসী। ৬ই জুলাই ভরা বর্ষা মাথায় নিয়ে শয়ে শয়ে গ্রামবাসী এসেছিলেন তাঁদের মাস্টারদাকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানাতে। শ’খানেক ক্ষুব্ধ নারী হাতা, খুন্তি, ঝাঁটা নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিল পুলিশ ফাঁড়িতে। প্রধান সড়ক বন্ধ করে রাখা হয়েছিলো প্রায় ১০ ঘণ্টা। ৪০ হাজার লোক এসেছিলো তাঁর অন্তিম যাত্রায়। শব ছুঁয়ে শপথও নিয়েছিল অনেকে। তারা পণ করেছিল বরুণ হত্যার জন্য দায়ি সকলের শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবার। সময়ের সাথে সাথে সেসব শপথের রং আজ অনেকটাই ফিকে। এখনও ধরা পড়েনি মূল ব্যক্তি যার নির্দেশে খুন হয়েছিলেন গ্রামের মাস্টারদা। অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা আছে, থাকবেও, তার পাশাপাশি বাংলার বুকে বেঁচে থাকবে নির্ভীক জেদি একরোখা কয়েকজন শিক্ষক, কয়েকজন উদয়ন পণ্ডিত। আর তাঁদের ঘিরে স্বপ্ন বাজি ধরব আমরাও— সোশ্যাল মিডিয়া, রাজনৈতিক নেতাদের চিৎকার, খেলা-মেলা সহ সব মগজধোলাই পেরিয়েও।

You might also like