মেঘমল্লার– ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস / ১৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    প্রচেত গুপ্ত

    খুন হয়েছেন এক গায়িকা। সেই তদন্ত করতে গিয়ে উন্মোচিত আরও দু’টি খুন। আর সেই খুনের বৃত্তান্তের মাঝে উঠে এল মেঘমল্লার রাগ আর একটা রিভলভার। অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রচেত গুপ্তর প্রথম আদ্যোপান্ত ডিটেকটিভ উপন্যাস। মানুষের সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা, ঘৃণা, প্রতিশোধ আর তার শরীরের ভেতরে ঢুকে চলছে অপরাধীর সন্ধান। একেবারে আলাদা। প্রাপ্তমনস্ক। দ্য ওয়ালের ধারাবাহিক। আজ সপ্তদশ পর্ব।

    পিনাকী ভট্টাচার্য (‌মধুমালতীর প্রেমিকা, শেষে মধুমালতী তাকে প্রত্যাখ্যান করে)‌

    এই জেরার বেশির ভাগ অংশটাই কাহিনিতে পড়া হয়ে গেছে বসন্ত সাহার। তাই তিনি দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিলেন। কিছু লাইনের নিচে দাগ দিলেন কেবল।

    প্রশ্ন: পালিয়েছিলেন কেন?‌
    পিনাকী: ভয়ে।
    প্রশ্ন: কীসের ভয়?‌
    পিনাকী: শেষ ফোনে আমি মধুকে খুনের হুমকি দিয়েছিলাম।
    প্রশ্ন: সে কথা কে জানবে?‌
    পিনাকী: যদি মধু রেকর্ড করে রাখে। আপনারা যদি মোবাইলটা পান। পুলিশ সব পায়।
    প্রশ্ন: এতগুলো যদির কথা ভেবে একেবারে পালিয়ে গেলেন!‌


    পিনাকী চুপ।
    প্রশ্ন: আপনার ব্যাগ থেকে যে রিভলভারটা আমার পাওয়া গেছে সেটা কার?
    পিনাকী: এক সময়ে রাজনীতি করতাম। তখন এক জন রাখতে দেয়। পরে সে পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যায়। ওটা রেখে দিয়েছিলাম। যদি কাজে লাগে।
    প্রশ্ন: কী কাজ?‌ প্রেমিকাকে গুলি করে মারতে?‌
    পিনাকী: না, নিজেকে মারতে।
    প্রশ্ন: নিজেকে!‌ কেন?‌
    পিনাকী: যে কিছু পারে না, অসুস্থ মাকে দেখতে পারে না, ছোটো বোনের ঘাড়ে সব দায়িত্ব, একটা চাকরি পায় না, তার বেঁচে থেকে লাভ কী বলুন?‌
    প্রশ্ন: তার জন্য বন্দুক রাখতে হবে?‌ আত্মহত্যার তো আরও অনেক উপায় আছে।
    পিনাকী: কেমন যেন ভরসা লাগে। মনে হয়, যে কোনও সময়ে নিজেকে মেরে ফেলতে পারি।প্রশ্ন: ও। দেখুন পিনাকীবাবু, আপনার কাছ থেকে আমরা একটা রিভলভার পেয়েছি। যার কোনও লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। আপনাকে আমরা অ্যারেস্টও করছি না, আবার ছাড়ছিও না। আপনাকে ডিটেন করা হল। মধুমালতী যে গুলিতে মারা গেছে, তার ব্যালেস্টিক রিপোর্ট আমরা দেখব। আপনার রিভলভার পরীক্ষা করে দেখা হবে কোথাও মিল আছে কি না। তা ছাড়া আপনাকে আর্মস অ্যাক্টেও ফেলা হবে। বেআইনি ভাবে ওয়েপন ক্যারি করা যে একটা বড় অপরাধ, আপনি নিশ্চয় তা জানেন। আপনি অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত কি না তা-ও দেখতে হবে। সরি।
    পিনাকী: দেখুন। একটাই অনুরোধ, দেখবেন, আমার মা যেন খবরটা না পান।
    প্রশ্ন: সেটা আমরা চেষ্টা করব। আপনিও আমাদের সঙ্গে কো-অপারেট করুন। মধুমালতীর সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা এবং মনোমালিন্যের কথা বিস্তারিত ভাবে জানান।

    অস্বস্তি, লজ্জা এবং অপরাধবোধ নিয়ে রঞ্জনী এবং আর দুই পুলিশ অফিসারের কাছে সব বলেছে পিনাকী। বসন্ত সাহা ইতিমধ্যেই ফাইল পড়ে সে সব জেনে ফেলেছেন। যা নতুন, শুধু তার নীচে দাগ দিলেন।

    কোনও এক ঘনিষ্ঠ সময়ে মধুমালতী পিনাকীকে জানায়, এখনও সে বিলুকে ডিভোর্স করেনি। আইনত তারা এখনও স্বামী–‌স্ত্রী। বড় একটা অপরাধ করায় তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। আবার আশ্রয় দিয়েছে। করুণা এবং কৃতজ্ঞতায় আশ্রয় দিয়েছে। তবে এ বার আর স্বামী হিসেবে নয়। স্বামী হওয়ার ক্ষমতা বিলুর নেই। সে শারীরিক ভাবে অক্ষম।

    এর পরে একটা ফাইলে নোট আছে। রঞ্জনী রায়ই লিখেছেন। ব্যালেস্টিক রিপোর্টে দেখা গেছে, পিনাকীর রিভলভারটা চলেই না। সেখান থেকে গুলি করে মধুমলতী কেন, কাউকেই মারা সম্ভব নয়। রিপোর্ট বলছে, কমে করে দশ বছর এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অস্ত্র আইনে নাকি একটা প্রভিশন আছে, যে অস্ত্র ব্যবহার করা যায় না এবং অচল, তাকে  ‘‌অস্ত্র’‌ বলে না ধরলেও চলে। তবে তা কোথা থেকে নেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে একটি মামলা পুলিশ শুরু করতে পারে। মামলা অপেক্ষাকৃত হালকা হয়। সেই মামলা দিয়ে পিনাকীকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। তবে তাকে নিয়মমিত পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে।

    নোটে রঞ্জনী স্টার মার্ক দিয়ে লিখেছে, পিনাকী পুলিশকে জানিয়েছে, মধুমালতী হত্যার ঘটনার পরে সে স্টেজের বাঁ দিক থেকে মাথা ঢাকা দেওয়া এক জনকে দ্রুত পিছিয়ে আসতে দেখে।

    প্রশ্ন: হঠাৎ এই লোকের ওপর আপনার নজর পড়ল কেন?‌
    পিনাকী: আমাকে একটা জোরে ঠেলা মারে।
    প্রশ্ন: মুখ দেখেছেন?‌
    পিনাকী: না।
    প্রশ্ন: অনেকেই তো সেই সময়ে হুড়োহুড়ি করছিল। আপনি এই লোকটার কথা নির্দিষ্ট করে বলছেন কেন?‌
    পিনাকী: মনে পড়ছে তাই। কিছু আচরণ চোখে পড়ার মতো হয়। এই আচরণ সে রকম ছিল। স্টেজের থেকে লোকটার দূরত্ব ছিল খুব বেশি হলে কুড়ি ফুট।

    রঞ্জনী নোটে লিখছে, পিনাকী সম্ভবত বানিয়ে এ কথা বলেছে। যাতে তার ওপর থেকে পুলিশ সন্দেহ সরিয়ে নেয়।

    পুলিশ যে দিন পিনাকীকে ছেড়ে দেয়, সে দিন দাদাকে নিতে এসেছিল নন্দিনী। ক’দিন ঘুমোতে পারেনি। চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। রঞ্জনীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেল রঞ্জনী বাধা দেয়। মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে। নিচু গলায় বলে, ‘‌চিন্তা কোরো না। আমি কাউকে কিছু বলিনি। তুমি মন দিয়ে চাকরির পরীক্ষা দাও। তোমার দাদা যদি অপরাধী না হয়, তার কোনও ভয় নেই।’‌

    মোহন পাকড়াশি (‌ফাংশন অর্গানাইজার)

    ‌প্রশ্ন: মধুমালতী মেয়েটিকে আপনি কত দিন ধরে চেনেন?‌
    মোহন: জন্মানোর আগে থেকে?‌
    প্রশ্ন: কথাটার মানে বুঝতে পারলাম না।
    মোহন: মধুর মা লিপিকা সেনও এক জন সিঙ্গার ছিলেন। তাকে আমি অনেক ফাংশন দিয়েছি। তখন সবে তার বিয়ে হয়েছে। লিপিকা গাইত ভারি সুন্দর। মেয়ের থেকে মায়ের গলা অনেক ভাল ছিল। চেষ্টা করলে অনেক বড় গায়িকা হতে পারত। ফালতু মাচা সিঙ্গার হয়ে থাকতে হতো না।
    প্রশ্ন: কথাটা আপনি উইথড্র করুন।
    মোহন: কেন.‌.‌.‌মানে.‌.‌.‌কী বললাম ম্যাডাম?‌

    প্রশ্ন: কোনও গায়ক–‌গায়িকাই সামান্য নয়। তিনি কোথায় গাইছেন, তাতে কিছু এসে যায় না। গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিচ্ছেন, এটাই আসল কথা। কে বড় হলে বসে গাইছেন, কে পথের ধারে বাঁধা স্টেজে গাইছেন, কে ট্রেনে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন– তাতে কী হল?‌ পৃথিবীর অনেক বড় শিল্পী এক সময়ে ফুটপাথে গান শোনাতেন। কেউ রেস্টুরেন্ট, বারে গান গাইতেন। এক জন শিল্পী গান গেয়ে, বাজনা বাজিয়ে উপার্জন করছেন– এর মতো বড় কাজ আর হয় নাকি?‌ এই ধরনের ছোটো ছোটো স্টেজে যারা গান করেন, তাদের অনেকের মধ্যেই প্রতিভা আছে। এমনি এমনি হাজার হাজার মানুষকে মুগ্ধ করা যায়?‌ অনেক নামকরা শিল্পীও তো সো কলড্‌ মাচায় গান করেন। এ সব আপনি অনেক বেশি জানেন, এত দিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত।

    মোহন: সরি ম্যাডাম। আমি ক্ষমা চাইছি। কথাটা বলা আমার অন্যায় হয়েছে। তা ছাড়া আমিও তো এদের ওপরে নির্ভর করে চলেছি। সত্যি এদের অনেকেই খুব ট্যালেন্টেড। বুড়ো হয়ে গিয়েছি, অনেক বাজে কথা মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আপনার গান–‌বাজনার প্রতি এই রেসপেক্ট দেখে অবাক হচ্ছি দিদি।

    প্রশ্ন: মু্গ্ধ শুধু গান–‌বাজনার প্রতি হলেই তো হবে না, যারা গান–‌বাজনার করেন তাঁদেরও দেখতে হবে। এক জন শিল্পীকে যদি খুন হতে হয়, তা হলে সেটা আমাদের মতো পুলিশের জন্য শুধু চিন্তার নয়, সমাজের জন্যও লজ্জার। সেই কারণেই মধুমালতী হত্যা রহস্য আমাদের সমাধান করতে হবে।

    মোহন: অবশ্যই। আমি আপনাদের সবরকম সহযোগিতা করব।
    প্রশ্ন: গুড। মধুমালতীর মায়ের কথা কী বলছিলেন যেন।

    মোহন: লিপি খুবই প্রতিভাময়ী ছিল। ওর গলা ছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গলা। আমি তো মাঝেমধ্যেই ওর গান আলদা করে শুনতাম। আহা!‌ সে সব গান তো আর হুল্লোড়ে পাবলিকের সামনে গাওয়া যাবে না। মাঠঘাটের গান নয়। তাই আমি মাঝেমধ্যে একাই চলে যেতান। আহা!‌ বৃষ্টির দিনে শোনাতো, ‘দুলে ভরে দিন বিতে রে ভাইয়া।’ মেঘমল্লার রাগ। নাইনটিন ফর্টিটু, মাদার ইন্ডিয়া। বর‌ষা রে। ফিলমের নাম তানসেন। রাগ ওই মেঘমল্লার। নাইনটিন ফর্টি টু। আপনি নিশ্চয় জানেন দিদি। এখনও সেই গলা কানে ভাসে।

    প্রশ্ন: লিপিকাদেবীকে একটু সাহায্য করা যেত না?‌ যাতে শিল্পী হিসেবে আরও এগোতে পারতেন।

    ফাইলে লেখা আছে, এই পর্যায়ে মোহন পাকড়াশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ঝুঁকে পড়েন টেবিলের ওপর। গলা নামিয়ে বলেন, ‘‌চেষ্টা কম করেছিলাম?‌ লিপির বদমায়েশ বরটা আটকে দিত। সে কিছুতেই বউকে বড় হতে দেবে না, শিল্পী হতে দেয়নি। লোকটা খুব খারাপ। আপনারা যতটা জানেন তার থেকেও বেশি খারাপ। নানা ভাবে লিপিকে অত্যাচার করত। লিপি আমাকে সব বলত।’‌

    ‘‌কী বলত ?‌

    মোহন পাকড়াশি বলল, ‘‌দিদি, আপনি মধুর হত্যার তদন্ত করছেন। আপনাকে তো সব বলতেই হবে। সে যতই অস্বস্তি হোক। শিবনাথের জন্য লিপিকে বারবার গোপনে নার্সিংহোমে যেতে হত। শিবনাথ ঠিক করল ভ্যাসেকটমি করবে। যাতে লিপির গর্ভে আর সন্তান না আসে। ব্যবস্থা আমি করে দিলাম। ডক্টর হরিপ্রসাদ চাঁদ। প্রাইভেটে কাজ করেন। তিনি আজও বেঁচে আছেন। তিনি আমাকে লুকিয়ে  বলেছিলেন, কাজটা মনে হয় ঠিকমতো করা যায়নি। শিবনাথের শরীরে জটিলতা আছে। আমি বলেছিলাম, থাক, এখনই ওকে জানাতে হবে না। আমি লিপিকে সব জানিয়ে বলেছিল, সাবধানে থেকো। লিপি তার পরেও গর্ভে সন্তান নিল। মধুমালতী জন্মায়। শিবনাথ কিছুতেই বিশ্বাস করল না সন্তান তার। অপারেশনের পরে তার সন্তান হবে কী করে!‌ সে সন্দেহ করল.‌.‌.‌কিন্তু বউকে যে মেরে ফেলবে ভাবতেও পারেনি। সে দিন আকাশে খুব মেঘ জমেছিল.‌.‌.‌।’

     

    শিবনাথ সেন (‌‌মধুমালতীর বাবা)‌

    প্রশ্ন: আপনি কেন স্ত্রীকে খুন করেছেন?‌
    শিবনাথ: করিনি।
    প্রশ্ন: আপনার মেয়ে তো আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছিল।
    শিবনাথ: ও যা দেখেছিল তাই বলেছে। আমি খুন করেছি বলেনি।
    প্রশ্ন: আপনার স্ত্রীকে তা হলে কে খুন করেছিল।
    শিবনাথ: যে আমার মেয়েকেও মেরেছে।
    প্রশ্ন: সে কে?‌
    শিবনাথ: আমার নিয়তি। আপনি এখন যান, আমাকে একা থাকতে দিন।

     

    শ্যামাপদ মাল্লা (মধুমালতীকে লঞ্চে আমন্ত্রণ)‌

    প্রশ্ন: আপনি মধুমালতীকে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন।
    শ্যামাপদ: বাজে কথা।
    প্রশ্ন: মধুমালতী অনেককে বলেছেন।
    শ্যামাপদ: দিদিভাই, ও সব তো ঠাট্টা ছিল। সত্যি বলিনি। সত্যি যাকে খুন করা হয়, তাকে কেউ হুমকি দেয় না।
    প্রশ্ন: আমাকে ম্যাডাম বলবেন। আমি আপনার দিদিভাই নই।
    শ্যামাপদ: দুঃখিত ম্যাডাম। কান ধরছি। এক জন আমাকে গান না শোনালে তাকে খুন করে দেব, এত বোকা বলে আমাকে মনে হয়?‌ দিদিভাই, সরি ম্যাডাম, এক জন না শোনালে আর এক জন শোনাবে।
    প্রশ্ন: আপনি মানুষ ভাল নন।
    শ্যামাপদ: আমি মানুষ ভাল হতে চাইনি, আমার মাছ ভাল হলেই হল।
    প্রশ্ন: এক জন মহিলাকে রাতে একা লঞ্চে ডাকতে পারেন না।
    শ্যামাপদ: আমি তো পুরুষ মহিলা বলে সে দিন কাউকে নেমন্তন্ন করিনি। আমি এক জন গায়িকাকে নেমন্তন্ন করেছিলাম। গান শুনতে চাওয়া কি অপরাধ?‌
    প্রশ্ন: আপনার রিভলভার আছে?‌
    শ্যামাপদ: না। বন্দুক আছে। নদীতে কাজ করি। রিভলভারে কী হবে?‌ বন্দুকে লাইসেন্স আছে।
    প্রশ্ন: আপনার ভাড়াটে গুন্ডা আছে। তারা যে মধুমালতীকে মারেনি, তার কী প্রমাণ?
    শ্যামাপদ: ম্যাডাম, আমায় মাপ করবেন। পুকুরের চুনোপুঁটি ধরতে এত খরচ পোষাবে না। রুই কাতলের কথা বলুন। ওই মেয়ে আমাকে অপমান করেছিল। তাকে ধমকে দিয়েছি। ব্যস।

    এখানেই জেরার পর্ব শেষ।

    অঙ্কন : দেবাশীষ সাহা 

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More