চেরাপুঞ্জির মেসোমশাই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তৃষ্ণা বসাক

    ‘জানো, ওখানে না আমার একজন মেসোমশাই থাকেন’

    সরাইঘাটে এক্সপ্রেসে ওঠার সময় বলেছিল পল্লব। স্বাতী গুরুত্ব দেয়নি আদৌ। কেননা ১৫ বছরের বিবাহিত জীবনে যেখানেই বেড়াতে গেছে, সেখানেই পল্লবের কোনও না কোনও আত্মীয় বেরিয়েছে। কখনও কখনও তাদের বাড়িও উঠতে হয়েছে তাদের। স্বাতীর ব্যাপারটা তেমন পছন্দ না হলেও হয়েছে। ধরা যাক মাইসোরে বড়পিসি থাকেন, তাই সেবার সাউথ ইন্ডিয়া ঘুরতে গিয়ে মাইসোরের জন্য বরাদ্দ তিনদিনই গেল পিসির বাড়ি। কারণ মাইসোরে তো রোজ রোজ আসা হয় না, আর সেখানে এসে পিসির বাড়ি না থাকলে তিনি দুঃখ পাবেন। যার ফলে কোনওরকমে মাইসোর প্যালেস ছাড়া আর কিছুই দেখা হল না ওদের। সারাদিন পিসির সঙ্গে লুচি বেলে আর চাইনিজ ফ্রায়েড রাইসের যোগাড়যন্ত্রেই কেটে গেল। কারণ পিসি তো ওদের ভালমন্দ খাওয়াতে না পারলে দুঃখ পাবেন।  এইভাবে সারা ভারতবর্ষের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়দের দুঃখ না দিতে দিতে বিয়ের প্রথম পাঁচটা বছর কেটে গেছে। সোনায় বাঁধানো পাঁচটা বছর। আর ফিরবে না যে সময়টা। সব ভুলতে পারলেও স্বাতী কীভাবেই বা ভুলবে, হানিমুনে তারা গেছিল সবসুদ্ধ ন’জন। শ্বশুর শাশুড়ি ননদ মিলে তারা পাঁচজন, আর মাসি–মেসোরা চারজন! ওঁরা সঙ্গে যেতে চাইছেন, না করলে দুঃখ পাবেন যে।

    প্রত্যেক ক্রিয়ার যে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে, সেটা জানার জন্যে নিউটনের তৃতীয় সূত্র পড়ার দরকার নেই। বিয়ের পাঁচ বছর পর থেকেই আর্টসের স্নাতক স্বাতী এর প্রয়োগ করে চলেছে। কোথাও যাবার পরিকল্পনা হলে আগে ও ভাল করে বুঝে নেয় সে অঞ্চলটি বিপন্মুক্ত কিনা, অর্থাৎ পল্লবের কোনও আত্মীয়স্বজন তার ত্রিসীমানার মধ্যে আছে কিনা। এ কাজটা করতে তাকে রুট ম্যাপ এবং অধুনা গুগলের সাহায্য নিতে হয়। আর শুধু কি আত্মীয়? পল্লব একবার হরিদ্বারে তার মার এক সন্ন্যাসিনী হয়ে যাওয়া বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দুন এক্সপ্রেস মিস করেছিল।

    এরকম প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে গিয়ে  স্বাতীকে নিজের  রণকৌশল যথেষ্ট ভেবেচিন্তে সাজাতে হয়েছে। অবশ্য আজকাল তারা প্যাকেজ ট্যুরে যায়, সেখানে ওদের প্রোগ্রামের বাইরে ঘাড় ঘোরানোরও সুযোগ থাকে না। তাছাড়া পৃথিবী প্রবীণা হয়েছেন, পল্লবের আত্মীয়স্বজনও বোধ করি কমে এসেছেন, হয়তো তাঁদের অনেকেই আর বেঁচে নেই, পরের প্রজন্মের কারও এত সময় নেই, পল্লবের মতো অত্যুৎসাহী তো নেই–ই, পল্লবও আজকাল কোথাও যাওয়ার সময় বলে না, ওদিক দিয়ে ফেরার পথে অমুক দাদার বাড়ি পড়বে, টুক করে একবার প্রণাম করে যাব, আর কি এসব জায়গায় কখনও আসা হবে?

    সেই পল্লব কিনা সরাইঘাটে উঠে বলল ‘জানো এখানে না আমার এক মেসো থাকেন’ লাগেজগুলো সিটের তলায় গুছিয়ে রাখছিল স্বাতী, একটু অবাক হল, কারণ বহু বছর পরে এরকমটা বলল পল্লব, সত্যি বলতে কী, স্বাতী ব্যাপারটা একটু মিস করতেও শুরু করেছিল, ওর মাঝে মাঝে মনে হত, গুলমার্গে বরফের মধ্যে রাঙামাসি বা ফুলকাকার সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে মন্দ হত না। কিন্তু ওই পর্যন্তই। সত্যি সত্যি এমন হয়ে গেলে স্বাতীর নিশ্চয় আর ভাল লাগত না, তার মনে হয় পল্লবও আগের মতো উচ্ছল হয়ে উঠতে পারত না। যতই হোক গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে তো  ইতিমধ্যে অনেক জল বয়ে গেছে। সেই ব্রহ্মপুত্রের পথে যেতে যেতে শুরুতেই পল্লবের এমন ঘোষণা স্বাতীকে একটু অবাক করল বটে, কিন্তু ও বিশেষ পাত্তা দিল না, পল্লবও কেমন থিতিয়ে গেল। স্বাতী বুঝে গেল এ নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই, কারণ পল্লবই তার পুরনো আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে।

    এর পরের কয়েক দিন হইহই করে কেটে গেল। এবার ওরা কোনও প্যাকেজের সঙ্গে আসেনি, নিজেরাই এসেছে। পল্লবের কেমন একটা ধারণা এইদিকটা ও নিজেই ম্যানেজ করতে পারবে, এখানকার মানুষজন, এখানকার প্রকৃতির মতই শান্ত, সরল। অসুবিধে হয়ওনি। হোটেলই একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, সেটা নিয়ে কাজিরাঙ্গা ঘুরে এল, দুদিনের জন্য। এলিফ্যান্ট রাইডিংটা দারুণ জমেছিল। ওদের হাতিটার নাম ছিল লক্ষ্মীরানি, তার লেজে শুঁড় জড়িয়ে পেছন পেছন আসছিল একটা বাচ্চা হাতি, মাহুত জানাল ও  লক্ষ্মীরানির মেয়ে , ওর নাম ঠুনু।

    ঠুনু সারাক্ষণ মার পেছন পেছন চলল। ওকে দেখে অনি খুব মজা পাচ্ছিল, টুংকা এখন মোবাইলের টাওয়ার ছাড়া আর কোনও ব্যাপারেই উৎসাহী নয়, ঠুনুকে দেখে সেই টুংকার মুখেও ফুটে উঠল কৌতুক। পুজোর পর চমৎকার আবহাওয়া। স্বাতীর খুব ভাল লাগছিল, রোজকার সংসার, অফিস, আত্মীয় পরিজনের বৃত্তের বাইরে এই নিজস্ব পরিসর। আনন্দের মাঝে একটু বেদনাও রিনরিন করছিল তার মনে। এই পরিসরটা কেন সে পনেরো বছর আগে পেতে পারল না?  হনিমুনে ন’জন, ভাবা যায়?

    লম্বা লম্বা ঘাসবনের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে একসময় ওরা কাজিরাঙ্গার বিখ্যাত একশৃঙ্গ গণ্ডারও দেখে ফেলল। স্বাতী পল্লবকে কনুই দিয়ে ঠেলে বলল, ‘কিগো, বলছিলে না, এখানে তোমার কে এক মেসোমশাই থাকেন। ইনিই কি তিনি?’

    পল্লব অবিকল গণ্ডারের মতো ভাবলেশহীন হয়ে বসে রইল, কোনও উত্তর দিল না।

    পুলিশবাজার লেকে ঘুরতে ঘুরতে স্বাতীর মনে হচ্ছিল ও রূপকথার দেশে পৌঁছে গেছে। লেকের মাঝখানে কাঠের তৈরি একটা ছোট্ট হাঁসের বাড়ি। রোদ যেন আদুরে কিশোরীর মতো  আকাশের রেলিং-এ থুতনি ঠেকিয়ে নীচের দিকে চেয়ে দেখছে। কিংবা অলস দুপুর যাপন করা গৃহবধূ, কোল থেকে উলের গোলাটা কখন পড়ে গেছে খেয়াল নেই। স্বাতী দেখল সমস্ত শিলং জুড়ে বহুবর্ণের উলের মতো রোদ, কী নরম ওম সে রোদের! ও বুকের কাছে কী যেন একটা টের পেল। এখান থেকে চলে যেতে হবে? এই রোদ ছেড়ে? এখানে একটা কারও বাড়ি থাকলে মন্দ হত না। মাঝে মাঝে আসা যেত। সে সোহাগি গলায় জিগেস করল, ‘এখানে কেউ নেই তোমার? মেসো, পিসি, দিদা?’

    পল্লব রাগল না। কেমন উদাস মুখে তাকিয়ে থাকল হাঁসের বাড়িটার দিকে। আস্তে করে বলল ‘হাঁসেদেরও কেমন সুন্দর বাড়ি, তাই না?’

    স্বাতী বলল  ‘কাল কোথায় যেন যাচ্ছি?’

    ‘মৌসিনরাম চেরাপুঞ্জি।’

    ‘যেখানে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়?’

    পল্লব কোনও উত্তর দিল না।

    খাড়া রাস্তা। স্বাতীর মাথা ঘুরছিল। ও পাহাড়ে ওঠার সময় সঙ্গে একটু শুকনো মুড়ি আর বাতাসা রাখে, বমির ওষুধের চেয়ে অনেক ভাল কাজ দেয়। ওর বমি হয় না, কিন্তু মাথা ঘুরতে থাকে, ফলে কোনও কিছুই উপভোগ করতে পারে না। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। স্বাতীর কথায় ড্রাইভার বার কয়েক গাড়িও থামিয়েছে। খানিকটা বিরক্ত হয়েই। সেটা স্বাভাবিক। কারণ পাহাড়ি রাস্তায় কেউ অকারণ দেরি করতে চায় না। তবে যেখানটায় সুরমা নদী আর বাংলাদেশের সীমান্ত দেখা যায়, সেখানে স্বাতী ইচ্ছে করেই একটু বেশিক্ষণ দাঁড়াল। অসাধারণ একটা ঝরনা এখানে- নসিংথাং। ঝরনাটা দেখলে ভয় করে, আবার ভালোও লাগে।  তার অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল। ওপারটা বাংলাদেশ! মার মুখে সে শুনেছে মায়েদের আদি বাড়ি বাংলাদেশে। ময়মনসিংহে। এখনও নাকি ওখানে দাদুর খুড়তুতো ভাইদের ছেলেমেয়েরা থাকেন। তার মানে বাংলাদেশে গেলে সেও বলতে পারবে এখানে তার আত্মীয় আছে!

    মসমাই গুহার সামনে গাড়ি থামতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্বাতী নেমে এল।

    পল্লব বলল ‘সে  কী? তুমি পারবে এই গুহায় ঢুকতে? আচ্ছা আচ্ছা লোক পারে না।’

    টুংকা ফোনে মুখ গোঁজা অবস্থাতেই বলল ‘ঢুকতে হয়তো পারবে, কিন্তু বেরোতে পারবে না।’

    ‘অভিমন্যু! হাঃ হাঃ হাঃ।’

    পল্লব হাসল বটে কিন্তু ওর মুখে চোখে টেনশন ফুটে উঠল। ও বলল

    ‘তোমার গিয়ে কাজ নেই। গাড়িতে বসে থাকো। এ খুব খতরনাক গুহা, এক একটা জায়গা এত সরু যে অনির মতো পাটকাঠিও গলতে পারবে না। সেখানে তুমি…’

    ওর গোলুমোলু চেহারার দিকে এই কটাক্ষেও স্বাতী টলল না, সেও সবার সঙ্গে গুহায় ঢুকল। আর একটু পরেই সে বুঝল কাজটা মোটেই ভাল করেনি। গুহাটার এক এক জায়গায় ছাদ এত নীচু যে প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হচ্ছে, একটা স্টেপ মিস করলেই ধপাস। পল্লব, ছেলে মেয়ে ধরতে এলে তবু স্বাতী ওদের না করে দিল। সে একাই যাবে। সবাই বেরিয়ে যাবার অনেক পরে শরীরটাকে টেনে ছেঁচড়ে সে যখন বেরোল, তখন দুপুর প্রায় শেষ হয়ে আসছে। পল্লব উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে ছিল, সে বলল ‘বারণ করেছিলাম, শুনলে না। যাক মেসোমশাইয়ের বাড়ি গিয়ে রেস্ট নিও।’

    স্বাতী দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছিল। পল্লবের কথায় চমকে বলল ‘মেসোমশাই? কোথায়?’

    ‘এই তো চেরাপুঞ্জিতে।’

    স্বাতীর মনটা কোথায় যে চলে গেল। ছোটবেলার ভুগোল বই ছাড়া যে চেরাপুঞ্জির কোনও অস্তিত্ব ওর জীবনে ছিল না কখনও, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সেখানে, এইটুকু ছাড়া আর কিছু সে জানে না যে জায়গা সম্বন্ধে, সেখানে আস্ত একজন মেসোমশাই! তিনি নাকি আবার এখানকার সেকেন্ডারি স্কুলে অঙ্ক করান! এর থেকে অদ্ভুত কথা আর কী–ই বা হতে পারে! চেরাপুঞ্জি তার কাছে এতদিন একটা অলীক দেশ ছিল, সেখানে  স্কুল, সেখানে অঙ্ক, সেখানে মেসোমশাই!

    লাল টালি ছাওয়া স্কুলগুলো দেখে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিল স্বাতী। অনি বলল ‘মা আমাকে এখানে ভর্তি করে দাও’। বিকেলের পড়ে আসা আলোয় স্কুলগুলোকে রূপকথা থেকে উঠে আসা মনে হচ্ছিল। এর মধ্যে কোনটায় পড়ান পল্লবের মেসোমশাই?

    ফোন নাম্বার বা ঠিকানা কিছুই জানা নেই, শুধু নাম সম্বল। তবু মেসোমশাইকে খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগল না। কারণ চেরাপুঞ্জি যে শুধু একটা ছোট্ট জায়গা তাই নয়, সেখানে বাঙালি অঙ্কের মাস্টারও আর নেই। একজন অপরূপা খাসি রমণী, ওদের একটা বাড়ির দোতলায় নিয়ে গেল পথ দেখিয়ে, তার বাড়িতেই ভাড়া থাকেন মেসোমশাই। দোতলায় একটাই ঘর, বাকিটা ছাদ, সেই ছাদে চেয়ার টেবিল পেতে কয়েকজন খাসি ছেলেমেয়েকে অঙ্ক করাচ্ছিলেন মেসোমশাই। পল্লব হঠাৎ গিয়ে ঢিপ করে প্রণাম করতেই তিনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। ওদের নিয়ে কী করবেন, কোথায় বসাবেন বুঝতে পারলেন না। ছেলেমেয়েগুলো ভাবগতিক দেখে সরে পড়ল। তাদের ফেলে যাওয়া অঙ্ক খাতার পাতাগুলো ফরফর করে উড়ছিল, সামনের পাহাড়ের মাথায় গোধূলির মায়া। মেসো পল্লবের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠলেন।

    অমুক কোথায়? তমুকের ছেলে কী করছে? ইতুমাসির হাঁটু কেমন আছে? পল্লবকে দেখে তাঁর পুরনো স্মৃতি সব জেগে উঠেছে। এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায় এইসব কালচারলেস মানুষজনের সঙ্গে কীভাবে যে রয়েছেন, বারবার বলছিলেন সে কথা। এইসব কথার সময় খাসি মহিলাটি ওখানেই দাঁড়িয়ে ছিল, স্বাতী ভাবছিল ও কি কিছু বুঝছে?

    ড্রাইভার বারবার হর্ন দিচ্ছে নীচ থেকে। পাহাড়ি রাস্তায় সন্ধে নামলে ফিরতে অসুবিধে হবে। মেসোমশাই ব্যস্ত হয়ে বললেন ‘তোমাদের তো কিছুই খাওয়ানো হল না।’

    পল্লব নামতে নামতে বলল ‘তাতে কী?’ কিন্তু সে যে যথেষ্ট মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছে তা বোঝা গেল গাড়িতে উঠে। সে বলল ‘মার মুখে শুনতাম বটে খুব চিপ্পুস। নীচেই দেখো  চকোলেট চিপসের দোকান, অনি আর টুংকাকে কিনে দিতে পারত না ইচ্ছে করলে?’

    স্বাতী কথাগুলো কানেই নিল না। সে পেছন ফিরে দেখল ছাদ থেকে মেসোমশাই কেমন বিষণ্ণ মুখে তাদের হাত নাড়ছেন। যে দেশে এত বৃষ্টি হয়, সেখানে মানুষের মন এত শুকিয়ে যায় কী করে, এসব প্রশ্নও তার মনে এল না। সে শুধু দেখছিল একজন নিঃসঙ্গ মানুষ পাহাড়ের তলায় বসে অঙ্ক কষে যাচ্ছেন আর যত অজানা রাশি- এক্স ওয়াই জেড গুলো উড়ে যাচ্ছে বৃষ্টিকণা হয়ে!

    চিত্রকর : মৃণাল শীল 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More