Latest News

Bangladesh: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ‘গ্রাউন্ড জিরো’ থেকে এক অনবদ্য ধারাভাষ্য 

অমিতাভ রায়

নভেম্বর ১১, ১৯৭০। এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ল তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে (Bangladesh)। সরকারি মতে মারা যায় অন্তত পঞ্চাশ হাজার মানুষ। বিপর্যস্ত এলাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, গৃহপালিত পশু– এককথায় সবকিছুই হারিয়ে যায়।

ডিসেম্বর ৭, ১৯৭০। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জয়ী শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানের ১৩৮টি আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি জয়লাভ করে ৮১টি আসনে। 

এর মধ্যে ১৫ই নভেম্বর ঘটে এক অন্যরকম ঘটনা। তেহরান থেকে ঢাকা পর্যন্ত এক মোটর গাড়ির অভিযান আয়োজন করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের সহযোগী সংগঠন ‘ইকোনমিক কমিশন ফর এশিয়া এন্ড ফার ইস্ট’ (ইকাফে)। ৬০টি গাড়ি এই সফরে অংশ নেয়।

ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা পেট্রাপোল-বেনাপোল থেকে এই অভিযানের খবর করতে গেছিলেন কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান সংবাদপত্রের এক নবীন সাংবাদিক। দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস্ কলেজ থেকে পড়াশোনার শেষে ১৯৬৬তে দ্য স্টেটসম্যান-এর সাংবাদিক হিসেবে তাঁর কলকাতায় আগমন। পরে তিনি হয়েছিলেন দ্য স্টেটসম্যান-এর ঢাকার ব্যুরো চিফ। আরও পরে কলকাতার ব্যুরো চিফ। অতঃপর দ্য স্টেটসম্যানের দিল্লি সংস্করণের রেসিডেন্ট সম্পাদক। অবশেষে ২০০৪ থেকে কলকাতা থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেটসম্যানের বাংলা সংস্করণের সম্পাদক। একটানা ১১ বছর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর এখন অবসর জীবন যাপন করছেন। এবং করোনা সংক্রমণ জনিত অবরুদ্ধ জীবনে চেন্নাই-এ বসে লিখেছেন নিজের প্রথম বই: বাংলাদেশ ওয়ার: রিপোর্ট ফ্রম গ্রাউন্ড জিরো। তিনি বিশিষ্ট সাংবাদিক, মানস ঘোষ। 

এই বইটি লেখা না হলে বাংলাদেশের (Bangladesh) মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যেত। অজানা তথ্য। অনালোকিত চরিত্র। অনালোচিত ঘটনা। সবকিছুর সমন্বয়। ১৯৭০-এর নভেম্বর থেকে ১৯৭১-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দ্য স্টেটসম্যান-এর পাতায় প্রকাশিত তাঁর লেখা প্রতিবেদনগুলির সংকলন নিয়ে এই বইটি নির্মিত হয়নি। এমনকি সেই অর্থে স্মৃতিচারণও নয়। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে লেখকের স্মৃতিতে গেঁথে থাকা প্রতিদিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং তাঁর নিজের লেখা প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের মিশেলে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য অধ্যায়। 

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে দাঁড়িয়ে ইকাফে মোটর গাড়ি অভিযানের খবর সংগ্ৰহ করার সূত্রে লেখকের তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের তিন সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে আলাপ হয়। যদিও তাঁরা কেউই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। সেই আলোচনার পর লেখকের মনে হয়, পরিস্থিতি বেশ রহস্যজনক। খানিকক্ষণ পর ইকাফে অভিযানের বিজয়ী মহেন্দ্র লালওয়ানি যখন পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের সফরের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করছিলেন তখন নবীন সাংবাদিক অর্থাৎ আলোচ্য বইয়ের লেখক নিজের ধারণা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। পশ্চিমের বৈরিতা আর পূর্বের হৃদ্যতায় আপ্লুত কলকাতার বাসিন্দা মহেন্দ্রবাবু। সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মানস ঘোষ লিখলেন ‘হোয়েন ব্রাদার মিটস্ ব্রাদার’।

Interview: Senior Journalist Manash Ghosh On His Book Bangladesh War: Report From Ground Zero

দ্য স্টেটসম্যান ব্রিটিশ ঘরানার সংবাদপত্র। প্রতিষ্ঠানের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ইস্পাত কঠিন। আভিজাত্য অটুট রাখার জন্য কোনও রকম  রীতি বহির্ভূত কাজ সেখানে হয় না। কাজেই এমন ধারণা সম্পৃক্ত প্রতিবেদন মূল কাগজে ছাপা হয়নি। বিভাগীয় সম্পাদক সুনন্দ কে দত্তরায়ের (পরে যিনি দ্য স্টেটসম্যান-এর সম্পাদক হয়েছিলেন) নির্দেশে সপ্তাহ দুয়েক পর দ্য সানডে স্টেটসম্যান-এ প্রকাশিত হয় মানস ঘোষের বাংলাদেশ (যদিও তখন সরকারি হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান) সংক্রান্ত প্রথম প্রতিবেদন। সেই রবিবার সকাল থেকেই রাজনীতি-কূটনীতি তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও শুরু হয়ে গেল গুঞ্জন। তাহলে সত্যি সত্যিই কি কিছু ঘটতে চলেছে!

বাস্তবে ঘটেছিল। জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পেয়েও ভুট্টোর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা, মুজিবুর রহমান এবং বাঙালির প্রতি প্রবঞ্চনা সর্বোপরি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় পাকিস্তানে সৃষ্টি হল প্রশাসনিক জটিলতা। সামরিক বাহিনীর প্রধান থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়া ইয়াইয়া খান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ। ভুট্টো ও সামরিক বাহিনীর প্ররোচনায় পূর্ব পাকিস্তানে জারি হল পুরোপুরি ফৌজি শাসন। একাত্তরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেক টালবাহানা করে অহেতুক সময় নষ্ট করা হল।

পরে বোঝা যায়, যে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করার জন্য সাংবিধানিক সঙ্কট নিরসনের অজুহাতে সময় খরচ করা হচ্ছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের তথা সাড়ে সাত কোটি বাঙালির তখন আর মাথা নিচু করে পিছিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কাজেই সাতই মার্চ ঢাকার রমনা ময়দানের বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘোষণা করতে হয়– ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’

ক্ষমতাসীন ফৌজের প্রাথমিক আক্রমণ শুরু হয় পঁচিশে মার্চ মাঝরাতে। সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম এই ভয়াবহ হত্যালীলা ও ধ্বংসকাণ্ডের খবর প্রচার করেনি। এবং পাশ্চাত্যের সংবাদমাধ্যমও পাকিস্তান সরকারের প্রচারকেই যথার্থ বলে স্বীকৃতি দেয়। পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সশস্ত্র আক্রমণের কোনও খবরই প্রচারিত হয়নি। অথচ ২৬ মার্চ চিটাগঙের নতুনপাড়া ও কুমিল্লার ময়নামতী ক্যান্টনমেন্টের পতন ঘটে। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্-এর বিদ্রোহী ফৌজিদের আকস্মিক আক্রমণে পাক বাহিনীর নতিস্বীকারের খবর আগরতলা থেকে প্রথম করেছিলেন  ইউএনআই-এর সাংবাদিক এস হাণ্ডা। এই খবরের জন্য তাঁকে যথেষ্ট সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। তবে লন্ডনের সানডে টাইমস্ পত্রিকার প্রতিবেদনে (জুন ১৩, ১৯৭১) হাণ্ডার সংবাদকে সত্যনিষ্ঠ বলে স্বীকৃতি দেওয়ায় বোঝা যায় পাক বাহিনীর আক্রমণের প্রথম দিন থেকেই গড়ে উঠেছিল সশস্ত্র প্রতিরোধ। 

এইরকম অনেক অজানা তথ্য আলোচ্য বইয়ের দুই মলাটের মধ্যে পাতায় পাতায় ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রকৃত অর্থে লেখকের হাতে রয়েছে তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার। কিন্তু পাঠককে তিনি তথ্যের সাগরে ভাসিয়ে দিতে চাননি। পরিমিত তথ্য যথাযথ শব্দ প্রয়োগে তিনি সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করেছেন ১৯৭০-৭১-এর বাংলাদেশের ঘটনাবলির কালানুক্রমিক বিবরণী। শব্দ প্রয়োগে লেখক সদাসতর্ক। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনও চরিত্রের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দিতে তাঁর আপত্তি। অথচ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এমন কয়েকজনের অবদান  সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যা সাধারণত আলোচিত হয় না।

চিত্তরঞ্জন সুতার সাধারণ ভাবে একটি অপরিচিত নাম। কলকাতার ভবানীপুর এলাকার নর্দান পার্কের ৪৩ রাজেন্দ্র রোডে তাঁর বাস। বাড়ির নাম সানি ভিলা। চিত্তরঞ্জনবাবু বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষ। বঙ্গবন্ধুর অনুরোধেই একাত্তরের অনেক আগে থেকেই এই বাড়িতে তাঁর বসবাস। মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানেই হত আওয়ামী লীগ নেতাদের গোপন বৈঠক। 

নীহার চক্রবর্তী ব্যবসায়ী। পাশাপাশি সাহিত্য অনুরাগী। তাঁর উদ্যোগে এবং অর্থানুকূল্যে প্রতিষ্ঠিত হয় আতাউর রহমান ও হুমায়ুন কবীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’। নীহারবাবু যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের ভরণপোষণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বন্দোবস্ত করেছিলেন, তা এতকাল সাধারণের অজানা ছিল। নবতিপর নীহারবাবু বইটি পড়ার সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই খুশি হবেন।

এইরকম অসংখ্য বিশিষ্টজনের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান এই বইটিতে বিবৃত হয়েছে যা এর আগে কখনও তেমন ভাবে উল্লিখিত হয়নি। বিএসএফ-এর গোলক মজুমদার, প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য সুখময় চক্রবর্তী, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার কৈলাশ চন্দ্র সেনগুপ্ত (কেসি নামেই পরিচিত), ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব অশোক মিত্র আইসিএস্, ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অশোক মিত্র (পরে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক) প্রমুখ যেভাবে নীরবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কাজ করে গেছেন তা সম্ভবত এই প্রথম লিপিবদ্ধ হল। এমন আরও অনেকের প্রসঙ্গে আলোচ্য বইতে আলোচনা রয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা নৈর্ব্যক্তিক ভাবে বিবৃত হয়েছে। আবেগ বর্জিত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে দেশেবিদেশে  ইন্দিরা গান্ধীর সক্রিয়তার আখ্যান। কালানুক্রমিক ধারাভাষ্যে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভূমিকা। কোনও বিশ্লেষণ নেই। কিন্তু পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয় না বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কারা সদর্থক ভূমিকা পালন করে ইন্দিরা গান্ধীর উদ্যোগ সফল করার জন্য ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর সচিবালয়ের আধিকারিকদের ভূমিকা, ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতামত ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত কিন্তু তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা রয়েছে। ফলে বইটিতে এমন বহু বিশিষ্ট মানুষের নাম এসেছে, যাঁদের কথা গত পঞ্চাশ বছরে স্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত মানস ঘোষের প্রতিবেদন প্রকৃতপক্ষে সর্বভারতীয় প্রচারমাধ্যমকে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য করে। পাশ্চাত্যের প্রচারমাধ্যমের পাকিস্তানের পক্ষে ধারাবাহিক প্রচারকে প্রতিহত করার জন্য তখন ভারত সরকারের কাছে আর তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সূত্র ছিল না। এমনকি প্রথম দিকে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্রগুলিও তেমন সাহসিকতার পরিচয় দিতে পারেনি। খবর সংগ্রহের জন্য খবরের নেপথ্যে থাকা  সাংবাদিক মানস ঘোষের সাহসিকতার সংবাদ এই বইটিতে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। একাত্তরের তিরিশে মার্চ বসিরহাট থেকে যেভাবে তিনি  সাতক্ষীরা হয়ে যশোহর শহরে পৌঁছলেন তা নিয়ে দুর্দান্ত থ্রিলার লেখার অবকাশ ছিল। কিন্তু সাংবাদিকের অভিজ্ঞতায় তিনি সেই প্রলোভন পরিহার করেছেন। একইরকম ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে বেরিয়ে পদ্মা পেরিয়ে পাবনা শহরে যাওয়ার ধারাবিবরণী পরিমিত শব্দে লেখক উল্লেখ করেছেন। এই সফর কাহিনির ভিত্তিতে ভালো গল্প-উপন্যাস অথবা পুরোদস্তুর ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করা যায়। 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর অবদানের জন্য লেখক যথাযথ স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্বাধীনতা লাভের পর ঢাকায় তিনি দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার ব্যুরো চিফ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের রাজনীতি অর্থনীতি সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গিয়েও নির্লিপ্ত আচরণে সাংবাদিকের কলমে তিনি নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশ ওয়ার: রিপোর্ট ফ্রম গ্রাউন্ড জিরো । প্রকাশক নিয়োগী বুকস্ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের লগ্নে বইটি প্রকাশ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এমন একটি পরিশ্রমী প্রয়াসকে  সর্বাঙ্গসুন্দর করার জন্য বইটিতে একটি নির্দেশিকা যুক্ত করার প্রয়োজন। অসংখ্য নাম উচ্চারিত হয়েছে। কোন পৃষ্ঠায় কোনও একটি নির্দিষ্ট নাম উল্লিখিত হয়েছে তার তালিকা সম্পৃক্ত নির্দেশিকা থাকলে পাঠকের সুবিধা হয়। সাদা-কালো কয়েকটি ছবি সংযোজিত হয়েছে। এখনকার রঙিন ছবির সঙ্গে তার তুলনা করা উচিত নয়। পাঠকের বিবেচনা করা দরকার কোন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং ক্যামেরার অস্তিত্ব ও সক্রিয়তা রক্ষা করে ছবিগুলি তোলা হয়েছিল।  সেই সময়ের ক্যামেরার সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করতে হবে।

বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে নির্মিত বইটির বাংলায় ভাষান্তর অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যায় লেখক ও প্রকাশক  বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।  

Bangladesh War: Report from Ground Zero
মানস ঘোষ
প্রকাশক: নিয়োগী বুকস, নয়াদিল্লি
দাম: ৬৯৫ টাকা।

দেশের প্রথম সমকামী যুবরাজ মানবেন্দ্র, ইলেকট্রিক শক দিয়ে ‘চিকিৎসা’ করেছিল পরিবার, এখনও চলছে লড়াই

You might also like