আড়ালে আততায়ী ১৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়

    ‘জয়গুরু ট্রান্সপোর্ট’ কোম্পানি থেকে বেরিয়ে এসে দীপকাকু ঝিনুককে বলেছিলেন, শুধু ক্যাবিনেটটা নয়, ওই বাড়িটা থেকে আরও অনেক ফার্নিচারই আনিয়েছেন কমলবাবু। সেটা আমাদের কাছে চেপে যাওয়ার কারণটা কী? মনে হচ্ছে, কাল-পরশু চন্দননগরের ‘সাহেব কুঠি’তে একবার যেতে হবে।
    কথা শেষ করে দীপকাকু মোটর বাইকে উঠতে যাবেন, ফোন এল ওঁর মোবাইলে। এ প্রান্তের কথা শুনে ঝিনুক বুঝতে পেরেছিল, ফোন করেছেন রেলপুলিশের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার জহর সাহা। কথাবার্তা সেরে নিয়ে দীপকাকু ঝিনুককে যা বললেন, একপিঠের বাক্যালাপ শুনেই মোটামুটি আন্দাজ করে ফেলেছিল ঝিনুক। জহর সাহা খবর দিলেন, মৃত্যুর আগের সাতদিন ডা. রায়ের ফোনে যে চারটে নামহীন নাম্বারের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে একটাতে ডাক্তারবাবু দু’বার ফোন করেছিলেন, দু’বার ফোন এসেছিল ওই নাম্বার থেকে। সেটা মাঝেমাঝে সচল হচ্ছে, টাওয়ার লোকেশন দেখাচ্ছে চন্দননগর জি টি রোডের আশপাশে। …একটু চিন্তাভাবনা করে নিয়ে দীপকাকু বলেছিলেন, খবরটা এই কেসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইম্পর্টেন্ট হওয়ার চান্স আছে। চলো, এখনই চন্দননগর রওনা হই। বউদিকে বলে দাও, তোমার ফিরতে বিকেল হয়ে যাবে।
    মাকে ফোনে জানিয়ে দিয়েছিল ঝিনুক। সেদিন তখনও ঠিকমত সকালের জলখাবার খাওয়া হয়নি। চন্দননগর যাওয়ার পথে দিল্লি রোডের ধাবায় খাওয়া হল। দু’ঘণ্টামত লাগল চন্দননগর পৌঁছতে। লালবাগান অঞ্চলে ‘সাহেব কুঠি’ বাড়িটা খুঁজে পেতে সমস্যা হয়নি। বেশ পরিচিতি আছে বাড়িটার। মজার ব্যাপার এই, বাড়িটার আসল নাম ‘সাহেব কুঠি’ নয়। কোনও এক ফরাসি থাকত বলেই এই নাম। বাড়িটার এমনই ভগ্নদশা, আসল নামটা পড়া গেল না। গেটের থামে গাঁথা শ্বেতপাথরের নামফলকটায় শ্যাওলা জমে গেছে। লোহার গেটটা কোনও রকমে বন্ধ করা ছিল। সেটা খুলে কিছুটা হেঁটে পৌঁছতে হল সদরে। হাঁটাপথটুকুর দু’পাশে রীতিমত ঝোপ-জঙ্গল, সদরের কলিং বেল অকেজো। দরজার কড়া নাড়া, ‘কেউ আছেন! কেউ আছেন!’ বলে বেশ ক’বার হাঁক পাড়ার পর দরজা খুললেন প্রায় ন্যাড়া মাথার এক ভদ্রলোক। পরনে মলিন পাজামা-পাঞ্জাবি। দীপকাকু বলেছিলেন, আমি পুরনো ফার্নিচার কিনতে চাই। আছে কিছু।
    –অল্পই আছে। আগে দেখে নিন। যদি কিনতে চান, মালিককে ডেকে পাঠাতে হবে। বলে ঘুরে গিয়ে হাঁটা লাগিয়েছিলেন ভদ্রলোক, দীপকাকু বলে ওঠেন, আপনাকে আমি চিনেছি সায়ন রায়। বাবার মৃত্যুর কারণে মাথা কামিয়েছেন। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আপনার অটুট। আর নিজেকে লুকিয়ে রাখবেন না। পুলিশের কাছে স্যারেন্ডার করুন। ক’বছর না হয় জেল হবে। তারপর নতুন করে বাঁচবেন।
    দীপকাকুর দিকে খানিকক্ষণ হাঁ করে তাকিয়ে থাকলেন ভদ্রলোক। তারপর মুখে দু’হাত চাপা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়লেন মেঝেতে। …গাড়ি ব্রেক কষতে ঝিনুকের সম্বিত ফিরল। ডা. রায়ের বাড়ি গেটে এসে পড়েছে তারা।

    একতলায় পেশেন্ট পার্টির বসার জায়গাতে মিটিং শুরু হয়েছে। মিটিংয়ে দীপকাকু যাদের ডেকেছিলেন, সকলেই এসেছেন। এ ঘরে অনেকগুলো চেয়ার এনে গোল করে সাজানো হয়েছে। মিটিংয়ের লোকজন বসেছেন সেখানে। আছেন ডা. অলকেশ রায়ের দুই ভাই। বোন শ্রাবণীদেবীও এসেছেন, হ্যাজবেন্ড প্রবীর গুপ্ত আছেন সঙ্গে। ডা. রায়ের কম্পাউন্ডার তাপস কুণ্ডু আছেন। রেলের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার জহর সাহা, ডা. রায়ের বন্ধু কমল বিশ্বাসও উপস্থিত। এ ছাড়া ঝিনুকরা তিনজন। দীপকাকু সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মিটিংটা অ্যাটেন্ড করার জন্য। এবার দীপকাকু বলা শুরু করলেন, তদন্তের স্বার্থে এই কেসটাতে আমার পরিচয় গোপন রাখতে হচ্ছিল। ইতিমধ্যে সকলেই জেনে গেছেন আমার পরিচয়। আমি একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। ডাক্তার রায় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁর নিরুদ্দেশ ছেলে সায়ন রায়কে খুঁজে দেওয়ার জন্য। শর্ত ছিল, কাজটা খুব গোপনে করতে হবে। কারণ, সায়নের সঙ্গে তিনি দেখা করুন, এটা তাঁর পরিবারের লোক চান না। তাঁরা মনে করেন, সায়ন ইচ্ছাকৃত ভাবে অয়নকে মোটরবাইকের ধাক্কা মেরেছে। এই মনে হওয়াটা অয়ন মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শোকের তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। কিন্তু পরে ঠান্ডামাথায় বিচার করলে বোঝা যাবে, ওটা ছিল দুর্ঘটনা। তবে সায়নের অত র‍্যাশ ড্রাইভ করাটা অবশ্য দোষের ছিল। ডা. রায়ের ধারণা ছিল, ঘটনাটা যে নিছকই দুর্ঘটনাটা, ইচ্ছে করেই মানতে চাননি তাঁর দুই ভাই। সায়ন ফিরে এসে বাবার সম্পত্তি পাক, চাননি তাঁরা। বড়দার বিষয়-আশায় ভোগ করার বাসনা ছিল তাঁদের।
    চেয়ারে বসা সমরেশ হাত তুলে বলে উঠলেন, আমার এ ব্যাপারে কিছু বলার আছে।
    –জানি আপনি স্বপক্ষে যুক্তি দেবেন। কিন্তু আমার কেসের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। আমাকে বলতে দিন, প্লিজ। নয়তো খেই হারিয়ে ফেলব। বললেন দীপকাকু।
    হাত নামিয়ে নিলেন সমরেশবাবু। ফের দীপকাকু বলতে থাকলেন, মারা যাওয়ার কিছু দিন আগে ডা. রায় সায়নের দেখা পান ‘রিলাইফ’ হসপিটালের লাউঞ্জে, ভিজিটিং আওয়ার্সে। কমলবাবুর এক আত্মীয় ভর্তি ছিলেন ওই হসপিটালে। আত্মীয়কে দেখতে গিয়ে উনিই প্রথম দেখেন সায়নকে, তারপর ডা. রায়কে দেখান। বাবাকে দেখে সায়ন পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর ডা. রায় আমাকে ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োগ করেন। হসপিটালের সিসি টিভি ফুটেজে আমি সায়নকে দেখি। ওই একদিনের ফুটেজেই ওকে দেখা যায়। আর একদিন দেখেছিলেন কমলবাবু। ধরে নিয়েছিলাম, সেদিন হয়তো সায়ন ভিড়ের আড়ালে ছিল। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি ওর ছবি। তা হলে মাত্র দু’দিন সায়ন গিয়েছিল রিলাইফে। কেন গিয়েছিল? ওর কোনও পেশেন্ট ভর্তি থাকলে, আরও বেশ কিছুদিন দেখতে যাওয়ার কথা। তা ছাড়া যে মানুষটা পাঁচবছর ধরে পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে আছে, সে হঠাৎ ওরকম ব্যস্ত, জনবহুল হাসপাতালে চলে আসবে কেন? এটা নিয়েই আমার সন্দেহ শুরু হয়। এমন নয়তো, সায়ন যাতে ডা. রায়ের চোখে পড়ে, সেই জন্যই ওকে ওখানে দেখা গিয়েছিল? এর পরই ডা. রায় ট্রেনের ধাক্কায় মারা যান। স্পটে গিয়ে দেখলাম, লেভেল ক্রসিংয়ের মাঝে পাঁচটা লাইন। ক্যানিং লাইনের আপ এবং ডাউন, বজবজ লাইনের আপ-ডাউন। গুডস ট্রেনের জন্য একটা। অত ক’টা লাইন আমার কাছে একটা জালের অনুভূতি নিয়ে এল। এই জালের ফাঁদে ফেলা হয়নি তো ডা. রায়কে? ফেলার কারণ হিসেবে মনে হল, ডাক্তারবাবু আমাকে বলেছিলেন, সায়নের সঙ্গে একবারটি কথা বলার ব্যবস্থা করিয়ে দিতে। তার পর যদি আমি সায়নকে পুলিশের হাতে তুলে দিই, ওঁর আপত্তি নেই। আমার বুঝতে অসুবিধে হয়নি যে, ডাক্তারবাবু ওই একবার দেখাতেই সায়নকে এমন কিছু দিয়ে যেতে চান, যা ওর ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত এবং সুগম করবে। কিন্তু কোনও একজন বা একাধিক চায় না, ডাক্তারবাবু ওই সুবিধেটা সায়নের জন্য করে দেন। তাই কি তাঁকে আটকানো হল মৃত্যুর মত একটা ব্যবস্থা নিয়ে। এই চরমপথটা নেওয়ার মানেই হচ্ছে, সায়নকে ডা. রায় যেটা দিতে চেয়েছিলেন, তা অত্যন্ত মহার্ঘ। ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টটা হয়, চারটে দশ নাগাদ। পরে আমি রেলের টাইম টেবল চেক করে যখন দেখি, ওই সময় চারটে লাইন দিয়েই ট্রেন যাওয়ার কথা। তখন আমার সন্দেহ আরও গাঢ় হতে থাকে, সময় বেছেই কি ডাক্তারবাবুকে ওখানে যাওয়ার ডাক পাঠানো হয়েছিল? একটা ট্রেন এড়িয়ে গেলেও, পরেরটা, এমনকি তার পরের ট্রেনগুলোর একটাতে ধাক্কা খেতেনই।
    দম নিতে থামলেন দীপকাকু। তাপস কুণ্ডু বললেন, জল খাবেন? ঘরে আছে কিন্তু।
    মাথা নেড়ে ‘না’ বুঝিয়ে দীপকাকু ফের শুরু করলেন, ড্রাইভার ন‍ন্দ গড়াই কাজ ছেড়ে যাওয়ার আগে এ বাড়িতে বলে গেল, লেভেল ক্রসিংয়ের গেট ফেলা আছে দেখে ডাক্তারবাবু গাড়ি থেকে নেমে ওপারে যাচ্ছিলেন, যেতে গিয়ে হল অ্যাক্সিডেন্ট। আমার মনে প্রশ্ন জাগল, ডাক্তারবাবুর কীসের এত তাড়া ছিল? গেট ওঠা অবধি অপেক্ষা করলেন না কেন? কাঁকুলিয়ার দিকে কী কাজে যাচ্ছেন, কেন বলেননি নন্দকে। নিশ্চয়ই গোপন কোনও কাজে যাচ্ছিলেন? নন্দ গড়াইয়ের স্টেটমেন্টস আমার কাছে ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। এদিকে সে বেপাত্তা। বুঝলাম, নিশ্চয়ই নন্দ কিছু লুকোতেই গা-ঢাকা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অফিসার সাহার সহযোগিতায় আমি কথা বললাম ঘাতক ট্রেনের মোটরম্যানের সঙ্গে। উনি বললেন, ধাক্কা খাওয়ার আগের মুহূর্তে ফোনসেট বার করতে যাচ্ছিলেন ডা. রায়।
    আমি অনুমান করলাম, বোধহয় অন্যমনস্ক করার জন্যই ফোনটা করা হয়েছিল। ডা. রায়ের ফোনের কললিস্ট চেক করতে বললাম। দেখা গেল অ্যাক্সিডেন্টর আগের মুহূর্তে যে নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল, সেটা জাল সিমকার্ডের নাম্বার। নিশ্চিত হলাম, কল করা হয়েছিল ডা. রায়কে মৃত্যুমুখে ফেলার জন্যই। সেই ফোন নাম্বার ফের সক্রিয় হল আমাকে হুমকি দেওয়ার জন্য। টব ফেলাটা ইচ্ছাকৃত জানিয়ে দেওয়া হল। গলা চিনে ফেলার আশঙ্কায় এসএমএস করা হয়েছিল। বুঝতে বাকি রইল না, অপরাধী আছে আমার আশপাশেই। যার সঙ্গে আমার কথোপকথন হয়েছে অথবা হবে। সেই সতর্কতায় এসএমএস।
    থামলেন দীপকাকু। টানা কথা বলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। জহর সাহা বলে উঠলেন, একরাউন্ড চায়ের ব্যবস্থা করা যাবে?
    –নিশ্চয়ই যাবে। বললেন ডা. রায়ের ছোট ভাই কমলেশ। ফোন বার করে সম্ভবত স্ত্রীকে কল করে বললেন, আমাদের সবার জন্য চা পাঠাও তো।
    দীপকাকু আবার বলতে থাকলেন, ফাঁদ পেতে ধরলাম নন্দ গড়াইকে। সে বলল, ডাক্তারবাবু গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর একজন বন্দুক দেখিয়ে তার থেকে ডাক্তারবাবুর ফাইল ছিনতাই করে। এর পরই রেলের লাইনের উপর ডাক্তারবাবুর অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা চেপে যায় নন্দ। আপনাদের যদি ঘটনাটা বলত, আপনারা মনে করতেন, নিজে জিনিসটা সরিয়ে ছিনতাইয়ের দোহাই দিচ্ছে।
    অ্যাক্সিডেন্ট এবং ছিনতাই, দুটো কাছাকাছি সময় ঘটেছে দেখে বেশ সংশয়ে পড়ে গেলাম। ডা. রায়কে মারার কারণ ধরেছিলাম, সায়নের কাছে পৌঁছতে না দেওয়ার জন্য। এর মধ্যে ছিনতাই এসে গেল কোথা থেকে? ছিনতাইটাও পূর্বপরিকল্পিত? লোকটা জানত, সে যেটা চায়, আছে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে? –আমি ভেবে দেখলাম, ডাক্তারবাবুর সবচেয়ে কাছের মানুষ কমলবাবুর সঙ্গে আমার কথা বলা দরকার। উনি জানেন ডাক্তারবাবুর অনেক পার্সোনাল ব্যাপার। সায়নের ব্যাপারে ওঁর সঙ্গেই তো আলোচনা করতেন ডা. রায়। কমলবাবুর বাড়ি গিয়ে একটা ভাল সূত্র পেলাম। ওঁর লেখা বই শুভেচ্ছাবার্তা সহ সই করে দিলেন আমার অ্যাসিস্ট্যান্টকে। হাতের লেখাটা মিলে গেল ডা. রায়ের ফাইলের একটা কাগজের লেখার সঙ্গে। যেটা আমি সংগ্রহ করেছিলাম ডাক্তারবাবুর বেডরুম থেকে। ফাইলের ওই কাগজটাতেই পেয়েছিলাম একটা ওষুধের নাম দেওয়ার প্রয়াস। হাতের লেখাটা ডাক্তারবাবুর নয়, কাগজপত্র ঘাঁটতে ঘাঁটতে ওর লেখা আমি ততক্ষণে চিনে গেছি। তিনটে নাম দেওয়া হয়েছিল ওষুধটার… স্টপ এপিলেপ্সি, মৃগী নিবারক, মূর্ছাভঙ্গ। শ্রাবণীদেবীর থেকে আমি জেনেছি, ডা. রায় তিনটে রোগের খুব ভাল ওষুধ দিতেন, এপিলেপ্সি, শ্বাসকষ্ট এবং হাঁটুর যন্ত্রণা। অর্থাৎ এপিলেপ্সির ওষুধ বাজারে আনার জন্য নাম বাছা হচ্ছিল। কমলবাবুর হস্তাক্ষরে লেখা নাম মানেই, দুই বন্ধু বসে বাজারে ওষুধটা আনার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। কিন্তু আমি যখন ডা. রায়ের ব্যাপারে কমলবাবুর সঙ্গে কথা বলতে গেলাম, এপিলেপ্সির ওষুধ বাজারে আনার পরিকল্পনাটার কথা বলেননি।
    –বলিনি, প্রসঙ্গ আসেনি বলে। আপনাকে তো আরও অনেক কথাই বলিনি। সব বলতে হবে, এ রকম কোনও কথা ছিল নাকি? রাগ এবং বিরক্তির সুরে বলে উঠলেন কমল বিশ্বাস।
    দীপকাকু বললেন, তা ছিল না। তবে এই পয়েন্টটা আপনি ইচ্ছে করে চেপে গিয়েছিলেন। ডা. রায়ের মৃত্যুরহস্য তো এটাকে ঘিরেই। যাই হোক, যা বলছিলাম, কমলবাবুর বাড়ি গিয়ে আমি জানতে পারি, ওঁর ফার্নিচারের বিজনেস, তার মানে, ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিকে কাজে লাগে। এদিকে ড্রাইভার নন্দ গড়াই আমাকে বলেছে, তাকে একটা লোক যেচে ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির গাড়ি চালানোর অফার দেয়। আমার মনে হতে থাকে, কমলবাবু যে ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেন, তাদের কাউকে দিয়ে নন্দকে কাজের অফার দেননি তো? উনি হয়তো চান, নন্দ গড়াই সমস্ত জেরা থেকে দূরে থাকুক। তা হলেই ছিনতাইয়ের ঘটনাটা আড়ালে থেকে যাবে। ডা. রায়ের ফাইল ছিনতাইয়ের সঙ্গে কি কমলবাবুর কোনও যোগ আছে?
    –বাঃ, গল্পটা তো বেশ জমিয়ে দিয়েছেন মশাই। উপহাসের সুরে বলে উঠলেন কমল বিশ্বাস।
    দীপকাকুর বদলে উত্তর দিলেন অফিসার সাহা। বললেন, পুরোটা শুনবেন কিন্তু। আমি তো শুনেছি। শেষের দিকে আরও জমাটি।

    চিত্রকর: শুভ্রনীল ঘোষ                                                                       পরের পর্ব আগামী শুক্রবার

    রহস্য উপন্যাসের আগের পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

    আড়ালে আততায়ী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More