শনিবার, নভেম্বর ২৩
TheWall
TheWall

কুঁড়ি ফুটে ফুল

গৌর বৈরাগী

একমাত্র কুঁড়িটার দিকেই চোখ ছিল টুকির। শুধু চোখ নয়, নিবিষ্ট হয়ে যাকে দেখা বলে তাই। এই যে চল্লিশ ডিগ্রির তাপ নামছে আকাশ থেকে। রাস্তাঘাট নির্জন, যারা যারা ঘরে আছে তারা খুঁজে নিয়েছে ঘরের কোণটুকু। সূর্যের আলো আর তার হলকা থেকে বাঁচতে জানলার পাল্লা ভেজানো, পর্দা টেনে অন্ধকার আনা হয়েছে ঘরে। মধ্যদুপুরের এই গভীর নির্জনতায় একমাত্র সেই বুঝি পা টিপে টিপে তাদের বাগানে এসে বসেছে। তাকিয়ে আছে গন্ধরাজের ওই কুঁড়িটার দিকে। বেশ কিছুদিন ধরে তাকে তাড়িয়ে বেড়ানো প্রশ্নটার উত্তর পেয়ে যাবে এবার। এমন একটা সম্ভাবনার মুহূর্তে তাদের গ্রিলের গেটে শব্দ হয়। কেউ এল।

কে আসবে এই নির্জন দুপুরে! রাস্তায় একটা লোকও নেই, কুকুরগুলোও উধাও। গাড়ির হর্ন বাজছে না, সাইকেলের বেল–এর শব্দ অনেকক্ষণ পাওয়া যায়নি। এখনই তো সেই মুহূর্ত যখন তার দেখা পাবে টুকি।

কিন্তু ওই শব্দ! গ্রিলের লোহার গেট খোলার শব্দ। ওই শব্দ শুধু নির্জনতা নয় তার দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাকেই যেন ভেঙেচুরে দেয়। বিরক্তির চোখে তাকায় সে। আর তখনই দেখতে পায় ইন্দ্রনীলকাকুকে। সঙ্গে সঙ্গে রাগ জল হয়ে যায় তার। ইন্দ্রনীলকাকুকে কাকু বললে কিছুই বলা হয় না। আসলে মানুষটা যেন এক ঝলক হাওয়া, এক টুকরো নীল কিংবা নদীর স্রোত। এমনিতে বোঝা যায় না, কিন্তু নদীর নিকটবর্তী হলেই বোঝা যায় চোরা টান। তাই বিরক্তি সরে গিয়ে লজ্জা এসে দখল নেয় মন। আসলে এত তাড়াতাড়ি তাকে অনুসরণ করতে হবে! দু’দিন যাক না হয়। কিন্তু এদিকে যে তর সইছে না টুকির।

দোষটা তার নয়, বয়সের। এ কথাও অবশ্য তার নয়, ইন্দ্রনীলকাকুর। যা চাই এক্ষুনি চাই, আর সে সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় মিটিয়েছে মানুষটা। অবশ্য শুধু ওই মানুষটাই বা কেন তার খুব কাছের মানুষ আদিত্যনাথ। যাকে টুকি দাদু না ডেকে দুয়া বলে ডাকে। শৈশবের সব কৌতূহল তিনি মিটিয়ে এসেছেন এতদিন। কৌতূহলেরই বা কী রকমফের! যেমন আকাশ দিয়ে মেঘ ভেসে যায় কী করে? গাড়িটা ছুটছে কেন? পাখিরা হাওয়ায় ভাসে কী করে?

এসব শৈশবের কাল। সে কাল পেরিয়ে এসেছে টুকি। এখন সে ক্লাস এইট। থার্টিন। ক্রমশ প্রশ্নের ধরন ধারন বদলে যাচ্ছে। এখন প্রশ্নেরা আর আকাশ থেকে পড়ছে না। সেগুলো ক্রমশ মাটির কাছাকাছি নেমে আসছে। তেমনই এক প্রশ্ন কদিন ধরেই ভাবছিল সে। আর প্রশ্ন মাথায় এলেই তা নিয়ে দুয়া’র কাছে ছুটে যেতে হবে কিংবা ইন্দ্রনীলকাকুর কাছে। তাও সবসময় মনে সায় দেয় না। কেননা এতদিনে কিছু কিছু গুগল সার্চ করতে শিখেছে টুকি। তাই প্রশ্নটা একদিন গুগুলকেই করে বসল সে।

খুব সাদামাটা এক প্রশ্ন। এমনিতে শুনলে বেশ হাস্যকর বলেই মনে হবে। ‘ফুল কী করে ফোটে?’ মা বলল, ”এটা কি একটা প্রশ্ন হল টুকি? সবাই জানে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়। মনে রেখ তুমি ক্লাস এইট, এসব প্রশ্ন তোমাকে মানায় না।’

তার মানে মায়ের কাছ থেকে একটি সতর্কবার্তা এসে পৌঁছয় তার কাছে। যেমনটা হয়, যেমনটা হয়ে এসেছে এতদিন, কিন্তু এতে করে উত্তরটা পাওয়া যায় না। অথচ কৌতূহলও মেটে না। তাই গুগুল, প্রশ্নটা সেখানেই পৌঁছে দিল সে। উত্তরে স্ক্রিনে ফুটে উঠল কয়েকটা প্রায় অজানা ভারী ভারী শব্দ। অ্যানাটমি, বায়োলজিক্যাল ফাংশন, ফিজিওলজি। এই শব্দছক থেকে কোনওভাবেই টুকি সমাধানে পৌঁছতে পারে না। তাই বাধ্য হয়েই দুয়া’র কাছে ছুটতে হয় তাকে।

প্রশ্ন শুনে হো হো করে হাসেন আদিত্যনাথ। বলেন, ”এ প্রশ্নটা বেশ সোজা দিদিভাই। তুমি দিন দিন সহজ থেকে সহজতর হয়ে যাচ্ছ। ফুল কী করে হয়? এই সহজ উত্তরটা সবাই জানে।”

প্রায় গাল ফুলিয়ে টুকি বলে, ”আমি সেই সোজাটাই জানতে চাইছি। ফুল কুঁড়ি ফুটে হয়, এটা জানা। কিন্তু কখন ফোটে সেটা, আমরা কোনওদিন কি দেখেছি! কেন দেখিনি?”

টুকির অভিমানের দিকে তাকিয়ে হা হা করে হাসেন আদিত্যনাথ। ”দেখা যায় না বলব না, দেখা যায় তো বটেই। তবে তার জন্য খানিক তপস্যার দরকার দিদিভাই।”

কথাটা হেঁয়ালির মতো লাগে টুকির কাছে। সে বলে, ”বুঝলুম না দুয়া।”

আদিত্যনাথ বলেন, ”আসলে ফুল একা একা ফোটে, চুপি চুপি ফোটে। যখন চারপাশ চুপচাপ, যখন কেউ দেখছে না, তখনই পাপড়ি একটি দুটি করে ডানা মেলে দেয়।”

টুকি খিল খিল করে হাসে। বলে, ”তার মানে কবিতা?”

আদিত্যনাথও পাল্লা দিয়ে হাসেন, ”কারেক্ট। তুমি একেবারে ঠিক বলেছ দিদিভাই। ফুলের ফুটে ওঠা একটা কবিতাই। আসলে কাজটা তো প্রাকৃতিক!”

”প্রাকৃতিক!” চোখ ছোট করে তাকায় টুকি, ”সেটা আবার কী জিনিস দুয়া?”

এবার ছড়িয়ে হাসেন আদিত্যনাথ। ”কথাটা এক্ষুনি এক্ষুনি বুঝবে না তুমি। প্রকৃতি নিঃশব্দে কিছু কিছু কাজ করিয়ে নেয়, কাজগুলো আগে থেকে দেখা যায় না। ফোটার পর বোঝা যায়। যেমন তোমার কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটা, শিশুর মুখে হাসি ফোটা, আবার ডিম ফুটে পাখির যে ছানা সেটাও এই গোত্রের। কখন যে ফোটে কেউ জানে না, সেই মুহূর্তটুকু আড়ালেই থেকে যায়।”

”তাহলে কি ফুল ফোটার মুহূর্তটা দেখা যাবেই না কোনওদিন?”

”যাবে যাবে, নিশ্চয়ই যাবে। তবে ওই যে বললুম, এর জন্য তপস্যা দরকার, নির্জনতা দরকার।”

কথাটা মনে ছিল টুকির, শুধু মনে থাকা নয়, ভেতরে গুঁড়ি মেরে বসল যেন। কৌতূহল না মেটা পর্যন্ত তার নিস্তার নেই। অপেক্ষা শুধু একটি নির্জনতার। তেমন এক দুপুর হঠাৎ করে যেন চলে এল।

ঠা ঠা দুপুর, চারপাশ রোদের তাপে পূড়ে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে একটাও লোক যাচ্ছে না। শুধু তাদের বাড়ির সামনে যে বাগানখানা যেখানে টগর যুঁই চাঁপা আর গন্ধরাজের ঘন একতাল সবুজের সংসার। ফুল ফুটে সাদা হয়ে আছে গন্ধরাজ, না-ফোটা কুঁড়িও অজস্র। আশেপাশে কেউ নেই। ওদের এই শান্তিলতা কুটির সদররাস্তা থেকে একটু দূরেই। রাস্তার কোলাহল এতদূর এসে পৌঁছয় না। তারপর এই দুপুরে বাড়িটা যেন ঝিমোচ্ছে। একটু হাওয়াও দিচ্ছে না। গাছের পাতারা নিথর। পাখপাখালিও ধারেকাছে কেউ নেই নিশ্চয়ই। না হলে চারপাশ এত চুপচাপ থাকে কী করে!

এদিকে বাগান জুড়ে থইথই গন্ধরাজ। গন্ধে ম’ ম’ করছে চারপাশ। অগুনতি ফুল ফুটেছে। কিছু কিছু কুঁড়ি ফুটব ফুটব। ঠিক সেখানেই মাটির ওপর আসনপিঁড়ি হয়ে বসে টুকি। সে শ্বাস ফেলতেও বুঝি ভুলে যায়। জোরে শ্বাস ফেললে গন্ধরাজ যদি টের পায়, একজন তার সামনে বসে আছে। তার উপস্থিতিতে যদি নির্জনতা ভেঙে যায়। যদি সতর্ক হয়ে যায় কুঁড়িটি। তাই শ্বাস বন্ধ করেই সে বসে থাকে। চোখের পাতা ফেলতেও বুঝি ভুলে যায় টুকি। আর এই সময়েই শব্দটা ভেসে আসে।

খুব যে জোরালো শব্দ তা নয়, কিন্তু ম্যাজেনাইন ফ্লোরের জানলা খোলার মৃদু শব্দও আছড়ে পড়ে যেন।

এমনটা হবার কথা নয়। প্রতিদিনই দুপুরে এ বাড়ি ভাতঘুমে চলে যায়। তখন বাড়ির সমস্ত মোবাইল হয় সুইচড অফ নয় সায়লেন্ট মোডে। শুধু দোতলার লবি থেকে এসময় খুটখাট শব্দ ভেসে আসে। শব্দটা জানান দেয় একমাত্র পিসিমণি জেগে আছে। সামনে কলেজের ফাইনাল ইয়ার। আঙুল মাঝে মাঝে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মোবাইলে।

আজ অন্যরকম শব্দে কুঁড়ির দিক থেকে মনটা সরে এল টুকির। মনের সঙ্গে চোখও সরে এল। সে চোখ শব্দ অনুসরণ করে পৌঁছে গেল ম্যাজানাইন ফ্লোরের এইমাত্র খোলা জানলায়। দেখা গেল ইন্দ্রনীলকাকুকে।

এ বাড়িতে ওই মানুষটির অবারিত দ্বার। আজ বলে নয়, সেই কোন ছোটবেলা থেকে দেখে আসছে টুকি। এ বাড়ির কেউ নয় অথচ এ বাড়ির অনেকখানি। তাই যখন তখন, যেমন খুশি মানুষটার আসা, থাকা আর খাওয়া দাওয়া। তাই ইন্দ্রনীলকাকু, শুধু পিসিমণি বাদ দিয়ে, সকলের পছন্দ। শুধু পিসিমণিরই যেন কিছু রাগ। তাই মনে মনে পিসিমণির ওপরেই ক্ষুণ্ণ হয় টুকি। মাঝে মাঝে ইন্দ্রনীলকাকুর হয়ে ঝগড়াও করে। অবশ্য আজকের কথা আলাদা। আজ সে ব্যস্ত অন্য কাজে। তার উপস্থিতি মোটেই সে জানান দিতে চায় না। শুধু দেখতে পায় ম্যাজেনাইন ফ্লোরের খোলা জানলার ধারে ইন্দ্রনীলকাকুর পাশটিতে কখন এসে দাঁড়িয়েছে পিসিমণি। এসব হাবিজাবি দৃশ্য থেকে চোখ সরিয়ে কুঁড়িতে এনে বসাবার আগে হঠাৎ যেন অন্যকিছু দেখে টুকি।

ইন্দ্রনীলকাকু মণিপিসির দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এ তাকানো অন্যরকম। পিসিমণিও দেখছে, কিন্তু এ দেখাও কোনওদিন দেখেনি সে। তাকিয়ে আছে, এদিকে চোখের পাতা পড়ছে না। যেন একজন আর একজনকে কোনওদিন দেখেনি। দুজনেই এখন দুজনের অচেনা।

দুর ছাই, ওদের দিকে তাকাতে গিয়ে এদিকে আসল কাজটাই বুঝি মাটি হয়ে যায়। হয়তো এখনই কুঁড়িটা ফুল হয়ে ফুটল। তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে আনল টুকি। একটু হাওয়া দিল যেন, তাতেই ঢেউ উঠল গন্ধরাজের ডালে। ঢেউ পল্লবিত হল কুঁড়িতে। কুঁড়ি যেমন ছিল তেমন, কোনও হেলদোল নেই, ফুটে ওঠার কোনও তাড়াহুড়ো নেই যেন।

এদিকে চারপাশ খুব চুপচাপ। একটাও পাখি ডাকছে না। গুনগুনিয়ে কোনও মৌমাছিও এসে বসছে না ফুলের ওপর। আকাশ দিয়ে কোনও মেঘ ভেসে যাচ্ছে না। শুধু আগুন নেমে আসছে, নামছে তাপ। এই তাপের জন্যই কেউ বাইরে নেই। সকলেই দরজা জানলা বন্ধ করে ঘরের ভেতর। সকলের মোবাইল আজ সুইচড্ অফ।

এর মধ্যেই এক অন্যরকম কণ্ঠস্বর ভেসে এল। একটা অপরিচিত শব্দ। এমনটা সে কোনওদিন শোনেনি। দূর থেকে ভেসে আসা একটা চাপা গোঙানি। উৎস খুঁজতে তাকাল ম্যাজেনাইন ফ্লোরের খোলা জানলার দিকে। সেদিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠল টুকি।

আশ্চর্য ইন্দ্রনীলকাকু এমন করছে কেন! দু’হাত দিয়ে পিসিমণিকে জাপটে ধরে চাপা গলায় বলে চলেছে ”অগ্নি অগ্নি অগ্নি…। এটাই সেই গোঙানি, শব্দটা আসলে অগ্নিকা, পিসিমণির নাম। ইন্দ্রনীলকাকুর গলায় এখন সেটা শুধু অগ্নি, অগ্নি, অগ্নি…

ওদিকে ছটফট করছে পিসিমণি। চাপা গলায় বলছে ”ছাড়ো, ছেড়ে দাও প্লিজ…।” হয়তো আরও কিছু বলার ছিল। কিন্তু টুকি দেখল কথা থামিয়ে দিয়েছে ইন্দ্রনীলকাকু। পিসিমণির ঠোঁটদুটো মুখের ভেতর নিয়ে যেন খেলায় পেয়েছে মানুষটাকে। কিংবা খেলা নয়, আবার শুধু ঠোঁটই নয় আস্ত পিসিমণিকেই বুঝি খেয়ে নেবে।

টুকির মনে হল এক্ষুণি তার ছুটে যাওয়া দরকার। পিসিমণিকে ওই লোকটার হাত থেকে বাঁচতে হবে। পিসিমণি ছটফট করছে। মুখ দিয়ে যে শব্দটা উঠে আসছে তেমনটা কোনওদিন শোনেনি সে। এতসব ভেবেই সে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু ছুটে যাবার আগে দ্বিতীয়বার তাকিয়েই থমকে গেল সে। দৃশ্যটা আমূল বদলে যাচ্ছে।

এবার ইন্দ্রনীলকাকুর জায়গায় পিসিমণি। জমা রাগটুকু যেন ফিরিয়ে দিচ্ছে তার পিসিমণি। ইন্দ্রনীলকাকুর মুখ টেনে নামিয়ে আনল নিজের মুখের ওপর। দেখল পিসিমণির মুক্তোর মতো দাঁতগুলো বসে যাচ্ছে মানুষটার ঠোঁটে, গালে, গলায়।

মনে হচ্ছে দুজন দুজনের অচেনা। মনে হচ্ছে দুজনেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে দুজনের ওপর। যেন একটা লড়াই। লড়াই হলে এ এক অসম লড়াই। ইন্দ্রনীলকাকুর পেশীবহুল হাতে জমে থাকা শক্তি যেন টুকরো করে দেবে পিসিমণির শরীর।

কিন্তু আশ্চর্য, এ কী দেখছে টুকি! পিসিমণির বদলে ইন্দ্রনীলকাকুই বুঝি টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ছে। দেবীর সামনে মানুষ যেমন নতজানু হয়ে পেতে রাখে চাওয়ার ইচ্ছেটুকু।

দেখতে দেখতে আচমকা কী যে হল টুকির। কাঁপন লাগল তার শরীরে। টের পেল এক অন্যরকম স্রোত বয়ে যাচ্ছে তার শরীর বেয়ে। শিরা উপশিরা বেয়ে যেন এক উদ্দাম রক্তস্রোত। এই অনুভূতি তার অচেনা। এতে ভয় আছে, আশঙ্কা আছে। আবার ভয় নেই আশঙ্কাও নেই। তার গলা শুকিয়ে আসছে, চোখ বেয়ে জল নেমে আসছে। সদ্য তেরোয় পা দেওয়া এই ছোট্ট জীবনে প্রথম এক অচেনা আনন্দে ভরে যাচ্ছে তার শরীর।

এখন তার চারপাশ জুড়ে জঙ্গুলে সবুজ। রোদের তাপে সবুজের গা থেকে ভাপ উঠে আসছে। এই নির্জনতার ভেতর, এই শব্দহীনতার ভেতর সে অবাক হয়ে দেখল গন্ধরাজের কুঁড়ি থেকে একটি পাপড়ি কখন যেন ডালপালা মেলে দিয়েছে। এবং কাজটা হয়েছে তার চোখের আড়ালেই। হয়তো মনেরও আড়ালে।

চিত্রকর: মৃণাল শীল

Comments are closed.