অলীকের পেছনে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দেবাশিস পাল

    বুড়োর চায়ের দোকানের বেঞ্চের এককোণে গুটিসুটি মেরে বসে চা খাচ্ছিল সহদেব। ওর কান ছিল এ-দিকে।

    পাড়ার চায়ের দোকান। সকালের খবরের কাগজটা একবার চোখ বুলিয়ে নেবার জন্য অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে এখানে। বুড়ো ভাল লোক। চা খাও বা না-খাও, ওর দোকানের বেঞ্চে বসলে মুখভার করে না। সকাল সবে সাড়ে আটটা। এরই মধ্যে আজকের খবরের কাগজ নিয়ে গরম হয়ে উঠেছে দোকান।

    কাগজের তৃতীয় পাতায় নিচের দিকে ফলাও করে ছবি সহ খবরটা বেরিয়েছে। এক রিকশাওয়ালা, নাম টোটন দাস, একলাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে টাকাটা মালিকের বাড়ি বয়ে পৌঁছে দিয়ে এসেছে। লাখটাকা অনেক টাকা। বুড়োর চায়ের দোকানে সম্ভ্রান্ত কেউ ঢোকে না। যারা আসে, তারা কখনও লাখটাকা চোখে দেখেনি। ছাপোষা সাধারণ কুলিমজুর, শ্রমিক বেশি ভিড় জমায় এখানে।

    সকালের টাটকা দৈনিকটা হাতে নিয়ে বেশ জোরে-জোরে পড়ে উপস্থিত সকলকে শোনাচ্ছিল নিতাই। পড়া শেষ করে নিতাই বলল, ‘দেখলে মানুষ এখনও মানুষ আছে। নইলে এমন ঘটনা ভাবা যায়!’

    যদু ঠোঁট থেকে চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, ‘দুর, লোকটা বোকা।’

    ‘কেন, বোকা কেন?’ নিতাই হামলে পড়ে।

    ‘বোকা নয়তো কী? আমি হলে ব্যাগটা নিয়ে সটান পিঠটান দিতাম। রাস্তার বেওয়ারিশ জিনিস। কেউ হদিশও পেত না।’

    ‘তাই বলে তুমি লোকটাকে বোকা বলতে পারে না!’ ও-দিক থেকে সত্য বলল।

    ‘কেন বলব না? তুই গরিব। তোর অভাব আছে। অত ভালমানুষী কেন রে ভাই?’

    ‘গরিব হলে তাকে সৎ হতে নেই?’ প্রশ্ন করল সত্য।

    ‘না, নেই।’ নির্বিকার জবাব দিল যদু। ‘রোজ তো খবরের কাগজ পড়িস আর তড়পাস দুর্নীতি, জোচ্চুরি দেখে। তোরাই বল না, আমি ঠিক বলছি কি না?’

    একটা মৃদু প্রতিবাদের মতো করে কানাই বলল, ‘না, তবে সব মানুষই কি চোর হবে?’

    ‘আলবাত হবে। সৎ হতে হলে আগে দেশের মাথাগুলোর সৎ হওয়া দরকার। তার ওপরে ব্যাটার পাকামো দেখ, মালিকটা টাকা অফার করলে, না বলে দিল! বাহাদুরি কত!’

    ‘বোকা।’ হাসল একজন।

    ‘তা হলে! আমি কি ভুল বলেছি?’ যদু চোখ পাকাল।

    চুপচাপ দোকান থেকে সহদেব বেরিয়ে পড়ল। রাস্তাটা বাজারের দিকে গেছে। ক’বার ঘুরপাক খেল সহদেব ওই রাস্তায়। বাড়ি থেকে বেরিয়েছে বাজারে যাবে বলে। এ-দিকে পকেট ফাঁকা। হাতে কাজ নেই। নির্দিষ্ট করে কিছু করে না সহদেব। যখন যেমন পায়, লেগে পড়ে কাজে। বুড়োর দোকানে অনেকদিনের খদ্দের সহদেব। তাই ধারে-বাকিতে ব্যাপারটা বুঝে নিচ্ছে ওরা দু’জন।

    সহদেবের হাতের মুঠোয় একটা পাকানো চুমসানো থলি। ওইভাবে সে বারদুয়েক বাজারে ঢুকবার চেষ্টা করল। বাজারে ওকে বাকিতে কেউ কিছু দেবে না। চিনে গেছে ওকে।

    সকালে একচোট হয়ে গেছে শুক্লার সঙ্গে। প্রায়ই হয়। ঘরে অভাব থাকলে এমনটা হবে। তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। নেহাত ছোট নয়। কষ্টেসৃষ্টে চলে আসছে। খালিহাতে ঘরে ঢুকলে শুক্লার মুখঝামটা অনিবার্য। বাজারে ঢোকার মুখটায় দুঃখী-দুঃখী মুখ করে সহদেব দাঁড়িয়ে রইল। দেখল জীবন বাজার থেকে বেরিয়ে আসছে। সহদেবকে দেখে বলল, ‘বাজারে এসেছিস?’

    ‘হুঁ।’

    ‘তার পর খবর কী তোর?’

    ‘ভাল না। কাজবাজ কিছু নেই।’

    ‘আমার লাইনে চলে আয়। তোকে আগেও বলেছি। ওই আজ কাজ, কাল বন্ধ, এভাবে কি চলে? এ লাইনে অনেক নিশ্চিন্তি।

    সহদেব চুপ করে থাকে। জীবন চলে যাচ্ছে দেখে সহদেব ডাকে, ‘জীবন!’ কাছে এগিয়ে যায় সহদেব, ‘একশোটা টাকা দিবি? হাতে কিছু নেই। বাজার করব। পরে শোধ দিয়ে দেব।’

    মুখের সিগারেটটা ঠোঁটে চেপে ধরে জীবন পকেট থেকে টাকা বের করে এগিয়ে দেয়, ‘নে ধর। শোধ দিতে হবে না। আমার কথাটা ভেবে দেখিস।’

    জীবন সাট্টার পেনসিলার। এ-সব এলাকায় অভাব আছে। জীবন স্বচ্ছন্দে বয়ে চলে না। নিম্ন আয়ের লোকজন সব। ওই সহদেবের মতো। দিন আনি দিন খাই অবস্থা। এই অবস্থায় এখানে লাইনের ধারে দুটো চোলাই-মদের ঠেক আছে। আর আছে সাট্টার ঠেক। সর্বস্বান্ত মানুষ কীসের আশায় চোলাই-মদে ডুবে থাকে আর সাট্টার ফাঁদে পা বাড়ায়, তা একমাত্র ওরাই জানে। দারিদ্রের সঙ্গে এই সবের সহাবস্থান বেশ বেদনাদায়ক এবং কৌতুকের।

    জীবনের ঘরে অভাব নেই। থাকলে সহদেবকে টাকা দিতে পারত না। জীবনের একার দ্বারা সব কিছু সামাল দেওয়া যাচ্ছে না, তাই ওর সহদেবকে দরকার। সহদেব ওর পছন্দ। ওকে অনেকদিন ধরে চেনে। অভাবি সহদেবকে টোপ দিয়েছে বারকয়েক। মাথা গলায়নি সহদেব। জীবনের উপার্জন নিয়ে যে লোকে নানা কথা বলে।

    আজকের দিনটায় বউ-ছেলেমেয়ের মুখে ভাত তুলে দিতে পারবে ভেবে মনে-মনে বার-বার জীবনকে কৃতজ্ঞতা জানায় সহদেব। মনে পড়ে যায়, জীবনের ওকে দেওয়া প্রস্তাবের কথা। বাজার সেরে ঘরে ফেরার পথে সহদেবের হঠাৎ মনে পড়ে খবরের কাগজের ওই সংবাদটা। একটা লোক লক্ষ টাকা কুড়িয়ে পেয়েছে। এর পরের অংশ, অর্থাৎ লোকটা মালিককে টাকাটা ফেরত দিয়েছে, এই খবরটা সহদেবকে ততটা ভাবাচ্ছে না। ও শুধু ভাবছে, একলক্ষ টাকা কুড়িয়ে পাওয়ার কথাটা। ভাবতে-ভাবতে সহদেব ঘরে ঢুকল।

    শুক্লা এগিয়ে এসে থলিটা নিয়ে উপুড় করে দিল মেঝেতে। প্রসন্ন মুখে বঁটি নিয়ে আলু কাটতে বসে শুক্লা বলে, ‘টাকা কোত্থেকে পেলে?’

    ‘দিল একজন।’ জামা খুলতে-খুলতে সহদেব বলে।

    ‘এভাবে আর কদ্দিন? এ-বার অন্য কিছু দেখো।’

    ‘কী দেখব?’

    ‘সে কি আমি বলব? দেখছ তো সংসারের হাল।’

    ‘ভাবছি তো। কাজ কি খুঁজছি না ভেবেছ? আমার মতো লোকের জন্য কাজ কই? সাজোয়ান তো নই!’

    শুক্লা চুপ করে যায়। সহদেব গিয়ে বউয়ের পাশে বসে। তরকারি কাটা দেখতে-দেখতে ওর মনে ঝিলিক দেয় সকালে বুড়োর চায়ের দোকানের ব্যাপারটা। ও পুরো ঘটনা শুক্লাকে বলে। তার পর বলে, ‘আচ্ছা, এমন হয় না, ওই রকম একটা টাকার ব্যাগ আমি কুড়িয়ে পেলাম রাস্তায়! তাতে অনেক টাকা!’

    তরকারি কাটা বন্ধ করে শুক্লা হাঁ করে চেয়ে থাকে। সহদেব বলে যায়, ‘সেই টাকায় আমাদের সব অভাব মিটে যাবে। কী? বলো না। হয় না এমনটা?’

    ‘ধ্যাৎ, কী সব আজেবাজে চিন্তা করো তুমি!’

    ‘কেন, আজেবাজে কেন? কত লোক যে ও-রকম টাকা কুড়িয়ে পায়। যেমন গতকাল একজন কুড়িয়ে পেয়েছে!’

    ‘তা হলেই হয়েছে, তোমার যা ফাটা-কপাল!’ মৃদু হাসে শুক্লা।

    বউয়ের মুখে হাসি দেখে আরও প্রশ্রয় পেয়ে সহদেব উৎসাহ নিয়ে বলে, ‘যদি একবার পাই না, তবে দেখো– আমি কিন্তু টাকা ফেরত দেব না। আমাদের বড় অভাব।’

    উঠে পড়ে সহদেব। জামাটা টেনে নিয়ে গায়ে গলাতে-গলাতে বাইরে পা রাখতে শুক্লা বলে, ‘আবার চললে কোথায়?’

    ‘আসছি, একটু ঘুরে আসি।’ বেরিয়ে পড়ে সহদেব।

    রাস্তায় বেরিয়ে সহদেবের মাথায় কেবলই সেই ব্যাগ আর টাকার চিন্তা ঘুরঘুর করে। সাধারণত হাঁটবার সময় সহদেব মাথা উঁচিয়ে চলে। এখন ও নিজের মাথাটাকে একদম মাটির দিকে ঝুঁকিয়ে হাঁটতে থাকে। হাঁটার গতি কমিয়ে রাস্তার দু’দিকে চোখ রেখে হাঁটতে গিয়ে বার-তিনেক পথচলতি মানুষের গুঁতোও খেল। যদিও সহদেবের যেন সে-দিকে হুঁশ নেই। খালি একটাই চিন্তা ওর মনকে বিবশ করে রখেছে। টাকার একটা ব্যাগ ওকে খুঁজে পেতেই হবে। তা হলেই ওর সব দুঃখ, সব সমস্যার অবসান।

     

    মধ্যমগ্রাম স্টেশন এলাকা, এদিক-ওদিক অনেক পথ ঘুরে মরল সহদেব। কিছুই পেল না। ওর জেদ আরও চেপে গেল। পরদিন খুব সকালে কাউকে কিছু না বলে সহদেব ঘর থেকে বেরিয়ে এল।

    এর মধ্যে রাস্তায় খানতিনেক ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েছিল সহদেব। অনেক আশা নিয়ে ব্যাগগুলো খুলে দেখে দুটো একেবারে খালি, একটা ব্যাগের মধ্যে কিছু কাগজপত্র, কাজের না অকাজের না বুঝে তেমনভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে সহদেব চলে এল।

    পড়তি বিকেলের দিকে মধ্যমগ্রামের একটা গলি দিয়ে সহদেব হাঁটছিল। হঠাৎ রাস্তার মাঝে কড়কড়ে একশো টাকার নোট পড়ে থাকতে দেখে সহদেবের দু’চোখ চকচক করে উঠল। ওই টাকায় ওদের গরিবের সংসার দিব্বি দু’দিন চলে যাবে। আজ সারাদিনের পরিশ্রম তা হলে একেবারে বিফলে গেল না। কেউ এসে টাকাটা দেখে ফেলবার আগেই ওটা বাগাতে হবে। সহদেব রাস্তায় ঝুঁকে টাকাটা কুড়োতে গেলে, টাকাটা হঠাৎ কিছুটা সরে গেল। সহদেব অবাক হল। একটু দূরে সরে গিয়ে টাকাটা যেন ওকে আবার ডাকছে। সহদেব আবার তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়াল। এ-বারও টাকাটা সরে গেল। এবং সহদেব সম্ভবত হিহি হাসির শব্দ শুনে মুখ তুলে দেখল সামনের একটা একতলা বাড়ির রকে চারটে চোদ্দো-পনেরো বছরের ছেলে বসে আছে। ওদের একজনের হাতে গুলি-সুতো। গলিটা প্রায় অন্ধকার হয়ে আসাতে সহদেব ঠিক ঠাহর করতে পারেনি। ওই সুতোর অগ্রভাগ একশো টাকার নোটের এককোণে বাঁধা আছে। সহদেব টাকার কাছে যেতেই ছেলেটা সুতোয় টান দিচ্ছিল, তাই টাকাটা ওর কাছ থেকে দূরে দূরে সরে যাচ্ছিল। ছেলেগুলো বলল, কী কাকু, টাকাটা পেলেন না তো? লজ্জা পেয়ে সহদেব তাড়াতাড়ি সেই গলি থেকে পালিয়ে এল।

    পেনসিলার জীবনের সঙ্গে সাতসকালে দেখা হয়ে গেল সহদেবের। জীবন চোখ নাচাল, ‘কী ঠিক করলি? আমার সঙ্গে কাজ করবি?’ সহদেব ইতস্তত করছে দেখে জীবন বলল, ‘কী হল, কিছু বলবি?’

    সহদেব বলল, ‘একশোটা টাকা দে না!’

    জীবন উত্তেজিত হল, ‘আমি কি টাকার গাছ যে, চাইলেই হড়হড় করে পড়বে? তোকে ভাল বুদ্ধি দিলাম, শুনলি না। খালি টাকা টাকা।’

    নিজের দু’হাত কচলাচ্ছিল সহদেব। জীবন ওকে রাস্তার একধারে টেনে নিল, ‘একটা কাজ আছে। করতে পারলে একশো কেন, অনেক টাকা পাবি।’

    সহদেবের দু’চোখ জ্বলে উঠল, ‘কী কাজ?’

    ‘আছে, তবে খুব সাবধানে করতে হবে।’

    ‘চুরি নাকি? ও আমি পারব না।’

    ‘দুর, চুরি নয়। ভয় পাচ্ছিস কেন? বেশি ঝামেলা নেই। লেবার দিতে হবে না।’

    সহদেব এ-বার কিছু না ভেবে বলল, ‘করব।’

    জীবন গলাটা তিন খাদ নামিয়ে বলল, ‘তা হলে আজ রাত ন’টার সময় বাজারের গলিতে আমার সঙ্গে দেখা করিস।’ পকেট থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বার করে জীবন সেটা সহদেবের হাতে গুঁজে দিল।

    ‘পাঁচশো!’ সহদেব প্রায় আঁতকে উঠল, ‘এত টাকা?’

    ‘রাখ রাখ। রাতে দেখা করিস।’ জীবন চলে গেলেও হাতে ধরা পাঁচশো টাকার নোটটা নিয়ে সহদেব বেশ কিছুক্ষণ ওখানেই দাঁড়িয়ে রইল।

    ন’টা নাগাদ গুটিগুটি পায়ে সহদেব বাজারের গলির মুখে দাঁড়াল। বাজার বসে দিনের বেলা। রাতে সুনসান। অন্ধকার। গলিটা যেন তারই অঙ্গ। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মশার কামড় খাচ্ছিল সহদেব। হুস করে যেন অন্ধকার ফুঁড়ে ওর সামনে এসে হাজির হল জীবন, ‘কী রে কতক্ষণ?’

    সহদেব চিনতে পারেনি ওকে। মাথায় একটা বড়সড় টুপি। মুখটা প্রায় ঢাকা পড়ে গেছে। জীবনের হাতে একটা ব্যাগ। সেটা সহদেবের হাতে চালান করে দিয়ে বলল, ‘ব্যাগটা দিনতিনেকের জন্য তোর কাছে রাখবি। আমি সুবিধামত এটা নিয়ে নেব।’

    সহদেব বলল, ‘কী আছে এতে?’

    ‘সে তোকে জানতে হবে না। শুধু যা বললাম, তাই করবি। সাবধানে রাখবি ব্যাগটা। খুব সাবধান।’ আবারও পাঁচশো টাকা সহদেবের হাতে দিল জীবন।

    চোরের মতো ঘরে ঢুকে ব্যাগটা চৌকির তলায় লুকিয়ে রাখল সহদেব।

    শুক্লার চোখ এড়ায়নি। বলল, ‘কী রাখলে ওখানে?’

    সহদেব ইশারায় বউকে ঘরের বাইরে ডেকে এনে বলল, ‘চুপ, পরে বলব।’

    অনেক রাতে ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়লে সহদেব ব্যাগটা চৌকির তলা থেকে টেনে আনল। সারাক্ষণ ওর মনের মধ্যে বুজকুড়ি কাটছিল যে, ব্যাগটার মধ্যে কী আছে! কেন এত গোপনে জীবন ওকে ব্যাগটা দিল? কেন অনায়াসে আজ ওর হাতে হাজার টাকা তুলে দিল?

    শুক্লার সামনে ব্যাগের চেন খুলে সহদেব দেখল ভেতরে ছোট ছোট প্যাকেট। একটা প্যাকেট বার করে খুলে দেখল পাঁচশো টাকার বান্ডিল। চোখ কপালে উঠল ওদের দু’জনের। সবসুদ্ধ দশটা বান্ডিল। হিসেব করতে গিয়ে বার-বার গুলিয়ে ফেলছিল সহদেব।

    শুক্লা ফিসফিস করে বলল, ‘এ যে অনেক টাকা!’

    সহদেব ভাবছিল টাকার ব্যাগ কুড়িয়ে পাবে বলে ক’দিন ধরে ও রাস্তায় খুব খোঁজাখুঁজি করছিল। আর আজ সেই টাকার ব্যাগ ওর ঘরে। এত টাকা ওর নাগালের মধ্যে!

    শুক্লা সংসারী, ও হঠাৎ বলল, ‘এগুলো নকল টাকা নয়তো?’

    চমকে উঠল সহদেব, ‘কী বলছ?’

    ‘হ্যাঁ গো, আমার মন বলছে। যদি সত্যিই তা হয়?’

    নিজের কাছে থাকা পাঁচশো টাকার নোটের সঙ্গে পাঁচশো টাকার বান্ডিল মিলিয়ে দেখল সহদেব। খুব ভাল বোঝে না ও। পাঁচশো টাকা ক’বারই বা এসেছে ওর হাতে। তবু বার-বার মিলিয়ে দেখতে গিয়ে সহদেবের মনে হল, শুক্লার কথাই ঠিক। সহদেব ভাবল টাকার ব্যাগ সত্যিই ও চেয়েছিল। তবে সেটা এভাবে, এমন বিপজ্জনকভাবে নয়। একটা অপরাধের সঙ্গে ও জড়িয়ে পড়েছে। মারাত্মক অপরাধ। জীবন কত নিচে নেমে গেছে!

    ছড়ানো-ছেটানো একগাদা টাকার মধ্যে অসহায়ের মতো অনেকক্ষণ বসেছিল সহদেব আর শুক্লা।

    বাইরে থেকে জোরে ধাক্কা দেবার শব্দ শুনে সহদেব এবং শুক্লা দু’জনেই চমকে উঠে ভয়ে আতঙ্কে দরজার দিকে চেয়ে রইল।

    চিত্রকর: মৃণাল শীল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More