রোমানিদের উৎস মিশর নয়! তাঁরা ভারতীয়! দেশ ছেড়েছিলেন দেড় হাজার বছর আগে!

২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোমা কনফারেন্সে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী বলেছিলেন, রোমানিরা ভারতেরই সন্তান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রূপাঞ্জন গোস্বামী

    চলমান বাড়ি বা ক্যারাভানগুলি নিয়ে তাঁরা দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়ান। পরিযায়ী পাখিদের মতো। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা বাস করছে পৃথিবীর তিরিশটি দেশে। দেশগুলির মধ্যে আছে তুরস্ক, রাশিয়া, লাটভিয়া,বেলোরুশ, স্লোভাকিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন,আলবানিয়া,পোলান্ড, ক্রোয়েশিয়া,কসোভো, হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, ব্রাজিল, মেক্সিকোর মতো দেশ।

    রঙবেরঙের পোশাক পরা রহস্যময় এই জাতিগোষ্ঠীকে বিশ্ব নাম দিয়েছে ‘জিপসি‘। জিপসিরা নিজেদের জিপসি নামটি পছন্দ করেন না। কারণ,শব্দটির একটি অংশের অর্থ, ইউরোপীয় ভাষায় ‘প্রতারক’। তাই তাঁরা নিজেদের বলেন রোমানি এবং তাঁদের ভাষায় রোমা শব্দের অর্থ মানুষ। তবে জিপসি শব্দটিও বহুলভাবে প্রচলিত।

    রোমানিয়ার পানোরাটাতে বসবাসরত রোমানিরা

    ইউনিসেফের হিসাবে পৃথিবীতে রোমানিদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি

    এর মধ্যে ৭০ শতাংশই বাস করেন ইউরোপে। পূর্ব ইউরোপে এঁদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রোমানিরা ইউরোপের জাতিগতভাবে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। যাঁরা বিদেশ বিভুঁইয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও সমাজ দেড় হাজার বছরের বেশি সময় ধরে টিকিয়ে রেখেছেন। রোমানিরা তাঁদের সমাজ সংক্রান্ত বেশিরভাগ তথ্য ও সংস্কৃতি রহস্যময়ভাবে গোপন রেখেছেন বহির্বিশ্বের কাছে। পাছে তাঁদের সতন্ত্র অস্তিত্ব হারিয়ে যায়।

    বেশিরভাগ রোমানি গোষ্ঠী বিভিন্ন দেশের গ্রামাঞ্চলে বা শহরের নিম্নবিত্ত এলাকায় স্থায়ী বাড়ি বানিয়ে নিলেও, এখনও লক্ষ লক্ষ রোমানি যাযাবর জীবনযাত্রা কাটিয়ে চলেছেন। এঁদের একেকটা বড় গোষ্ঠী, যাদের বলে ‘কুমপানিয়া’, কয়েকশো  চলমান বাড়ি বা ক্যারাভান নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরতে থাকে। আজকাল রোমানিরা খুব কম ঘোড়ায় টানা ক্যারাভান চড়েন। এখন তাঁরা ইঞ্জিনচালিত ক্যারাভ্যান ব্যবহার করেন।

    রোমানি ক্যারাভান চলেছে ঠিকানার সন্ধানে।

    রোমানিদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থা

    রোমানিরা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী নন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁদের ক্যারাভান যখন যেমন পৌঁছে গেছে, সেই দেশের প্রধান ধর্মকে তাঁরা গ্রহণ করেছেন বা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন, নিজেরা সে দেশে গৃহীত না হয়েও। রোমানিরা বিশ্বাস করেন, সব ধর্ম ঈশ্বরের সৃষ্টি তাই সব ধর্মের মানুষ ঈশ্বরের কাছে প্রিয় তাই রোমানিরা কেউ ধর্মে খ্রিস্টান কেউ মুসলিম হলেও জাতিগতভাবে তাঁরা নিজেদের রোমানি সত্বাকেই সবার ওপরে স্থান দেন। তাই বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হলেও ধর্ম নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাঙ্গা হয় না।

    প্রত্যেকটি বড় রোমানি গোষ্ঠীর চালান এক রোমানি পুরুষ, তাঁকে বলা হয় ‘ভয়ভোডে’। সারা জীবনের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। অপরদিকে একজন বয়স্কা মহিলা নির্বাচিতা হন ‘ফুড়ি দাই’ পদে। তিনি গোষ্ঠীর শিশু ও নারীদের দেখাশুনা করেন।গোষ্ঠীর ভেতরে ঘটা সমস্ত বিবাদ ও বিতর্ক মেটান এঁরা দু’জন ও অন্যান্য বয়স্করা। রোমানিদের পাড়ায় ঝগড়াঝামেলা লেগেই থাকে কিন্তু ভুলেও স্থানীয় পুলিশকে জানানো চলবে না। যা জানাবার ভয়ভোডে ও ফুড়ি দাইকে জানাতে হবে। পুলিশকে জানানো মানে সমাজের অনুশাসনকে অবমাননা করা। এর জন্য সমাজ সেই ব্যক্তিকে গোষ্ঠী থেকে বিতাড়িত করতে পারে।

    ইতালির রাস্তায় রোমানি নারীরা।

    রোমানি সমাজে বিয়ের আগে যৌনতা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য। দ্বিতীয় বিবাহকে মেনে নেওয়া হয় না রোমানি সমাজে। বিয়ের আগে নারীদের স্কার্ট পরা নিষিদ্ধ,বাধ্যতামূলকভাবে রোমানি পোশাক পরতে হবে। পরিবারের সদস্য ছাড়া কুমারী মেয়েরা বাড়ির বাইরে একা বের হন না।

    ভ্রাম্যমান রোমানিরা গানবাজনা ও হস্তশিল্পে খুবই নিপুণ। যখন যেখানে অস্থায়ী ডেরা পাতেন, সেখানে ধাতু, পাথর, কাঠ দিয়ে বিভিন্ন শিল্পসামগ্রী বানিয়ে রাখেন। তারপর সেগুলি স্থানীয় বাজারে বা যাত্রাপথে বিক্রি করে দেন। এছাড়াও রোমানিরা হাত দেখে ভাগ্য বলে দিয়ে উপার্জন করেন। আরেকটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে রোমানিদের, তাঁরা সম্পদ দেখাতে ভীষণ ভালোবাসেন। রোমানি সংস্কৃতি বলে, সম্পদ লুকিয়ে রাখার জিনিস নয়। বরং সম্পদ দেখালে বৃদ্ধি পায়। তাই রোমানি মেয়েরা সব সময় সোনার, রুপার গয়না পরে থাকেন। মাথায় কয়েন ঝোলানো টুপি পরেন।

    নৃত্যরত ব্রাজিলের রোমানি যুবক যুবতী

    রোমানিদের পরিবার ও খাবার দাবার

    রোমানিরা ভীষণ সুন্দর পারিবারিক জীবন কাটান। সমাজের পরেই রোমানিরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের একান্নবর্তী পরিবারকে। কৈশোরেই বিয়ে হয়ে যায় রোমানিদের। বেশিরভাগ বিয়ে হয় ঘটকালি করে এবং যতটা সম্ভব জাঁকজমক সহকারে। রোমানি সমাজে লেগেই থাকে নাচ গান খানা পিনা। একটি রোমানি পরিবারে পিতামাতা, অবিবাহিত ছেলে মেয়েদের সঙ্গে থাকেন বিবাহিত সন্তানেরাও। তাঁদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে। ফলে পঁচিশ তিরিশ জনের একটি রোমানি পরিবার দেখতে পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

    রোমানি মহিলারা সারাক্ষণ বাড়ি বা ক্যারাভানকে পরিষ্কার করার কাজে লেগে থাকেন। পুরুষ ও মহিলাদের কাপড় আলাদাভাবে কাচা হয়। রোমানিরা মনে করে্ন শরীরের ওপরের দিকটা শুদ্ধ ও নিচের দিকটা অশুদ্ধ। তাই নিচের দিকের পোশাকও আলাদা জায়গায় কাচা হয়। সন্তান গর্ভে আসার পর মহিলারা কারও সঙ্গে দেখা করেন না। স্বামীর সঙ্গে রাত্রে এক বিছানায় ঘুমান না। গর্ভকালীন অবস্থায় মন্ত্রপূত জলে স্নান করেন। এই ক’মাস গর্ভবতী মহিলার স্বামী রান্না ও বাড়ির সমস্ত কাজ সামলান।

    যে দেশে বাস করেন, সে দেশের খাবার খেতে বাধ্য হলেও, রোমানিরা নিজেদের তৈরি করা বেশ ঝাল ঝাল মশলাদার খাবার খেতে পছন্দ করেন। গমের আটা ও ভেড়ার মাংস এবং আলু রোমানিদের প্রধান খাবার। ডিম, বাদাম, চিজ, চিনি, আনারস দিয়ে ‘পিরোগো’ নামের একটা ডেসার্ট বানান তাঁরা। যা রোমানিদের অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। এছাড়াও বাঁধাকপি, মাংস ও চাল দিয়ে ‘সরমা’ নামে একটা খাবার তৈরি করেন। খরগোশের মাংস দিয়ে তৈরি করেন ‘জাইমোকো’ নামে সুস্বাদু খাবার। তবে রোমানিদের সব খাবারের সঙ্গে ‘কাফা’ (কফি) বা ‘চাও’ (চা) চাইই চাই।

    রান্নার প্রস্তুতিতে রোমানি নারী।

    রোমানিরা কি ভারতীয়!

    কেউ বলেন রোমানিদের উৎস হল মিশর। ইউরোপে ওদের বলা হত ইজিপশিয়ান। সেখান থেকে এসেছিল ‘জিপশিয়ান’ শব্দটি। সেটি ছোট হয়ে জিপসি শব্দটি এসেছে। কিন্তু জিপসি বা রোমানিরা মানেন না যে তাঁদের উৎস মিশর। রোমানিরা মনে করেন তাদের পূর্বপুরুষেরা ভারতীয়। পারস্যের মহাকাব্যিক কবিতা ‘শাহনামেহ’কে রোমানিদের ভারতীয় হওয়ার দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে চেয়েছেন বহু আধুনিক গবেষক।

    ‘শাহনামেহ’ উপাখ্যান- সাসানিয়ার রাজা পঞ্চম বাহ্রাম গোর, তাঁর শাসনের শেষদিকে জানতে পেরেছিলেন, তাঁর দেশের গরীবরা গানবাজনা শুনতে ভালোবাসেন। কিন্তু শুনতে পারেন না। কারণ গানের আসর বসাবার মতো অর্থবল তাঁদের নেই। রাজা বাহ্রাম গোর তখন ভারতের রাজাকে ভারত থেকে ১০০০০ লুরি বা বীণাবাদক পাঠাতে বলেছিলেন। সেইমতো ভারত থেকে স্থলপথে সাসানিয়া পৌঁছে গিয়েছিলেন দশহাজার ভারতীয় বীণাবাদক ও তাঁদের পরিবার।

    ভারতীয় বীণাবাদকের দল পরিবার নিয়ে সাসানিয়ে এসে পৌঁছাবার পর,  বীণাবাদকদের প্রত্যেককে একটি ষাঁড়, একটি গাধা ও এবং আরেকটি গাধা বোঝাই গম দিয়েছিলেন রাজা। যাতে তাঁরা সাসানিয়ায় থেকে চাষবাস করে খেতে পারেন এবং দেশের দরিদ্র জনগণকেকে বিনাপয়সায় গান শোনাতে পারেন। কিন্তু পথশ্রমে ক্লান্ত ভারতীয় বীণাবাদকের দল ষাঁড়গুলি ও সব গম খেয়ে ফেলেছিলেন।

    এক বছর পর তাঁরা রাজার কাছে সাহায্য চাইতে  এলে, ভারতীয় বীণাবাদকের দলকে গাধাদের নিয়ে সাসানিয়া ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন ক্রুদ্ধ রাজা। গবেষকদের মতে দশহাজার ভারতীয় বীণাবাদক ও তাঁদের পরিবার নিয়ে গড়া সুবিশাল দলটিই আজকের রোমানিদের পূর্বপুরুষ ছিল।

    ইউরোপের একটি জিপসি বসতি,দূরে দেখা যাচ্ছে নাগরিকদের বহুতল বিল্ডিং।

    ভাষাগত প্রমাণ

    রোমানিদের কিছু কিছু উপগোষ্ঠী অন্য ভাষা ব্যবহার করলেও, প্রায় ৯৫ শতাংশ রোমানিই রোমানি ভাষা ব্যবহার করেন। যে ভাষার উৎস হল ‘সংস্কৃত’ ভাষা। রোমানি ভাষায় হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি ,মাড়ওয়াড়ি ভাষার প্রভাব সুস্পষ্ট। অন্যদিকে ব্যাকরণের সঙ্গে বাংলা ভাষার মিল সবচেয়ে বেশি। ‘কেমন আছ’ জানতে চাইলে জিপসিরা বলে ‘বড়ি‘(ভাল), যেমন হিন্দিতে বলা হয় ‘বড়িয়া হুঁ’।

    হিন্দিতে  ‘তুমি’ বলা হয় ‘তু’ শব্দটি দিয়ে। রোমানিতেও ‘তুমি’ বলা হয় তু’ বা ‘তুমে’ শব্দ দিয়ে। এভাবেই ভারতীয় ভাষার সঙ্গে অস্বাভাবিক মিল পাওয়া যায় বিভিন্ন রোমানি শব্দের, যেমন, আমরা=আমে,  ছুরি=ছুরি, চোর=চোর, চুমু=চুমু জিভ=জিব, জীবন=জান, লবণ=লন, জল=পানি, বলা=পুকার, দিন=দিভাস (দিবস), দেখো=দেখ, সাপ=সাপ, দেবতা= দেভেল।

    সংখ্যা উচ্চারণেও রোমানিদের সঙ্গে ভারতীয়দের অস্বাভাবিক মিল। রোমানিরা ‘১’ সংখ্যাটিকে বলেন ‘এক’,  ‘২’ হল দুই, ৩=ত্রিন, ৪=সার, ৫=পাঞ্জ, ৬=শভ, ৭= ইফতা, ৮=অক্সটো(অষ্ট), ৯=ইঞ্জা ,১০=দেস, ২০=বিস, ৫০=পাঞ্জ ভার দেস (পঞ্চদশ)।

    রোমানিরা এভাবেই কোনও ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে তাদের তৈরি করা হস্তশিল্প বিক্রি করে।

    জিনগত প্রমাণ

    ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ হিউম্যান জেনেটিকস’ পত্রিকায়, ২০১২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা দেড় কোটি রোমানি জিনগতভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতীয়। গবেষকদল জিনগতভাবে প্রমাণ করে দেন, রোমানিদের শরীরে থাকা বিশেষ একটি Y ক্রোমোজোম ও মাইটকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-এর সঙ্গে অবিশ্বাস্য মিল আছে রাজস্থান, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের শিডিউল কাস্ট ও শিডিউলড ট্রাইব মানুষজনের সঙ্গে।

    গবেষণায় জানা গিয়েছে, আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে উত্তর-পশ্চিম ভারত ছেড়ে পশ্চিমে পাড়ি দিয়েছিলেন রোমানিদের পূর্বপুরুষেরা। ৯০০ বছর আগে রোমানিরা পৌঁছে গিয়েছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে। তারপরে ছড়িয়ে  গিয়েছিলেন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা হয়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।

    তামাটে চামড়ার জন্য চিরকাল বঞ্চনার শিকার হয়েছেন রোমানিরা

    এক রহস্যময় ও দূর্বৃত্ত জাতি হিসেবে ভাবা হতো রোমানিদের। কোনও দেশ তাদের বুকে জড়িয়ে ধরেনি। অনাহুত উদবাস্তু হয়ে রোমানিরা ঘুরেছে পৃথিবীর পথে পথে। ক্রীতদাস হিসেবে ইউরোপ থেকে বিভিন্ন মহাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে রোমানিদের।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিবাহিনীর অকথ্য অত্যাচার সহ্য করেছিল রোমানিরা। জার্মানরা রোমানিদের বলত ‘অস্পৃশ্য’। বিভিন্ন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নাৎসিরা  প্রায় আড়াই লক্ষ রোমানিকে হত্যা করেছিল।

    Zigeunerlager ক্যাম্পে মেরে ফেলা হয়েছিল এরকম লক্ষাধিক রোমানি নারী পুরুষ এমনকি শিশুদেরও।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সমাজে আজও রোমানিরা বাস করছেন ‘অপরাধী’ তকমা নিয়ে। বস্তুত, ইউরোপ ও আমেরিকার সমাজে পরিত্যক্ত ও একঘরে হয়ে আছেন রোমানিরা। তাই, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত, আন্তর্জাতিক ‘রোমা কনফারেন্স’ থেকে রোমানিরা ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, ৩০ টি দেশে ছড়িয়ে থাকা রোমানি সম্প্রদায়কে প্রবাসী ভারতীয় বলে গণ্য করুক ভারত সরকার। সেই কনফারেন্সে উপস্থিত  ছিলেন ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি বলেছিলেন, রোমানি  সম্প্রদায়ের মানুষরা ভারতেরই সন্তান।

    কিন্তু তাতেও কি দিন পাল্টেছে রোমানিদের! নাকি বিগত দেড়হাজার বছরের মত আগামী দেড়হাজার বছরও উন্নত দেশগুলির মুক্ত কারাগারে বাস করতে হবে রোমানিদের ! বুকের মধ্যে ভারতকে রেখেও ভারতীয় না হওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে প্রবাসে পরদেশী হয়ে তাই দিন কাটছে দেশহীন রোমানিদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More