মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

লিঞ্চিং-এর অভিযোগ তুলে দেশের ও হিন্দুদের বদনাম করা হচ্ছে, দশেরায় বললেন আরএসএস প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মব লিঞ্চিং বা গণধোলাইয়ে হত্যা হয় পাশ্চাত্য দেশগুলিতে। ভারতে লিঞ্চিং-এর কথা বলে দেশের বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। শুধু দেশের নয়, হিন্দুদেরও বদনাম করা হচ্ছে। একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রে দশেরার সময় এমনই মন্তব্য করেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। একইসঙ্গে তিনি সংবিধানের ৩৭০ ধারা লোপ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, কায়েমি স্বার্থ চায় না ভারত শক্তিশালী হয়ে উঠুক।

গণধোলাইয়ে মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে মোহন ভাগবত বলেন, সামাজিক হিংসার কয়েকটি ঘটনাকে ‘লিঞ্চিং’ বলে আখ্যা দেওয়ার অর্থ আমাদের দেশের বদনাম করা। ভারতে লিঞ্চিং হয় না। এসব অন্যত্র হয়।

আরএসএস প্রধানের মতে, লিঞ্চিং হয় পাশ্চাত্য দেশগুলিতে। তাঁর কথায়, ভারতীয় নৈতিকতায় লিঞ্চিং-এর স্থান নেই। ভিন্ন ধর্মে লিঞ্চিং-এর কথা আছে। ভারতের ওপরে লিঞ্চিং-এর অভিযোগ চাপিয়ে দেবেন না।

কিছুদিন আগে দেশ জুড়ে দলিত, মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে মব লিঞ্চিং করার প্রতিবাদে ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন। গত সপ্তাহে ওই বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে বিহারে এক ব্যক্তি এফআইআর দায়ের করেন।

বুদ্ধিজীবীরা চিঠিতে লিখেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের লিঞ্চিং করা অবিলম্বে বন্ধ হোক। আমরা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর দেওয়া তথ্যে জানতে পেরেছি, ২০১৬ সালে সারা দেশে দলিতদের বিরুদ্ধে ৮৪০ টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীরা শাস্তিও পায়নি।

মোহন ভাগবত এই হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশের মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, শান্তিতে বাস করুন। তাঁর দাবি, আরএসএস কর্মীরা মানুষের মধ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন।

৩৭০ ধারার অবলুপ্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ব জুড়ে বহু মানুষ এমনটা চাননি। ভারতেও অনেকে চাননি। কায়েমি স্বার্থের লোকেরা দেশের উন্নতি চায় না। তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকা উচিত। বৌদ্ধিক ও সামাজিক স্তরে তাদের মোকাবিলা করা উচিত।

Comments are closed.