বুধবার, অক্টোবর ১৬

কাগজের রক্তমাংস

  • 30
  •  
  •  
    30
    Shares

নীলাব্জ চক্রবর্তী

 

 

কাগজের রক্তমাংস

সাঁতারু পল্লী থেকে

অন ইয়োর মার্ক লিখতেই

নুনের সমস্ত কথা কীভাবে

আবার জলের কাছে জল

বাংলা কবিতার কাছে মুড়ে রাখা গিফটপ্যাক

কাগজের রক্তমাংস, আঙুল, জিভ

যারা ফেলে এলো

ছুটিফেরত

ভাষাদের সেইসব ঘামবিন্দু

আরও একটু গভীর হয়ে উঠে

আমি তার বাক্যের সহজ অর্ধেক

খেতে খেতে

কাঁচের ওপর ছাপানো বৃষ্টির সাথে

পড়ে যাচ্ছি

এই দৃশ্যের ভেতর…

 

নিরাপদ দূরত্ব থেকে

নিরাপদ দূরত্বে

তাকে স্নায়ু দেই

এইসব অনতিক্রম্য রাখতে রাখতে

বুকভর্তি জানলায় কীভাবে যে

চাঁদ গরম করো

আর দেখো

ডাকবাক্সের মধ্যে

ভুল করে

ঢুকে পড়তে চাইছে একটা ছায়া

এই দৃশ্যটা কার

ভার ও সাম্যের মধ্যে

যেটুকু অস্থিরতা বাইফার্কেট করছে

যেটুকু আশকারা

ওই বোতলছাপ জামা চশমাছাপ জামায়…

 

 জংশন

আয়নাদৃশ্যে এসে ভেঙে যাচ্ছে গোটা দিনটা। আপেলঘর। এইসব আদুরে জংশন। নেমে আসা কাঠ এক স্পর্শ। বৃন্ত। প্রসঙ্গ হয়ে উঠছে। বানানো ইশকুল। দর্শন ভাবলেই ফুলে উঠছে ম্যাপের মগজ। বাদামী রোদ্দুর। মুগ্ধতা। কার সংশয়ের ভেতর রিভার্স অসমোসিস হচ্ছে কথা বলা কবিতায়। কমলা রিবন পেরিয়ে যেসব শব্দ শরীরের ভেতর চলে যাচ্ছে। কা-আ-আ-আ-ট্। বাঁ দিকে ঘুরে যান। যে বাক্য বন্ধ হয়ে রইলো তার জন্য স্লো মোশান। তারই জন্য বরফের দস্তানার ভেতর রেখে আসা সিসার আঙুল…

 

আত্মপক্ষ

বিষাদ আসলে এক দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিন্নতা। প্রতিটি কুয়াশায় বড়ো হয় তার স্মৃতিহীনতা ও বোতামের মাপ। এভাবে পর্ণমোচী হয়ে ওঠে বিশ্বাস। মাংসের গায়ে ঠিকরে আসে গাঢ় অনুভূতি ও ল্যাণ্ডস্কেপ। ক্যালেণ্ডার বললেই কোথাও ভেসে ওঠে ফুরিয়ে যাওয়া পাথর। এই বলয় তোমার ছিলোনা। ওই ধ্বনি। ফ্রেম বলতে বড়জোর একটা অস্পষ্ট ধারণা। একটা যাতায়াত। তার গন্ধ ভাঁজ করে রাখছে ক্যামেরা। তুলোর ক্ষেতে উড়তে থাকা শব্দেরা একটা সাঁকো পেরিয়ে যাচ্ছে। সাইলেন্স। ঘড়ির দেওয়াল। একে শহর বলো তবে। আত্মপক্ষ বলো…

 

যে শব্দগুলো

অপেক্ষারা খোসা হয়ে উড়ছে। এইসব জড় আহ্বান। ভাষা এক গহ্বর আসলে। ভান করছে। আয়োজনের সবটায় স্মৃতি, ব্যবহার্য হয়ে উঠছে ক্রমে। ব্যবধান হয়ে উঠছে। মুহূর্তগুলো এক একটা সম্পর্ক। স্থিতি। ক্ষয়ে যাওয়া হরফ। বিদ্ধতার ভেতর পড়ে থাকা মাত্রারা। জন্মদিন ভাবছে। বড় হয়ে উঠছে পাথরের উপনিবেশ। পিপাসা-অমনিবাস। সে আমার রিপুর ভেতর খুব কাঁচ হয়ে ওঠে। এভাবে ফিরে ফিরে আরেকটা ঢালু দিন। কে ‘অ্যাকশন’ বলল আর ফিকে হয়ে এলো লিখে রাখা ক্রিয়াপদসমূহ। আঙুল উপচে যে শব্দগুলো মাটির গভীরে চলে যাচ্ছে… ভেজা ভেজা নাভিতে চলে যাচ্ছে…

 

প্রকাশিত গ্রন্থ: পীত কোলাজে নীলাব্জ (জানুয়ারি২০১১, ৯য়া দশক), গুলমোহর…রিপিট হচ্ছে (ই-বুক) (নভেম্বর ২০১৩, বাকপ্রকাশনী), প্রচ্ছদশিল্পীর ভূমিকায় (জানুয়ারি ২০১৪, কৌরব প্রকাশনী)।

ভালো লাগা – গানের  পুরনো আর কবিতার নতুন। স্বপ্ন – মনের মতো একটা শর্ট ফিল্ম তৈরী করা।

Comments are closed.