বুধবার, জুন ২৬

উচ্চবর্ণের গরিবদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা বিল পাশ লোকসভায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার রাতে লোকসভায় বিপুল ভোটে পাশ হয়ে গেল সংবিধানের ১২৪ তম সংশোধনী বিল। উচ্চবর্ণের গরিবদের জন্য সংরক্ষণ করার কথা বলা আছে ওই বিলে। তার পক্ষে পড়েছে ৩২৩ টি ভোট। বিপক্ষে মাত্র তিনটি ভোট। বিরোধীরা কয়েকটি আপত্তির কথা জানিয়েও সমর্থন করেছে ওই বিল।

বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই বিল এনেছে সরকার। চাকরিতে সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে বটে কিন্তু বিজেপি গত চার বছরের বেশি সময়ে নতুন চাকরির সুযোগই সৃষ্টি করতে পারেনি। সুতরাং বাস্তবে পিছিয়ে পড়া মানুষ এই সংরক্ষণের সুবিধা নিতে পারবেন না। রাষ্ট্রীয় জনতা দল, সমাজবাদী পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি দাবি করেছে, জনসংখ্যায় বিভিন্ন জাত ও সম্প্রদায়ের অনুপাত অনুযায়ী সংরক্ষণের ব্যবস্থা হোক। সেজন্য প্রয়োজনে কাস্ট সেন্সাস করাতে হবে। তাতে বোঝা যাবে, কোন জাত কী অনুপাতে আছে।

অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বিলের বিরোধিতা করে বলেছে, সংবিধান নিয়ে জালিয়াতি করা হচ্ছে। এডিএমকে লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করেছে।

চলতি শীত অধিবেশন শেষ হচ্ছে বুধবার। চলতি সরকারের আমলে এর পরে সংসদের আর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন হবে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিন রাজ্যে লোকসভা ভোটে ফল খারাপ হওয়ার পরে বিজেপি বুঝেছে, উচ্চবর্ণের ভোটারদের এক বড় অংশ মুখ ঘুরিয়েছে গেরুয়া ব্রিগেডের থেকে। তাঁদের সন্তুষ্ট করার জন্যই এই বিল আনা হয়েছে। শীত অধিবেশনের একেবারে শেষ দিকে ওই বিল আনা হল। রাজ্যসভার অধিবেশন এক দিন বাড়ানো হয়েছে। সেখানে বুধবার ওই বিল পেশ করা হবে।

বিলের পক্ষে এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, বর্তমানে ৫০ শতাংশ কোটা চালু আছে। সরকার তার ওপরে বাড়তি কোটা চালু করতে চায়। তার ফলে এখন যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা পান, তাঁরা বঞ্চিত হবেন না।

অন্য একটি প্রসঙ্গে জেটলি বলেন, অনেকের ধারণা, আরও ১০ শতাংশ কোটা চালু হলে সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের রায় অমান্য করা হবে। কংগ্রেস নেতারা অনেকে এমন টুইট করেছেন। আমি তাঁদের স্পষ্ট বলতে চাই, জাতপাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যারা জন্মাবধি অসাম্যের শিকার তাদের উন্নতির জন্য সংরক্ষণ চালু হয়েছিল। যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছনে পড়ে আছে, সরকার তাদের উন্নতি চায়। কংগ্রেসের বক্তব্য, তারা এই বিল সমর্থন করছে বটে কিন্তু খুব তাড়াহুড়ো করে বিলটি পেশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান বলেছেন, এনডিএ সরকার ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। এতদিনে সেই প্রতিশ্রুতি পালিত হল।

আরও পড়ুন-উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণ বিল যাক সংসদীয় কমিটিতে, চায় কংগ্রেস

Comments are closed.