কয়েক হাজার ইউরোপীয় নারী ও শিশুকে বাঁচিয়েছিলেন ভারতের এই মহারাজা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়

সেই রাতে সাইবেরিয়ার ক্যাম্পটি থেকে পালিয়েছিলেন, প্রায় হাজার তিনেক পোলিশ নারী ও শিশু। বোম্বে বন্দরে এসে পৌঁছেছিলেন মাত্র ৬৪০ জন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রূপাঞ্জন গোস্বামী

    ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, পোল্যান্ডকে আক্রমণ করেছিল হিটলারের জার্মানি। এই আগ্রাসনে ক্ষুব্ধ ব্রিটেন ও ফ্রান্স, একত্রে জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শুরু হয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। জার্মানির সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে, ১৭ সেপ্টেম্বর, পোল্যান্ড আক্রমণ করেছিল সোভিয়েত রাশিয়াও।

    ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা হারিয়েছিল পোল্যান্ড। দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছিলেন পোলিশ নেতা মন্ত্রীরা। লক্ষ লক্ষ পোল্যান্ডবাসীকে বন্দি করে কুখ্যাত কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলিতে চালান করেছিলেন হিটলার। তাদের হাতে বন্দি পোল্যান্ডবাসীদের রাশিয়া পাঠিয়েছিল সাইবেরিয়াতে।

    শুরু হয়েছিল অপারেশন বারবারোসা

    কিন্তু রাশিয়া ও জার্মানির মধুচন্দ্রিমা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, পরস্পরের প্রতি প্রবল সন্দেহ ও অবিশ্বাস যুদ্ধের আকার নিয়েছিল। ১৯৪১ সালের ২২ জুন রাশিয়া আক্রমণ করেছিলেন হিটলার। যা ইতিহাসের পাতায় অপারেশন বারবারোসা নামে বিখ্যাত। গ্রামের পর গ্রাম ছারখার করতে করতে এগিয়ে চলেছিল হিটলারের অপরাজেয় বাহিনী। রাশিয়া তৈরি হচ্ছিল প্রত্যাঘাতের জন্য।

    তাদের হাতে বন্দি পোলিশদের দিয়ে সাইবেরিয়ায় শ্রমিকের কাজ করাতো রাশিয়া। জার্মানির আক্রমনে দিশেহারা রাশিয়া, সেই সময় হাজার হাজার পোলিশ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে মুক্তি দিয়েছিল। এর পিছনে রাশিয়ার একটি উদ্দেশ্য ছিল। রাশিয়া চেয়েছিল, বন্দি পোল্যান্ডবাসীদের মধ্যে থেকে সবল পুরুষদের বেছে নিয়ে একটি গেরিলা বাহিনী তৈরি করতে। যে বাহিনী হিটলারের বিরুদ্ধে লড়বে। পোলিশ পুরুষরা তাঁদের পরিবারকে বাঁচাতে রাশিয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। হাতে তুলে নিয়েছিলেন রাশিয়ার দেওয়া রাইফেল।

    অপারেশন বারবারোসা।

    রাশিয়ার সীমান্তে বেজেছিল যুদ্ধের দামামা। জার্মানি সেনারা এসে গিয়েছিল রাশিয়ার দুয়ারে। রাশিয়ার হয়ে লড়তে রাজি হওয়া পোলিশ পুরুষরা, তাঁদের পরিবারের নারী ও শিশুদের পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। পোলিশ পুরুষরা জানতেন তাঁদের দিন শেষ হয়ে আসছে। কারণ তাঁরা এর আগে কোনও দিন যুদ্ধ করেননি। কেউ ছিলেন ডাক্তার, কেউ অধ্যাপক, কেউ শিক্ষক, কেউ বা কারখানার শ্রমিক। নিজেদের মৃত্যু অনিবার্য জেনে, পোলিশ পুরুষরা চেয়েছিলেন নিজেদের প্রিয়জনকে বাঁচাতে।

    শুরু হয়েছিল এক মর্মান্তিক যাত্রা

    চোখের জলে ভাসতে ভাসতে, রাতের অন্ধকারে প্রিয়জনদের ছেড়ে বিভিন্ন দিকে পালাতে শুরু করেছিল হাজার হাজার অভিভাবকহীন, অসহায় নারী ও শিশুরা। শিশুদের মধ্যে ছিল প্রচুর অনাথ শিশুও। যাদের বাবা মা যুদ্ধে বা সাইবেরিয়ার ক্যাম্পে মারা গিয়েছিলেন। কেউ পালাবার চেষ্টা করেছিলেন জলপথে, কেউ স্থলপথে। কোথায় যাবেন তার ঠিকানা জানা ছিল না। ইউরোপের অন্যদেশে পালাবার পথ বন্ধ। কারণ যুদ্ধের কালো ধোঁয়া ঢেকে ফেলেছিল সারা  ইউরোপকে। তাছাড়া কয়েকমাস পরেই এসে যাবে সাইবেরিয়ার হাড়কাঁপানো শীত। তাই অসহায় পোলিশ নারীরা, শিশুদের নিয়ে, অপেক্ষাকৃত গরম আবহাওয়া পাওয়ার আশায়, মধ্য-এশিয়ার পথ ধরেছিলেন।

    কখনও ট্রেনে, কখনও বাসে, কখনও জাহাজে করে এগিয়ে চলেছিলেন পোলিশ শরণার্থীরা। তবে বেশিরভাগ পথই তাঁদের পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছিল। কারণ, সঙ্গে টাকাপয়সা ছিল না। কখনও চাঁদ, কখনও সূর্যকে সাক্ষী রেখে খোলা আকাশের নীচে লাইন দিয়ে এগিয়ে চলেছিলেন শরণার্থীরা। বুকে এক চিলতে আশা, যদি কোনও দেশ দেয় তাঁদের আশ্রয়। যদি দেয় খাবার আর মাথার ওপর এক চিলতে ছাদ।
    একটু আশ্রয়ের জন্য,হাজার হাজার কিলোমিটার হেঁটে চলা।

    সাইবেরিয়া থেকে পোলিশ নারী ও শিশুরা এসেছিলেন তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদ। সেখান থেকে ইরানের মাশহাদ, ইস্পাহান, তেহরান হয়ে শরণার্থীরা এসেছিলেন আফগানিস্তানে। তার পর বর্তমান পাকিস্তানের কোয়েটা, জেহাদাউ, করাচি হয়ে জাহাজে পৌঁছেছিলেন ভারতের বোম্বে বন্দরে। সেই রাতে সাইবেরিয়ার ক্যাম্পটি থেকে পালিয়েছিলেন, প্রায় হাজার তিনেক পোলিশ নারী ও শিশু। বোম্বে বন্দরে এসে পৌঁছেছিলেন মাত্র ৬৪০ জন। বাকিরা দীর্ঘ যাত্রাপথের ধকলে, ঠান্ডায়, অনাহারে, অপুষ্টিতে, জীবনের রাস্তা থেকে মাঝপথেই বিদায় নিয়েছিলেন।

    আশ্রয় দেয়নি কোনও দেশ, শেষ ভরসা ছিল ভারত

    কিন্তু ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর শরণার্থীদের ভারতে ঢুকতে দেননি। জাহাজ ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। বোম্বে বন্দরে জাহাজে আটক থাকা ৬৪০ জন শরণার্থীর চোখের সামনে, আশার শেষ প্রদীপটুকুও নিভে গিয়েছিল। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সহায় সম্বলহীন পোলিশ নারীরা, বেঁচে থাকা সন্তান ও অনাথ শিশুদের জড়িয়ে। কিন্তু মানুষের দুঃখে কবে আর ব্রিটিশদের চোখ ভিজেছে, তাই ভারত থেকে এই পোলিশ শরণার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব বিদায় করার চেষ্টা শুরু করেছিল ব্রিটিশরা।

    কিন্তু তা হয়নি। রুপকথার মতোই পোলিশ শরণার্থী ও ব্রিটিশদের মাঝখানে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন এক রাজা। হাতে শুধু তরবারিটাই ছিল না। তিনি হলেন পরাধীন ভারতের নাওয়ানগর স্টেটের তৎকালীন মহারাজা, জামসাহেব দিগ্বিজয় সিংজী রঞ্জিৎ সিংজী জাদেজা। ব্রিটিশদের চোখে চোখে রেখে জামসাহেব দিগ্বিজয় সিংজী বলেছিলেন, “ভারত কোনওদিন কোনও শরণার্থীকে ফেরায়নি। আজও ফেরাবে না। বোম্বে বন্দরে নয়, আমার মালিকানায় থাকা রোজি বন্দরে ভিড়বে শরণার্থীদের জাহাজ। দেখি, কে কীভাবে জাহাজ আটকায়।”

    মহারাজা জামসাহেব দিগ্বিজয় সিংজী রঞ্জিৎ সিংজী জাদেজা।

    শরণার্থীদের বলা হয়েছিল তাঁদের জাহাজ ভিড়বে জামনগরের রোজি বন্দরে, ভারতের মাটিতে পা রাখবেন তাঁরা। নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারেননি, ভাগ্যের সমুদ্রে ডুবতে থাকা পোলিশ শরণার্থীরা। বোম্বে বন্দর থেকে জাহাজ চলেছিল জামনগরের রোজি বন্দরের উদ্দেশ্যে। জাহাজের ডেকে অসহায় শরণার্থীরা দাঁড়িয়েছিলেন বিষণ্ণ মুখে। সত্যিই কি জাহাজ নোঙর করবে, ভারতের কোনও বন্দরে!  নাকি তাদের নিয়ে জাহাজ ফিরে চলেছে গভীর সমুদ্রে।

    নির্দিষ্ট সময়ে রোজি বন্দরে নোঙর ফেলেছিল পোলিশ শরণার্থীদের জাহাজ। বন্দরের মাটিতে পা রেখেও শরণার্থীরা ভেবেছিলেন, এই মাটি সত্যিই ভারতের মাটি তো! বন্দর থেকে তাঁদের গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নাওয়ানগর স্টেটে। সেখানে পৌঁছে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন, সব হারিয়ে ফেলা পোলিশ শরণার্থীরা। ভাগ্যাহত মানুষগুলি নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাঁদের অভ্যর্থনা করার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন সেই দেবদূত, মহারাজা জামসাহেব দিগ্বিজয় সিংজী রঞ্জিৎ সিংজী জাদেজা।

    শরণার্থীদের বুকে জড়িয়ে জামসাহেব বলেছিলেন, “নিজেদের অনাথ ভাববেন না। আপনারা এখন নাওয়ানগর স্টেটের জনসাধারণ। আমি হলাম বাপু, নাওয়ানগরবাসীদের পিতা। আজ থেকে আমি আপনাদেরও অভিভাবক।” সাইবেরিয়ার মৃত্যুশিবির থেকে স্বর্গে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, রুগ্ন শীর্ণ অসহায় শরণার্থীরা।

    ভারতের মাটিতে পোলিশ শরণার্থীরা।( কয়েক মাস পরের ছবি)
    অভ্যর্থনা জানিয়েই দায় সারেননি জামসাহেব,

    শরণার্থীদের জন্য চিকিৎসা,অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। সবার প্রথমে মাথার ওপর ছাদ ও খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপর একে একে বানিয়ে দিয়েছিলেন, পোলিশ ভাষার স্কুল, ক্যাথলিক চার্চ। পোলিশ মহিলাদের হাতের কাজ শেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। করেছিলেন পোলিশ শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থাও। সবই জামসাহেব করেছিলেন যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।, নিজের অর্থ ও পরিশ্রম দিয়ে।

    কিন্তু, এর পরেও সাইবেরিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পোলিশ শরণার্থীদের স্রোত এসেছিল ভারতের পশ্চিম উপকূলে। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রায় ২০০০০ পোলিশ শরণার্থী। তার মধ্যে ছিল হাজার পাঁচেকের বেশি অনাথ শিশু। তখনও জামসাহেব দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জামসাহেবের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পাতিয়ালা ও বরোদার মহারাজা। এগিয়ে এসেছিল টাটা ও অনান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি। সবার সহায়তায় পোলিশ শরণার্থীদের জন্য বালাচাদি, ভালিভাদে (কোলাপুর), বান্দ্রা (মুম্বাই) ও পঞ্চগনিতে প্রচুর শরণার্থী শিবির তৈরি করেছিলেন জামসাহেব।

    জার্মানির পতন হয়েছিল ১৯৪৫ সালের মে মাসে। স্বাধীনতা পেয়েছিল পোল্যান্ড। শরণার্থীদের দেশে ফিরতে অনুরোধ করেছিল পোল্যান্ড সরকার। শরণার্থীদের অনেকে পোল্যান্ডে ফিরেছিলেন। অনেকে চলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অনান্য কমনওয়েলথ রাষ্ট্রগুলিতে। সে ব্যবস্থাও করেছিলেন জামসাহেব। শরণার্থীরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার সময় তাঁদের বিদায় জানাতে স্টেশনে  এসেছিলেন জামসাহেব। সেদিন অঝোরে কেঁদেছিলেন পোলিশ শরণার্থীরা। জামসাহেবের চোখেও সেদিন ছিল জল।

    মহারাজার সঙ্গে শরণার্থীরা
    জামসাহেবকে আজও ভোলেনি পোল্যান্ড

    পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ’তে আছে একটি স্কুল। বাইরে থেকে আর পাঁচটি পোলিশ স্কুলের মত মনে হলেও, ভেতরে ঢুকে অবাক হয়ে যান অতিথিরা। একটুকরো ভারত যেন উঠে এসেছে পোল্যান্ডে। দেওয়ালে দেওয়ালে ঝুলছে অসাধারণ সব পেন্টিং। তাজ মহল, হোলি খেলার দৃশ্য, বেনারসের গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে ভারতীয় গ্রাম্য জীবনের ছবি।

    স্কুলের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে ভারত থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন দেব দেবীর মূর্তি, ভাস্কর্য ও হস্তশিল্প। আমরা অনেকেই জানিনা, এই স্কুলের প্রতিটি ধূলিকণার সঙ্গে মিশে আছেন  জামসাহেব দিগ্বিজয় সিংজী রঞ্জিৎ সিংজী জাদেজা। স্কুলের গেটের পাশে তাঁর নাম লেখা বোর্ড আজও টাঙানো আছে। কারণ তিনিই স্কুলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

    জামসাহেব এই স্কুলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

    শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে স্কুলটির ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সর্বসম্মতিক্রমে  জামসাহেবকে স্কুলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঘোষণা করেছিলেন। চিরকালের জন্য। ১৯৯৯ সালে পোল্যান্ডের স্কুলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়েছিলেন,  ১৯৬৬ সালে প্রয়াত হওয়া জামসাহেব। ভারতে পোল্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর ছিলেন মারিয়া ক্রিস্ট। তিনি দেশে ফিরে পোলিশ শরণার্থীদের প্রতি জামসাহেবের ভালোবাসাকে অমর করে রাখতে এই স্কুলটি তৈরি করেছিলেন।

    পোল্যান্ড থেকে জামনগরে তাঁর বাপুর কাছে এসেছিলেন তখনকার অনাথ শিশু, ৭৬ বছর পরে।

    পোল্যান্ডের নাগরিকদের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য পোলান্ড সরকার জামসাহেবকে তাদের সেরা সম্মান ‘কমান্ডার ক্রস’ (মরণোত্তর) পদক দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। তাঁর নামে পোল্যান্ডে একটি রাস্তা ও একটি স্কোয়ারের নামকরণ করা হয়েছে। পোল্যান্ড ভোলেনি জামসাহেবকে।

    হাজার হাজার বছর ধরে ভারত সমগ্র মানবজাতিকে অখণ্ড পরিবার বলে ভেবে এসেছে। ভারতই বিশ্বকে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ ভাবতে শিখিয়েছে। তা আরও একবার বিশ্বের দরবারে প্রমাণ করে দিয়ে গিয়েছিলেন জামসাহেব দিগ্বিজয় সিংজী রঞ্জিৎ সিংজী জাদেজা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More