সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

হিমঅশ্রু

দীপান্বিতা সরকার

ঘুমে একটা বেদী জ্বলে ওঠে

চাঁদ এসে কুলুঙ্গিতে নামে

ধরো তার মুখটি অধোনত

জিভ থেকে বিষাদ না কামে

ফুটে উঠছে সোনাঝরা ক্ষত !

ক্রমে ক্রমে পুষ্পচাপা ডানা…

চুপিসাড়ে মৃত্যু নেমে এলে

মিথ্যে করো শরীর, আনত

 

হাতের লন্ঠন রাখো শান্ত বটমূলে। ভেজা ভেজা আত্মহত্যাকাম ! বাসনাসলতের ভ্রমে

ঝলসে ওঠা আয়ু। হ্রদের ধারণা তুমি সেই কবে রক্তে রক্তে রক্তে তোলপাড় করেছ, মনে আছে?

পুষ্পনিষিক্ত বাতায়নে লুকিয়ে ছিল এক লাজুক গান। তাকে দাও সমস্ত অন্ধকার

ঢেলে দাও কষ্টকল্পজল !

তোমার বিষাদ রাঁধি শুধু

তোমাকে খাওয়াবো বলে শোনো

আমাকে ঘরনি জ্ঞানে, ছোঁও

নলির ভেতরে মুগ্ধ থাবা

মোহমুগ্ধ লেলিহান স্তব

বনমধ্যে জাদুগুল্ম ছিঁড়ে

বেটে খাবে নরকের দাহ

ইতোমধ্যে ব্যথার আড়ত !

সমস্ত অপচয় ঘাট হয়েছে ঢের। গত জন্মের এঁদোপুকুরে তুলকালাম বাসি মরা। নিথরের স্নান আর

তার রাজহংস কবেকার প্রিয় ! শ্যাওলায় শ্যাওলায় যদি তারে কৃতজ্ঞ করো। চরের কাদায় জমে

আছে সিঁদুর-শৃঙ্গার । এখন শুকিয়ে কাঠ। তাকে তুমি শাবলে খুঁড়ে তোলো।

হিমঅশ্রু, তুমি সারারাত

শিয়রে আড়াল করো মন

অদৃষ্টের চূড়া জলাশয়ে

জেগে উঠে অযুত ক্ষরণ…

 

শ্রোতবন্দি চারকোণা কফিন

দেহ-ও জোনাকি পারে নিতে

যার ধাক্কা জানালা খুলেছে

গাছে গাছে কাঁপন, শার্সিতে

 

হিমঅশ্রু শূন্যে নামে ধ্বস

জ্বলবে না পাথরে পাথরে?

নখ, চুল, গজদন্ত, স্তন

ফিরে আসে অসতর্ক ভোরে

 

শিকারির নৌকা জলে ডোবা

ঘরে ফিরছে দাহমাত্র পার

অগ্নিশোকযমমৃত্যু স্বাদ

প্রেতকল্পে স্বপ্ন ও অঙ্গার

 

পদ্মমধু আঁচলে নিঙারে কোন অবেলায় চোখে বিঁধলে, রঙিন ? চাষি-বৌ প্রদীপ জ্বালবে বলে গোটা

একটা জন্ম চেয়ে বসে থাকলে ! সঙ্গমকালে বুক শুষে রেখেছ লবণমধুর জ্বালা ! কয়েকগাছা চুল

তখনো লেগে ছিল স্বর্ণ কাঁকুইয়ে। যেখান দিয়ে গেছে তার বিষাদে ঝরে পড়ে পড়ে গেছে মেঘের শাবক। সুনিপুণ, বাঁশির বন্দিশ থেকে কত দূরে ওই পাহাড়?

 

দীপান্বিতা সরকার শূন্য দশকের কবি। জন্ম ও বসবাস দক্ষিণ কলকাতায়। পড়াশোনা ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে। পেশা: ফ্রিল্যান্স লেখালেখি, গৃৃহশিক্ষকতা। শখ গান শোনা, নাটক দেখা, গান করা।

প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘ঝিমরাতের মনোলগ’ (২০১১),‘একান্ন থানের নাও’ (২০১৩) , ‘পাশের উপগ্রহ  থেকে’ (২০১৫), ‘ইতি গন্ধপুষ্পে’ (২০১৬), ‘হিমঝুরি’ (২০১৭) এবং ‘কুশের আংটি’ (২০১৮)

Comments are closed.