ভারত ভালবাসা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    ঋষি গৌতম

    মাধবকাকাকে আমরা কমবেশি এড়িয়ে চলি। তিনি হঠাৎ হঠাৎ অদ্ভুত সব প্রশ্ন করে বসেন। যেমন জম্বুদীপ কেন নাম হল? ভারতবর্ষ নামটা কোথা থেকে এল? ব্রহ্মদেশ ভারত থেকে কত সালে বিচ্ছিন্ন হয়? এই সব। সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের যে অজানা তা নয়, কিন্তু মাধবকাকার কাছে আমরা ফুল মার্কস পাই না। তার মানে আমাদের জবাবে কিছু কিছু গলদ থেকে যায়।
    মাধবকাকার এ অভ্যাসটা অনেক পুরনো। মনে আছে, স্কুল যাবার সময় মাধবকাকা আমাদের পথ আগলে দাঁড়াতেন। প্রাইভেট পড়তে যাবার সময়ও আমাদের পাকড়াও করতেন। ‘‘বল দিগি ভারতের চতুঃসীমা কী?’’
    খুব সোজা প্রশ্ন হলে চটপট বলে দিতাম। কিন্তু মাধবকাকা সন্তুষ্ট হতেন না। ওই প্রশ্ন থেকে আরও প্রশ্ন বার করতেন।
    একদিন মাধবকাকা আমাদের পাকড়াও করলেন কিন্তু প্রশ্ন করলেন না। বললেন, ‘‘জানিস সতু, ভারতবর্ষটা কিন্তু এটুকু ছিল না, আরও বড় ছিল, আরও বড়।’’ কথাটা বলে আমাদের মুখের দিকে তাকালেন। আমাদের মনের প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে থাকলেন। তার পর বললেন, ‘‘যা তোরা, ভাল করে পড়াশোনা কর বাবা।’’
    আমার কেমন অবাক লাগল। যে মানুষটা দেখা হলেই প্রশ্ন করেন, তিনি কিনা বিনা প্রশ্নতেই ছেড়ে দিলেন।

    ক’দিন আগের ঘটনা। মাধবকাকার চোখমুখ উদ্দীপ্ত। যেন কোনও কিছু সদ্য সদ্য জিতে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বললেন, ‘‘সতু, এটা একটা গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট, কী বলিস?’’
    মাধবকাকা এখন আর প্রশ্ন করেন না। নিজের প্রশ্নে নিজেই অবাক হন। আমি তাকিয়ে থাকলাম খানিকটা। কী জবাব দেব ভাবছি। তার আগে জানা থাকলে ভাল হত প্রসঙ্গটা কী নিয়ে। আমি আকাশ-পাতাল ভাবলাম। নিশ্চয়ই কোনও খবরের হেডিং হবে। কিন্তু সেরকম কোনও খবর আমি পাইনি। শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললাম, ‘‘কোন ব্যাপারটা আমি ঠিক…।’’
    মাধবকাকা প্রায় ধমকালেন, ‘‘আজকাল ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোনও ইমোশন দেখতে পাই না। আরে বাবা, ভারত মঙ্গলের কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে– এক চান্সেই বাজিমাত। ভাবতে পারিস চিন, জাপান, আমেরিকা, সোভিয়েত কেউ পারেনি এরকম এক চান্সে– সবচেয়ে বড়কথা, এর যন্ত্রপাতি, মালমশলা, প্রযুক্তি সব কিছু একেবারেই ভারতের। পৃথিবীর সব দেশ এখন ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করছে।’’
    এই কথা! তার জন্য এত ভাবনা কীসের।
    মাধবকাকা কত কীই না বলে যাচ্ছেন। আমি তাকিয়ে আছি তাঁর দিকে। আমার খালি মনে হয় মাধবকাকাকে চিত্তরঞ্জন দাশের মতো দেখতে। পেতে চুল আঁচড়ানো, গোল মুখে গোল ফ্রেমের চশমা।
    ‘‘বুঝলি সতু, তুই এখন ভারতকে ওয়ান অব দ্য বেস্ট পাওয়ারফুল কান্ট্রিজ। ভাবতে পারিস? মাঝখানে আমরা শুধু ঘুমিয়ে ছিলাম। কেন বলছি বোঝ…।’’
    আমি তাকালাম।
    ‘‘হাজার বছর আগে এই ভারতই পৃথিবীকে পথ দেখিয়েছে। মার্কো পোলোর ভারতবৃত্তান্ত শুনেই তো ইউরোপীয় নাবিকদের মাথা ঘুরে গেল। সবাই ছুটে এল ভারতে। কেন না ভারত তখন সমৃদ্ধ দেশ। ভেবে দেখ সতু– অযোধ্যা বা ইন্দ্রপ্রস্থের মতো যখন স্থাপত্য তৈরি হচ্ছে এদেশে তখন ইউরোপ কত পিছিয়ে…।’’
    একটু থেমে মাধবকাকা বললেন, ‘‘তবে কী জানিস, এসব কথা কেউ শোনে না।’’
    ‘‘কিন্তু আমি তো শুনি মাধবকাকা।’’
    মাধবকাকা আর কিছু বললেন না। দেখলাম তাঁর সেই উচ্ছ্বসিত ভাবটা ধীরে ধীরে নিভে এল। তিনি কী এক কষ্ট অনুভব করছেন। এরকমটা আগেও কয়েকবার দেখেছি। আমার ফট করে মনে পড়ল তিনি বলতেন, ‘‘আমাদের ভারতবর্ষটা এইটুকু ছিল না রে, আরও বড় ছিল, আরও বড়। তাই যদি হত তা হলে তার চতুঃসীমাটা বদলে যেত। ধর, উত্তর সীমা হত আফগানিস্তান, পূর্ব সীমা হত ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড।’’

    দুই

    মাধবকাকার সঙ্গে আমার প্ল্যাটফর্মে দেখা হল। আমি সামনের বগিতে উঠব বলে এগোচ্ছি, দেখি মাধবকাকা মন দিয়ে কী দেখছেন। আমি একরকম এড়িয়েই যাচ্ছিলাম। কিন্তু মাধবকাকা ঠিক লক্ষ্য করেছেন। ডাকলেন, ‘‘সতু।’’
    আমি দাঁড়ালাম।
    ‘‘কী রে, তাড়া আছে?’’
    ‘‘না, মানে সামনের দিকে এগোচ্ছিলাম। কিন্তু তুমি এখানে!’’
    মাধবকাকা বললেন, ‘‘কপিলদেবের ছবিটা দেখছিলাম। ওটা দেখতেই মাঝে মাঝে এখানে আসি।’’
    আমি তাকালাম। একটা হোর্ডিংয়ে কপিলদেবের বিশাল ছবি। রোজই অফিস যাই, ট্রেন ধরি, অতশত খেয়াল করি না।
    মাধবকাকা বললেন, ‘‘তিরাশির বিশ্বকাপ তোরা দেখিসনি। আমি দেখেছি। তাই মানুষটাকে ভুলতে পারি না। কী অসাধারণ খেলা! কপিল না থাকলে ভারতের বিশ্বকাপ জেতাই হত না। সত্যিকারের ভারতরত্ন বুঝলি?’’
    এসব কথা দাঁড়িয়ে শোনার সময় আমার নেই। আমাকে সামনের দিকে এগোতে হবে। ট্রেন থেকে নেমেই বাসের জন্য ছোটা। প্রাইভেট জব। লেট হলে মার্সি নেই। ট্রেন ঢুকছে দেখে আমি এগিয়ে গেলাম। একবার পিছন ফিরলাম। দেখি মাধবকাকা তন্ময় হয়ে ছবিটা দেখছেন।
    একদিন মাধবকাকাকে আমি প্রশ্ন করলাম, ‘‘আচ্ছা তুমি ফুটবল পছন্দ করো না কেন?’’ বললেন, ‘‘ফুটবল তো এখানে লোকাল গেম। এমন অনেক দেশ আছে তারা জানেই না ভারতে ফুটবল খেলা হয়।’’
    ‘‘তবু ফুটবল একটা আলাদা গেম। দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সব কিছু। ক্রিকেট তো সারাদিন ধরে ঠুকুস ঠুকুস…।’
    মাধবকাকা চিত্তরঞ্জন দাশের মতো হাসলেন।
    ‘‘ওরে সতু, আমি খেলার প্রকৃতি বিচার করি না। আমি দেখি কোনটায় ভারত প্রতিনিধিত্ব করেছে। তুই বল, ভারত কখনও বিশ্ব ফুটবলে অংশ নিয়েছে? এই যে বিশ্ব ফুটবলে জার্মানি জিতল, আহা পৃথিবীর সব দেশ জার্মানি জার্মানি করল, সে দেশটার কত সম্মান বাড়ল। আর যে দেশটা হারল, মেসিকে আমরা কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে দেখলাম। ওটা মেসির কান্না নয়, সারা আর্জেন্টিনার কান্না। বল দিগি এই আবেগ কি ফুটবল আমাদের দিয়েছে কখনও? আমিও ফুটবল দিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু ভক্ত হয়ে গেলাম ক্রিকেটের। আমার হিরো কপিল দেব।’’
    কপিলদেবের খেলা আমি দেখিনি। তখন আমি নিতান্তই শিশু। তবে শুনেছি সেবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কপিলদেবের একশো ছিয়াত্তর ছিল দুর্দান্ত একটা ইনিংস। তিনি একাই জিতিয়ে দিলেন ভারতকে। এরপর ফাইনালে ভারত যেভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গাছমুড়ো করে হারাল! মাধবকাকা সেদিন সারারাত বাড়ি যাননি। ভারতের কথা ভাবতে ভাবতে রাস্তাতেই কেটে গেছে বাকি রাতটা। তাই মাধবকাকার হিরো হলেন কপিলদেব। অমিতাভ, উত্তমকুমারকে ছাপিয়ে মাধবকাকার মানসাকাশে কপিলদেব উজ্জ্বল হয়ে ফুটে থাকেন।

    তিন

    মাধবকাকা আমার নিজের কাকা নন। আমার ছোটকাকার বন্ধু। তাই আমরা ছোট থেকেই তাঁকে মাধবকাকা বলে ডাকি। আমার ছোটকাকা রাইফেল ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। আর দু-তিন বছর পর রিটায়ার করবেন। মাধবকাকা করেন জুটমিলে। তিন শিফটে পাল্টে পাল্টে ডিউটি। ছোটকাকার বন্ধু বলে আমাদের বাড়ি খুব যাতায়াত ছিল তাঁর। ইদানীং খুব একটা আসতে দেখি না। ছোটকাকাকে একবার বলতে শুনেছিলাম। ‘‘এ চাকরিটা কিন্তু তোর উপযুক্ত নয়।’’ মাধবকাকা বলেছিলেন, ‘‘মানুষ জীবিকা করে প্রয়োজন মেটানোর জন্য। আমার প্রয়োজন মিটে যাচ্ছে।’’
    মাধবকাকা অল্পেই সন্তুষ্ট। যা বলেছিলেন একবর্ণ মিথ্যা নয়। তিনি যথেষ্ট দরিদ্র, কিন্তু দীনতা নেই লেশমাত্র। ফি-বছর কোনও না কোনও অজুহাতে মাধবকাকার মিল বন্ধ হয়। তার পর অভাব আর অনিশ্চয়তার তাণ্ডব কাটিয়ে ফের হাসিমুখে কাজে যান। তবু তিনি পাটশিল্পের প্রতি আশাবাদী। পাটের বিকল্প যতই বাজারে ছেয়ে যাক, একদিন ফের পাটশিল্প চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
    সবচেয়ে ভাল লাগে মাধবকাকার আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। তার সঙ্গে মিশে থাকে দেশপ্রেম। কিন্তু মজাটা এই যে, মাধবকাকার কথাগুলো কেউ মন দিয়ে শোনে না। আমার ছোটকাকাও নয়। এমনকি আমরাও তাঁকে এড়িয়ে চলি।
    একদিন মাধবকাকা এলেন। আমি নতুন বাড়ি করছি, দেখতে এসেছেন। সঙ্গে মিষ্টির প্যাকেট। আমি বললাম, ‘‘তুমি কি আমার কুটুম যে মিষ্টি নিয়ে আসতে হবে।’’
    মাধবকাকা শুধু হাসলেন।
    ‘‘এসো, ওপরে এসো, কেমন হচ্ছে দেখে যাও।’’ আমি ডাকলাম।
    ওপরে মিস্ত্রি কাজ করছিল। মিস্ত্রির সঙ্গে মাধবকাকা গল্প জুড়ে দিলেন। লোকটার নাম, ধাম, বংশ মায় কোয়ালিফিকেশন সব জানতে চাইলেন এক এক করে। এই ফাঁকে আমি নীচে থেকে ঘুরে এলাম। দেখি মিস্ত্রির সঙ্গে মাধবকাকার ভাব খুব গাঢ় হয়ে উঠেছে। মিস্ত্রি বলল, ‘‘তা মঙ্গল গ্রহটা কতদূর বটে?’’
    মাধবকাকা বললেন, ‘‘অনেক দূর গো।’’
    কত দূর মিস্ত্রি আন্দাজ করতে না পেরে বলল, ‘‘সেখানে বুঝি যাওয়া যায় না?’’
    দেখলাম মাধবকাকা নিজের কথা শোনাবার একজন মনোযোগী শ্রোতা পেয়েছেন। আমি চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

    চার

    চা খেতে খেতে আমার মনে হল অন্যায় করেছি। মাধবকাকাকে আমার বিয়েতে নিমন্ত্রণ করিনি। এমনকি ছেলের অন্নপ্রাশনেও নয়। অথচ করাটা উচিত ছিল। আসলে ডামাডোলের সময় সকলের কথা মনেও ছিল না। যাঁরা বাদ পড়েছিলেন তাঁদের অনেকের কথা পরে পরে মনে পড়েছে। যেমন মাধবকাকা। আমি স্থির করলাম গৃহপ্রবেশে তাঁদের বাদ দেব না।
    গৃহপ্রবেশের ঠিক তিনদিন আগে মাধবকাকার বাড়ি গেলাম। কাকিমা বসতে দিলেন। মাধবকাকা উচ্ছ্বসিত। বললেন, ‘‘তুই এসেছিস! বস বস, অনেকদিন তোর সাথে কথা হয়নি। কতদিন পর এলি বল তো।’’
    কাকিমা বললেন, ‘‘বসো বাবা, চা খাবে তো?’’
    বললাম, ‘‘শুধু চা কাকিমা, আর কিছু নয়।’’
    কাকিমা ভিতরে গেলেন। আমি আর মাধবকাকা। তিনিই প্রথম শুরু করলেন, ‘‘জানিস সতু…!’’
    ভাবলাম নিশ্চয়ই মঙ্গল-টঙ্গল অথবা কপিলদেব নিয়ে শুরু হবে কিংবা কোনও শক্ত প্রশ্ন। কিন্তু না, বললেন, ‘‘বুঝলি, ছেলেটা আমার দিন দিন কেমন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে…।’’
    একটু চুপ করে থেকে ফের বললেন, ‘‘পৃথিবীটা খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আমাদের দিন আর নেই। নেক্সট জেনারেশন কিন্তু আমাদের মতো আর অল্পে সন্তুষ্ট থাকবে না। ওদের ডিমান্ড অনেক বেশি। ধর, আমরা যখন আশির দশকে ছাত্র ছিলাম তখন ভারতের জনসংখ্যা ছিল সত্তর কোটি। দেশে অভাব ছিল, দারিদ্র ছিল। অথচ আজ ভারতের জনসংখ্যা একশো পঁচিশ কোটি। মানুষের ডিমান্ডও সেই অনুপাতে বেড়েছে। ভারত কি পারবে ওদের ডিমান্ড মেটাতে?’’
    আমি অবাক হয়ে গেলাম। মাধবকাকা কী সাবলীলভাবে ব্যক্তিসমস্যাকে জাতীয় সমস্যায় রূপ দিয়ে ফেললেন। প্রশ্ন না করলেও পক্ষান্তরে একটা জটিল প্রশ্ন আমার সামনে তুলে ধরলেন। কথাটা বেশ ভাবার মতো।

    পরদিন মাধবকাকার সঙ্গে ফের দেখা। আজ কেমন বিষন্ন দেখলাম। অথচ মানুষটার স্বভাবটাই প্রফুল্ল থাকা। ব্যাপারটা মাধবকাকা নিজেই খুলে বললেন, ‘‘ক’দিন ধরেই কাগজে পড়ছি, বুঝলি সতু– সীমান্তে পাকিস্তানি সৈন্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আজ কাগজে দেখলাম গুলির পর গুলি চালিয়েছে– মানুষ ভয়ে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে। ওদিকে চিনের সীমান্তেও একই অবস্থা। চিনের সঙ্গে প্রায় লাগল বলে। ভারত কি পারবে চিনের সঙ্গে?’’
    মাধবকাকা থামলেন। তারপর বললেন, ‘‘আচ্ছা সতু…।’’
    আমি তাকালাম। মাধবকাকা যতটা উৎসাহ নিয়ে শুরু করেছিলেন ঠিক ততটাই নিরুৎসাহিত হয়ে চুপ করে গেলেন।
    ‘‘কী হল মাধবকাকা?’’
    ‘‘না থাক। তুই যা কোথায় যাচ্ছিস।’’ বলে তিনি আর দাঁড়ালেন না।
    মাধবকাকা এরকম আচরণ আমাকে সত্যিই অবাক করল। আর কেউ না জানুক আমি জানি মানুষটাকে। এভাবে কোনও দিন চলে যাননি।

    গৃহপ্রবেশের দিন তিনি এলেন। দেখলাম মুখে হাসি নেই। একপাশে চেয়ার টেনে বসে আছেন। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। এমনকি ছোটকাকারও খোঁজ করেননি। আমি কাছে গেলাম। একটা চেয়ার টেনে তাঁর পাশে বসলাম। কোনও কথা বললাম না প্রথমে। মাধবকাকা ক্ষীণ গলায় বললেন, ‘‘সতু…।’’
    আমি তাকালাম।
    ‘‘হ্যাঁ রে, ভারত কি পারবে?’’
    আমি চোখ বড় বড় করলাম। মাধবকাকা বললেন, ‘‘ভেতর ও বাইরে দু’দিক কি সামলাতে পারবে ভারত?’’
    আমি ভাবতে থাকলাম। প্রশ্নটা বড্ড কঠিন মনে হল। বেশ ভাবার মতো। না ভেবে উত্তর দেওয়া যাবে না।

    চিত্রকর: মৃণাল শীল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More