জল পড়ে পাতা নড়ে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    মানস সরকার

    একবার পিছন ফিরে তাকালাম। মনে হল, কেউ ডাকল। সের’ম কাউকে চোখে পড়ল না। এগিয়ে গেলাম। হালকা রঙের আদ্দির পাঞ্জাবি পরে আছি। তাও শরীরে ঘামের প্রলেপটা বুঝতে পারছি। সকাল থেকেই মেঘলা ছাইরঙা আকাশ। বৃষ্টি আবার নামব-নামব করেও নামছে না। অথচ মন বলছে, গুমোট ভাবটা কেটে যাবে।
    আগে থেকে এসেই মায়া অপেক্ষা করছিল আমার জন্য। ভেতরে ভেতরে একটা অপরাধবোধ কাজ করল। এতদিনের সম্পর্ক, অথচ দেখা করার সময় কেন যে দেরি করে ফেলি। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখের ঘেমো তেলা ভাবটা মুছে নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে মুখটা কাঁচুমাচু করলাম, ‘সরি, তেঁতুলতলায় এসে দেখি, বাস-অটো কিছু নেই। এতটা পথ হেঁটে…’
    ঠোঁটের কোনায় মৃদু হাসি এনে মেঘ ডেকে আনল মায়া। আর মুহূর্তেই টিপটিপে বৃষ্টি। বলল, ‘তুমি এসছ এটাই অনেক।’
    প্যাচপ্যাচে ভাবটা আর অতটা লাগছে না। শহুরে হাঁপধরা এই পৃথিবীতে যেন পালে বাতাস। দূরে একটা পাখি উড়ে গেল। অনেকটা দূরে। ফিঙে? হতেও পারে। চোখ নামিয়ে মায়ার ওপর রাখলাম। গতবার যখন দেখা করেছিলাম, তখন পরে এসেছিল কচি কলাপাতা রঙের একটা সালোয়ার। সেদিন বলেছিলাম, শাড়ি পরে আসতে। ভাল লাগছে এই ভেবে, এত বছরের সম্পর্কেও আমার বলা কথার গুরুত্ব ওর কাছে যথেষ্ট।
    দু’জনেই হাঁটতে শুরু করেছিলাম। পরিপাটি করে শাড়িতে জড়ানো মায়াকে দেখে নিলাম। আজকেও সবুজ, কিন্তু একটু পানসে। আঁচলের কাছটায় একটু ময়ূরকন্ঠী ভাব আছে। গোলাপায়রার গলার কাছের রংটাও হতে পারে। আমার তো চশমার মাইনাস পাওয়ার। কোথাও কি ভুল হচ্ছে! থাক্‌গে, আমি তো মায়াকে দেখতে এসেছি। ওর চোখ, ওর হাসি… যা অনরবত আমাকে জড়িয়ে রাখে। হ্যাঁ, রাখেই তো। এতদিন অন্তর-অন্তর দেখা হয়। সে জন্য কি! কেউ একজন আমায় বলেছিল, দূরত্ব থাকলে আর্কষণ বাড়ে। মায়া যে স্কুলটায় চাকরি পেয়েছে, সেটা আমাদের শহর থেকে অন্তত দু’শো কিলোমিটার দূরে। ট্রেনে করে তিনটে জেলা পেরিয়ে যেতে হয়। গতবারও এরকম মেঘলা দিনে দেখা করেছিলাম। তারিখ মনে পড়ছে না। দিনটা মনে আছে।
    –‘আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি, এবার তো বলবে?’ মায়া আমার কনুইয়ের কাছটা ধরে বলল।
    –‘যেখানেই যাই, আগে তো একবার আমাদের সেই জায়গাটায় যেতেই হবে।’ ওর কানের কাছে মুখ নামিয়ে বললাম।
    আশপাশ দিয়ে দু’-একজন হেঁটে যাচ্ছে এদিক-ওদিক। একজন আমার আর মায়ার মুখের দিকে দেখলাম তাকাতে তাকাতে চলে গেল। অবাক করা দৃষ্টি। এ সব চোখের চাউনি খুব ভালমতনই চিনি আমি। দিনকাল খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বছর-কুড়ি আগে যখন কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়েছি, অবস্থা এতটাও খারাপ ছিল না। স্পষ্ট বুঝতে পারি, ওই সব চাউনির অর্থ। আমি সঙ্গে না থাকলে হয়তো মায়াকে আরও তির্যক দৃষ্টি হানত। ওকে ডানদিক থেকে আমার বাঁদিকে আনি।
    –‘এতবছর পরেও তুমি যে কী পরিমাণে পসেসিভ রয়ে গেছ, ভাবা যায় না!’
    বুকের বন্দি একচিলতে শ্বাসকে মুক্তি দিলাম। বললাম, ‘না হলে ভাল লাগবে তো? তুমিও কিন্তু কম যাও না। আমার অফিসে ডিপার্টমেন্টে নতুন মেয়েটি চাকরি পেয়ে আসার পর রোজ লাঞ্চ আওয়ারে একবার করে ফোন! অথচ শনি-রবিবার করতে না।’
    জলতরঙ্গের হাসি ছুড়ল মায়া। এতক্ষণে সঙ্গের ছাতাটা খুলেছে। একটা ছাতায় দু’জনের মোটেও পুরোটা জায়গা হচ্ছে না। আমার ডানদিকে কাঁধের ওপর পাঞ্জাবিটা বৃষ্টির জল মাখামাখি হয়ে খামচে ধরেছে। আমি নিশ্চিত জানি, মায়ার বাঁ-কাঁধেও শাড়ি আর ব্লাউজে বৃষ্টির মাখোমাখো অবস্থা। ফোঁটা-ফোঁটা বৃষ্টি হাত ধরে টেনে নিয়ে আসছে অল্প জোলো হাওয়াকে। গাছের পাতাকে সুর মেলাতেই হবে এ ছন্দে। তাই ওরাও নড়ছে। বর্ষার আবছায়া সীমাহীন এই ফ্রেমে মনে হচ্ছে, শুধু আমরা দু’জনেই আছি আর কেউ নেই। এলোমেলো জলসমেত দু’-তিনটে চুল মায়ার মুখের উপর। আমি সাহিত্যের নই, অর্থনীতির। কিছুতেই উপমাটা মাথায় এল না। ভীষণভাবে মনে হচ্ছে, মায়া সতেজ। সেই একই রকমভাবে কলেজ আর ইউনিভার্সিটির ছাত্রী হয়েই রয়ে গেছে। আমি কিন্তু যতবার নিজেকে আয়নায় আজকাল দেখছি, বুঝতে পেরেছি, সময় আমার শরীরে কামড় বসাচ্ছে।

    ছুটির দিন। ভেবেছিলাম, পার্কটায় বেশ ভিড় হবে। সেভাবেও চোখে পড়ল না। ভাদ্রের বর্ষা আমাদের দু’জনকে টেনে নিয়ে আসছে আর অন্যরা বাড়ি ছেড়ে আসতেই চাইছে না। আমার বছর-ষোলোর ভাইপো এখন স্মার্টফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে আধশোয়া হয়ে প্রায়শই একটা শব্দ ব্যবহার করে, ‘ল্যাদ’। শব্দটা মাথায় আঘাত করল।
    অনেকগুলো বেঞ্চই আজ ফাঁকা। বেঞ্চ মানে সিমেন্টের। যেটায় বসলাম, তার পাশেই খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা ভরন্ত কামিনীগাছ। বসার আগে পাঞ্চাবির পকেট থেকে রুমাল বের করে মুছে নিলাম জায়গাটা। রুমালে কুড়িয়ে নিলাম বৃষ্টি।
    বুকের দীর্ঘশ্বাস বুকে রেখেই তাকালাম মায়ার দিকে। অল্প বিরতি দিয়ে-দিয়ে কানে ভেসে আসছে পাখির ডাক। চিনি। টুনটুনির। ছাতার নিচে আমরা বসে আছি দু’জনে। সামনে জলাশয়। অন্যান্যবার যখনই এসেছি, ইতস্তত দু’-তিনটে বোটে লোকজনকে ভাসতে দেখেছি। এমনকী গতবারেও। অথচ আজ চোখে পড়ছে না। মায়া একটু বিষণ্ণভাবে বলল, ‘কিছু ভাবলে?’
    আমরা যেখানে বসে আছি, ঠিক তার উলটো দিকে লেকের ধার-ঘেঁষে উঠেছে একটা খেজুরগাছ। উঠেছে মানে, শুকিয়ে গেছে। বেশ ভুতুড়ে লাগছে এ প্রান্ত থেকে। যদি এইমুহূর্তে কোনও উত্তর না দিই, আমাকে দ্বিতীয়বার আর এই প্রশ্নটা করবে না। মায়া এমনই। তার জন্য যে অভিমান করবে, এমনও নয়। বৃষ্টিফোঁটার শব্দের সাথে নিজের মৃদু হাসি মিলিয়ে চলে যাবে অন্য প্রসঙ্গে। সেখান থেকে আর এক বিষয়ে। আবার কিছুদিন পর কোনও একদিন এর’ম রোদহীন দিনে ডেকে নেবে আমাকে। আর আমিও অনেক কিছুর বাধা টপকে গুটিগুটি পায়ে বৃষ্টির শব্দ বুকে নিয়ে চলে আসব ওর কাছে, অমোঘ টানে। আর এভাবে আমার সুতো ধরে টান দেয় বলেই, ও আমার মায়া।
    –‘ভাবব মানে! আমি তো বলেইছি, দেরি করে আর লাভ কী। ভাববে তো এবার তুমি।’ গলায় জোর এনে বললাম।
    –‘ট্রান্সফারটা নিয়েই আসলে যত সমস্যা। ওটা না হওয়া পর্যন্ত পরের ব্যাপারগুলো যেন ভাবতেই পারছি না।’
    বেশ ভালমতই জানি, ট্রান্সফার এইমুহূর্তে মায়ার চাকরি জীবনের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ওপর থেকে ওকে যতটা স্থির, শান্ত মনে হয়, ভেতরে মোটেও নয়। আসলে, নানা কথা ভাবতে গিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। এত ভাবতে না করেছি। কলেজ, ইউনিভার্সিটি থেকে দেখছি তো। অযথা চিন্তার অভ্যেসটা চাকরিজীবনে এসেও ছাড়তে পারল না। ওকে বলি না। আসলে ভেতরে ভেতরে ভয় আমিও পাই। একটা উচ্চমাধ্যমিক সরকারি স্কুলে চাকরি, সেখানে পড়ানো, খাতা-দেখা বা একা এই উদাসীন পৃথিবীতে যাতায়াত। আমি তো সঙ্গেও থাকি না।
    একটা ছেলে আর মেয়ে আমাদের দেখতে দেখতে চলে গেল। ছেলেটার ডানহাত মেয়েটার কোমরে। আমাদের দু’জনের থেকে অনেকটা ছোট। মেয়েটা ছেলেটার কানে ঠোঁট ঠেকিয়ে কিছু বলল। ছেলেটা যেতে-যেতেই ঘাড় ঘুরিয়ে আরও একবার দেখল আমাদের। কী ভাবছে ওরা? বয়স চল্লিশ হয়ে গেলে পার্কে ঢুকে প্রেম করতে নেই! ভেতরে-ভেতরে একটু অশান্ত হয়ে উঠছিলাম। মায়াকে দেখে আশ্চর্য লাগে। ও কি কিছুই দেখে না! কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে তাও ওর মধ্যে কখনও-কখনও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখেছি। আজকাল যেন মিইয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে-সঙ্গেই মনে হল, এ সব ভাবছি কেন। এতটা পথ ট্রেনে এসেছে। হয়তো ক্লান্ত। ক্লান্তির কথাটা ভাবতেই খিদের কথাটা মনে এল। বাড়ি থেকে বেরিয়েছি কিছুক্ষণ। তাড়াহুড়োতে কিছু খেয়ে আসতে পারিনি। খিদে পেয়ে গেছে। ওরও নিশ্চয়ই পেয়েছে। অপরাধবোধ আমাকে ঘিরে নেমে এল। আগে কোথাও ওকে কিছু খাইয়ে তবে এখানে নিয়ে আসা উচিত ছিল। ওর একটা হাত ধরলাম। বললাম, ‘চলো, খিদে পেয়েছে। কিছু খেয়ে আসি।’
    মায়াকে দেখে মনে হল, বেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চোখগুলো একটু অদ্ভুতভাবে বড় করে বলল, ‘আমার কিন্তু এখানে বসতে ভালই লাগছিল। কেন, তোমার লাগছে না?’
    –‘আমার তো ভালই লাগছে। সে না হয় এসে বসব। আগে কিছু খেয়ে নিই। বাড়ি থেকে কিছু খেয়ে আসিনি আজ।’
    –‘ইস্‌! কিন্তু কেন এ রকম করো বলো তো!’
    –‘আসলে ভাবি, প্রত্যেকবার তোমার আগে এসে পৌঁছব। সেইমত তাড়াহুড়োও করি। কিন্তু তাও যে কী করে দেরি হয়ে যায়!’
    –‘ছাড়ো। আমি তো কখনও কিছু বলিনি। চলো, কোথায় যাবে-–’
    একটু আবদারের দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে ও উঠে দাঁড়িয়ে কোমরে জড়িয়ে থাকা নিজের শাড়ি ঠিক করছিল। ওর এই ভঙ্গিমাটা আমাকে খুব ছুঁয়ে যায়। এইমুহূর্তে আধভেজা মায়া, ওর শাড়ি, বর্ষার রং-– সব মিলেমিশে আমাকে কেমন গুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আলগোছে ওর ডানহাতটা ধরি নিজের বাঁহাত দিয়ে। মনে হয়, ওকে আর একটু কাছে টেনে এনে আরও অনেক কথা বলতে থাকি। আর ও শুনতে থাকুক অনন্তকাল ধরে। কিন্তু তা কি আদৌ হবে আমাদের দু’জনের জীবনে! অথচ আমি চাই… বোধহয় মায়াও চায়… তবুও… কিন্তু…

    পার্ক থেকে এই রেস্টুরেন্টটা একটু দূরেই। হেঁটে আসলে মিনিট-পনেরো সময় লেগে যায়। বেশি বা কম লাগতে পারে। কিন্তু আমার কাছে হিসেবটা এ রকমই। টোটোতেই চলে এলাম। আগেও একবার ওকে নিয়ে এসেছিলাম। ওর মুখেই দেখেছিলাম মুগ্ধতা। আজ আবার। পড়ন্ত বিকেলে আমরা ছাড়াও এদিক-সেদিকে টেবলে দু’-চারজন বসে আছে। টুংটাং করে মিউজিক বাজছে। এসির ঠান্ডা হাওয়া আর চারদিকে বেশ চমৎকার একটা অভিজাত পরিবেশ। মায়া সঙ্গে। এক-দু’ফোঁটা বৃষ্টি থাকলে ভাল লাগাটা ঢেউ তুলত বেশি।
    –‘বলুন?’
    সুন্দর জামা-প্যান্ট পরে, গলায় টাই ঝুলিয়ে হাতে পেন আর প্যাড নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে এক সুবেশ তরুণ। খাবারের অর্ডার দিতে হবে। সে মায়ার দিকে না তাকিয়ে একভাবে চেয়ে আছে আমার দিকে। আমার মতই ওরও পছন্দ মাছ-ভাত, মাংস-ডিম নয়। জানি, অর্ডারের দায়িত্ব মায়া নেবে না। যেকোনও জায়গায় গেলে আমার ওপরই ছেড়ে দেয়। বোধহয়, পরীক্ষা করে আমাকে। দেখে, ঠিক ওর পছন্দের ডিসগুলো অর্ডার করতে পারছি কি না। গতবার খেয়েছিলাম স্যাঁকা পমপ্রেট মাছ। মেনুকার্ডের দিকে একঝলক তাকিয়ে ছেলেটাকে বললাম, ‘চিলি ফিস কি ভেটকির দেন?’
    –‘হ্যাঁ স্যার।’
    –‘ক’পিস থাকে যেন?’
    –‘ছ’পিস স্যার।’
    –‘ঠিক আছে। দু’প্লেট চিলি ফিস আর দু’প্লেট ভেজ রাইস।’
    –‘সরি স্যার?’
    মাথাটায় একমুহূর্তের জন্য যেন গরম লু বয়ে গেল। এসির ঠান্ডা হাওয়াতেও। অথচ সঙ্গে দু’-চার ফোঁটা বৃষ্টি থাকলে এমনটা নাও হতে পারত। মায়ার চোখের দিকে তাকালাম। শান্ত হয়ে উঠছিলাম। মুখের মৃদু হাসি ফুটিয়ে ছেলেটাকে বললাম, ‘দু’প্লেট চিলি ফিস আর দু’প্লেট ভেজ রাইস।’
    স্পষ্ট দেখলাম, ছেলেটার মুখে কাটাকুটি চিহ্ন। কিন্তু চলে গেল। মায়াকে বললাম, ‘দেখলে তো, এক্ষুনি জ্ঞান দিতে শুরু করত, চিলি ফিস নয় স্যার, এর সঙ্গে গার্লিক ফিস বা সেজওয়ান ফিসটা যায় ভাল। জ্ঞানের আধার…।’ মায়া দেখলাম ফিক্‌ করে হেসে ফেলল।
    মায়া এবার কিছু বলতে যাচ্ছিল। হঠাৎ দেখলাম চিৎকার-চেঁচামেচি করে চার-পাঁচজন রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ল। চিনতে পারলাম। আমার দাদা। ওর ছেলে, মানে, আমার ভাইপো আর পাড়ার দু’-তিনজন। ওদের মধ্যে দু’-তিনজন এগিয়ে এসে সোজা আমাকে জাপটে ধরল। দাদা দেখলাম মোবাইলে বলছে, ‘হ্যাঁ, পেয়ে গেছি। গতবার পার্কে ঢুকে বসেছিল। এবার আবার এই রেস্টুরেন্টে। ভাবতে পারো, মাঝেমধ্যে তুমি-আমি এখানে খেতে আসি। যতসব পাগল-ছাগলদের কাণ্ড। প্রেমিকা ট্রেন থেকে পড়ে মারা গেছে, তাতে শালা তোর কোথায় ফাটছে। নিজে ভাল চাকরি করতিস, সেটাও ওই পাগলামোর জন্য হারালি! না, না আমি তোমায় বলে দিচ্ছি, আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলব। হয় ও মেন্টাল হসপিটালে যাবে, আর না হলে আমরা বাড়ি ছাড়ছি। আকাশে মেঘ দেখবে, আর শালার পাগলামো শুরু হয়ে যাবে। কালীদাসের ইয়ে… আমি ছাড়ছি। তুমি তালাচাবির ব্যবস্থাটা করো। আর শোনো, তুমি খেয়েছ?’
    টেনেহিঁচড়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে বের করে টোটোয় বসিয়ে এরা আমাকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। হাতদুটো এত চেপে ধরেছে, প্রচণ্ড ব্যথা লাগছে। মায়ার জড়িয়ে ধরাটা অনেক নরম, অনেক সুন্দর। মায়াকে আসার সময় কোথাও দেখতেও পেলাম না। অসহায়ভাবে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি। আকাশে এখন শেষবেলার দু’-একফোঁটা রোদ্দুর। গাছের পাতার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তারাও স্থির, তারাও অনড়।

    চিত্রকর: মৃণাল শীল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More