আড়ালে আততায়ী ১১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়

ঝিনুকরা ছাদে চলে এসেছে। আলো জ্বালানো হয়েছে ছাদের। পাঁচিলের উপর টবটা যেখানে ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। ঝিনুকরা যখন সিঁড়ি দিয়ে এল, ছাদের দরজার খিল লাগানো ছিল। সেই যুক্তিতেই সমরেশবাবু এখন বলে উঠলেন, মনে হচ্ছে হনুমান বা বিড়ালের কাজ। অথবা পাখিরা ঝটাপটি করতে করতে ফেলে দিয়েছ টবটা।

–আমার কিন্তু তা মনে হচ্ছে না। সন্ধে নেমে গেলে এত অ্যাকটিভ থাকে না পশুপাখিরা। আমি নিশ্চিত এটা তাদের থেকে উন্নত প্রাণীর কাজ। কেউ ছাদে উঠে কাজটি করে, খিল দিয়ে নেমে গেছে। বললেন দীপকাকু।

সমরেশবাবু বলে ওঠেন, কে হতে পারে সেই লোক?

–জানা যেত, যদি না আপনি আমার আগে এখানে এসে দাঁড়াতেন। বদমাইশটার পায়ের ছাপ মুছে গেছে।

–আমি মুছে দিয়েছি মিন করছেন না তো?

সমরেশবাবু কথার কোনও উত্তর না দিয়ে দরজার দিকে এগোলেন দীপকাকু।

ঝিনুক, দীপকাকু এখন ট্যাক্সিতে। ঝিনুককে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরবেন দীপকাকু। একটু আগেই তাঁকে প্রায় খুন করার চেষ্টা হয়েছে, সেটা নিয়েই নিশ্চয়ই ভেবে যাচ্ছেন। ঝিনুকও ওই ভয়ঙ্কর মুহূর্তটার ঘোর এখনও কাটাতে পারছে না। আর একটু হলেই দীপকাকু ‘নেই’ হয়ে যেতেন।

নোটিফিকেশনের সাউন্ড হল দীপকাকুর মোবাইলে। প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বার করলেন। স্ক্রিনের উপর চোখ রেখে পড়তে লাগলেন টেক্সট, হাসি ফুটে উঠল মুখে। ফোন সেটটা ঝিনুককে দিয়ে বললেন, পড়ো।

এস এম এস এসেছে। রোমান হরফে লেখা আছে, ‘ওটা ছিল থ্রেটনিং। ইচ্ছে করে টিপ ফসকেছি, তাই বেঁচে গেলেন। কেসটা ছেড়ে দিন। নয়তো পরের বার টিপ ফসকাবে না।’… পড়া শেষ করে ঝিনুক অবাক হয়ে দীপকাকুর দিকে তাকায়। উনি মুচকি হাসিসহ বললেন, কোন নাম্বার থেকে এসেছে দেখো!

নাম্বারটা দেখে বিস্ময়ের চূড়ায় পৌঁছে যায় ঝিনুক! এ তো সেই নাম্বার, ডা. রায়ের মৃত্যুর আগে যে নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল। এটা দেখার পরও দীপকাকু হাসছেন!

কলকাতায় সবে আলো ফুটছে। ঝিনুক, দীপকাকু এখন ওয়াটগঞ্জের ফুটপাতে উবু হয়ে বসে। দু’জনের মধ্যে দূরত্ব ফিট বিশেক। উল্টো ফুটপাতের গায়ে ডা. রায়ের ড্রাইভার নন্দ গড়াইয়ের বাড়ি। নন্দ গড়াইকে ধরার পরিকল্পনা নিয়ে ঝিনুকরা ওঁত পেতে আছে। ঝিনুকরা ফুটপাতে থাকলেও, আসলে মিশে আছে একটা রুটি তৈরির দোকানে। এরা হিন্দিভাষী। ভোর থেকেই গোটা পরিবার মিলে ফুটপাতে উনুন জ্বেলে রুটি, লেট্টি তৈরি করতে বসে যায়। গতকাল দীপকাকু জায়গাটা দেখে গেছেন। তারপর অফিসার সাহাকে ফোনে বলেছেন জি আর পি’র জিপ যেন দীপকাকু-ঝিনুককে ভোররাতে এই দোকানে নামিয়ে দিয়ে যায়। তার সঙ্গে এই পরিবারটিকে রেল পুলিশ বলবে দীপকাকু-ঝিনুক তাদের লোক। একজনের উপর নজর রাখার জন্য এখানে থাকছে। এদেরকে ফ্যামেলির মেম্বারের মতো সঙ্গে রাখো। এরা যে পুলিশের লোক বাইরের কেউ যেন না জানে।

পুলিশের নির্দেশ সাধারণ মানুষ মান্য করে। এরাও করছে। আপন করে নিয়েছে ঝিনুকদের। এদের সঙ্গে মিশে থাকার জন্য ঝিনুক-দীপকাকুকে ছদ্মবেশ নিতে হয়েছে। ঝিনুক পরে আছে রংচটা সালোয়ার-কামিজ, পায়ে প্লাস্টিকের চটি। দীপকাকুর পরনে সাত পুরনো পাজামা, শার্ট আর হাওয়াই চটি। আজ এই পোশাকেই বাইক চালিয়ে রাত তিনটের সময় ঝিনুকদের বাড়ি এসেছিলেন দীপকাকু। আসবেন বলে রেখেছিলেন বলে চিনতে অসুবিধে হয়নি। নয়তো এরকম নিখুঁত ছদ্মবেশে ওঁকে চেনা অসম্ভব ছিল। ঝিনুকের এই ড্রেস দীপকাকুই এনেছিলেন সঙ্গে করে। বলেছিলেন, এগুলো পরে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও। জি আর পি’র গাড়ি আসার টাইম হয়ে গেল।

এত সব আয়োজন দেখে বাবা দীপকাকুকে বললেন, আমার গাড়িটা নিয়ে গেলেই তো পারতে। ঘাপটি মেরে বসে থাকতে ওতেই। নন্দ গড়াই বাড়িতে ঢুকতে গেলেই গিয়ে ধরতে।

উত্তরে দীপকাকুর যুক্তি ছিল, নন্দ গড়াইয়ের বাড়ির রাস্তাটা সরু। বড়গাড়ি ঢুকে এলে আমাদের গাড়ি সরাতে হবে। সেটা যদি নন্দ বাড়ি ঢোকার সময় ঘটে। ওকে খেয়ালই করতে পারব না। তা ছাড়া বাড়ি ঢোকার আগে নন্দ গড়াই পাড়ার পরিস্থিতিটা নিরাপদ কিনা বুঝে নেবে। সেখানে বাড়ির উল্টো দিকে অচেনা গাড়ি দেখলে সন্দেহ হবে ওর। এই ছদ্মবেশের প্ল্যানটাও সেই কারণে, ঝিনুকদের যাতে বেপাড়ার না মনে হয়।

নন্দ গড়াই আজ তার বাড়ি আসতে পারে, এই সম্ভাবনাটা দীপকাকু বার করেছেন বেশ অদ্ভুত কায়দায়। গত পরশুর আগের দিন ডা. রায়ের বাড়ির ছাদ থেকে টব ফেলে দীপকাকুকে যখন থ্রেট করা হল ঝিনুকদের বাড়ি এসে দীপকাকু বলেছিলেন, আমাদের এখন প্রধান কাজ নন্দ গড়াইকে খুঁজে বার করা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ওর থেকেই পাওয়া যাবে। যেগুলো গোপন করে নন্দ লুকিয়ে বেড়াচ্ছে।

–কী করে খুঁজে পাবে? সে তো ফোন অফ করে রেখেছে। বলেছিলেন বাবা।

দীপকাকু বাবার কথার উত্তর না দিয়ে ঝিনুকের দিকে নিজের অ্যান্ডড্রয়েড ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, দেখো তো নন্দ গড়াইয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে কি না। তাপস কুণ্ডুর ফ্রেন্ডস লিস্ট থেকে ওকে খুঁজবে। তাপসকে সহজে পেয়ে যাবে। ওকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অ্যাকসেপ্ট করতে বলেছিলাম। করেছে।

বেশিদিন হয়নি দীপকাকু ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তবে তাতে প্রকৃত দীপকাকুকে পাওয়া যাবে না। কভার ফটো নেই। ডি পি-টা একটা হরিণের মুখের। অ্যাবাউটে শুধু সেলফ এমপ্লয়েড লেখা। অ্যাকাউন্টটা তদন্তের কাজে ব্যবহার করার জন্য করেছেন।

নন্দ গড়াইয়ের প্রোফাইল পাওয়া গিয়েছিল। দীপকাকুর আন্দাজ মতো ঝিনুক বার করেছিল একটা দারুণ ব্যাপার, তিনদিন বাদেই নন্দ গড়াইয়ের জন্মদিন। গত বছরের জন্মদিনের বেশ কিছু ফটো আছে নন্দ গড়াইয়ের প্রোফাইলে। বাবা-মা-কে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছে। বাড়ির মেঝেতে সাজিয়ে খেতে দেওয়া হয়েছে নন্দ গড়াইকে। দীপকাকুকে ফোনটা দিয়ে ফটোগুলো দেখতে বলেছিল ঝিনুক। উনি প্রোফাইল থেকে আরও একটা ফটো বার করলেন। যেটা সম্প্রতি পোস্ট করেছে নন্দ গড়াই। ছবিটা তার নিজের। একটা গাড়ি সারানোর গ্যারেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ফটোটা বাবা আর ঝিনুককে দেখিয়ে দীপকাকু বলেছিলেন, লোকটা এত বোকা, ভেবেছে এই ফটোতে বোঝা যাবে না ও কোথায় আছে। আরে বাবা, তোমার পিছনে যে ক’টা গাড়ির নাম্বার প্লেট দেখা যাচ্ছে, সবই ওয়েস্ট বেঙ্গলের। পশ্চিমবঙ্গেই গা ঢাকা দিয়ে আছে নন্দ গড়াই। খুব সম্ভাবনা আছে জন্মদিনে একবার বাড়িতে আসার।

তখনই দীপকাকু সিদ্ধান্ত নেন আজ নন্দ গড়াইকে ধরার চেষ্টা করা হবে। এরপর ঝিনুক সেই কৌতূহলটা মেটানোর জন্য দীপকাকুকে বলেছিল, ডাক্তারবাবুর ফাইলের যে কাগজটা আপনি পকেটে পুরলেন, ওটাতে কী সূত্র আছে?

–হয়তো অনেক কিছু আছে অথবা ক্লুটা কোনওটা কাজে লাগবে না। যাচাই না করা অবধি বলা কঠিন। উত্তর দিয়েছিলেন দীপকাকু। আসলে বুঝিয়েছিলেন ব্যাপারটা এখনই ভাঙতে চান না।

সে যাই হোক, পরিস্থিতি আপাতত যা দাঁড়িয়েছে, বাবা তো বটেই, অফিসার সাহাও দীপকাকুকে জানিয়েছে্ন যে, ডা. রায়ের মৃত্যুর পিছনে ষড়যন্ত্র হয়েছে, এই অনুমান আপনার একেবারে অব্যর্থ। নয়তো দীপকাকুকে ওরকম মারাত্মক হুমকি দেওয়া হত না। ঘাতক সেই ফোন নাম্বারটাও সচল হত না নতুন করে। ওই নাম্বারটাই ডাক্তারবাবুকে রেললাইনের উপর অন্যমনস্ক করে দিয়েছিল।

মাঝের দু’দিন এই কেসটা নিয়ে দীপকাকু কী কী কাজ করেছেন, ঝিনুক জানে না। একটা তথ্যই শুধু দিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকের জন্য যে নার্সিংহোমে অ্যাডমিটেড হয়েছিলেন ডা. রায়, দীপকাকু সেখানে গিয়েছিলেন। রিপোর্ট নিয়েছেন ডাক্তারবাবুর তখনকার অবস্থার। তাতে যা দেখা যাচ্ছে, হার্টে কোনও ব্লক ছিল না ডা. রায়ের। ব্লাড প্রেশার ছিল হাই আর হার্ট অ্যাটাকের সমস্ত সিম্পটমই ছিল। নার্সিংহোমের ডাক্তাররা মনে করছেন, যে কোনও কারণেই হোক, কিছুক্ষণের জন্য ডা. রায়ের হার্টের ধমনী ব্লক হয়েছিল।

বাবা কিন্তু এই কেসের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে দীপকাকু যেদিন ঝিনুককে বাড়ি দিতে এলেন। ঘটনাটা শুনে বাবা বললেন, আততায়ী তার মানে ও বাড়িতেই আছে। টবটা যখন পড়ল ও বাড়ির ছাদ থেকে।

দীপকাকু বলেছিলেন, পাশের বাড়ির ছাদ থেকেও আততায়ী চলে আসতে পারে। ডান পাশের বাড়িটা ডা. রায়ের বাড়ির একেবারে গা লাগোয়া। আবার এমনও হতে পারে যে টবটা ফেলেছে, সে আসল অপরাধী নয়। মূল অপরাধী তাকে দিয়ে ফেলিয়েছে। মেন কালপ্রিট ডাক্তারবাবুর দুই ভাই কিংবা বাইরের যে কেউ হতে পারে। অর্ডার দিয়ে ফেলানো হয়েছে টবটা।… এসব ভাবতে ভাবতে ঝিনুকের চোখ বারে বারে চলে যাচ্ছে লিট্টি বানানোর দিকে। খাবারটার নাম শুনেছে আগে, বানাতে দেখছে প্রথমবার। মিষ্টির দোকানের খাস্তা কচুরির মতো দেখতে। তেলে বা ঘিয়ে ভাজছে না এরা। জ্বলন্ত  উনুনের উপর তারের জাল রেখে সেঁকছে। দূরে উবু হয়ে বসে থাকা দীপকাকুকে হঠাৎ উঠে আসতে দেখা গেল। ঝিনুক সচকিত হয়ে তা্কায় উল্টো ফুটপাতে নন্দ গড়াইয়ের বাড়ির দিকে। না, কাউকে দেখা যাচ্ছে না। দীপকাকু ঝিনুকের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, খিদে পেয়েছে?

সত্যিই খিদে পেয়েছ ঝিনুকের। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠেছে বলেই হয়তো। দীপকাকু উত্তরের প্রত্যাশা না করে লিট্টি বানাচ্ছেন যে মহিলা, তার কাছে পৌঁছে গেলেন। দুটো প্লেটে একটা করে লিট্টি নিয়ে এসে বসলেন ঝিনুকের পাশে। একটা প্লেট ঝিনুককে দিয়ে বললেন, খাও। আগে তো কখনও খাওনি। দারুণ টেস্ট!

লিট্টির সঙ্গে আচার দেওয়া হয়েছে। ঝিনুক গরম লিট্টিতে আচার মাখিয়ে কামড়ে দিল। সত্যিই অপূর্ব খেতে! মাকে বানাতে বলতে হবে। বানানোটা দেখে নিয়েছে ঝিনুক। দ্বিতীয় কামড় মারতে যাবে, দীপকাকু প্লেট ফুট পাতে রেখে ঝট করে উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, ওই মনে হয় আসছে।

ফুটপাত ক্রস করছেন দীপকাকু। ঝিনুকও চলল। তাড়াহুড়ো করছেন না দীপকাকু, ঢিমে তালে এগোচ্ছেন। তাড়াহুড়ো করলে পাখি পালাবে। বাড়ির দিকে হেঁটে যেতে যেতে রাস্তার চারপাশটা ভালো করে দেখে নিচ্ছে নন্দ গড়াই। ফেসবুকের ফটো দেখেছিল বলেই ঝিনুক নন্দ গড়াইকে চিনতে পারছে। নন্দ গড়াইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন দীপকাকু। ঝিনুক দশ ফুট দূরত্ব থেকে স্পষ্ট শুনল দীপকাকু ওকে বলছেন, হ্যাপি বার্থ ডে নন্দ গড়াই।

চমকে দীপকাকুর দিকে তাকাল নন্দ গড়াই। তারপর যেটা করল, দীপকাকু তার জন্য বোধহয় প্রস্তুত ছিলেন না। সজোরে দীপকাকুকে ধাক্কা মেরে নন্দ গড়াই দৌড়োতে লাগল। দীপকাকু পড়ে গেছেন মাটিতে। ঝিনুক দেরি না  করে নন্দ গড়াইকে ধরতে স্প্রিন্ট টানছে। ধরে ফেলতে পারবে বলেই মনে হচ্ছে। প্র্যাকটিসে আছে এখন। লোকটা কাছাকাছি পৌঁছতেই ঝিনুক তার ক্যারাটে শিক্ষা প্রয়োগ করে। স্পট জ্যাম্পে ডান পাটা ছুঁড়ে দেয় নন্দ গড়াইয়ের কোমর লক্ষ করে। ফুটাপাতে ছিটকে পড়ল নন্দ গড়াই। ঝিনুকও পড়েছে। নন্দ গড়াই উঠে দাঁড়ানোর আগেই দীপকাকু এসে ওর এক হাত মুচড়ে মাটিতে ঠেসে ধরলেন।  পিস্তল বার করেছেন দীপকাকু, সেটা গড়াইয়ের মাথায় ঠেকিয়ে ঝিনুককে বললেন, ট্যাক্সি ডাকো।

চিত্রকর: শুভ্রনীল ঘোষ                                                                       পরের পর্ব আগামী শুক্রবার

রহস্য উপন্যাসের আগের পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

আড়ালে আততায়ী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More