রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

তুচ্ছ

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী

ছেলেমেয়ে দুটি পার্কে খুব হুটোপাটি করে খেলছিল। ছেলের বয়স পাঁচ মেয়ের বয়স দশ। একজন নার্সারি অপরজন ক্লাস থ্রি। গেঞ্জি-হাফপ্যান্ট আর ছাপাছাপা ফ্রক। আমার ছেলে আর দাদার মেয়ে।

আমরা পাশাপাশি থাকি। সময়ের তালমিল এক হলে ওরা দুই ভাই-বোন মিলে খেলে একসঙ্গে। দোলনা চড়ে, স্লিপ চড়ে। হাঁসের পিঠে চেপে বনবন ঘোরে। ঘাসমাঠে লাগাতার দৌড়য়।

ওরা খেলছিল, তখন ঝেপে বৃষ্টি এল। কিন্তু এমনি হবার কথা ছিল না।

সকাল থেকেই আকাশের মেঘ ভার। বেলা করে ছেলেকে নিয়ে যখন বেরোই, ওর মা পইপই করে বারণ করেছিল। এই বেলা বারোটার সময় ছেলেকে নিয়ে যেও না। এদিকে ছেলে আমাকে ধরে টানে। বলি, ভেব না। এখুনি এসে যাব।

বৃষ্টি আসবে।

না না।

মেঘ ধরে আছে।

অমন মেঘ ধরেই থাকে।

ওদের নিয়ে তুমি যাবে না কিন্তু।

আরে একটুখানি থাকব। একটু দুলেই চলে আসবে সব। কিরে?

ওরা দুইজনেই টুকটুক করে ঘাড় নাড়ে আর হাসিমুখে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

এই ত কাছেই। বারান্দা থেকে দেখা যাচ্ছে। দেরি হচ্ছে মনে হলে চিৎকার করে ডেকো।

ছেলে কিন্তু তোমার প্রশ্রয়েই বিগড়ে যাচ্ছে, মনে রেখ।

কথা বাড়াই না। ওদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।

সেই মেঘ যে সাত-আট মিনিট পর সত্যিই বৃষ্টি নামাবে, ধারণাতেই ছিল না।

ওদের ডেকে নিলাম। বৃষ্টি পরতে শুরু হয়েছে দেখে ওরাও তটস্থ হয়ে পড়েছিল। পার্কের পাশেই আছে একটা ঘর। টালির চাল। ঘরে তালা দেওয়া কিন্তু লোহার গ্রিল ঘেরা বারান্দায় কোনও তালাচাবি নেই। যারা ড্রেন পরিষ্কার করে, তারা এখানে বসে বিশ্রাম করে। এখানে গাছে প্রতিবছর দুটি শালিক ও কয়েকটি কাক উপর নিচ ডালে বাসা বাঁধে। আমাদের ফ্ল্যাটবাড়ির মতন উপর নিচ ঘর তাদের। কাগজে পড়ছিলাম, কাকেরাও কমে আসছে। বাসা করার তেমন জুতসই জায়গা তারা পাচ্ছে না।

আসলে আমাদের কমপ্লেক্সে এটি একটি অস্থায়ী নির্মাণ। কোনও কাজকর্ম লাগলে, যেমন রাস্তা সারাই বা বাড়ি সারাই—তখন মিস্ত্রিরা এখানে থাকে। এখানেই রাত্রিবাস করে। বারান্দায় স্টোভ জ্বেলে রান্নাবান্না হয়। এই ঘরের চাবি থাকে সেক্রেটারির কাছে।

ওরা দৌড়ে বারান্দায় চলে আসতেই ঝেপে বৃষ্টি নামল। বারান্দায় থেবড়ে বসে পড়লাম। আশপাশে নানা বড় বড় গাছ থাকায় ঝাপটা নেই প্রায়। বৃষ্টিতে পার্কের সবুজ ঘাস আর শুকনো মাটি ভিজে যাচ্ছিল। জল ঘুরে ঘুরে চলে যাচ্ছিল দূরের ওই শিশুগাছের নীচে। ওখানে ঘাস নেই। কিছু পাতা পড়ে আছে। সেই শুকিয়ে দড়ি হয়ে যাওয়া পাতারাও ভিজে যেতে লাগল। ভিজে যাচ্ছে গাছের পাতায় লেগে থাকা দীর্ঘ ধুলোবাতাস। মেঘের ঠেলায় মুছে যাচ্ছে আলো। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ আমার মনে হল, ঠাকুমা মারা যাচ্ছে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।

শ্রীরামপুরে বদলি হয়ে এসেছি শুনে ঠাকুমা বললেন, গঙ্গার ধারেই তোর অফিস হল, খোকন?

বললুম, হ্যাঁ।

স্নান করেছিস গঙ্গায়?

না।

যা একছুটে গিয়ে একটা ডুব দিয়ে আয়।

এই যাচ্ছি।

জল এনেছিস একঘটি?

না।

যা এখুনি গিয়ে জল তুলে আন।

এই যাচ্ছি।

ও রাধে, শুনছ, আমাদের খোকন রোজ গঙ্গাদর্শন করে। আহা, পান সাজা রাখো দিকিনি তোমার। কি পুণ্যির কাজ! হ্যাঁরে, নৌকা ভাসে নদীতে?

তা ভাসে বৈকি।

সাধু মহারাজরা নৌকা চেপে সুরধুনী নদী পার হয়?

হয়।

আহা, কতদিন ইলিশ খাই না! ও বৌমা, একদিন ইলিশ খাওয়াতে পার?

সে তো বর্ষায়।

বিষ্টি পড়ে না এখন?

কই না।

তবে যে সেদিন ঘরের মাথায় ঝমঝম আওয়াজ শুনলুম?

ও কিছু নয়।

তবে কি বাতাস অমনি করে বয় এখন?

সবাই ঠাকুমার বিছানা ঘিরে চুপ করে বসে থাকে।

একদিন গঙ্গার ইলিশ আনিস খোকন। নৌকার ইলিশ। বেশি করে আনবি। সেদিন রাধে আমাদের বাড়িতে খাবে। কি রাধে?

বলে ঠাকুমা ফের রাধের বসার শূন্য জায়গাটার দিকে তাকিয়ে রাধেকে উদ্দেশ্য করে নানা কথা বলে যায়।

গঙ্গার উপর যখন বৃষ্টি পড়ে, বেশ লাগে। সেই গঙ্গা সেই নদী যেন শান্ত এক বয়স্কা নারীর মত হয়ে ওঠে, বুক পেতে সে নেয় বৃষ্টিকে। নদীজল হয়ে ওঠে সাদা আর ওপার সাদায় ঝাপসা। তবু দেখো, দুই একটি নৌকা এখনও ভেসে থাকে নদীর উপর। ওরা মাছ ধরে কি এইসময়? ইলিশেরা কি জমা হয় নৌকায় তলায় আর নৌকার মানুষদের মুখ ভেঙায়। জানি না এমনতর কিছু। তবে বুঝি, নদীর বাতাস আর বৃষ্টি প্রবাহের বায়ুকে কোলে নিয়ে তারা পরনের লুঙ্গি খুলে গায়ে চাপায়।

ভাই বলল, দিদি একখানা নৌকা করে দিবি?

হি হি। নৌকা নিয়ে কি করবি?

কেন? এই জলে ছাড়ব। ভেসে ভেসে সেই নৌকো চৌঘরা চলে যাবে।

দুর! সে কি এখানে? কতদূর বল দিকি। খালি বাঁশবাগান আর বাঁশবাগান! আর কাদা কাদা উঠোন।

সেখেনেও জল হচ্ছে?

হচ্ছেই ত!

তবে সেখেনেও নৌকা ছাড়ি? আমাদের বাড়ির বুড়িটাকে সেই নৌকায় তুলে চৌঘরায় পাঠিয়ে দিই।

হি হি, কি বোকা বোকা কথা তোর!

তবে আমি নৌকা চাপি? বুড়ি ঘরে বসে বসে সারাদিন টিভি দেখুক।

পুচকে তুই অদ্দূরে যাবি কি করে, অ্যাঁ?

কেন, এই নৌকায় চেপে?

হিহি। ও তো কাগজের নৌকা। ওতে কি চাপা যায়?

বাবা, তুমি একখানা কাগজের নৌকা বানিয়ে দেবে?

আমার অফিস ঘরের জানালা দিয়ে গঙ্গার কিছুটা দেখা যায়। বিষ্ণুর পাদপদ্মে তার জন্ম আর স্বয়ং শিব যাকে মাথায় ধারণ করেন। ছেলেবেলায় কতবার গঙ্গায় এসেছি ঠাকুমার হাত ধরে। শুনেছিলাম ভগীরথের কথা। কেমন করে স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে এলেন। কী সাধনা তাঁর! কী গভীর টান! তখন বারবার মনে হোত, যে পথে ভগীরথ গিয়েছেন, সেইপথে আমিও যাব। কিন্তু তার জন্য পয়সা পাব কই? ঠাকুমা বললে, যিনি পথের দেবতা তিনিই পাথেয় জোগাড় করে দেবেন।

এই ত সেদিন গিয়ে দেখে এলাম ঠাকুমাকে। অবাক কাণ্ড! যে ঠাকুমা আমাকে চিনতে পারল না, সেই ঠাকুমা আমার পাশে বসে থাকা আমার ছেলেকে একলহমায় চিনে ফেলল, ‘ও তো আমার খোকনের ছেলে’ বলে। চলে আসার আগে বলে এসেছিলাম, ঠাকুমা আর দিন পনের বাঁচবে।

পনের দিন কি পার হয়ে গেল?

আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি। প্রবল বৃষ্টি নেমেছে। পার্কের ওপ্রান্তে হাঁস খেলার জায়গাটা সাদা হয়ে গেছে। মেঘ ডাকছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ছোট দুই বাচ্চা এতক্ষণ আমার পাশে লাফাচ্ছিল। এখন ভয় পেয়েছে। তারা আমার দুদিকে গুটিসুটি মেরে বসে। বৃষ্টি দেখছে। আসলে ওরা ভয়ে আছে। বাড়ি গিয়ে বকা খেতে হবে কিনা। এখন মনে হল, ঠাকুমা মারা যাচ্ছে।

কেন মনে হল? কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটি আমার ভাবনার ভেতর ছিল না, কেন ভাবছি সে মারা যাচ্ছে? কেন ভেবে নিচ্ছি, এই বর্ষার প্রথম ও শেষ বৃষ্টি দেখে নিচ্ছে সে। কেন মনে হচ্ছে?

ঠাকুমা কাকিমাকে ডেকে বললে, ও শেফালি, কখন আসা হল? ছেলেমেয়েদের এনেছ? তা তোমার কয়টি ছেলেপুলে যেন? পাঁচটি?

কাকিমা পালাবার পথ পায় না।

কাকাকে ডেকে বলে, ও নিতাই, গরীবের বাড়িতে এসেছ যখন, না খেয়ে চলে যেওনি যেন। ওতে গেরস্তর অকল্যাণ হয়। আমাদের যদি খুঁদকুড়ো জোটে, তোমারও তাই জুটবে না হয়।

কাকা কি বলবে? ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে।

আমি বুঝি, এগুলি হল মৃত্যুর আগমন সংবাদ। সে আসার আগে সব বাঁধন কেটে দিচ্ছে। নইলে মানুষকে সে নিয়ে যাবে কেমন করে? তারও প্রাণ তখন কাঁদবে, নাকি?

গঙ্গার ধারে বসে আছি, একদিন মনে হল দাদুর মতো কেউ যেন পাশ দিয়ে হেঁটে গেল। পিছন ফিরে দেখি, কেউ নেই! আর একদিন দেখি, ঠাকুমা ও রাধের মতো দেখতে দুটি বুড়ি গঙ্গার ধারে বসে মুখে পান নিয়ে নানা গল্প করে যাচ্ছে। ঠাকুমার বন্ধু, মুদিপাড়ার রাধে চলে গেছে নয় মাস হল।

চারিদিকে কেবল বৃষ্টি পতনের শব্দ। পার্কের ছোট মাঠ ভরে গেছে জলে। সাদা মাঠ। সাদার উপর বৃষ্টি পড়ে। সাদার শব্দ ওঠে। বৃষ্টি পড়ে পাতায়। পাতার শব্দ ওঠে। হাঁস ভিজে যায়। তারও এক শব্দ আসে। কেবল মৃত্যুর কোন শব্দ নেই।

বিড়বিড় করে বলি, হাঁসগুলি যে ভিজে যাচ্ছে!

ঠাকুমা বলে, ওরে হাঁস ভিজবেই। কিন্তু দুয়ারে বসে তুই কেন ভিজবি? হাঁস জলের জীব, ওদের কিছু হবে নে। কিন্তু হাঁসের সাথে তুই কেন বসে আছিস? ওরা ঝুড়ি চাপা দিয়ে যেমনি আছে থাক না। তুই ঘরে যা।

আমি তেমনই থেবড়ে বসে থাকি।

যা ঘরে ঢুকে যা। এই জল কখন থামবে কেউ জানে না। আজ যেন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমে এল। ওরে, ধরাধাম এবার রসাতলে যাবে আর মা গঙ্গা উঠে আসবেন আমাদের বাড়ি। যা ঘন ঘন বাজ পড়ছে! কিছু একটা বিপদ হতে কতক্ষণ? তুই ঘরে যা।

বললেই কি যাওয়া যায়? এক দুয়ারে আমি, মাঝে উঠোন ওদিকের দুয়ারে ঠাকুমা। সমানে চিল্লিয়ে যাচ্ছে। বুড়ি বকছে বকুক, হাঁস ছেড়ে আমি কোথাও যাব না; এই পণ। এই তো তিনদিন আগে পাড়ার ফেরিওয়ালার থেকে হাঁসছানা কেনা হল। এখন ওদের জলে ছাড়া যাবে না। তাহলেই তুলে নিয়ে যাবে কাক কিংবা চিল। বাড়িতেই ঝুড়ি চাপা দিয়ে রাখা থাকে, একটু চরকো হোক, তখন মুদিপুকুরে দিয়ে আসব। এত সতর্ক থাকার পরও একটি হাঁসছানাকে তুলে নিয়ে গেছে বিড়াল।  বিড়ালের কাছে জলঝড় বলে কোন বস্তু নেই। এর পাঁচিল ওর বেড়া গলে, লোম ভিজিয়ে সে যদি আবার হামলা করে আমার হাঁসেদের উপর?

ঠাকুমা মারা যাবে, সকলেই জানে। যথেষ্ট বয়স হয়েছে। ঠাকুমা চলে গেলে সংসারের কোথাও হয়তো একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়বে। কিন্তু তবু কেন যে মানুষকে চলে যেতে হয়!

ছেলে বলে, হ্যাঁ, বাবা, ঠিক বলেছ। হাঁসগুলি জলে ভিজে যাচ্ছে। জলে ভিজে ভিজে সাদা হয়ে গেল। তাদের গায়ের রঙ উঠে গেল। পালক গলে গেল। এবার আমি কিসে চাপব?

ওর দিদি বলে, দুর পাগলা! হাঁসের কি আবার রঙ ওঠে? ওরা কি সত্যিকারের হাঁস? ওরা তো  খেলনা হাঁস, খেলনা পালক;  দোলনা হাঁস।

ছেলে বলে, তবে চাপা যাবে?

বিষ্টি কমলেই চাপা যাবে। কেবল হাঁসের পিঠের জল মুছে নিতে হবে।

কি মজা! কি মজা!! সে হাততালি দিয়ে লাফিয়ে উঠল।

ক্রমে বৃষ্টির বেগ কমে আসতে লাগল। কমতে কমতে সে ঝিরঝির করে পড়তে থাকল।

হ্যাঁ, এবার ফেরা যেতে পারে।

আমি প্রথমে আশ্রয় ছেড়ে বেরোই। তাকাই পূর্ণ আকাশের দিকে। সেখানে এখনও মেঘ। সেই মেঘে বৃষ্টির আভাস যথেষ্ট। হ্যাঁ, আবার সে প্রবল বেগে নেমে আসার আগেই আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে। দুটি বাচ্চা অনেকক্ষণ বাইরে আছে। জলজ বাতাসের ধাক্কায় তাদের না শরীর খারাপ হয়ে যায়।

আমার দেখাদেখি ওরাও জলের কিনারে নামল। তেমনই করে আকাশ দেখল। ছেলে বলল, বাব্বা! কত মেঘ। ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট মেঘ।

কাকাই আমার ফ্রকের ঝুলের পেছনটা ভিজে গেছে ঝাপটায়। মা বকবে?

না না। আমি বলে দেব।

ওকে ওকে। সে খুশিতে মাথা দোলায়।

ছেলে বললে, আমার জুতো ভিজে গেছে বাবা। পাও ভিজে গেছে। জ্বর হলে আমার ইস্কুল কামাই হবে, আর মা তোমাকে বকবে।

কিছু হবে না চল।

দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার আগে বাচ্চা দুটি মনের সুখে জমা জলে লাফাই ঝাঁপাই করছে। আহা! করুক। এই জলে ভেজা জীবনে তারা পা রাখতেই পারে না মায়েদের শাসনে।

ছেলে বলল, বাবা, লাফাও।

তার দিদি বললে, কাকাই, লাফাও।

সুতরাং, আমাকে জমা জলে লাফাতেই হয়। হ্যাঁ, আমার ঠাকুমা মারা যাচ্ছে। এই জলে তার ছায়া। সেই স্পর্শ। শেষ শব্দ। শব্দ কি সত্যিই বাতাসে ভাসে নাকি তারা চলাচল করে অন্তরীক্ষে? এই বৃষ্টি ভেজা দুপুর, জমা জল, ঘুলিয়ে ওঠা কাদা— এই মেঘাচ্ছন্ন পৃথিবীর ভেতর কোনও মানুষ চলে গেলে কার কী এসে যায়? পৃথিবী তেমন ভাবেই বয়ে যাবে। তারও কিছু যাবে আসবে না। হয়তো তাই মৃত্যু হয়ে ওঠে বৃষ্টি বা বৃষ্টির মতো। হয়তো তাই, বৃষ্টির দাগ শুকিয়ে গেলে আমরা মৃতদের ভুলে যাই।

আগে ভাবতাম মানুষের বেঁচে থাকাটাই সত্য, বাকি সব মিথ্যে। একটু বয়স হলে ভাবি, মানুষের জন্ম ও মৃত্যুটাই সত্য বাকি সব গল্পকথা। আর এখন মনে হয়, আসলে সত্যি কেবল সময়। বাকি সব তুচ্ছ।

চলে আসছি, মনে হল পিছন থেকে কেউ যেন বলল, কিরে খোকন, চল্লি?

থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। কিন্তু পিছনে তাকালাম না। এদিক ওদিক আটকে পড়া মানুষ টুকটুক করে বের হতে শুরু করেছে। এ ওকে খুঁজছে।

খোকন নাম কতজনেরই হয়!

চিত্রকর: মৃণাল শীল

Comments are closed.