মা দুর্গার ভয়ঙ্করতম অবতার ‘কালরাত্রি’, বধ করেছিলেন পার্বতীর পাণিপ্রার্থী অসুররাজ রুরুকে

ত্রিদেবকে তপস্যায় তুষ্ট করে, অনেক বর লাভ করে, প্রবল সম্পদ ও শক্তির অধিকারী হয়ে গিয়েছিলেন অসুররাজ রুরু। তাঁর তপস্যার পদ্ধতি এতই ভয়ানক ছিল দেবতারা বাধ্য হতেন রুরুকে তাঁর ইপ্সিত বর দিতে।

১,২৯৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রূপাঞ্জন গোস্বামী

উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে ছিল রত্নপুরী নামে প্রকাণ্ড এক দ্বীপ। অসামান্য সুন্দর সেই দ্বীপটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ছিল ঘন নীল জলরাশি। দ্বীপের সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে যেতেন স্বয়ং দেবতারাও। কিন্তু সেই দ্বীপে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। কারণ সেই দ্বীপের অধিপতি ছিলেন অসুর হিরণাক্ষের বংশধর মহাপরাক্রমশালী অসুর রুরু। দ্বীপের মাঝখানে ছিল অসুররাজ রুরুর রত্ননির্মিত সুবিশাল এক প্রাসাদ। সেই প্রাসাদে এক সহস্র স্ত্রী নিয়ে বাস করতেন ত্রিদেবের মহাভক্ত অসুররাজ রুরু।

কঠোর তপস্যায় পারদর্শী ছিলেন রুরু

ত্রিদেবকে তপস্যায় তুষ্ট করে, অনেক বর লাভ করে, প্রবল সম্পদ ও শক্তির অধিকারী হয়ে গিয়েছিলেন অসুররাজ রুরু। তাঁর তপস্যার পদ্ধতি এতই ভয়ানক ছিল এবং তপস্যাকালে নিজের উপর এমনই ভয়ঙ্কর পীড়ন চালাতেন, দেবতারা বাধ্য হতেন রুরুকে তাঁর ইপ্সিত বর দিতে।

যৌবনকালে অমরত্ব লাভের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করেছিলেন রুরু। কিন্তু অমরত্ব লাভ করেননি। তবে ব্রহ্মা অন্য এক বর প্রদান করে বলেছিলেন, কোনও পুরুষ অসুররাজ রুরুকে যুদ্ধে হারাতে ও বধ করতে পারবে না। কেবলমাত্র কোনও নারী রুরুকে যুদ্ধে হারিয়ে বধ করতে পারবে, তবে মৃত্যুর পর রুরুর মাথা মাটিতে পড়তে পারবে না। মৃত রুরুর মাথা মাটিতে পড়লে পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে রুরু।

 অমরত্বের কাছাকাছি বর পেয়ে, ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছিলেন

তিনি মনে করতে শুরু করেছিলেন ব্রহ্মা বিষ্ণু ও মহেশ্বরের পরেই তাঁর স্থান হওয়া উচিত। অজেয় রুরুর নৃশংস অত্যাচারে ভূলোক, স্বর্গলোক এমনকি পাতাললোকেও ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছিল। বিশাল অসুরসেনা নিয়ে স্বর্গে উপস্থিত হয়েছিলেন রুরু। যুদ্ধে দেবতাদের পরাজিত করে স্বয়ং ইন্দ্রকে অমরাবতী থেকে করেছিলেন বিতাড়িত। অসুরকুলের উল্লাস-ধ্বনিতে কেঁপে উঠেছিল স্বর্গ মর্ত্য পাতাল। ইন্দ্র সহ অন্যান্য দেবতারা নীলগিরি পর্বতে গিয়ে শুরু করেছিলেন আদি পরাশক্তি দেবী পার্বতীর তপস্যা।

প্রভূত সম্পদ ও ক্ষমতা করায়ত্ব হলে সৃষ্টি হয় বিকার ও ব্যভিচার। তাই অসুররাজ রুরুকে গ্রাস করেছিল অবৈধ কামনার লেলিহান অগ্নিশিখা। কামনার আগুনে পুড়তে থাকা রুরুর ঘৃণ্য কামুক দৃষ্টি পড়েছিল সীমাহীন যৌবন ও লাবণ্যের প্রতিমূর্তি দেবী পার্বতীর ওপর। শিবজায়া দেবী পার্বতীর রূপমাধুরীতে মোহিত হয়ে দেবীকে বিবাহের স্বপ্ন দেখেছিলেন মহাপাতক রুরু। অসুররাজ জানতেন যেকোনও জাগতিক বা অবাস্তব সাধ পূরণের জন্য চাই দেবতাদের বর। এবং সেই বর আদায়ের একমাত্র পদ্ধতি হলো তপস্যা। তাই লালসার আগুনে দগ্ধ হতে হতে দেবী পার্বতীকে পাওয়ার জন্য আবার কঠোর তপস্যা শুরু করেছিলেন অসুররাজ রুরু।

রুরুর কঠোর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ভক্তকে দেখা দিয়েছিলেন ব্রহ্মা

জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোন বর পাওয়ার আশায় এমন কঠোর তপস্যা শুরু করেছে রুরু। প্রজাপতি ব্রহ্মাকে নির্লজ্জ রুরু জানিয়েছিলেন দেবী পার্বতীকে তিনি স্ত্রী হিসেবে পেতে চান। পরম ভক্তের এহেন ঘৃণ্য মানসিকতায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন ব্রহ্মা। যিনি ব্রহ্মাত্মিকা শক্তি, যিনি তাঁর মহাশক্তির দ্বারা দেবতাদের সৃষ্টি করেন, যিনি জগতের সৃষ্টি ও পালনের মূল কান্ডারী, যিনি সকল অশুভশক্তি বিনাশ করেন, সেই দেবী মহামায়াকেও যে কেউ কামনার দৃষ্টিতে দেখতে পারে, তা কল্পনা করতে পারেননি ব্রহ্মা।

ভয়ঙ্কর ক্রোধে ব্রহ্মার সর্বাঙ্গে কাঁপন ধরেছিল। অন্তর্যামী ব্রহ্মা বুঝতে পেরেছিলেন রুরুর বিনাশ আসন্ন। রুষ্ট ব্রহ্মা অসুররাজ রুরুকে বর না দিয়ে তীব্র ভৎসনা করে ফিরে গিয়েছিলেন ব্রহ্মলোকে।

কিন্তু কামনার হলাহলে পরিপূর্ণ রুরু ছিলেন নাছোড়বান্দা

দেবী পার্বতীকে পাওয়ার আশায় হিমালয় পর্বতের গুহায় শুরু করেছিলেন আরও কঠোর তপস্যা। তপস্যার ফলে রুরুর শরীর থেকে নির্গত হয়েছিল অপরিমিত তেজ। সেই তেজের প্রভাব পড়েছিল হিমালয় পর্বতের উপর। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মাটি ও পাথর। আগুন ধরে গিয়েছিল গাছপালায়।

গলতে শুরু করেছিল হিমবাহ ও পাহাড়চূড়ার বরফ। বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে মিলিয়ে গিয়েছিল খরস্রোতা নদীর জল। কাতারে কাতারে মরতে শুরু করেছিল হিমালয়ের অরণ্যে বাস করা পশুপাখি, কীটপতঙ্গের দল। একসময় দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছিল হিমালয় পর্বতশ্রেণী।

এই অবিশ্বাস্য বিপর্যয়ের পরেও ত্রিদেব ছিলেন নিশ্চল ও নিরুপায়

রুরুকে ক্ষান্ত করার ক্ষমতা তাঁদের নেই। কারণ তাঁদের বরেই রুরু আজ অসীম শক্তিশালী। আগুনের প্রকোপ এতই ভয়াবহ ছিল যে স্বয়ং মহাদেব ও পার্বতী হিমালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। দেবী পার্বতী মহাদেবকে বলেছিলেন, “হে দেবাদিদেব, আপনি সর্বশক্তিমান, আপনি বিশ্ব ধ্বংসকারী পাশুপত অস্ত্রের অধিকারী। আপনিই ধ্বংসকারী রুদ্র। তুচ্ছ রুরুকে ধ্বংস করতে আপনার এক নিমেষের বেশি সময় লাগার কথা নয়, তবুও কেন আপনি তাকে ধ্বংস করছেন না?”

চিন্তিত মুখে পিনাকপাণি দেবী পার্বতীকে বলেছিলেন, ” এই আগুন সৃষ্টি হয়েছে রুরুর তপস্যার ফলে এবং সেই তপস্যা তোমাকে লাভ করার জন্য। তাই আমি রুরুকে ধ্বংস করতে অক্ষম। তোমাকেই রুরুর বিনাশের আয়োজন করতে হবে।”

রুরুকে ধ্বংস করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মহাদেবী পার্বতী

রুরুর কবল থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য স্বর্গের অধিকার হারানো দেবতারা আগে থেকেই নীলগিরি পর্বতে দেবীর তপস্যা করছিলেন। তার ওপর হিমালয়ে আগুন লাগিয়ে সৃষ্টিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে রুরু। ত্রিদেব অসহায়, তাই অসুররাজ রুরুকে ধ্বংস করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মহাবিশ্বের আত্মা মহাদেবী পার্বতী।

কৈলাস থেকে দেবী পার্বতী নেমে এসেছিলেন হিমালয়ের পাদদেশে। বিস্তীর্ণ তৃণভূমি থেকে ভেসে এসেছিল একটি হাতির আর্তনাদ। দিব্য জননী পার্বতী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেছিলেন, একটি সিংহ আক্রমণ করেছে একটি বয়স্ক হাতিকে। সিংহের আঁচড়ে কামড়ে হাতিটির সর্বাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। ক্রোধান্বিতা দেবী বধ করেছিলেন সিংহটিকে। তারপর সিংহটির দেহ থেকে চামড়া ছাড়িয়ে বস্ত্র হিসেবে পরিধান করে, রুরু নিধনে ধারণ করেছিলেন এক ভয়াবহ রূপ।

ধরাধামে আবির্ভূতা হয়েছিলেন নবদুর্গার ভয়ঙ্করতম দেবী ‘কালরাত্রি’

করালবদনা মুক্তকেশী দেবীর গাত্রবর্ণ অমাবস্যার রাত্রির জমাট অন্ধকারের মত ভয়াবহ। ভীষণমূর্তি দেবী কালরাত্রির কণ্ঠে ঝুলছিল বজ্রের মালা। সিংহের রক্ত লাগায় কেশের বর্ণ রক্তলাল। সুবিশাল নাসাছিদ্র দিয়ে নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত হচ্ছিল আগুন। গর্দভের পিঠে বসা ত্রিনয়না দেবীর চোখগুলি থেকে বেরিয়ে আসা জ্যোতির তেজে বিশ্ব পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চতুর্ভুজা দেবী কালরাত্রি অশুভশক্তিকে বিনাশের জন্য, দুই হাতে ধারণ করেছিলেন খড়্গ ও লোহার কাঁটা, বাকি দুই হাত জগতের কল্যাণের জন্য ছিল বরদা ও অভয় মুদ্রায়।এরপর দেবী কালরাত্রির কণ্ঠ থেকে নির্গত হয়েছিল এক বিভৎস হুঙ্কার।

শতসহস্র বজ্রের শক্তি ছিল সেই হুঙ্কারে

সমস্ত দেবতা, অসুর ও মনুষ্যকুলের বুকের রক্ত কিছুক্ষণের জন্য জল হয়ে গিয়েছিল। পৃথিবীব্যাপী ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় তুলে গর্দভের পিঠে চড়ে দেবী কালরাত্রি এগিয়ে চলেছিলেন অসুররাজ রুরুর তপস্যাস্থলের দিকে। প্রবল ঝড়ে নিভে গিয়েছিল হিমালয়ের আগুন।

দেবী কালরাত্রি একসময় পৌঁছে গিয়েছিলেন হিমালয়ের সেই প্রত্যন্ত গুহায়, যেখানে তপস্যা করছিলেন অসুররাজ রুরু। দেবীর রণহুঙ্কার ও প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় রুরুকে আগেই জানিয়েছিল মৃত্যুর আগমনবার্তা। ভঙ্গ হয়েছিল অসুররাজ রুরুর তপস্যা। চোখ খুলে অসুররাজ রুরু দেখেছিলেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অতীব বিকটদর্শনা এক নারী।

ভয়াবহ সেই নারীর চোখ নাক মুখ দিয়ে নির্গত হচ্ছিল ক্রোধের আগুন

বজ্রকণ্ঠে দেবী কালরাত্রি অসুররাজকে বলেছিলেন, ” রে পাপাচারী রুরু, আমিই দেবী পার্বতী, যাকে পাবার আশায় তুই তপস্যা করছিস।” রুরুর অট্টহাসিতে কেঁপে উঠেছিল হিমালয়, সেই কম্পনে পাহাড়ের চূড়া থেকে গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল পাথর।

বিকৃতমুখে অসুররাজ রুরু দেবী কালরাত্রিকে বলেছিলেন,” হে কুদর্শনা নারী, দেবী পার্বতী অসামান্য সুন্দরী। তাঁর মুখ চাঁদের ন্যায় স্নিগ্ধ ও সুন্দর। তাঁর বর্ণ গলিত সোনার ন্যায় উজ্জ্বল। তাঁর বাহুদুটি পদ্মের মৃণালের মতো সুডৌল। হে নারী, একবার নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ। তোমাকে দেখতে বিভৎস। তুমি মিথ্যা কথা বলছ, তুমি কখনই পার্বতী হতে পারো না। আমি তোমাকে চাই না। আমি চাই দেবী পার্বতীকে। কুৎসিত নারী, দ্রুত আমার সামনে থেকে বিদায় হও।” এই বলে অসুররাজ রুরু আরক্ত চক্ষু বিশিষ্টা দেবী কালরাত্রির দিকে তাঁর বিশাল গদা ছুঁড়ে মেরেছিলেন।

মহাশক্তির তেজসৃষ্ট দেবী কালরাত্রি ভয়ানক রুষ্ট হয়ে পদাঘাত করেছিলেন পাপিষ্ঠ রুরুকে। দেবীর পদাঘাতে সহস্রযোজন দূরে ছিটকে পড়েছিলেন অসুররাজ রুরু। ভুল ভেঙেছিল তাঁর। বুঝতে পেরেছিলেন এ নারী কোনও সামান্য নারী নন। তবুও রুরুর গায়ে বইছিল অসুর রক্ত। তাই পাহাড় ভেঙে, বিশাল গাছ উপড়ে নিয়ে দেবী কালরাত্রির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রুরু।

শুরু হয়েছিল দেবী কালরাত্রির সঙ্গে অসুররাজ রুরুর ঘোরতর যুদ্ধ

অস্ত্র হিসেবে দেবী কালরাত্রি ব্যবহার করেছিলেন তাঁর বিশাল ও সুতীক্ষ্ণ দাঁত ও নখ। দেবী কালরাত্রির ভয়াবহ আক্রমণে রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল অসুররাজ রুরুর দেহ। মায়াবিদ্যায় পটু আহত রুরু তাঁর শরীর থেকে তৈরি করতে শুরু করেছিলেন ভয়ানক সব অসুর। অন্যদিকে দেবী কালরাত্রিও নিজের শরীর থেকে সৃষ্টি করেছিলেন ভয়ঙ্কর সব দেবী (মতান্তরে ভূত ও পিশাচ)। সংহাররূপিণী দেবীরা অসুরদের ধরে ধরে খেতে শুরু করেছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুর শূন্য হয়ে গিয়েছিল রণক্ষেত্র। দিশেহারা অসুররাজ রুরু বুঝতে পেরেছিলেন সত্যিই তিনি দেবী পার্বতীর কোপে পড়ে গিয়েছেন। আর নিস্তার নেই তাঁর। রক্তলোলুপা দেবী কালরাত্রির কবল থেকে বাঁচবার জন্য পালাবার চেষ্টা করেছিলেন রুরু।

পিছু ধাওয়া করে দেবী কালরাত্রি রুরুকে নিয়ে গিয়েছিলেন পৃথিবীর শেষপ্রান্তে। রুরু বুঝতে পেরেছিলেন মর্ত্যে তাঁর লুকোবার জায়গা নেই। তাই বাঁচার তাগিদে রুরু পৃথিবীর শেষ সীমানা থেকে এক প্রকাণ্ড লাফ দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বর্গে। কারণ স্বর্গ তখন ছিল অসুরদের দখলে। এছাড়াও অসুররাজ রুরু ভেবেছিলেন, পরমভক্তকে দেবীর কালগ্রাস থেকে রক্ষা করবেন ত্রিদেব। কিন্তু দেবী কালরাত্রি রুরুর আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বর্গে। দেবীকে স্বর্গে দেখে, আবার প্রকাণ্ড লাফ দিয়ে রুরু পৌঁছে গিয়েছিলেন পাতালে। দেবী পার্বতী কালরাত্রিও পৌঁছে গিয়েছিলেন পাতালে।

ত্রিলোকে আর লুকিয়ে থাকার জায়গা ছিল না অসুররাজ রুরুর

ভীতসন্ত্রস্ত রুরু বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, বিনাশের চরম মুহূর্ত আগত প্রায়। রক্তলোলুপা কালরাত্রি রুরুকে তাঁর প্রকাণ্ড দুই হাত দিয়ে ধরে ফেলেছিলেন। তারপর সীমাহীন আক্রোশে তাঁর বিশাল বিশাল শাণিত নখ দিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন রুরুর মুণ্ড। তাঁর হাতের কাঁটায় বিদ্ধ করে ধরে রেখেছিলেন রুরুর ছিন্নমুণ্ড। কারণ ব্রহ্মার বরে রুরুর মুণ্ড মাটি স্পর্শ করা মাত্রই পুনরায় জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ক্ষেপে ওঠা নদীর মতো রক্তস্রোত নির্গত হচ্ছিল রুরুর কণ্ঠ থেকে। দেবী পার্বতীকে কামনা করা পাপাচারী রুরুর রক্ত আকণ্ঠ পান করেছিলেন দেবী কালরাত্রি।

অশুভশক্তি ও পাপের প্রতীক রুরুর রক্তপান করে পরিতুষ্ট দেবী কালরাত্রি, এরপর রুরুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন কৈলাসে। পুনরায় ধারণ করেছিলেন দেবী পার্বতীর দয়াময়ী রূপ। পরণে থাকা সিংহের ছাল মহাদেবকে দিয়েছিলেন আসন হিসেবে পাতার জন্য। মহাদেবের পাশে নিজে বসেছিলেন অসুররাজ রুরুর চামড়ার ওপর। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে নেমে এসেছিল পরম শান্তি। দেবীর পার্বতীর ওপর পুস্প বৃষ্টি করেছিলেন দেবতারা। মর্ত্যে শুরু হয়েছিল দেবী দুর্গার ভয়ঙ্করতম রূপ দেবী কালরাত্রির আরাধনা। নবদুর্গার অন্যতমা দেবী কালরাত্রি ধরাধামে পূজিতা হতে লাগলেন শুভঙ্করী, রৌদ্রি, রুদ্রাণী ও ধূমোর্ণা নাম নিয়ে।

সূত্র: বরাহপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ( অধ্যায় ৯৬) শিবপুরাণ, পদ্মপুরাণ (সৃষ্টি খণ্ড)

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More