শনিবার, মে ২৫

মন, মথুরাও চলে যেতে পারে

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়

মন, মথুরাও চলে যেতে পারে

কী প্রেম! কী প্রেম!
প্রতি আদরের কাছে কুকুরের মতো আমি বশ্য হয়েছি।
মার-খাওয়া রাত্রির কাছেও!
গলিতে গলিতে তোমার নামের আলপনা এঁকে,
ভোরবেলা, বিশেষ করেছি।
কতদিন পর আজ,সরু বোতলের গলা যেন,
মনোপথে, আহ্লাদ, অপমান গাদাগাদি করে
এ ওকে খোঁটা দিচ্ছে শুধু

ভাবি,নামগান গাইব। সমুদ্রে নেমে যাব।ঢেউ ঘাঁটব।
নুন ছিটকে জিভে পড়লে তোমার,তুমি বেইমানি করতে পারবে না আর,
আর ছেড়ে যাবে না আমাকে!
বিকেলের সূর্যাস্ত-লাগা বাঁক থেকে মদনমোহন কিনে দিতে দিতে বলবে যখন,
‘শিঙাড়া গরম আছে তো?’
মাইরি, মরমে  মরে যাব!

ধর্ষণ চুলোয় যাক।
ভোট ও রিগিং যাক চুলোর দুয়ারে।
পচে যাক আচারের মতো রাজনীতি।
ধর্ম-অধর্ম।
আমার বোয়ামে।
সব ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়েছি আমরা
মুহূর্ত জড়িয়ে।
হেই মা বিপত্তারিণী,দেখ, পরের রোববার,বরফ-না-পড়া অবধি, আমাদের সম্পর্ক থাকে যেন

তিনশো আটানব্বই। কিশলয়।
যোধপুর পার্ক।
শীত ও রৌদ্র এসে পুবের বারান্দায়,
আমার ডেডবডি নিয়ে কষে
কাটাকুটি খেলছে বসে বসে

রবীন্দ্রনাথের গান

জেনেশুনে তবু, ভুলে থাকার পাশে, কন্যাকর্তার মতো
দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করি, আর কিছু লাগবে কিনা।
নতুন চাঁদনি কিংবা এই ধর গোপন মলম!
অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পাড়া থেকে হুল্লোড় ভেসে আসে।
রুটি ও মাছে টুকরো। ডিসেম্বরের রাত।
বেনিয়াপুকুরের ট্রামে ছুটে উঠে পড়ি।
অপু ও অজেয়ার সঙ্গে হঠাৎ মন্দারমণি চলে যাই,
বসন্ত এলে।
জেনেশুনে তবু, ভুলে থাকবার পাশে, বৃথা দিন
ভাঙা বেদনারা উড়ছে,
তাদের ঢেকেঢুকে রাখছি, যতটা সম্ভব।
সামনে তো কিছু নেই-
ক্রমাগত পড়ে যেতে যেতে, অশ্রুপিছল পথ,
এভাবে তোমার কাছে পৌঁছোনো যায়, বল!

 

চৈতালী চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার একজন বিশিষ্ট কবি। প্রসার ভারতি তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের উদয়ভারতী জাতীয় পুরস্কার, মীরাবাঈ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে ও বর্ণপরিচয় শারদ সম্মাননা। ছোটদের লেখার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন। 

Shares

Comments are closed.