সোমবার, নভেম্বর ১৮

শব্দ

তৃপ্তি সান্ত্রা

–  উঃ! মাগো! দাঁও দিয়ে কী করে কুপিয়ে মারল–– ওরা মানুষ আছে? শয়তান, সব শয়তান।

– পাড়ার মদ্দে মারল, কেউ কিছু বলল না?

– পাড়ার মদ্দে কোথায়। মারল তো বাগানে।

– বাগানে গেল কেন, পালিয়ে যেতে পারল না?

– পালাবে কীভাবে? পালাতে যাতে না পারে তার জন্য তো আগে ঠ্যাঙে মারল। কোঁকিয়ে পড়ে যেতেই ঠ্যাং ধরে ছেঁচড়ে নিয়ে গেল বাগানে।

এভাবেই সুজাতার সঙ্গে তার বর খোকনের এনকাউন্টার শুরু হয়। ধুলো পা, উশকোখুশকো চুলে সুজাতা বাড়ির দরজায় তখন। সদ্য হত্যাদৃশ্য দেখার উত্তেজনায় শরীর কাঁপছে। মুখ–চোখ লাল। কেন দেরি তারই সাতকাহন দিচ্ছে খোকনকে। খোকনের একটু সন্দেহবাতিক। তার গরিব অটোচালকের মবিল জীবনে সুজাতা একটু বেশি লুব্রিক্যান্ট। তিন ছেলেমেয়ের মা হয়েও শরীরে মা মা গন্ধ নেই, নায়িকা নায়িকা সেন্ট বেশি। সে ঘর সামলায়, বাইরে তিন বাড়ি কাজও করে তবু তিতলি উড়ি ঢং। বউয়ের বেশি দেরি করে ঘরে ফেরা পছন্দ নয় খোকনের। অন্যদিন সুজাতা বারোটার মধ্যেই ফেরে, আজ একটা বেজে গেল দেখে খোকন তৈরি হয়েই ছিল। দেবে দুই ঝাপট। কিন্তু ঘরে ঢুকেই তড়বড় করে সুজাতা বলতে থাকে, অসহায় হয়ে কেঁদেও ফেলে।

– মেরো না গো। আগে শুনোনা, কেন দেরি হল শুনো। খিদা লেগেছে সে তো বুঝেছি। দেরি কী এমনি হল। মাগো, এত বড় রামদাও–– চকচক করছে–– তাই দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে। উফ কী চিৎকার বেচারির। ভালোমন্দ কিছু করেছে, দুই–এক ঘা দে, তা না, একদম কেটে দিল। জানে মায়াদয়া কিছু নাই––

বাইরে খর রোদ, পেটেও তেমন রোদের আগুনের চেয়েও বড় আগুনের তাফাল। খোকন খানিকটা খিমচানোর ভঙ্গিতে সুজাতার পেটের মাংস টেনে ধরতে গেছিল, ইচ্ছেও ছিল দু–একটা ঝাপট মাথায় মারার। কিন্তু সুজাতার চোখের জল কেমন এক বৃষ্টির রেশ আনে। পাতলা কোমরের মাংস টেনে ধরার মতো আবেশ। তাদের সোহাগপর্বে সুজাতার কোমর চিমটিয়ে ধরে খোকন যখন বলে–– ঢং না! সুজাতা সেটা উপভোগ করে। তিন তিনটে মস্তান খালাস করেও সুজাতা কুমারীর মতো খুলে যায়। সাঁতার কাটে জলের শরীরে। খোকন যেন একটু ক্লান্ত হয়ে পড়ে কারণ সাঁতারের সময় নিজের দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া নয়, সে খুঁজতে চেষ্টা করে সুজাতার জলের মধ্যে জল হয়ে থাকার যে দক্ষতা তার উৎস। মুড অফ থাকলে খোকনের আস্তে মাংস টেনে ধরাকেও সুজাতার জোর চিমটি মনে হয়। সুজাতার ফোঁস তখন। জলের মধ্যে জল হয়ে থাকার কারণ পাওয়া যায়নি আর ফোঁসটির, ফণাটির স্পর্ধার পেছনে সদ্য তিন বাড়ির মাইনের ধক–– খোকন চিমটি কেটে মুজরো করতে চায় মারের। ঠ্যাঙায়। শাখা ভাঙে। লাঠির বা চওড়া হাতের দাপটে সুজাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে– একমাত্র অবলা–সাঁটা মোহর এই ছবি খোকনকে জাগায়। শাখা ভাঙে। নাকের ফুল খসে। তো এ পর্বে তেমন কিছু হয় না।

কিছু যাতে না হয় তার জন্য কোঁচড়ভর্তি শব্দ কুড়িয়ে দৌড়েছে সুজাতা। আর্তনাদ আর মৃত্যুযন্ত্রণা এমন তীব্র। টানা। একটানা যন্ত্রণার সশব্দ উপস্থিতি। চরম দৃশ্যটি সে দেখেনি। না দেখার স্বাধীনতা আছে। চোখ বন্ধ করা যায়। কিন্তু শব্দ সর্বত্রগামী। সেঁধিয়ে যায়। কানে আঙুল দিলেও যেন সড়সড় করে তীক্ষ্ণ পিনের মতো শব্দ কাঁটা তরল হয়ে–– উষ্ণ তরল হয়ে ঢুকে যায় কানের গহ্বরে। একটানা সেই শব্দ নিয়ে হাঁটা মুশকিল। সুজাতার দেরি হয়ে যাচ্ছিল ফিরতে। বাড়ি বসে আছে এক পেট খিদে নিয়ে। সুতরাং বৃষ্টিতে শিল কুড়োনোর মতো সে শব্দ কুড়িয়ে, কোল আঁচলে বেঁধে ছুটেছে। বরের কাছে দেরি হওয়ার কৈফিয়ত দেওয়ার সময় সে খুলে দেবে গিঁট। অ্যাসিডের মতো দ্রুত ছড়িয়ে যাক। শুধু সে একা নয়– খোকনকেও দেখাতে হবে মৃত্যুদৃশ্য। নইলে দেরি হবার জন্য তার মার অনিবার্য।

মৃত্যুযন্ত্রণার ফাঁকে ফাঁকে গোঁজা ছিল হত্যার সমবেত উল্লাস। পাঁচজন ঘিরে থাকলে অনিবার্য হত্যা হয় কিন্তু একবারে নয়, একটু খেলিয়ে, কষ্ট দিয়ে মারলে, তারিয়ে তারিয়ে মেয়েদের আচার অথবা চাটনি খাওয়ার মতো শখ। অথবা ছেলেদের আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে নেশার মৌতাত। সুজাতা সেই দৃশ্যটি যথাযথ ভাবে খোকনের কাছে আনতে গিয়ে পারে না। কোঁচড় খুলে সব শব্দ যথাযথ মেলে ধরতে চায়, হয় না। নাটক বা জীবনের ছবি কবেই বা ঠিকঠাক ধরে। তাছাড়া বাগান থেকে বাড়ি–– হত্যাদৃশ্যটি কোঁচড়ে করে আনতে আনতে পায়ে পায়ে আটকে যাচ্ছিল গরমে ভেজা সায়া। সব শব্দ তো কুড়নো যায়নি। ফণিমনসা পার্থেনিয়ামের ঝোপঝাড়, আমগাছের ডালপালায় শব্দ থেকে গেছে অনেক। আর তাল আর নারকেলের লম্বা ডালে উঠে গেছে শব্দরা। আর্তনাদ, মৃত্যুযন্ত্রণার জান্তব চিৎকার এমন কেটে বসেছে গায়ে, ঘাম হয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে সায়ায়–– সুজাতা হাঁটতে পারছে না মোটেও। এবং তখন অনিবার্য ভাবে দাও–কাটারি দিয়ে নয়, শব্দ থেকে বাঁচতে সেও গলা টিপে ধরেছে শব্দের। অর্থাৎ অসহায় যে গলা দিয়ে শব্দরা ঘুরে ঘুরে কালো হয়ে, তরল হয়ে, সংক্রামক ভাইরাস হয়ে বেরিয়ে আসছে, সেই গলার ফুটোয় চেপে ধরতে চাইছে কানি। যে ভাবে প্রতি মাসে বড় কাপড়ের অভাবে রক্তস্রোত, অজস্র প্রচুর রক্তস্রোত থামাতে সে গোলা পাকিয়ে ন্যাকড়া ঠুসে দেয়। কোঁচড়ে শব্দ আর আর্তনাদ বেরোচ্ছে যে গলা দিয়ে, অদৃশ্য হাতে নিজের সেই গলায় কানি ঠুসে দিয়ে হাঁটার সময় সে যেন হত্যার কারণও বুঝতে পারছে। কানের মধ্যে সিসে ঢালা শব্দ থেকে বাঁচতে সেও কানিটুকু গুঁজে দিয়ে হত্যাকারী। অসহায়। এত সব করে, দেরি হওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে সুজাতা তড়বড় করে অনেক কিছু বলার পর, খানিকটা নেতিয়ে যায়। পুরা ফ্লু লাগা মুরগি হয়ে যায়। পা ধুয়ে ছেলেমেয়ে খোকনকে খেতে দিলেও নিজে খাবার মুখে ছোঁয়ায় না। কানে শুধু অসহায় চিৎকার। থ্যাঁতলানো চিৎকার। গলা দিয়ে কিছু নামে না। সুজাতার আঁকাবাঁকা কান্না আর কথা থেকে খোকন জেনে যায়। জানে কারা ছিল। ফুটি, সানু, মেধো।

ভাত খাওয়া শেষ হলেই বড় দুটো মাঠে ছুট দেয়, ছোটটা ঘুমিয়ে পড়ে সুজাতার গা ঘেঁষে। খোকন আয়েশে বিড়ি ধরায়। ভরা পেটে ধোঁয়ার বাতানুকুলে তার মাথা খোলে। সুজাতা তখনও বিনবিনিয়ে যায়। তার প্রতিরোধ শোনায়।

– কত বল্লাম, মেরো না, মেরো না। মারছ কেন? বলে কী, মারব না! আমাদের মুখের ভাত কেড়ে খায়–– মুখের গরম ভাত। দ্যাখ্ এবার কেমন মজা।

সুজাতার বিনবিনিয়ে কান্না থামানোর একমাত্র ওষুধ ধমকানো।

খোকন ধমকিয়ে বলে, ভরদুপুরে বাগান দিয়ে এলি কেন? বারণ করেছি না।

বাগানের স্ক্রিনে অনেক ছায়াছবি তার চোখে ভাসে। রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটা আর মেয়েটা ইয়ার্ড পেরিয়ে যাচ্ছিল। ধূসর জংধরা শিয়াল শিয়াল রঙের ইয়ার্ডের পাশে লেবু হলুদ চুড়িদার আর ছেলেটির সমুদ্র নীল জিন্স। রঙহীন ফুটির দল পিকচার পোস্টকার্ডের চেয়ে জ্যান্ত এ ছবিটাকে রিমেক করে বাগানের পাশে অড়হড় ঝোপের আড়ালে। লেবু হলুদ কামিজ, গোলাপি প্যান্টি ছিঁড়েটিড়ে ওই তিনজনই–– ভর দুপুরেই। খোকনের দেখা। ছেলেটা মার খেয়ে আগেই জ্ঞান হারিয়েছিল। কাজ সেরে মেয়েটাকে লাইনের ওপর ফেলে দেওয়া। বাকিটা বানাবে আপ অথবা ডাউন ট্রেন। এছাড়া চোরাইমালের ভাগবাঁটরা, মদ, জুয়া–– সব তীর্থ বাগানেই।

বাগান দিয়ে এলে শর্টকাট আবার বাগানে নানা ছায়াছবি। সুজাতা তুই বাগান দিয়ে এলি কেন? খোকন জানতে চায়।

– ওরে বাব্বা! কী দা! এত বড় চকচকে রামদা দেখেই তো আমার প্রাণ উড়ে গেল। সুজাতা সম্ভবত বাগানে কেন, এই প্রশ্নের থেকে পালাতে চাইছিল।

কিন্তু ভবি ভোলবার নয়। সুজাতার কথা ঘুরিয়ে নেওয়া এবং বাগানের নানারকম স্থিরচিত্রের খোঁচায় খোকন চ্যাঁচায়, তোকে বলেছি না আনসান সময়ে বাগান দিয়ে আসবি না…

বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কোন বিহানে, দুপুর গড়িয়ে চলেছে, ভাত খাওয়া হল না। হত্যাদৃশ্যের নিষ্ঠুরতায় সুজাতা বিধ্বস্ত। শহরের মানুষ দিনকে দিন হিসেবি। টাকার লোভে সুজাতা জলখাবারের দাবি করেনি, আশা ছিল খাওয়ার কথা না থাকলেও তিন বাড়িতে কিছু না কিছু জুটে যাবে। তো কোথাও চা–বিস্কুটের বেশি কিছু না। স্বামী তাকে সোহাগ করে খাওয়াবে এমন স্বপ্ন নেই কিন্তু একটু রেহাই তো পাওয়া যায়। শ্রান্ত মানুষকে একটু দম ফেলার সুযোগ না দিয়ে কেমন জেরার বহর দেখো নিষ্কর্মা ভাতারের। কেন বাগান দিয়ে, খোকন যেন জানে না। আনসান অবুঝ বয়েসে বেমক্কা প্রেমে পড়ার মতোই তার গলা বেহিসেবি লাফিয়ে ওঠে–– বাগান দিয়ে আসব না তো কোত দিয়ে আসব। রাস্তা দিয়ে ভ্যানে এলে দু’বেলা চারবার আসা যাওয়ায় বিশ টাকা লাগে, মাগনা না? সুজাতার সাদা চামড়া, টিকালো নাক তার সঙ্গে সেই ধক টাকা কামানোর। বাড়তে দিলে এটা ফণা হয়ে শিয়রে দুলতে থাকে, সুতরাং খোকন গলা ছাড়ে––

– অ্যাই শালি, টাকার রোয়াব দেখাবি না। যা আনব তাই খাবি। ঢলাঢলি করতে বাড়ি থেকে বেরোবি না। বাগানে কী হয় আমি জানি না? সব জানি…

অড়হড়খেতে লেবু হলুদ কামিজ, চোরাই মাল সব সুজাতার শোনাই ছিল। স্বামীর নোংরা ইঙ্গিতে ভেতরে শুয়ে থাকা ঝিমানো ভাবনাগুলো ফণা পায়। সুজাতা ছোবল মারতে ছাড়ে না। –– সব জান? সব জান তো কোনওদিন কিছু বল না কেন ওদের? ফুটি, সানু, মেধো ওরা ভয় পায় না কেন তোমায়? চোর ডাকাত কাজের সাক্ষী রাখে না, নিরীহ প্রাণীকেও ছাড়ে না। তোমায় ছাড়ান দেয় কেন?

লোচ্চা বদমাইশ ফুটি, সানুর সামনে তার স্বামী খোকন পুরনো বচ্চন বা এখনকার সলমান খানের মতো ফুঁসে উঠেছে, ডায়লগ দিচ্ছে। সত্যি সত্যিই তো আর নায়ক নয়। তিনজন ষণ্ডার সঙ্গে পারবে কেমন করে। তাই বদমাইশগুলো প্রথমেই ঠ্যাঙে মেরে ফেলে দিচ্ছে খোকনকে তারপর ছেঁচড়ে আনছে পা বেঁধে– এটুকু একদম ঠিকঠাক। কারণে অকারণে খোকন বড্ড হাত ওঠায় গায়ে, কারও সঙ্গে ভালো ভাবে কথা বলাটাও সহ্য করে না। আনসান ব্যাপারে গায়ে হাত তুললে তার মনে হয়, যদি শরীরে শক্তি থাকত সেও দিত সমান ঝাড়। অদৃশ্য ফুটিদের হাতে খোকনের এটুকু মার অনুমোদিত। বেদম প্রহার ঠিকই আছে কিন্তু খোকনের হত্যাদৃশ্য– উঃ! সুজাতা কোঁকিয়ে কোঁকিয়ে কাঁদতে থাকে। ‘তোমাকে ছাড়ান দেয় কেন’–– এই কথাটা বলা ঠিক হয়নি বুঝে সে কান্নাটি অন্য দিকে গড়িয়ে দেয়। বিনবিন করে গানের ধুয়োর মতো বলে––

তুমিও কক্ষনও বাগান দিয়ে আসবা না–– ওদের সামনে যাবা না। তোমাকেও তো দেখেছে। যদি তোমাকেও––

কাঁদতে থাকে সুজাতা। খোকনকে কল্পনায় ফুটিদের দিয়ে মার খাওয়াতে চেয়েছিল, সেই দোষ ঢাকতে আরও ফোঁপায়।

শোকের জলে, চোখের জলে সুজাতার অবলা ছবি–– খোকন কামার্ত হয়। ঘাড় খিমচে বলে– দূর পাগলি, আমার কিছু হবে না। আমাকে মারবে কেন? আমি কি মুখ খুলব ভাবছিস। আনসান সিন দেখে মানুষ এখন ভুকে না…

ঘরে ঢুকে রান্না করা ভাত খাওয়ার অপরাধ। এইরকম একটা কারণ বলেছিল ফুটি, সানু, মেধো অথবা বিনদের হাড়বজ্জাত ছেলেগুলো। কুত্তাটাকে মারার কারণ। খিদের মুখে ঘরে ঢুকে কেউ যদি দেখে– ভাত নাই– রাগ হবে না? মারছ কেন, মারছ কেন–– সুজাতার অসহায় প্রশ্নের উত্তরে তারা এইরকম বলেছিল। মেরে ফেলার কারণটা পালিয়ে আসতে আসতেই টের পেয়েছিল সুজাতা। একটানা লম্বা অসহায় বুকফাটা মৃত্যু যন্ত্রণাকে থামাতে গলগলে শব্দস্রোত থামাতে সেও কানি ঠুসে শব্দের গলা বন্ধ করে ছুটেছিল। ওরাও হয়তো তেমনই। আরও মরিয়া ওরা কারণ যেখানে সেখানে যখন তখন ওদের দেখেই সশব্দে চিনিয়ে দিত কুকুরটা। রাতেবিরেতে আগাড়েপাগাড়ে ওদের কুকীর্তি দেখে সমানে ভুকত হারামজাদা কুত্তা। ওদের দেখলেই ভুকত। এতদিন মানুষের পাশাপাশি কোলপোঁছা হয়ে থেকেও একটুও মানুষ হয়নি। গলা উঁচু করে সশব্দ এক্সট্রালার্জ ঘেউ–এ কত বিপ্লব, সময়মতো চুপ থাকার আর্টই শিখল না।

সময়ের পায়ে পায়ে চলার মন্ত্রও শিখল না। শালা কুত্তা কুত্তাই থেকে গেল। তো তুই মরবি না! মর শালা, ভুকেই মর। কী যেন একটা বলে না, স্বভাব যায় না মলে…

মরা কুকুরের ডাক শুনে যদি ডেকে উঠতে ইচ্ছে হয়–– অক্ষমতার বিপন্নতায় অসহায় খোকন ভরদুপুরে বউকে খিমচে দরজা লাগায়। খোকনকে প্যাঁদানোর পাপদৃশ্য সুনিপুণভাবে চোখের জলে মুছে, স্লেট শুকোনো ছড়া বলে সুজাতাও ততক্ষণে আধভেজা নতুন অবলা স্লেট নিয়ে তৈরি। দুটি শরীর অতঃপর শরীরের গহন খাঁজে না পারা চিৎকারগুলো গুঁজে দেয়।

চিত্রকর: মৃণাল শীল

Comments are closed.