বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

এক কোটি টাকা দিয়ে ভেন্টিলেটর নিয়ে আসুন! গাফিলতিতে মারা গেল দেড় বছরের দগ্ধ শিশু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দগ্ধ দেহে প্রায় মৃত্যুর মুখে খাবি খাচ্ছিল বছর দেড়েকের শিশুটি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে তাকে। কিন্তু অভিযোগ, ভেন্টিলেটর না থাকায়, শিশুটির বাবা-মাকে বলা হয়, এক কোটি টাকার বিনিময়ে ভেন্টিলেটর ‘জোগাড় করে নিতে।’

পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজের এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক জ্যোতি রাউতকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

শিশুটির বাবা দেবেন্দ্র আহিরওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে তাঁর দেড় বছরের মেয়ে অংশিকা ফুটন্ত জলের একটি পাত্রে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কেলেজে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে, চিকিৎসকেরা জানান, ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে অংশিকা।

দেবেন্দ্রর অভিযোগ, কোনও চিকিৎসকই ভাল করে দেখছিলেন না অংশিকাকে। ওর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছিল। কিছু ক্ষণ অপেক্ষার পরে চিকিৎসক জ্যোতি রাউত এসে অংশিকাকে দেখেন এবং জানান, ওকে ভেন্টিলেটরে ট্রান্সফার করতে হবে। দেবেন্দ্রর অভিযোগ, তাঁরা রাজি হলে চিকিৎসক জানান, বার্ন বিভাগে ভেন্টিলেটর নেই।

দেবেন্দ্র জানান, এর পরে তাঁরা কোনও ভাবে একটি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করলে, ওই চিকিৎসক দাবি করেন, এক কোটি টাকার বিনিময়ে নিজেদের জোগাড় করতে হবে ভেন্টিলেটর।

কয়েক ঘণ্টা পরে কার্যত বিনা চিকিৎসায় মারা যায় অংশিকা।

এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় দেবেন্দ্রর সঙ্গে চিকিৎসক রাউতের কথোপকথনের ভিডিও। সাসপেন্ড করা হয় ওই চিকিৎসককে।

বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজের ডিন ডক্টর জিএস প্যাটেল জানান, আইসিইউ বিভাগে ভেন্টিলেটর ছিল, সেখানেই বাচ্চাটিকে রাখা যেতে পারত। তিনি আরও বলেন, “আমি শহরের বাইরে ছিলাম, সবটা বিস্তারিত জানি না। তদন্ত করে দেখব।”

 

Shares

Comments are closed.