বুধবার, নভেম্বর ১৩

শব্দস্রোত

সুব্রত নাগ

দরজার সামনেই টাঙানো সাইনবোর্ডটা। বাঁ পাশে কিছুটা কেতরে ঝুলে রয়েছে। বাহারি কাঠের ফ্রেমে সোনালি রঙে একসময়ে যত্ন করেই লেখা হয়েছিল – ডাঃ বিকাশ নারায়ণ ঘোষ – এম.বি.বি.এস- নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। সময়ের দাপটে চিড় ধরেছে ফ্রেমে, দু–চারটে হরফ মুছে গেছে। যেগুলো পড়া যায়, সেখানেও ধুলো আর ঝুল জমাট বেঁধে আছে। দরজার বাইরে উঁকি মারলেই বোর্ডটা নজরে পড়ে ডাক্তার ঘোষের। এক একবার মনেও হয় নতুন একটা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে যত্ন করে কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিতে- তারপরই ভাবেন আবার কেন? দ্যাখ দ্যাখ করে আশির ঘরে ঢুকতে চললেন। আটাত্তর বছরের ক্লান্ত, বিবর্ণ জীবনের সঙ্গে বরং ওই হেলে পড়া প্রাচীন রঙচটা বোর্ডটাই মানানসই। চেনাশোনা দু’চারজন অবশ্য অনুযোগ জানায়- বোর্ডটা এবার পাল্টে ফেলুন ডাক্তারবাবু- বড্ড বেমানান লাগছে। মুচকি হেসে মাথা নাড়েন। অস্তাচলে যাওয়া ডাক্তারের চেম্বারে ঝাঁ চকচকে সাইনবোর্ড আরও বেশি বেমানান লাগবে না তো?

অস্তাচল! তা নয়তো কী? একসময় যে চেম্বারের সামনে গিজগিজ করত পেশেন্ট পার্টির ভিড়, যেখানে এখন আক্ষরিক ভাবেই মাছি মারতে হয়। দু-চারজন রোগী কখনও সখনও ছিটকে ছাটকে ঢুকে পড়ে। জেনারেল মেডিসিন এর ডাক্তারদের এই একটা সুবিধে – আর কিছু হোক না হোক পেটখারাপ, নয়তো সর্দি–কাশি – নিদেনপক্ষে ভাইর‌্যাল ফিভারটা আছেই। নাক-কান-গলার রোগে তো আর পাবলিক প্রতিদিন ভুগছে না। অবশ্য ভোগে না – সে’কথাই বা বলেন কী করে? না ভুগলে একদিন অত রোগী আসত কেন? কারও গলায় ব্যথা, কারও কানে পুঁজ জমেছে, কারও আবার নাক দিয়ে ব্লিডিং হচ্ছে। সকাল বিকাল প্রাইভেট চেম্বার- সারাদিন হাসপাতাল ডিউটি- দম ফেলার ফুরসত থাকত না। স্ত্রী শ্যামলী এই নিয়ে কম দিন অভিযোগ করেনি, ‘‘রাতদিন শুধু রুগি ঘাঁটলেই হবে? নিজের মেয়েটা বড় হচ্ছে। ওর দিকে একটু নজর দাও।’’

চেম্বারে যাওয়ার জন্য রেডি হতে হতে ডাক্তার ঘোষ জবাব দিয়েছিলেন, ‘‘নজর দেব না কেন? এই তো, কাল রাতেই কথা হল।”

স্বামীর জন্য ব্রেকফাস্ট সাজাতে সাজাতে শ্যামলী বলেছিলেন, “আচ্ছা, নিজের মেয়ে কি তোমার পেশেন্ট যে কেমন আছেন, ওষুধ ঠিকমতো খাচ্ছেন তো – এইসব বলে ফর্ম্যালিটি করে যাবে? মেয়েটা উঁচু ক্লাসে উঠেছে। মাঝে মধ্যে মেয়েটাকে নিয়ে বোসো- ইংরেজি, অঙ্কটা একটু দ্যাখো।”

“কেন?” টোস্টে কামড় দিয়ে ডাক্তার ঘোষ বলতেন, ‘‘পৃথার অঙ্ক আর ইংরেজির টিউটর দুজনেই তো খুব এফিসিয়েন্ট, সিন্সিয়ার- তাছাড়া আমার ফিরতে ফিরতেও তো ধরো রাত দশটা, সাড়ে দশটা……”

“তাড়াতাড়ি ফিরবে”, স্বামীকে থামিয়ে দিতেন শ্যামলী, ‘‘রাতের চেম্বারটা বন্ধ করে দাও। অত টাকা রোজগার করার দরকারটাই বা কী?”

শ্যামলীকে বোঝাতে চাইতেন ডাক্তার ঘোষ, “শুধু কি টাকার জন্যে চেম্বার করি? কত পেশেন্ট ট্রিটমেন্টও তো পায়।”

“ছাড়ো তো,” শ্যামলী মানতে চাইতেন না, “টিচাররা টাকার গন্ধেই টিউশনি করে আর ডাক্তার-উকিলও টাকার গন্ধে প্র্যাকটিস করে।”

কথাটা অনেকটা ঠিক তো বটেই। দিনের শেষে পেশেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া করকরে নোটগুলো গুনতে খারাপ লাগত না। তবে টাকা রোজগারের বাইরেও অন্য, আলাদা একটা কিছু থাকত যেটা তিনি ফিল করতেন- মাঝে মধ্যে দুটো একটা ডিফিকাল্ট কেস আসত। নিজের ডাক্তারিবিদ্যাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে এনে ট্রিটমেন্ট করে পেশেন্টকে সুস্থ করে তোলার যে স্যাটিসফ্যাকশন্ – তার আকর্ষণ কি কম?

অবশ্য রোববারগুলোয় পেশেন্টের চাপ না থাকায় মেয়েকে নিয়ে সন্ধের দিকে একটু আধটু বসতেন যদিও দীর্ঘ অনভ্যাসের জন্য অসুবিধা হত, ঠোক্কর খেতেন। তবু শ্যামলীর ভাষায় মেয়েকে জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা- পাশে আছি।

পাশেই তো ছিলেন কিন্তু যাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন, তারা পাশে থাকল কই? ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যাটাকে শ্যামলী যখন বিনা নোটিশে চলে গেল, তখন তিনি একটা মেডিকেল সেমিনার অ্যাটেণ্ড করতে কলকাতায়। রাত দশটার পর বাড়ি ফিরে দেখলেন নিথর শ্যামলী শোওয়ার ঘরে তার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি পাশে থাকলে আটকাতে পারতেন কি? কে জানে? ইংলিশ অনার্স নিয়ে সেকেন্ড ইয়ারে পড়া পৃথাকে আঁকড়ে ধরে বলেছিলেন, “আমি তো আছি, আছি পাশে।”

কিন্তু পৃথাও তো থাকল না পাশে। বর্ধমান ইউনিভার্সিটিতে এম.এ পড়তে গিয়ে ফিরল না আর। বাপের বাড়ি ছেড়ে এক বছরের সিনিয়ার পাত্রের হাত ধরে সোজা শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিল। সম্পূর্ণ হতভম্ব, বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন ডাক্তার ঘোষ। সেই আকস্মিকতার অভিঘাত কি শ্যামলীর মৃত্যুর চাইতেও বেশি ছিল? খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন পৃথার শ্বশুরবাড়িতে – সব দেখেশুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। শুধু বেকার ছেলেই নয়- অমার্জিত, প্রায় রুচিহীন এক পরিবেশ কী করে পছন্দ করল পৃথা! সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘তুই থাকতে পারবি এখানে? কীভাবে মানুষ হয়েছিস তুই জানিস না?”

সিঁথির ডগডগে সিঁদুর আর নতুন জীবনের তীব্র আকর্ষণে প্রলুব্ধ পৃথা নির্বিকারভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিল বাবাকে। তারপরেও তো কত বার, কত রকমভাবে ডাক পাঠিয়েছেন, ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন মেয়েকে। আসেনি। বরং বছর দেড়েক বাদে তাকেই শেষ বারের মতো যেতে হয়েছিল। শ্যামলীর মত আরও একবার দাঁড়াতে হয়েছিল পৃথার পাশে। সস্তার একটা নার্সিং হোমে অপরিচ্ছন্ন বেডে বড় অবহেলায় ঘুমিয়ে ছিল পৃথা। ইম্যাচিওর বেবির ডেলিভারির সময় মারা যায় পৃথা- বাচ্চাটাও বাঁচেনি। না, কাঁদেননি। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে শুধু বিড়বিড় করেছিলেন, “দেখেছিস তো মা, বাবার কথা শুনলি না। আমার কাছে ফিরে এলে তোকে কি এইভাবে চলে যেতে হত?”

রিটায়ার করেছিলেন আগেই। প্রাইভেট প্র্যাকটিশও এর পর প্রায় ছেড়েই দেন। অভ্যাসটুকু বজায় রাখার জন্যই সকাল বিকাল চেম্বারে বসেন। সকালের দিকে দু-চারটে পেশেন্ট আসে যদিও ডাক্তার ঘোষ ভালো করেই জানেন অন্যান্য ব্যস্ত ই.এন.টি দের দেখাবার সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়েই তার কাছে আসে। তেমন চেনাশোনা হলে ভিজিটও নেন না। বিকেলবেলায় পাড়ার সরখেলবাবু, মিত্রবাবু মঝে মধ্যে চেম্বারে আসেন, দুটো গল্পগাছা হয়। মিত্র বাবুর ভরা সংসার হলেও সরখেলবাবু অবস্থা মোটামুটি তারই মতো। দুই ছেলে বাইরে থাকে। বুড়ো-বুড়ি কোনওমতে বাত- প্রেসার -সুগার-অম্বলের ধাক্কা সামলে টিঁকে আছেন।

রাঁধুনি কাম কাজের মেয়েটা কাজ সেরে রাত আটটায় চলে যায়। ডাক্তার ঘোষও চেম্বার বন্ধ করে টিভিতে কিছুক্ষণ খেলা কিংবা খবর দেখেন। খাওয়া-দাওয়া সেরে এগারোটা নাগাদ  শুতে যাওয়ার সময় দেওয়ালে টাঙানো মা-মেয়ের ফটোর সামনে প্রতিদিনই কিছুক্ষণ দাঁড়ান। শ্যামলীকে কিছু না বললেও পৃথার ফটোর দিকে তাকিয়ে প্রায়ই বলেন, ‘‘একবার বাপের কথা শুনলি না মা? একবার ফিরে এলি না?” টিউবলাইটের আলোটা পড়ে পৃথার মুখের উপর। এক একদিন মনে হয় পৃথার চোখ চিকচিক করছে। জানেন এটা মনের ভুল – তবুও…

নিম্নচাপের মস্তানি চলছে আজ দুদিন ধরে। গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া শেষ বিকেলকে দ্রুত সন্ধ্যার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। মিত্রবাবুরা গতকাল এলেও আজ আর এমুখো হননি। এই বেখাপ্পা ওয়েদারে পেশেন্টও আসবে না ধরে নিয়ে চেম্বার বন্ধ করতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই একটা টোটো এসে দাঁড়াল চেম্বারের সামনে। ছাতা মাথায় দিয়ে মাঝবয়েসি এক ভদ্রলোক কুড়ি-বাইশ বছরের একটি মেয়েকে নিয়ে নামেন। মেয়েটির মুখ থেকে ছাতার ঢাকনা সরতেই – এক মুহূর্তের জন্য হৃদপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে গেল ডাক্তার ঘোষের। আজ প্রায় ষোল সতেরো বছর পরে কে এসে তার দরজায় দাঁড়িয়েছে? ওই একহারা ছিপছিপে গড়ন, পান পাতার মতো মুখ, চিবুকের খাঁজ, এক ঢাল ঘন কোঁকড়ানো চুল নিয়ে এতদিন পর সত্যিই কি সে তবে ফিরে এল?

“ডাক্তারবাবু,” ভদ্রলোকের কথায় সম্বিৎ ফেরে ডাক্তার ঘোষের। নিজেকে সামলে চেয়ারে বসে মেয়েটাকে পাশের টুলে বসতে বলেন। অবশ্যম্ভাবী প্রথম প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করেন, “কী হয়েছে?”

“কী হয়েছে মানে, ও তো ধরুন সাঁতার শেখে – তা সেদিন নাকি কানে কিছুটা জল ঢুকে যায়। তারপর থেকে বলছে অস্বস্তি হচ্ছে। মনে হয় কানে শুনছেও কম …”

বাবাকে থামিয়ে ডাক্তার ঘোষ মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘‘কবে হল ঘটনাটা?”

“পরশু বিকেলে-”

‘‘কানে ব্যথা আছে?”

মেয়েটা ঘাড় নাড়ে, ‘‘অল্প, অল্প-”

‘‘কানে খোঁচাখুঁচি করোনি তো?”

‘‘না- না।”

‘‘কলেজে পড়ো?’’

‘‘হ্যাঁ, থার্ড ইয়ার।’’

মেয়েটার কথা শুনতে শুনতে অবাক হওয়ার মাত্রাটা বাড়ে ডাক্তার ঘোষের। গলার রিনরিনে আওয়াজটাও কী অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে!

প্রেসক্রিপশনের প্যাডটা টেনে পেশেন্টের নাম লিখে জানতে চান, ‘‘বয়স কত?’’

‘‘একুশ – ডাক্তারবাবু” মেয়েটা বলে ওঠে, ‘‘আমার নামটা – অনিশা……”

প্যাডের দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠেন ডাক্তার ঘোষ। নিজের অজান্তেই এই নাম কেন লিখেছেন?

মেয়েটা আবার বলে, ‘‘ঘোষ নয় ডাক্তারবাবু, অনিশা সরকার।”

অস্বস্তি কাটাতে মেয়েটার পড়াশোনা সম্বন্ধে এলোমেলো দু-চারটে কথা বলার পর বলেন, ‘‘ওদিকের চেয়ারটাতে একটু বোসো তো- ভালো করে কানদুটো দেখি- ভেতরে জল, নোংরা আছে কিনা।”

বাইরে বৃষ্টি ঝেঁপে এল। নিম্নচাপের ঝোড়ো হাওয়ায় বৃষ্টির ছাঁট ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে দেখে দরজাটা ভেজিয়ে ডাক্তার ঘোষ হেডলাইটটা পরে যন্ত্রপাতি নিয়ে অনিশার মুখোমুখি বসলেন। অপলক তাকিয়ে থাকেন মেয়েটার দিকে- বাঁ ভুরুর পাশে কাটা দাগটাও ঠিক একই রকম! ডান বাহুতে ছোট জরুলটাও কি আছে? মেয়েটার বোধ হয় অস্বস্তি লাগে- মৃদু গলা খাঁকারি দেয়। চটকা ভেঙে অতি সাবধানে আলো জ্বেলে মেয়েটার কান দুটো পরীক্ষা করতে থাকেন। জল ছিল অল্প, সঙ্গে ময়লাও- তুলো দিয়ে আস্তে আস্তে পরিষ্কার করেন। মেয়েটাকে বলেন,‘‘ভালো করে ওয়াশ করে দিলাম। এখন আরাম লাগছে?”

‘‘কান দুটো হালকা লাগছে।”

“শোনো মেয়ে”, ডাক্তার ঘোষ যন্ত্রপাতিগুলো সরিয়ে রেখে বলেন, ‘‘এবার আমি তোমাকে যে কথাগুলো বলব, তুমি শুনে শুনে সেই কথাগুলোই বলবে আমাকে। কেমন?”

ঘাড় কাত করল অনিশা আর এই প্রথম হাসল। ডাক্তার ঘোষ খুব মন দিয়ে দেখলেন আর যেটুকু দ্বিধা সন্দেহ ছিল, সেটুকুও চলে গেল। মেয়েটাকে বললেন, ‘‘বলো তো, আমি খুব ভালো মেয়ে।”

-‘‘ আমি খুব ভালো মেয়ে।”

– ‘‘বেশ, এবার বলো আমি কলেজে পড়ি। আমি ভালো রেজাল্ট করব।”

অনিশা নির্ভুলভাবেই কথাগুলো পাল্টা উচ্চারণ করে।

-“ফাইন, বলো তো মা – আমি বাপ মায়ের খুব বাধ্য- ওদের সব কথা আমি মেনে চলি।”

অনিশার কপালে ভাঁজ পড়লেও ডাক্তারবাবুর কথাগুলো তোতাপাখির মতো রিপিট করে। অনিশার বাবা প্রবল উৎসাহে বলে ওঠেন, ‘‘এই তো, এই তো ঠিক শুনতে পাচ্ছিস।”

ভদ্রলোককে হাত দিয়ে থামিয়ে ডাক্তার ঘোষ অনিশার কানের আরও কাছে মুখ নিয়ে যান। ফিসফিস করে বলেন, ‘‘বাপ-মায়ের কথা শুনতে হয় – অগ্রাহ্য করতে নেই – বলো, বলো-”

অনিশা এবার স্পষ্টই বিরক্ত। বাবার দিকে আড় চোখে তাকায়। ওর কপালে জেগে ওঠা বিরক্তির ভাঁজগুলোকে আমল না দিয়ে অধৈর্য্য ডাক্তার ঘোষ বলেন,‘‘কী হল? শুনতে পাচ্ছ তো? বলো- বলো- বাপ-মায়ের কথা ছেলেমেয়েকে শুনতে হয়- শুনলে তারা সুখী হয় – বলো-”

ঝড়ের ঝাপটায় ভেজানো দরজা খুলে যায়। হু হু করে ঢুকতে থাকা প্রবল হাওয়ার স্রোতকে পাত্তা না দিয়ে ডাক্তার ঘোষ মেয়েটার কানের অতল গভীরে শব্দস্রোত ভাসিয়ে দিতে থাকেন – “বুড়ো বাপকে ফেলে যাস না মা, ফিরে আয় – ফিরে আয় পৃথা –”।

চিত্রকর: মৃণাল শীল

Comments are closed.