একশো কুড়ি জন সেনার কাছে হেরে লাদাখ ছেড়ে পালিয়েছিল চিনের সেনাবাহিনী, সাক্ষী ‘রেজাং লা’

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬৪০০ ফুট উচ্চতায় থাকা লাদাখের 'রেজাং' গিরিপথে হয়েছিল এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রূপাঞ্জন গোস্বামী

    ১৮ নভেম্বর ১৯৬২

    গত রাতে এক মিনিটের জন্যেও চোখ বন্ধ করেননি, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৩ নং কুমায়ুন রেজিমেন্টের মেজর শয়তান সিং। তিব্বত থেকে আসা হাড়কাঁপানো বাতাসের ঝাপটা খেতে খেতে, তাঁর সঙ্গেই কম্যান্ড পোস্টে জেগেছিলেন রেডিওম্যান রামচন্দ্র যাদব ও মেজরের দেহরক্ষী নিহাল সিং। সীমানা নিয়ে শুরু হয়েছিল ভারত ও চিনের মধ্যে বিরোধ। বিরোধ থেকে শুরু হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। পশ্চিমের আকসাই চিন থেকে পুবের অরুণাচল, বিভিন্ন ফ্রন্টে ছড়িয়ে গিয়েছিল ভারত-চিন যুদ্ধ।

    লাদাখ দখলের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার চিনা সৈন্যের এগিয়ে আসার খবর পেয়ে গিয়েছিলেন মেজর। লাদাখের চুশুল উপত্যকা ও বিমানঘাঁটি রক্ষার দায়িত্ব ছিল মেজরের কাঁধে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬৪০০ ফুট উচ্চতায় থাকা রেজাং লা-এর  বিভিন্ন পোস্ট আগলে ছিল মেজর শয়তান সিংয়ের ‘চার্লি’ কোম্পানির ১২০ জন ভারতীয় জওয়ান। প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা ও দুই কিলোমিটার চওড়া রেজাং গিরিপথের বিভিন্ন পোস্টে পজিশন নিয়ে নিয়েছিল ‘চার্লি’ কোম্পানির ৭, ৮ এবং ৯ নং প্ল্যাটুন। ‘চার্লি’ কোম্পানির বেশিরভাগ সেনাই এসেছিলেন হরিয়ানার রেওয়ারি থেকে। বাকিরা এসেছিলেন রাজস্থানের আলওয়ার থেকে।

    ঐতিহাসিক রেজাং লা

    আক্রমণ শুরু করেছিল চিনা সৈন্যরাই

    রাত ৩.৩০, অন্ধকার তখনও গভীর। পুবের আকাশে তখনও আলো ফোটেনি। আঘাত হেনেছিল চিনারা। কম্যান্ড পোস্টের কিছু দূরে থাকা নায়েক গুলাব সিংয়ের পজিশনে প্রথম হানা দিয়েছিল চিনা সেনারা। তারপর আক্রমণ করেছিল ৭ ও ৮ নং প্ল্যাটুনের পজিশনগুলিকে। কিন্তু ভারতীয় সেনাদের আগের রাত থেকেই প্রস্তুত রেখেছিলেন মেজর। তাই মুহূর্তের মধ্যে গর্জে উঠেছিল ভারতীয় পোস্টে থাকা রাইফেল ও মেশিনগানগুলি। হুকুম চাঁদের (বীর চক্র) মেশিনগান শুরুতেই চারজন চিনা সৈন্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। রেজাং লা-এর ওপরে শুরু হয়ে গিয়েছিল এক ঐতিহাসিক লড়াই। গুলি খেয়েও চিনা সৈন্যরা গুলি চালাতে চালাতে উঠে আসছিল গিরিপথের দিকে।

    দশ মিনিট পর, ৭ নং প্ল্যাটুনের হাবিলদার সূর্যরাম, কম্যান্ড পোস্টকে রেডিয়ো মারফত জানিয়েছিলেন, ৭ নং প্ল্যাটুনকে আক্রমণ করেছে চিনা সেনারা। প্রায় চারশো চিনা সৈন্য ১৪০০০ ফুট থেকে ১৮০০০ ফুটে উঠে আসার চেষ্টা করছে প্রচুর গোলাবারুদ নিয়ে। ওপরে থাকার সুবিধা নিয়ে ৭ নং প্ল্যাটুন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল অন্ধকার। কম্যান্ড পোস্ট থেকে মেজর দেখতে পাচ্ছিলেন, বিভিন্ন নালার ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা অগণিত চিনা সৈন্যের মৃতদেহ। মেজর শয়তান সিং এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টে রেডিয়োর মাধ্যমে রণকৌশল বলে যাচ্ছিলেন, একই সঙ্গে গর্জে উঠছিল তাঁর হাতের রাইফেলও।

    ১৩ নং কুমায়ুন রেজিমেন্ট

    ‘কালিকা মাতা কি জয়’

    রেজাং গিরিপথ দখল করার জন্য চিন পাঁচ হাজার পদাতিক সেনার সঙ্গে পাঠিয়েছিল, আধুনিক রাইফেল, ভারী-মাঝারি- হালকা মেশিনগান এবং মর্টার। চিনা পদাতিক বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য পদাতিক বাহিনীর পিছনে ছিল শক্তিশালী চিনা আর্টিলারি বা কামানবাহিনী। যারা বিভিন্ন মাপের কামান নিয়ে এসেছিল। যে কোনও যুদ্ধে, যে কোনও দেশের পদাতিক বাহিনীকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে থাকে এই কামানবাহিনী ।

    কামানবাহিনী গোলাবর্ষণ করে শত্রুকে ব্যস্ত রাখে। সেই গোলাবৃষ্টির সুযোগ নিয়ে সামনে এগিয়ে যায় পদাতিক বাহিনী বা ইনফ্যান্ট্রি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে রেজাং-লা’তে কোনও আর্টিলারি ছিল না। কারণ ভারতীয় সেনার পোস্টগুলির পিছনে পাহাড় থাকায় ভারী আর্টিলারি ওঠানো সম্ভব হয়নি। তাই রেজাং গিরিপথ পাহারায় থাকা, ১২০ জন ভারতীয় সেনাকে অসমযুদ্ধে নামতে হয়েছিল রাইফেল, মেশিনগান, গ্রেনেড আর বেয়নেটকে সঙ্গী করে।

    মেজর শয়তান সিং বুঝতে পেরেছিলেন, পাঁচ হাজার চিনা সৈন্যদের বিরুদ্ধে এই ক’জন ভারতীয় সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ জেতা প্রায় অসম্ভব। তবুও পিছু হঠার প্রশ্ন নেই। তাঁর জওয়ানদের নিয়ে কয়েক ঘন্টা রুখে দিতে পারবেন চিনা সৈন্যের অগ্রগতি। ততক্ষণে এসে যাবে আরও ভারতীয় সৈন্য। রেজাং-লা ছেড়ে সেই মুহূর্তে পিছু হঠলেই লাদাখ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে যাবে। তবে চরম লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে, মেজর শয়তান সিং রেডিয়ো মারফত সব পোস্টে একটি খবর পাঠিয়েছিলেন। কোনও সেনা যদি যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে যেতে চান, তিনি যেতে পারেন।

    কিন্তু এ সেনা ভারতীয় সেনা। যাঁরা মাতৃভূমির জন্য হাসি মুখে মৃত্যুকে চুম্বন করতে জানেন। মাতৃভূমিকে রক্ষার শপথ নিয়েছেন যে বীর সন্তানেরা, তাঁরা কীভাবে কাপুরুষের মতো শত্রুর হাতে দেশের মাটি তুলে দিয়ে আসবেন। তাই ১২০ জন সেনা একসঙ্গে চিৎকার করে উঠছিলেন ,” শেষ রক্তবিন্দু মাটিতে না পড়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করব মেজর সাব। জয় কালিকা মাতা কি জয়।” চুশুল উপত্যকার পাহাড়ে পাহাড়ে কাঁপন ধরিয়েছিল অকুতোভয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর রণহুঙ্কার।

    শুরু হয়েছিল এক অবিস্মরণীয় যুদ্ধ

    সকাল ৫.৪০ নাগাদ, চিনা সেনারা আর্টিলারি ফায়ার শুরু করেছিল ভারতীয় সেনাদের ওপর। গোলাবর্ষণের সুযোগে প্রায় সাড়ে তিনশো চিনা সৈন্য রাইফেল ও মর্টার নিয়ে চালিয়েছিল দ্বিতীয় দফার আক্রমণ। তারা জানত না, তাদের রণকৌশল আগেই ধরে ফেলেছিলেন মেজর শয়তান সিং। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে মেশিনগান বসিয়ে নীচের দিক থেকে উঠে আসার পথ তিনি প্রায় বন্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক কৌশলে লাদাখের রেজাং গিরিপথ হয়ে উঠেছিল চিনা সেনাদের মৃত্যুফাঁদ। মেজরের ফাঁদে পা দিয়ে উঠে আসছিল চিনা সৈন্যরা।

    ৭ নং ও ৮ নং প্ল্যাটুনের ওপর হামলা চালালেও, কৌশলগত কারণে চিনারা তখনও ৯ নং প্ল্যাটুনের ওপর হামলা চালায়নি। চেষ্টা করেছিল ৯ নং প্ল্যাটুনকে অনান্য প্ল্যাটুনের থেকে বিচ্ছিন করে দিয়ে ধ্বংস করতে। কিন্তু  চিনা বাহিনী ভয়ঙ্করভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল ৯ নং প্ল্যাটুনের কাছে। চিতাবাঘের মতো শিকারের অপেক্ষায় ছিল ৯ নং প্ল্যাটুন। তাদের রাইফেলের পাল্লায় এসে গিয়েছিল চিনা সৈন্যরা। অতর্কিতে গর্জে উঠেছিল ৯ নং প্ল্যাটুনের রাইফেল ও লাইট মেশিনগানগুলি। কয়েক মিনিটের মধ্যে গিরিপথের নীচে থাকা বরফজমা নালাগুলি ভরে গিয়েছিল চিনা সৈন্যদের লাশে। অন্যদিকে, দুঃসাহসী লড়াই চালিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ দফার আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছিল ৮ নং প্ল্যাটুন। তাদের হাতে মারা পড়েছিল প্রচুর চিনা সৈন্য।

    রেজাং গিরিপথে চিনা সৈন্যদল

    ৮ নং প্ল্যাটুনের হরিরাম, কম্যান্ড পোস্টে খবর পাঠিয়েছিলেন, “চিনা সৈন্যরা আলাদা আলাদা ভাবে গিরিশিরা দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ৮ নং প্ল্যাটুনের গোলা বারুদ প্রায় শেষ। হাতাহাতি যুদ্ধে নামতে হবে ৮ নং প্ল্যাটুনকে।” আসলে মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রত্যেকটিতে পরাস্ত হয়ে পিছনের পথ ধরেছিল চিনা সৈন্যেরা। প্রায় ৭০০ চিনা সৈন্য ১৫টি ইয়াক ভর্তি গোলাবারুদ নিয়ে চুপিচুপি উঠে এসেছিল কম্যান্ড পোস্ট আর ৮ নং প্ল্যাটুনের মধ্যে থাকা গিরিশিরাটিতে।

    ভারতীয় সেনারা ভেবেছিলেন, ১৩ নং কুমায়ুন রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টার থেকে ‘আলফা’ কোম্পানি উঠে এসেছে ‘চার্লি’ কোম্পানিকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু হাবিলদার মেজর হরপাল সিং চিৎকার করে উঠেছিলেন,”সাবধান, উয়ো দুশমন হ্যায়।” গিরিশিরায় উঠে আসা চিনা সৈন্যরা ৮ নং প্ল্যাটুনকে আক্রমণ করতে এগিয়ে চলেছিল। পিছনে কম্যান্ড পোস্টে থাকা ভারতীয় সেনারা পিছন চালিয়ে দিয়েছিল মেশিনগান। চিনা সৈন্যেদের মৃতদেহতে ভরে গিয়েছিল গিরিশিরা ও পাশের নালাগুলি।

    এক সময় চিনা সেনারা ঘিরে ফেলেছিল ৭ নং প্ল্যাটুনকে

    ৭ নং প্ল্যাটুন শেষ লড়াইয়ের জন্য তৈরি ছিল। এত কাছাকাছি এসে গিয়েছিল দু’দলের সৈন্যরা, গুলি ছোঁড়ার উপায় ছিল না। শুরু হয়েছিল বেয়নেট নিয়ে হাতাহাতি আক্রমণ। কিন্তু চিনা সৈন্যরা পুরু জ্যাকেট পরে থাকায়, ভারতীয় সেনাদের বেয়নেট চিনাদের শরীরে আঘাত হানতে পারছিল না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান রাম সিং (বীরচক্র) দু’হাতে দু’জন চিনা সৈন্যের চুল ধরে মাথা ঠুকে, দু’জনের মাথাই গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছিলেন। রুদ্রমূর্তি ধরা রাম সিং, পাথরে আছড়ে কত চিনা সেনার মৃত্যু ঘটিয়েছিলেন, তা গোণা সম্ভব হয়নি কারও পক্ষেই।

    তবে খালি হাতে বেশিক্ষণ লড়াই চালাতে পারেননি রাম সিং। ঘিরে ফেলা অগণিত শত্রু সেনার বেয়নেটের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তবে রাম সিংয়ের বীরত্বে মুগ্ধ চিনা সেনারা মৃত্যুর পরে রাম সিংকে অভুতপূর্ব সম্মান জানিয়েছিল। তাঁর মৃতদেহের পাশে বেয়নেট লাগানো বন্দুক মাটিতে গেঁথে, বন্দুকের মাথায় রেখে দিয়েছিল রাম সিংয়ের হেলমেট। রাম সিংয়ের মতোই ৭ নং প্ল্যাটুনের প্রত্যেক বীর জওয়ান মৃত্যুবরণ করেছিলেন খালি হাতে এক অবিশ্বাস্য লড়াই লড়ে।

    মেজর শয়তান সিং

    জমি ছাড়েননি মেজর শয়তান সিং 

    টানা চার ঘন্টা সমানে সমানে যুদ্ধ করে চিনকে এক ইঞ্চি এগোতে দেননি মেজর শয়তান সিং। কিন্তু  আর্টিলারির সাহায্য নিয়ে পূর্ণশক্তিতে আক্রমণে ফিরে এসেছিল চিনা সেনারা।  ১২০ জন ভারতীয় সেনার মধ্যে তখনও জীবিত ছিলেন ২০ জন সেনা। মেজর শয়তান সিং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ ভারতীয় সেনা জীবিত থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ ভারতীয় সেনার হাতে শেষ বুলেটটি থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতীয় সেনা লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বে না।

    হেড কোয়ার্টারকে আরও ন’টি প্ল্যাটুন পাঠাতে বলে, নিজের সুরক্ষার দিকে নজর না দিয়ে, একজন সাধারণ সৈনিকের মতো লড়াই করতে শুরু করেছিলেন মেজর। নিখুঁত নিশানায় ধরাশায়ী করে চলেছিলেন চিনা সৈন্যদের। হঠাৎ চিনা মেশিনগানের গুলি এসে বিঁধেছিল মেজরের বুকে। গুলি খাওয়া বাঘের মতোই ক্রুদ্ধ মেজরের হাতের রাইফেল, সেই অবস্থাতেও সঠিক নিশানা খুঁজে নিচ্ছিল। কিন্তু ক্রমাগত রক্তক্ষরণের ফলে ক্রমশই অবসন্ন হয়ে পড়ছিলেন মেজর শয়তান সিং। একসময় ঘোলাটে চোখ মেলে, দেহরক্ষী নিহাল সিং ও রেডিয়ো ম্যান রামচন্দ্র যাদবকে বলেছিলেন, তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে।

    চিনাদের হাতে যেন না পৌঁছায় মেজর সাবের দেহ

    ১৩ নং কুমায়ুন রেজিমেন্টের চার্লি কোম্পানির ১২০ জন জওয়ানের মধ্যে ১১৪ জনই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তখনও জীবিত থাকা হাবিলদার হরফুল সিং গুলি চালাতে চালাতে চিৎকার করে বলেছিলেন, “মেজর সাবের দেহ কিছুতেই চিনাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।” রেডিয়োম্যান রামচন্দ্র যাদব নিজের রাইফেলের ফিতে খুলে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে নিয়েছিলেন মেজর সাবের প্রায় নিথর হয়ে যাওয়া দেহ। তারপর গড়াতে শুরু করেছিলেন পাহাড়ের ঢাল দিয়ে।

    আধ ঘন্টার চেষ্টায়, প্রায় চারশো ফুট নেমে গিয়েছিলেন মেজরকে নিয়ে। আছড়ে পড়েছিলেন একটি বরফ জমা নালার মধ্যে। ঘড়িতে তখন বাজে সকাল ৮.১৫। মেজর শয়তান সিংয়ের শরীর থেকে জীবনের সব চিনহ মুছে গিয়েছিল। মেজরের পার্থিব শরীরকে দুটি বোল্ডারের মাঝে লুকিয়ে রেখে, নীচে নামতে শুরু করেছিলেন রামচন্দ্র যাদব। দুপুর একটা নাগাদ পৌঁছে গিয়েছিলেন নীচের সেনাঘাঁটিতে। ভারতবাসী জানতে পেরেছিল, রেজাং লা-এর বুকে ভারত মায়ের বীর সন্তানদের  দুঃসাহসী লড়াই ও আত্মবলিদানের কথা।

    রেজাং লা ওয়ার মেমোরিয়াল ‘আহির ধাম’

    ১৮ নভেম্বরের লড়াইয়ের শেষে, মেজরের দেহরক্ষী নিহাল সিং সমেত পাঁচজন সেনাকে যুদ্ধবন্দি করে নিজেদের পোস্টে নিয়ে গিয়েছিল চিনাবাহিনী। কিন্তু তারা রেজাং লা-এর পথে, লাদাখের ভেতরে এক ইঞ্চিও এগিয়ে আসতে পারেনি। কারণ সেদিন সকালে, মাত্র একশো কুড়ি জন বীর ভারতীয় সেনানী, কেড়ে নিয়েছিলেন তেরোশো চিনা সৈন্যের প্রাণ। প্রাণের বিনিময়ে চিনের থাবা থেকে লাদাখকে রক্ষা করে গিয়েছিলেন অমর জওয়ানেরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মেজর শয়তান সিংও। ভাগ্য যাঁকে দিয়েছিল ‘শয়তান’ নাম, রেজিমেন্ট যাঁকে দিয়েছিল ‘দেবতার আসন’ ও সেনাবাহিনী যাঁকে দিয়েছিল ‘পরমবীর চক্র’ সম্মান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More