শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে কংগ্রেস সরকার, মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপালকে চিঠি বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরদিনই বিজেপি দাবি করল, মধ্যপ্রদেশে ইতিমধ্যে কংগ্রেস সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। গেরুয়া ব্রিগেড জানিয়েছে, রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেলকে চিঠি দিয়ে দাবি করবে, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথকে গরিষ্ঠতা প্রমাণ করুন। আমাদের কাছে যতদূর খবর, তাঁর সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেস রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিসগড়ের ভোটে ভালো ফল করে। ছত্তিসগড়ে সরকার গড়ার মতো গরিষ্ঠতা পেলেও রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে তারা কয়েকটা আসন কম পেয়েছিল। ২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভায় রাহুল গান্ধীর দল পেয়েছিল ১১৪ টি আসন। চার নির্দল, বিএসপির দু’জন ও সমাজবাদী পার্টির একজন বিধায়কের সমর্থনে তারা সরকার গঠন করে। বিজেপির প্রাপ্ত আসন ছিল ১০৯। কংগ্রেসের থেকে মাত্র পাঁচটি আসন কম পেয়েছিল গেরুয়া ব্রিগেড। যদিও রাজ্যে কংগ্রেসের থেকে ৪৭,৮২৭ টি ভোট বেশি পেয়েছিল বিজেপি। শতকরা হিসাবে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল কংগ্রেসের থেকে ০.০১ শতাংশ বেশি।

এর আগে একমাত্র কর্ণাটকেই দেখা গিয়েছিল, বিজয়ীর চেয়ে পরাজিত দল ভোট ভোট পেয়েছে বেশি। ২০০৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির চেয়ে ০.০৯ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপি ৩০ টি আসন বেশি পেয়েছিল কংগ্রেসের চেয়ে।

লোকসভা ভোটে মধ্যপ্রদেশের গুনা কেন্দ্রে বিএসপির তরফে যাঁকে দাঁড় করানো হয়েছিল, তিনি পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁর নাম লোকেন্দ্র সিং রাজপুত। তাঁর দলত্যাগের খবর শুনে বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী হুমকি দেন, কংগ্রেস সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবেন। তাঁর কথায়, এই কাজের জন্য কংগ্রেসকে বিরাট মূল্য দিতে হবে। এই ধরনের কাজ করার জন্য আমরা একসময় অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার ফেলে দিয়েছিলাম।

রবিবার বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পরেই বিজেপি সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছিলেন, মনে হচ্ছে মধ্যপ্রদেশে কমলনাথের সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। কংগ্রেস দাবি করেছিল, মধ্যপ্রদেশে মোট ২৯ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২২ টি পাবে। বিজয়বর্গীয় বলেন, লোকসভা ভোটের ফল বেরোনর পর কমলনাথের সরকার ২২ দিন টিকে থাকে কিনা দেখুন। বিজেপির অন্যান্য নেতাও দাবি করেন, লোকসভা ভোটের ফল বেরোনর পরে মধ্যপ্রদেশে আর কংগ্রেস সরকার থাকবে না।

ঠিক কীসের ভিত্তিতে বিজেপি নেতারা এত নিশ্চিত হয়ে বলছেন, কমলনাথের সরকার পড়ে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে জল্পনা চলছে। কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Comments are closed.