Latest News

1st Woman Writer: বাংলায় প্রথম নারী-গোয়েন্দার গল্প লেখেন ছকভাঙা এক নারীই

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

মিতিনমাসী, গোয়েন্দা গিন্নিদের বহুযুগ আগেই গোয়েন্দা শিখা, গোয়েন্দা কৃষ্ণারা নানা রহস্যকাণ্ডের কিনারা করায় ছিলেন অদ্বিতীয়া। যাদের স্রষ্টা ছিলেন লেখিকা প্রভাবতী দেবী সরস্বতী (1st Woman Writer) (Prabhabati Debi Saraswati)। প্রভাবতী দেবী নিজের জীবনেও বহু শেকল ভেঙে নিঃশব্দ নারী বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

‘পল্লীসখা’ পত্রিকায় একটি প্রবন্ধে প্রভাবতী দেবী (Prabhabati Debi) লিখেছেন— “মেয়েদের শাসন আমাদের দেশে বড়ই কড়া। তাহাদের অতি শিশুকাল হইতেই কঠোর শাসনের তলে থাকিতে হয়। যে সময়টা বিকাশের, সে সময়টা তাহাকে বন্ধ করিয়া রাখা হয়। …অন্য দেশে যে সময়টা বালিকাকাল বলিয়া গণ্য হইয়া থাকে, আমাদের দেশের মেয়েরা সেই সময়ে গৃহের বধূ, অনেক সময়ে সন্তানের মা।”

ঠিক একই ঘটনা ঘটে প্রভাবতীর নিজের জীবনেও। কিন্তু যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যেতে যেতেও নিজের মনের জোরে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। তাই আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো তাঁর জীবন চলেনি, রাশ রেখেছেন নিজের হাতে, বেঁচেছেন নিজের শর্তে (1st Woman Writer)। যার জীবনকাহিনি, রচিত কাহিনি আদর্শ হতে পারত মেয়েদের অথচ হঠাৎই তিনি যেন বাংলা সাহিত্যে লুপ্তপ্রায় হয়ে গেলেন। এইসময়ের প্রকাশকদের কাছে তিনি যেন বাতিল হয়ে গেলেন।

তিনশোরও বেশি বই লিখেছিলেন প্রভাবতী (Prabhabati Debi Saraswati)। ‘ব্রতচারিণী’, ‘দানের মর্যাদা’, ‘পথের শেষে’, ‘ঘরের লক্ষ্মী’, ‘আশীর্ব্বাদ’, ‘স্নেহের মূল্য’, ‘সহধর্মিণী’, ‘সোনার প্রতিমা’, ‘প্রিয়ার রূপ’ তাঁর লেখা উপন্যাস। ‘আশ্রয়’, ‘সমাজদ্রোহী’, ‘অপরাধিনী’ তাঁরই লেখা গল্প। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, গান, গোয়েন্দা কাহিনি, কিশোর গল্প কিন্তু আজ তিনি নিভৃত-সরস্বতী হয়ে একেবারেই বিস্মৃত।

বই-বাজারে দাপট প্রভাবতীর (Prabhabati Debi) কলমের

একসময় এই লেখিকার বই ছিল বই-বাজারে হটকেক। নারীমুক্তির নতুন জয়গান রচিত হয়েছিল তাঁর কলমে। আবার যৌতুক, উপহার হিসাবে বহু বিয়ে-বৌভাতে মেয়েদের দেওয়া হত প্রভাবতী দেবীর লেখা বই। অথচ আজকের বই-বাজারে প্রভাবতী দেবী সরস্বতীর নামটাই অর্ধেক জন শোনেননি। কালের অতলে হারিয়ে গেছেন প্রতিভাময়ী প্রভাবতী। এমনকি সব বইয়ের দোকানে আজ তাঁর লেখা বই সহজলভ্য নয়, কিন্তু অতীতে একটা সময় তাঁর লেখা বই-ই বাজারে দাপিয়ে বিচরণ করেছে। এমন একজন সাহিত্যিকের নাম আজ বিস্মৃতির অতলে।

নারী-ঔপন্যাসিকদের দ্বিধারায় ইনি এই ধারার একজন, যাঁরা লিঙ্গ-পরিচয়েই আঁকড়ে থেকেছেন, তার গভীরে আর কিছু খুঁজতে চাননি। পুরুষের গড়া সাহিত্যের বিকল্প কোনও স্রোতে অবগাহন করতে চাননি। কিন্তু ভালো মা, ভাল বউ হয়েও নারীমুক্তি ঘটানো যায় সেটাই উঠে আসত প্রভাবতী দেবীর কলমে (1st Woman Writer)।

হিন্দি ‘ভাবী’ সিনেমা দেখেছেন? কার লেখা জানেন? এটি তাঁরই উপন্যাস ‘বিজিতা’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল। যা আমরা জানিও না। এরকম সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্রে ছড়িয়েছিটিয়ে আছে প্রভাবতী দেবীর কলমের চিহ্ন, কিন্তু আজ সেসব লুপ্তপ্রায় বলা চলে। যেখানে লেখিকার নামটাই আমরা জানি না।

ন বছরেই ভাগ্যবদল (1st Woman Writer)

প্রভাবতী দেবী সরস্বতী সেই যুগের লেখিকা, যখন মহিলারা পদবী লিখতে পারতেন না। ব্রাহ্মণ কন্যা বা স্ত্রী লেখিকা হলে তাঁর পদবী হত ‘দেবী’। অব্রাহ্মণরা ‘দাসী, আর অনেক কায়স্থরা স্বামীর পদবী নিয়ে জায়া যুক্ত করতেন। যেমন লেখিকা শৈলবালা ঘোষজায়া।

প্রভাবতী দেবী ব্রাহ্মণ হওয়ায় দেবী পথেই হেঁটেছিলেন আর সরস্বতী তিনি উপাধি পেয়েছিলেন।

উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা পুরসভার অর্ন্তগত খাঁটুরা গ্রামে মামারবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন প্রভাবতী বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯০৫ সালের ৫ মার্চ। পিতা ছিলেন আইনজীবী গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মা সুশীলাবালা দেবী।

আরও পড়ুন: মানব কম্পিউটার শকুন্তলা দেবী

সে যুগে মেয়েদের শিক্ষালাভের চেয়ে সুপাত্রস্থ করাই বড় কথা ছিল। তাই সেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ হয়নি প্রভাবতীর। কিন্তু পিতামাতার দুজনেই ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। তাঁর মায়ের যে অক্ষরজ্ঞান ছিল না, তা একেবারেই নয়। বাড়িতেই মেয়েরা পঠনপাঠনের মধ্যে বেড়ে উঠতেন। কিন্তু সেসবে বাধ সাধল প্রভাবতীর জীবনে কারণ নাবালিকা বয়সে বিয়ে। বাল্যবিবাহ তখন সমাজের প্রথা। মাত্র ন’বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া হল তাঁকে গাইপুর গ্রামের বিভূতিভূষণ চৌধুরীর সঙ্গে। কিন্তু অসুখী দাম্পত্য। স্বামী বয়সের চেয়ে অনেকটাই বড়। মাকে ছেড়ে বাপের-বাড়ি ছেড়ে থাকার কারণে নাবালিকা প্রভাবতী কান্নাকাটি করতেন। কিন্তু ঐ কিশোরীবেলার প্রারম্ভেই শ্বশুরবাড়ির লোক তাঁকে আদর তো দেয়ইনি, পাননি সে অর্থে স্বামী-সোহাগও। বরং প্রভাবতীকে বিদ্রুপ করা হত সেখানে।

মনোকষ্টে চোখের জল চোখেই শুকিয়ে গেল নাবালিকার। বুঝলেন এ চোখের জলের দাম শ্বশুরবাড়িতে কেউ দেবেনা। নবছরের মেয়ে ঘুরে দাঁড়াল। না, পতিব্রতা বউ হবার চেষ্টা করেননি। ন’বছরের মেয়ে আর দ্বিতীয় বার ভাবেনি। সোজা মাঠঘাট ভেঙে বাপের বাড়ি পালিয়ে এলেন। চিরতরে সম্পর্ক বিচ্ছেদ। বাবাও আর মেয়েকে শ্বশুরঘরে ফেরানোর চেষ্টা করেননি। বাপের বাড়ির লোক সেদিন সমর্থন করেছিলেন মেয়েকে।

পড়া থামলেও লেখা থামল না (1st Woman Writer)

প্রভাবতীর (Prabhabati Debi Saraswati) বাবা গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় আইন ব্যবসার কাজে দিনাজপুর চলে যান। সঙ্গে পরিবারও। সেখানে পড়াশোনার জন্য স্কুলে ভর্তি হন প্রভাবতী। কিন্তু শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেও পরীক্ষায় বসা হল না। পড়াশুনোর প্রতি মেয়ের প্রবল আগ্রহ থাকলেও, পাঁচ বোন এক দাদার সংসারে ছেলের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল। এই নিয়ম বহু পরিবারে বহুকাল চলেছে। মেয়েদের পড়া বন্ধ করে দিয়ে ছেলেকে কলেজে ভর্তি করার জন্য ছয় সন্তানকে নিয়ে বহরমপুরে চলে এলেন মা সুশীলাবালা দেবী। প্রভাবতীরও আর স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হল না।

কিন্তু প্রভাবতীর ছিল কল্পনাপ্রবণ মন আর বাংলা লেখার ভালো হাত। তাঁকে আটকায় কার সাধ্য। সঙ্গে নিজের জীবনেই ছিল বাল্যবিবাহ নামক দুর্বিষহ অভিশাপের অভিজ্ঞতা। সেসব দুঃখ যেন তাঁর কলম দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইল (1st Woman Writer)।

সকলের অলক্ষ্যে শুরু সাহিত্যচর্চা। কিছু দিন পরে জানাজানি হয়ে গেলেও বাবা-মা বকুনির বদলে দিলেন উৎসাহ। অর্থের অভাবে মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি, কিন্তু সাহিত্যনুরাগী বাবা-মা মেয়ের লেখায় বাধা দিলেন না।

মাত্র দু বছরে এল নতুন দিনের আলো (1st Woman Writer)

মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘তত্ত্বমঞ্জুরী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হল তাঁর প্রথম কবিতা। ‘গুরুবন্দনা’। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রতি লেখা এক পদ্য। এর পরে গল্প ‘টমি’, প্রকাশিত হল ‘অর্চনা’ পত্রিকায় (1st Woman Writer)।

গোপালচন্দ্রের কর্মসূত্রে পোস্টিং হল অসমে। বহরমপুর থেকে অসমের ছোট শহর লামডিং-এ চলে এলেন প্রভাবতী। সেখানে শেষ করলেন জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘প্রতীক্ষায়’। এর পরেই দুঃসংবাদ— বহরমপুরে নিউমোনিয়ায় গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু। ঝড় বয়ে গেল যেন প্রভাবতীর জীবনে। তবু থামলেন না।

১৯২৪ সালে ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় প্রথম ধারাবাহিক উপন্যাস ‘বিজিতা’। যেটি নিয়ে পরবর্তীকালে ১৯৫৭ সালে হিন্দি ছবি ‘ভাবী’ হয়েছিল। তবু তাঁর লেখা কজন মনে রেখেছেন! যদিও বলরাজ সাহানী, নন্দা, ওমপ্রকাশ অভিনীত সেই ছবির টাইটেল কার্ডে প্রভাবতী দেবী সরস্বতীর কাহিনী উল্লেখ আছে।

পড়াশুনো নিজের লেখার টাকায় বজায় রাখলেন যা বড় শিক্ষণীয়।
১৯২৯ সালে ব্রাহ্ম গার্লস ট্রেনিং কলেজ থেকে টিচার্স ট্রেনিং সার্টিফিকেট পেয়ে সেই স্কুলেই পড়াতে শুরু করেন। সেখানেই দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্রী রমা দেবীর সঙ্গে আলাপ। রমা দেবীর উৎসাহেই বাগবাজারে সাবিত্রী বিদ্যালয় স্থাপন করেন প্রভাবতী (Prabhabati Debi Saraswati)। পরে চাকরি নেন কর্পোরেশন স্কুলে। চাকরি সূত্রে কলকাতায় চলে এলেও নিজের শিকড়ের সঙ্গে যোগ বিচ্ছিন্ন করেননি কখনও। নিজের গ্রাম খাঁটুরায় ফিরেছেন, বিলুপ্তির পথ থেকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন বঙ্গ বালিকা বিদ্যালয়কে। এছাড়াও তেতাল্লিশের মন্বন্তরে বোন হাসিরাশি দেবীর সঙ্গে মিলে কৃষকসভার হয়ে ত্রাণের কাজেও নেমেছিলেন প্রভাবতী।

সরস্বতী (Saraswati) থেকে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদধন্যা

এই রমা দেবীর সূত্রেই প্রভাবতী পা রাখলেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়লেন তাঁর লেখা। প্রভাবতীর ‘মাটির দেবতা’ উপন্যাস লেখার পেছনে উৎসাহদাতার ভূমিকা পালন করেন রবীন্দ্রনাথ।

প্রভাবতীর লেখা এত জনপ্রিয়তা পায় যে লেখাগুলির কদর চলচ্চিত্রমহলেও বাড়তে থাকে। ১৯৩২ সালে নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রে তাঁর ‘সহধর্মিণী’ উপন্যাস প্রথম চলচ্চিত্রায়ণ হয়। ‘ঘূর্ণি হাওয়া’ উপন্যাস নিয়ে ‘রাঙা বউ’ ছায়াছবি হয়। বিশ্বরূপা থিয়েটারে বহু রজনী সুপারহিট হয় প্রভাবতী রচিত ‘পথের শেষে’ কাহিনির নাটক।

নবদ্বীপের বিদ্বজ্জন সভা প্রভাবতীকে (Prabhabati Debi) ‘সরস্বতী’ (Saraswati) উপাধিতে ভূষিত করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘লীলা পুরস্কার’ দেয়।

বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা গোয়েন্দা চরিত্রের স্রষ্টা প্রভাবতীই (1st Woman Writer)

সুচিত্রা ভট্টাচার্য ‘মিতিন মাসি’ ভাবার বহু আগে কিশোর সাহিত্যে নারী-গোয়েন্দা নিয়ে আসেন প্রভাবতী, যা আগে কোন পুরুষ ভাবেনি। কৃষ্ণা আর শিখা। দুই গোয়েন্দা চরিত্র তাঁর লেখায় জাতিকা। বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা গোয়েন্দা কৃষ্ণা। কিশোরী ছাত্রীদের আদর্শ হয়ে উঠেছিল কৃষ্ণা চরিত্র। যার ব্যায়ামের ফলে সুললিতর বদলে সুগঠিত চেহারা। গাড়ি চালানো, ঘোড়ায় চড়া, বন্দুক ধরা থেকে বহুভাষী শিক্ষায় শিক্ষিত। এমন নারী গোয়েন্দা সেই যুগে দাঁড়িয়ে লেখেন তিনি। ‘কৃষ্ণা রোমাঞ্চ সিরিজ’ কিশোর কিশোরীদের সবার পছন্দ ছিল। যা কি অদ্ভুত ভাবে স্তিমিত হয়ে গেল প্রচার পেল না ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কিরীটিদের কাছে।

তাঁর রচিত আরেক গোয়েন্দা চরিত্র অগ্নিশিখা রায়। ডাক নাম শিখা। এগারোটি উপন্যাস। সম্প্রতি দেবসাহিত্য কুটীরের উদ্যেগে ‘শিখা সমগ্র’ বেরিয়েছে।

প্রভাবতী (Prabhabati Debi) সতীত্বের জয়গান গান শুনতে হল

গলব্লাডারের অসুখে তিন মাস ভুগে ১৯৭২ সালের ১৪ মে প্রয়াত হন সাহিত্যিক প্রভাবতী দেবী সরস্বতী। তখন তাঁকে অতীত যুগের জনপ্রিয় লেখিকা লেখে সংবাদমাধ্যম।

অতীতে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে তাঁর লেখা নকল করে অনেকে নাম কিনত। শেষমেষ নিজের লেখায় নিজের সইকে সিলমোহর রূপে ঘোষণা করেন প্রভাবতী। তাঁর সমসাময়িক আরেকজন লেখিকা প্রভাবতী দেবী ওঠেন। তখন আলোচিত প্রভাবতীকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন তাঁর নামের সাথে উপাধি যুক্ত করে প্রভাবতী দেবী সরস্বতী হতে। আর এই নামেই তিনি লেজেন্ড হলেন।

কিন্তু সেই লেজেন্ডকে কেউ মনে রাখেনি। এর কারণ কী? কারণ যদি দেখা যায় প্রভাবতীর লেখায় কোথাও গিয়ে নারীদের ভাগ্য ভগবানের হাতে ছেড়ে দেবার কথা ছিল। ভাল মা ভালো বউ সেজে থাকারই কথা ছিল। যা ক্রমশ নারীমুক্তিতে পিছিয়ে দেবার কথা হয়ে ওঠে সমাজে। যা অনেকটা হেরে যায় শরৎ সাহিত্য বা আরো পরবর্তী মহিলাকেন্দ্রিক কাহিনিকারদের কাছে।

কিন্তু প্রভাবতীর ‘জাগৃহি’ উপন্যাসে নায়ক ঈশাণ তার ধর্ষিতা মায়ের কলঙ্কের কারণে ব্রাহ্মণের পংক্তিভোজনে প্রত্যাখ্যাত হলে পৈতে ফেলে বলে, ‘যদি সত্যকার দেবতা কেউ থাকেন, আমি হাতজোড় করে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি… যদি আবার জন্ম দাও… আমায় হীন চণ্ডালের ঘরে… সেখানে সমাজ গড়ে তুলব… জগৎকে সেটাই জানাব।’

আবার তিনিই প্রথম মহিলা গোয়েন্দা স্রষ্টা (1st Woman Writer), অথচ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আজ মুছে যাওয়া নাম প্রভাবতী দেবী (Prabhabati Debi)।

তবু বাল্যবিবাহের কুপ্রথা ভেঙ্গে এক নারীর সরস্বতী আবাহন… কিছু কম না।

You might also like