বুধবার, আগস্ট ২১

গার্হস্থ্য

তানিয়া চক্রবর্তী

জিভ

ধরাধরি খেলতে খেলতে অধরা হয়ে গেলাম

ধরন বুঝতে না পেরে ধারণ করলে

জিভ –এর ক্ষমতা বাড়ে,

ক্ষমতাই যেহেতু অক্ষমতা

তাই জিভ অক্ষম!

তাই শব্দের বদলে  চুষছি শুধু

জিহ্বাজনিত উচ্চারণ ক্ষুব্ধ হচ্ছে না

পর্বমাফিক জীবনের মিথ্যে দেখছি

যা সত্যির বিড়ম্বনায় অশালীন হয়ে উঠেছে—

চমকে চমকে যাচ্ছে যারা

তাদের হাতে হাত দিয়ে পলাতক হয়ে দেখলাম

সমাজের ভাবী মুখ আমায় ফিরিয়ে আনল টেনে

এখানে সাধু ও চোর একসঙ্গে আদর করেছে মেঘের দিনে

আমি মেঘসর্বস্ব কখনো হয়নি বলে

মেঘলা দিন কেটে গেছে…

হিংসা এত হিংসাপ্রিয় বলে জনপ্রিয়দের লালা বার করে নেয়!

আহা! এই রোমাঞ্চকর লালাময় জীবন

যার থেকে অপহরণ করার আর কিচ্ছু নেই বলে

আমি তাকে তেলাই

তেলিয়ে তেলিয়ে লালচে শরীরের কাঁটা বেছে বেছে খাই

এই বাছা আর খাওয়ার জীবনে

জিভ এক অশ্লীল মাধ্যম

সে আমায় হীন করার উদ্যোগ নিচ্ছে

আমি একটু একটু করে বুঝতে পারছি…

 

কার্নিস থেকে  

 এখানে পাটি পাতা ঘরে

পা ছড়িয়ে বসেছে মেয়েটা

নিচু হয়ে বসায় চাঁদ উঁকি মারছে,

ভাবছে ওর আলো কোথায় বেশী চকচক করবে!

দাবনার লাল লাল চামড়া

জামাকাপড়ের হারেম বদলাচ্ছে

এখানে পাটি পাতা ঘরে

মেয়েটা গড়িয়ে চলে এসেছে ক্ষয়াটে ছাদে

শরীরের ওপরে গিরগিটি

গিরগিটি মুখ দেখছে না, ব্লাউজ দেখছে

বাচ্চা ঝুলছে কার্নিস থেকে

একটি মা –এর জন্ম হচ্ছে

একটি মেয়ে মরে গেছে অসম সঙ্গম বিষে

 

সুতো বোনা

 ঘুরপাক আর তালি

এই বাহানায় নিজেকে বাড়াচ্ছি

বৃদ্ধি ভেবে ভেবে আনন্দে গতিশীল হয়েছি

আর গতি কমে আসছে

যেন ট্রয়ের যুদ্ধ ভয়ে পেনেলপির মতো সুতো বুনি,

সমস্ত বৃদ্ধি প্রেমদেবতা কেড়ে নিলেন

কী কলতান ইচ্ছের পর

খরস্রোতারা মুখ ভেঙিয়ে পথ করে দিল!

কে কখন পিছোয় কেউ জানে না!

তাই এত হুড়োহুড়ির মধ্যেই বেঁচে আছি

আমাদের ভাবহীন অনুবাদ জীবন হস্তান্তরের কবলে

কিলবিল করছে সহায়হীন হয়ে !

আহা দুর্দান্ত দুর্দশা

যেন, পেনেলপির মতো সুতো বুনি…

 

গার্হস্থ্য

পটে ফুটে উঠল গার্হস্থ্য রমণ

তার বসন্ত জীবনে কালো জিরে খাদ্য

সর্ষেমাফিক সে ঝাঁঝ কুড়োও স্বামীর

বিক্রির পটে উলঙ্গ করে প্রেমিক

প্রেমিকের দু’পায়ে দড়ির দাগ

আহা ভাঙা রাস্তার মতো সে যুবকের গায়ে

পা পিছলোয় মেয়ের—

ছোবড়া দিয়ে যৌবন ঘষে দেখে নুনছাল, নুনছাল

এসব নাভিদোষ ছলায়কলায় বাড়ে

শিরা ফুটে ওঠে গালে

নাক-ঠোঁট ঘন হয়

পৃথিবী রমণ কালে উপবাসী হয়েছে

এ উদাস কথা শরৎ জানে না, কাশফুল জানে

দু’দিক চাপা বলে কারা যেন ধরে নিয়ে গেছে

পটে ফুটে ওঠে অসুরের চোখ

শিবকে না জানিয়ে শিশুকোলে পার্বতী এসব দেখে রোজ

পটে ফুটে ওঠে গার্হস্থ্য বমন—

 

আলেয়া

আসুন, প্রজাপতির পাখা ধরে উড়ি

আগুনের কাছে এসে বসি,

এইসব বিচলিত অস্থির দেহ

প্রতিসম ভাগ নিয়ে ঘোরে—

#

হাসি পায়, আগুনের কাছে এসে বসি

ঈশ্বরী ও চাষী দুই শিশু

দুই স্তনে মুখ রেখে তারা পৃথিবী নাচায়,

এ মেরুজ্যোতির দেশ

ছয় মাস মাটিতে ছয় মাস জলে

ফলে দেহগহ্বর জানে সবই আসলে খোলস

#

মেয়েরা বড় হয়ে গেলে

বাবাদের স্বরগুলো বুড়ো হতে থাকে

তারা জানে এসব সৎকারহীন দেহ

কলার ভেলায় ভাসা হলুদ জীবন!

ন্যাপকিন উপবাসী প্লাস্টিক মেয়ে

মেরুজ্যোতির লোভে তারা পিতৃহারা হয়—

 

কাব্যগ্রন্থ -১) কিছু একটার জন্য (পাঠক প্রকাশনী, ২০১৩কলকাতা বইমেলা) ২) পুরুষের বাড়ি মেসোপটেমিয়া (সৃষ্টিসুখ প্রকাশনী, ২০১৫কলকাতা বইমেলা) ৩) রাহুকেন্দ্রিক ঋতুকাল ( শুধু বিঘে দুই প্রকাশনী,২০১৬) ৪) লম্পট (ছোট কবিতা প্রকাশনী, বাংলাদেশ একুশে বইমেলা ২০১৭) ৫) আমিষ বিবাহ (২০১৭ নভেম্বর, আত্মজা প্রকাশনী) ৬) জুনিপোকার আলোয় বাঁধা ঘর (কারিগর প্রকাশনী ২০১৮) ৭) পুতুল মানুষ (সিগনেট, ২০১৯)

গদ্যগ্রন্থ– কাঠপুত্‌লির বৈতরণি ও অন্যান্য (বই তরণি প্রকাশনী ২০১৮)

২০১৬ তে কালিমাটি পত্রিকার “সমকামীতা-রূপান্তরকামীতা” ও ২০১৭ তে “অতিপ্রাকৃত” এই বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনা। আত্মজা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য বিরচিত “মহাভারত ও অন্যান্য” বইটির সম্পাদনা।

সম্মাননা -১) “কালকথা সম্মান ২০১৪” ২)  “ইতিকথা যুব সম্মান ২০১৬ ৩) ”শব্দসাঁকো সাহিত্য সম্মাননা ১৪২৪” ৪) বিনয় মজুমদার সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের “চাকা সাহিত্য সম্মান ২০১৭” ৫) ”রাঢ় বাংলা আন্তরিক সম্মাননা ২০১৮” ৬) ”ভাষানগর মল্লিকা সেনগুপ্ত সম্মাননা, ২০১৯”।

মেডিক্যাল প্রিয় বিষয় হলেও পরবর্তীতে মেডিক্যাল ছেড়ে কবিতার সঙ্গে সহবাস করতে ইচ্ছুক। এইমুহূর্তে রিসার্চ–ই কাজের বিষয়।

Comments are closed.