রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

শ্রুতকীর্তির কবিতা

আকাশকুসুম
আজ খুব ভোরবেলা সাইকেলের ঘন্টা শুনেছিলাম। জানি, এই দশতলায় আইসক্রিমগাড়ি, বেলুনওয়ালা, ফিঙেপাখি কিছুই আসেনা ।
তাও কেন কাঁচের দেওয়াল ভরে গেল, এত হইচই ?
করিডরে যে ছেলেটা ঠোঁট এগিয়ে এনেছিল, কেয়ারটেকার উঁকি দিতে অস্ফুটে বলেছিল ‘হারামি’ ! সারা পাড়া জুড়ে তখন হলুদ পাতা, একমাত্র কফিশপে একটা অন্ধ কুকুর ঘুরে বেড়ায়। ক্যাপুচিনো আর প্রেম একসঙ্গে গলে পড়ত, দ্বিতীয়টা আজও উহ্য রেখেছি।
চোখের খুব গভীরে জল রাখার একটা প্রক্রিয়া আছে, জানেন নাকি?
আমি জানি, তবে এই যে সকালবেলা নির্লজ্জ বেলুনগাড়ি এসে ঘুম ভাঙালো কিম্বা আদরে ঠেলে দিল আরও তন্দ্রায়, আমি কিন্তু শোকজ করতে পারি ! বলুন তো কফিনঘরে কৃষ্ণচূড়া ফোটানোর শাস্তি ঠিক কী হতে পারে ?
আজকের কবিতা
তোমাকে চেনার বৃথা চেষ্টায় আমি ব্যোমকে গেছি।
তুমি হচ্ছ সেই, যে মার্ক্স- লেনিন কপচে
ময়দানে ঝড় তুলে দাও,
আবার সময় হলে, ছেড়ে রাখতে বল
সকালবেলার বাসি কাপড় !
তুমি সেই, যে আগের রাতে ভরপুর খিস্তি করে ভোরবেলা নিতে যাও পুরস্কার।
স্তাবকতার চাদর জড়িয়ে নাও
কান-এঁটো হাসি দিয়ে।
সব জানি শুধু জানি না,
ঠিক কতোটা দূরে গেলে,
তুমি আমায় নিস্কৃতি দেবে।
ঠিক কতোটা দূরে গেলে,
তুমি আসলে একটা কবিতা হয়ে উঠবে ।
ভালোবাসার কবিতা
বেলুনরঙা স্বপ্নগুলো আমি পেরিয়ে এসেছি।
পেরোলাম মরুভূমি, সমুদ্র।
এগোতে এগোতে,পা জড়িয়েছে শ্যাওলায়
জট পড়েছে চুলে
বুক হয়েছে দীঘি
এবার আমাদের ভালোবাসা- বাসি হতে পারে।
এই ভরা বর্ষায়
প্রাচীন পৃথিবী কাঁধে ঘুরে বেড়িয়ো
মেঘ তোমাকে বয়ে এনে দেবে আদিবাণী।
এয়ারপোর্ট ডায়েরি
আলতো চুমু ছুঁইয়ে যে মেয়েটি
অন্ধকারে মিলিয়ে গেছিল
তাকে আজ ট্রান্সিট লাউঞ্জে খুঁজে পেলাম।
রানওয়ে থেকে ছুটে আসা হাওয়ায়
ভেন্ডানা ঢাকা চুল ওলোটপালোট
মারকাটারি চোখে স্থির বিদ্যুৎ।
লাল ম্যাটফিনিশ আর কোহল
বিষণ্ণতা মনে পড়ায়।
ক্যাপুচিনোর প্রস্তাব রাখতে
বিদ্যুতশিখা তাকিয়ে থাকে পলক জুড়ে
সেই মুহুর্তে পৃথিবী জ্বালানো আগুন জ্বলেছিল
থমকে যাওয়া সময় বাজিয়েছিল বিটোভেন।
তারপর সুর মিলিয়ে গেছে দিগন্তরেখায়
সে খবর আজ আর কেউ রাখেনি।
সিরিয়া
এক জন্ম পেরিয়ে যখন থামতে চাইলাম,
এক টুকরো জমিও আর খালি নেই।
একফালি চাঁদ জড়িয়ে কাঁদতে চাইলাম,
এক মুসাফির কোথায় উড়িয়ে নিয়ে গেল?
যে আজান পরিত্রান দিয়েছিল
যে পবিত্র জলে হাত ধুয়েছিলাম
যে রাস্তা ঢাকা ছিল চাঁপাফুলে
যে আমি ওড়নায় চুল ঢেকেছিলাম
আজ বাস্তুহারা শূন্য, দিগ্বিদিকহীন।
আজ পবিত্র দিনে হে মুর্শিদ
ভালোবাসা দিও,
যেভাবে শিশির ঢেকে দেয় ঘুমন্ত শিউলি।
দয়া দিও,
যেভাবে মন ছুঁয়ে যায় হলুদ পালক।
নিশ্চয়তা অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন। অনেক ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনের লাল মাটিতে পা রেখে স্কুলজীবন ও কলেজজীবন। তারপর হায়েদ্রাবাদে স্প্যানিশ ভাষার পাঠ-নেওয়া। কর্পোরেট সেক্টরে চাকরি। ভালোবাসা লেখালিখি, নাচ ও গান। প্রথম কবিতার বই প্রকাশের পথে।

Comments are closed.