আড়ালে আততায়ী ১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়

    এই রুমে দু’টো দরজা। যেটা দিয়ে ঢুকেছিল ঝিনুকরা, সে দিকে না গিয়ে অন্য দরজাটা লক্ষ্য করে এগোলেন তাপস কুণ্ডু। ঘরের বাকি তিনজন ওঁকে অনুসরণ করল।

    একটা প্যাসেজে এসে পড়েছে ঝিনুকরা। আধো অন্ধকার প্যাসেজ। দেওয়ালের সুইচ টিপে আলো জ্বালালেন তাপসবাবু। কিছুটা এগোতেই কিচেন, ডান দিকে। দীপকাকু দাঁড়িয়ে পড়লেন। কিচেনের ভিতরে চোখ বুলিয়ে বললেন, ডাক্তারবাবুর একার রান্না এখানেই হত? ঘরটা ব্যবহার হত বোঝা যাচ্ছে।

    উত্তর দেওয়ার কথা তাপসবাবুর। উনিই বললেন। একার রান্না নয়, দু’জনের। হারুও খেত। রান্নাও করত সে।

    –ডাক্তারবাবুর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ভাইয়েরা ওঁকে নিজেদের কাছে খেতে বলেননি? জানতে চাইলেন দীপকাকু।

    তাপস কুণ্ডু বললেন, বলেছে কি না বলতে পারব না। আমি যবে থেকে কাজ করছি তিন ভাইয়ের আলাদা রান্নাঘরই দেখে এসেছি।

    আট বছর তাপসবাবু ডাক্তারবাবুর কাছে আছেন, তথ্যটা ওঁর থেকেই পাওয়া। কিচেনের দরজা ছেড়ে এগোলেন দীপকাকু। কয়েক পা গিয়েই বাঁ দিকে তালা বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়াল ঝিনুকরা। তাপসবাবু বললেন, এটাই ওষুধের ঘর।

    দীপকাকুর প্যান্টের পকেটে আছে সমরেশবাবুর দিয়ে যাওয়া চাবি। সবগুলো বার করলেন। ওষুধ ঘরের চাবি বেছে নিয়ে তালা খুললেন তাপসবাবু। ঘরে ঢুকে সুইচ টিপে আলো জ্বালালেন। ঝিনুকরা একে একে ঢুকল ঘরে। জানলা সব বন্ধ। হোমিওপ্যাথি ওষুধের গন্ধে ম ম করছে ঘর। আসলে অ্যালকোহলের গন্ধ। যা হোমিওপ্যাথি ওষুধের প্রধান উপাদান। গন্ধের চোটে মাথা ঝিমঝিম করছে ঝিনুকের।

    ঘরটাকে বাস্তবিকই ল্যাবরেটরি আখ্যা দেওয়া যায়। ছোট বড় নানা রকমের শিশি, জার। তার কোনটাতে তরল, কোনওটায় সাদা পাউডার। হোমিওপ্যাথি ওষুধে যাকে   সুগার অব মিল্ক বলে। দীপকাকু জার-শিশি একটা করে তুলে দেখছেন। দেখছেন মি. সাহাও। ওঁরটা অবশ্য অভিনয়। যেটা দীপকাকু করতে বলেছেন ওঁকে। তাপসবাবুর দিকে ঘাড় ফিরিয়ে দীপকাকু বললেন, আপনি ঠিকই বলেছিলেন, কোনও শিশি বা জারের গায়ে ওষুধের আসল নাম নেই। লেবেল পাল্টে কোড নাম দিয়েছেন ডাক্তারবাবু

    একটু ভেবে নিয়ে দীপকাকু ফের বলেন, আচ্ছা, এ সব হোমিওপ্যাথি ওষুধই তো? অ্যালোপ্যাথি ট্যাবলেট গুঁড়ো করে সুগার অব মিল্কে মিশিয়ে চালাতেন না তো? অনেক অসৎ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার এমন করে শুনেছি।

    তাপসবাবু বলে উঠলেন, না না, আমাদের ডাক্তারবাবু সে সব করতেন না। হোমিওপ্যাথির উপর ছিল তাঁর বিরাট আস্থা। তবে আমার আন্দাজ, উনি হোমিওপ্যাথির দু-তিনরকম ওষুধ ভাগ মতো মিশিয়ে, নতুন ওষুধ তৈরি করতেন। যদিও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এমনটা করার কথা নয়। মানে কলেজে পড়ানো হয় না। তবু অনেক হোমিওপ্যাথি ডাক্তারই এটা করে থাকে।

    –ডা. রায় যে এমন করতেন, কিসের ভিত্তিতে বলছেন? আপনি কি দেখেছেন? আপনাকে তো এ ঘরে ঢুকতেই দেওয়া হত না বলছেন।

    দীপকাকুর কথার উত্তরে তাপস কুণ্ডু বললেন, না, আমি দেখিনি। আমার আগে যিনি কাজ করতেন, শ্রীবাসবাবু। তাঁর কাছে শুনেছি। ডাক্তারবাবু এমনিতে দরজা বন্ধ করে ওষুধ তৈরি করতেন। শ্রীবাসবাবু কয়েকবার দরজা ঠেলে ঢুকে পড়েছিলেন। তারপর থেকে ভিতরের ছিটকিনি তুলে দিতেন ডাক্তারবাবু।

    হাতের শিশি-বোতল যথাস্থানে রেখে দীপকাকু বললেন, ঘরটা কেমন যেন অগোছাল লাগছে। সাধারণত ল্যাবরেটরিতে যারা কাজ করেন, জায়গাটা গুছিয়ে রাখেন। ডাক্তারবাবু এরকম অবস্থায় রাখতেন ঘরটা?

    –আমার যেহেতু ভিতরে ঢোকার পারামিশন ছিল না, জানতাম না ঘরটা কেমন অবস্থায় থাকত। এ ব্যাপারটা হারু ভাল বলতে পারবে। মাঝে মাঝে হারু ঘরটা ঝাড়পোছ করত।

    –হারুকে একবার ডেকে আনুন তো।

    দীপকাকুর নির্দেশ শুনে ঘর ছেড়ে চলে গেলেন তাপস কুণ্ডু। বড় করে শ্বাস ছেড়ে অফিসার সাহা বলে উঠলেন, কী মশাই অনেকক্ষণ ধরে তো ঘাঁটাঘাঁটি করছেন, লাভ হচ্ছে কিছু।

    ঘরের এক কোণে বইয়ের র‍্যাক আর টেবিল চেয়ার, সেই দিকে এগিয়ে যেতে যেতে দীপকাকু বললেন, লাভ যে একেবারে হয়নি বলব না। তবে লক্ষ্যে পৌঁছোতে এখনও অনেক দেরি।

    আপনি ঠিক কী ধরনে ক্লু খুঁজছেন। কিছুই তো বুঝছি না। হিন্টও দিচ্ছেন না কোনও। মাঝখান থেকে ঘুম পেয়ে যাচ্ছে আমার। বলে সত্যি সত্যিই বড় একটা হাই তুলে ফেললেন অফিসার সাহা।

    দীপকাকু টেবিলের উপরে থাকা বই-খাতাগুলো দেখছেন। একটা মোটা ডায়েরি তুলে নিয়ে পাতা উলটে পড়তে থাকলেন। একটু পরে বললেন, এ তো দেখছি রীতিমতো ফর্মুলা লেখা আছে। যদিও সব কোড ল্যাঙ্গুয়েজ। অঙ্কের প্লাস, মাইনাস ধরনের সাইনগুলোই শুধু চেনা লাগছে।

    ঝিনুক এগিয়ে গিয়ে চোখ রাখল ডায়েরির পাতায়। দীপকাকু একেবারে ঠিক কথাই বলেছেন। মি. সাহা বললেন, আমি এরকম আরও কয়েকজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কথা জানি, যারা কী ওষুধ দিচ্ছে, অন্যকে জানতে দেয় না। ওষুধের কোড তৈরি করে রাখে।

    –স্যর, হারু। তাপস কুন্ডুর গলা।

    দরজার দিকে ঘুরে তাকালেন দীপকাকু। একই সঙ্গে মি. সাহা এবং ঝিনুকও। তাপসবাবুর পাশে বছর তিরিশেকের হারু। একটু গেঁয়ো ভাব, ঘাবড়ে আছে বেশ। দীপকাকু জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পুরো নাম?

    –হারাধন প্রামানিক। বলল হারু।

    দীপকাকু পরের প্রশ্নে গেলেন, এই ঘরটা তো তুমিই  পরিষ্কার করো। ডাক্তারবাবু কি বই-খাতা, শিশি-বোতল এরকম এলোমেলো করে রাখতেন?

    –আমি ও সব দিকে দেখতাম না। কখনও হাতও লাগাইনি ওষুধপত্তরে। ডাক্তারবাবুর মানা ছিল। শুধু মেঝে ঝাঁটা দেওয়া মোছা ছিল আমার কাজ। বলল হারু।

    অফিসার সাহা ধমকে বলে উঠলেন, ঘরে আসতে, চোখে পড়ত না জায়গাটা অগোছাল আছে কি না, তা কি কখনও হয়?

    থতমত খেয়ে হারু বলে, কখনও দেখতাম পরিষ্কার আছে, কখনও আবার ছড়ানো ছেটানো।

    –তুমি লাস্ট কবে এ ঘর পরিষ্কার করেছ? জিজ্ঞাসা করলেন দীপকাকু।

    হারু বলল, ডাক্তারবাবু মারা যাওয়ার আগেই ঝাড়পোছ যা  হয়েছে। তারপর আর এ ঘর পরিষ্কার করা হয়নি।

    –আচ্ছা, এবার তোমায় একটা অন্য কথা জিজ্ঞেস করি, মারা যাওয়ার ক’দিন আগে ডাক্তারবাবু কি একটু অস্থির মতো ছিলেন? মানে, সব সময় কিছু চিন্তা করছেন, ঘুম ঠিকঠাক হচ্ছে না…

    দীপকাকুর প্রশ্নের উত্তর দিতে সময় নিচ্ছে হারু। বলে ওঠে, না, সেরকম তো কিছু মনে পড়ছে না।

    –ঠিক আছে তুমি এখন যাও। সমরেশবাবুকে একবার নীচে আসতে বলো। আমরা বাইরের ঘরে আছি। বললেন দীপকাকু।

    হারু ফিরে গেল। দীপকাকু দরজার দিকে পা বাড়িয়ে তাপসবাবুর উদ্দেশে বললেন, ওই ঘরটা আগের মতোই তালা দিয়ে রাখুন।

    পেশেন্ট পার্টির বসার ঘরটায় ফিরে এসেছে ঝিনুকরা। বাইরে সন্ধে নেমেছে। ঘরের আলো জ্বালিয়েছেন তাপস কুণ্ডু। অফিসার সাহা আগের মতোই তাপসবাবুর চেয়ার-টেবিলে। দীপকাকু টুলে। ঝিনুক, তাপস কুণ্ডু দাঁড়িয়ে। ভিতর দরজা দিয়ে ঘরে এলেন সমরেশবাবু। ওঁর বসার জন্য একটা টুল আগে থেকেই তাপসবাবু দীপকাকুদের সামনে রেখেছিলেন। অফিসার সাহা হাত নির্দেশ করে ওটায় বসতে বললেন সমরেশবাবুকে। বসলেন উনি। কথা শুরু করলেন দীপকাকু, আপনার থেকে কয়েকটা জিনিস জানার আছে।

    –বলুন। যতটা জানি বলব। বললেন সমরেশবাবু।

    দীপকাকু জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের, মানে বাড়ির লোকেদের অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তারবাবুর ওষুধ খেতেন, নাকি অন্য কোনও অ্যালোপ্যাথি হাউজ ফিজিশিয়ানকে দেখান আপনারা?

    –ছোট খাটো রোগে আমরা দাদার ওষুধই খেতাম। সিরিয়াস কিছু হলে বাড়ির কাছে একজন অ্যালোপ্যাথ আছেন, তাকে দেখাই।

    সমরেশবাবু উত্তর শুনে দীপকাকু এবার জানতে চান, ডাক্তারবাবু নিজের জন্য কি অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার সাহায্য নিতেন?

    –একেবারেই না। দাদার অবশ্য রোগভোগ বিশেষ ছিল না। হাই ব্লাড প্রেশার ছিল। নিজের ওষুধই খেত দাদা। কিন্তু তা দিয়ে সামলাতে পারেনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল একদিন। নার্সিং হোমে অ্যাডমিট করাতে হয়েছিল।

    ডাক্তারবাবুর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল দীপকাকু জানেন। ডা. রায়ই বলেছিলেন। নার্সিংহোম যাওয়াটা জানত না ঝিনুকরা। অসুস্থতার ব্যাপারটা না জানার ভান করে দীপকাকু জিজ্ঞেস করলেন, ঠিক কী হয়েছিল ডাক্তারবাবুর? নার্সিংহোম মানে তো সিরিয়াস ব্যাপার!

    –ডাক্তাররা বলছে মাইলড অ্যাটাক। প্রেশার খুব হাই ছিল। নিজে বুঝতে পারেনি। বন্ধুর সঙ্গে ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের প্রোগ্রাম দেখতে যাচ্ছিল দাদা। গাড়িতে হার্ট অ্যাটাক হল। কমলদা দাদাকে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়েছিল বলেই সে যাত্রায় বোধহয় বেঁচে গেল?

    –কমলদা কে? দীপকাকু জানেন, তবু জিজ্ঞাসা করলেন।

    সমরেশবাবু বলছেন, যে বন্ধুর কথা বললাম সে। পুরো নাম কমল বিশ্বাস। চেতলায় থাকে। দাদার পুরনো বন্ধু। কমলদা গাড়ি নিয়ে এসেছিল দাদাকে ফাংশানে নিয়ে যেতে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরই দাদা অসুস্থ বোধ করতে থাকে। শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়। দাদা নিজেই কমলদাকে বলে, আমাকে হসপিটালে নিয়ে চ। মনে হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক। কাছেই আর এম সি নার্সিংহোমটা ছিল, কমলদা ওখানেই অ্যাডমিট করে দাদাকে।

    –ক’দিন ছিলেন নার্সিংহোমে? জানতে চাইলেন দীপকাকু।

    সমরেশবাবু বললেন, দু’রাত, তিন দিন। দাদাই জেদ করে বাড়ি চলে এল। তবে ক্লিনিকাল টেস্ট সব হয়েছে। সিরিয়াস কিছু পাওয়া যায়নি।

    –তারপর থেকে অ্যালোপ্যাথি ওষুধই খেতেন নিশ্চয়ই। বললেন দীপকাকু।

    নিচের ঠোঁট উল্টে গলায় হাল ছাড়া ভাব এনে সমরেশবাবু বললেন, কোথায় আর খেল! এক সপ্তাহ যেতেই সব অ্যালোপ্যাথি ওষুধ বাতিল করে দিল। ফিরে গেল নিজের ওষুধে। সকালে উঠে ওষুধ পুরিয়া করে রাখা, সময় ধরে সেগুলো খাওয়া দাদার অনেকদিনের অভ্যাস। আবার সে ভাবে ওষুধ খাওয়া শুরু করেছিল। আমরা এটা জানলাম হারুর থেকে। দাদাকে এসে বললাম, এখনই কেন বন্ধ করলে অ্যালোপ্যাথি? আরও অন্তত কয়েকমাস খাও। এতবড় একটা ফাঁড়া থেকে অ্যালোপ্যাথিই তো বাঁচাল। দাদা আমার কথা শুনল না। বলল, হোমিওপ্যাথি অ্যালোপ্যাথির চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।

    সমরেশবাবুর বলা শেষ হতেই ভিতর দিকের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকলেন এক ভদ্রলোক। পরনে অফিসের পোশাক, পায়ে অবশ্য হাওয়াই চটি। হাতজোড় করে দীপকাকু এবং মি. সাহার উদ্দেশে বললেন, নমস্কার, আমি এ বাড়ির ছোটছেলে কমলেশ রায়।

    দীপকাকু ভঙ্গিতে প্রতি নমস্কার জানালেন। অফিসার সাহা কিন্তু মেজাজের গলায় বলে উঠলেন, আপনাকে তো ডাকা হয়নি। আপনি কেন এলেন ঘরে?

    থতমত খেয়ে গেলেন কমলেশ রায়। বললেন, না, মানে… মেজদা অফিসে ফোন করে বলল বাড়িতে পুলিশ এসেছে। সার্চ হচ্ছে বড়দার ঘর। অফিসে থেকে ফিরে এক গ্লাস জলও খাইনি। জাস্ট জুতোটা ছেড়ে চলে এলাম দেখতে কেন হচ্ছে তল্লাশি!

    –মেজদা সার্চ হচ্ছে বললেন অথচ কেন হচ্ছে বলেননি? বিস্ময়ের গলায় প্রশ্নটা রাখলেন মি. সাহা।

    কমলেশবাবু বললেন, বলেছে মেজদা। ব্যাপারটা আমার কাছে ক্লিয়ার হয়নি। আমাদের বোন নাকি রেল পুলিশে কমপ্লেন করেছে, বড়দার অ্যাক্সিডেন্টটা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে তার। ফোনে মেজদার থেকে এটা জানার পর বোনকে কল করলাম। ফোন তুলছে না সে। কেন বড়দার মৃত্যুটাকে শুধুই অ্যাক্সিডেন্ট মনে হচ্ছে না বোনের, জিজ্ঞেস করতাম। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, কেন সে এই অভিযোগ আনছে?

    –আপনার বোন কার থেকে নাকি খবর পেয়েছেন, ডা. রায়কে ধাক্কা মেরে ট্রেনের সামনে ফেলা দেওয়া হয়েছে। সত্যিই এটা ঘটেছে কি না, ঘটলে কে ঘটিয়েছে? সেটারই ইনভেস্টিগেট করছি আমরা।

    –ধাক্কা মেরে ফেলা হয়েছে ট্রেনের নীচে! বিস্ময়ের সঙ্গে অফিসার সাহার কথাটা রিপিট করলেন কমলেশ রায়।

    ঝিনুক বুঝতেই পারছে কমলেশবাবুর মুখ বন্ধ করতেই  সাহাবাবু তথ্যটা এভাবে পরিবেশন করলেন। এবার দীপকাকুকে বললেন, আমাদের এখানকার কাজ মোটামুটি শেষ। তাই তো নাকি মি. বাগচী?

    দীর্ঘক্ষণের অনুসন্ধান পর্বে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন অফিসার সাহা। দীপকাকু সেটা অনুধাবন করে বললেন, হ্যাঁ, আর কিছু দেখার নেই। একবার জাস্ট ডা. রায়ের গাড়িটা দেখব। আপনি কনস্টেবলদের নিয়ে থানায় চলে যান। আমি তো বাড়ি ফিরব। ট্যাক্সি নিয়ে নেবখন।

    –ওকে, তাই হোক। বলে সদর দরজার দিকে পা বাড়ালেন অফিসার সাহা।

    দীপকাকু এবার সমরেশবাবুকে বললেন, আপনার দাদার গাড়ি বাড়িতেই আছে তো?

    –আছে। গ্যারেজ বাগানে। চলুন। বলেও দাঁড়িয়ে গেলেন সমরেশবাবু। ফের বললেন, গাড়ির কাগজপত্র, মানে, ইন্সুরেন্স পেপার, পারমিট এসব কিন্তু আমার কাছে রেখে দিয়েছি। সেগুলো কি নিয়ে আসব?

    –নিয়ে আসুন। গাড়ির চাবিটাও আনবেন। ভিতরটা একবার দেখব।

    দীপকাকুর কথা শুনে ভিতর দরজার দিকে এগোলেন সমরেশবাবু। কমলেশবাবু দীপকাকুকে বললেন, চলুন, গ্যারেজে নিয়ে যাই আপনাকে।

                            #

    বাইরে সন্ধে নেমে গেছে। দোতলার জানলা গলে আলো পড়েছে বাড়ির গা লাগোয়া বাগানে। একধারে গ্যারেজঘর। আলো জ্বলছে সেখানেও। দীপকাকু ডা. রায়ের গাড়ি খুঁটিয়ে দেখছেন। গাড়ির ভিতরে ঢুকে এটা সেটা দেখে নিয়ে খুললেন ড্যাশবোর্ড। প্লাগওলা তার, কিছু টুলস বেরল। আবার সব জায়গা মতো রেখে বন্ধ করলেন। আজকের তল্লাশি পর্বে দীপকাকু শুধুমাত্র একটি কাগজই পকেটে পুরেছেন। তাতে কী আছে জানার জন্য ভীষণ কৌতূহল হচ্ছে ঝিনুকের। কিন্তু জানার এখন উপায় নেই।

    গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন দীপকাকু। বললেন, ঠিক আছে, দেখা হয়ে গেছে আমার। গাড়ি লক করে সাটার টেনে দিন গ্যারেজের।

     

    সমরেশবাবু গ্যারেজ বন্ধ করছেন। দীপকাকু পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কমলেশবাবুকে বললেন, আজকের মতো আমাদের কাজ শেষ। পরে দরকার পড়লে আবার আসতে হতে পারে।

    –নিশ্চয়ই আসবেন। বড়দার মৃত্যুর পিছনে যদি কোনও অপরাধমূলক ব্যাপার থেকে থাকে, আমরাও চাই সেটা প্রকাশ্যে আসুক। বললেন কমলেশবাবু।

    দীপকাকু এগিয়ে যাচ্ছেন গেটের দিকে। ঝিনুক অনুসরণ করতে যাবে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে উপর থেকে বস্তার মতো কী যেন আছড়ে পড়ল দীপকাকুর সামনে। আওয়াজ হল বিকট! বুক ফাঁকা হয়ে গেছে ঝিনুকের। একটুর জন্য বেঁচে গেলেন দীপকাকু! ডা. রায়ের দুই ভাই কী পড়ল দেখতে ছুটে এলেন। ঝিনুকও এগিয়ে গেল। গাছশুদ্ধু বিশাল টব পড়েছে ছাদ থেকে।

    দীপকাকু উত্তেজিত গলায় জানতে চাইলেন, ছাদের সিঁড়িটা কোন দিকে? দেখতে হবে কে ফেলল টবটা?

    –আসুন আমার সঙ্গে। বলে বাড়ির পিছন দিকে দৌড়োলেন সমরেশবাবু।

    চিত্রকর: শুভ্রনীল ঘোষ                                                                       পরের পর্ব আগামী শুক্রবার

    রহস্য উপন্যাসের আগের পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন

    আড়ালে আততায়ী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More