গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, পাতে ইলিশ! বাঙালি মায়ের কোলে আফ্রিকার দুর্গা, সমাজ বলছে ‘আলাদা’!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

    ঘটনা এক: মা হতে চেয়েছিলেন বছর ত্রিশের প্রিয়াঙ্কা (নাম পরিবর্তিত)। কিন্তু দু’-দু’টো সম্পর্ক খুব বাজে ভাবে ভাঙার পরে, আর বিয়ের ঝুঁকি নিতে চাননি। একলা মা হবেন বলে ঠিক করে, দত্তক নিতে চেয়েছিলেন অনাথ শিশু। বছর দুয়েকের লড়াইয়ের পরেও সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ জায়গা থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, একা মাকে দত্তক দেওয়া হবে না।
    তা হলে সুস্মিতা সেন?
    ওঁর ব্যাপারটা আলাদা।

    ঘটনা দুই: স্বামীর বীর্যে সন্তান ধারণ করা সম্ভব হবে না, এ কথা জানার পরে স্পার্ম ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করেছিলেন উচ্চবিত্ত পরিবারের এক মহিলা। পেশায় কলেজ শিক্ষিকা শর্মিলার (নাম পরিবর্তিত) শর্ত ছিল একটাই, লম্বা-ফর্সা-আকর্ষণীয় দেখতে কোনও পুরুষের স্পার্মই ইনজেক্ট করতে হবে তাঁর শরীরে।

    ঘটনা তিন: বিয়ের বছর দশের পরে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শহরের এক নিঃসন্তান দম্পতি। কিন্তু শেষমেশ পরিবারের বাধায় সম্ভব হয়নি তা। যুক্তি ছিল, ‘অজাত-কুজাতের’ কোনও বাচ্চাকে ঘরে ঢোকানো যাবে না। কুলীন বংশপরিচয় নিশ্চিত ভাবে জেনে তবেই আনা যেতে পারে তাকে। স্বাভাবিক ভাবেই, ভারতীয় সংবিধানের দত্তক-আইন মেনে এমনটা সম্ভব হয়নি সেই সরকার-দম্পতির পক্ষে।

    ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন হলেও, কাল্পনিক নয়। নয় খুব অচেনাও। আমরা খোঁজ রাখি বা না রাখি, এমনটা প্রায়ই ঘটে চলেছে আমাদের আশপাশে। এই ২০১৯ সালেও।

    আমাদের দুর্গা।

    ১৮ বছর পিছিয়ে যাওয়া যাক। ২০০১ সাল। ৩৫ বছরের সুমনা ধর, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের কর্মচারী এক তরুণী ঠিক করেছিলেন, মা হবেন। একাই। বলাই বাহুল্য, আজকের দিনেও যে মাতৃত্ব আইনের চোখে স্বাভাবিক অথচ সমাজের চোখে নয়, সেটা অত দিন আগে আরওই কঠিন এবং জটিল একটা বিষয় ছিল। পরিবার হোক বা সমাজ, আদালত হোক বা কর্মক্ষেত্র– সব জায়গাতেই একটাই প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন সুমনা।

    “কেন?”

    মা সুমনার সঙ্গে ধ্রুব ও দুর্গা।

    সুমনা একা লড়েছিলেন সারা দুনিয়ার সঙ্গে। বছর দেড়েক একটানা চলেছিল সে লড়াই। মা হওয়ার লড়াই। শেষমেশ মুর্শিদাবাদের কোনও এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মানো এক শিশুকে দত্তক নিতে পারেন তিনি। কিন্তু দত্তক পেলেও, কোলে পেতে কেটে গেছিল আরও কিছু সময়। হাসপাতালের নথিতে তার মায়ের নামটি যেহেতু অন্য ধর্মের ছিল, তাই সেই নিয়েও কম হ্যাপা পোহাতে হয়নি। “আমি পাঁচ বার উকিল বদলেছিলাম। কারণ প্রত্যেকেরই প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘নিজের ধর্মের কাউকে পেলেন না?’– এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পরে আমি আর ভরসা করতে পারতাম না ওদের।”

    কলকাতার দুর্গাপুজোয়।

    ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক মাসের ছোট্ট ধ্রুবকে কোলে পাওয়ার পরে, কর্মসূত্রে নাইরোবি পাড়ি দিয়েছিলেন সুমনা। ওখানেই চার বছরের জন্য পোস্টিং ছিল তাঁর।

    আমাদের এই গল্পটা এখান থেকে শুরু। আফ্রিকার এক গরিব দেশ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি তার পটভূমি। সেখানেই সুমনার মাতৃত্বে বেড়ে উঠছিল এ গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, ধ্রুব। সুন্দর কাটছিল দিন। তত দিনে প্রাথমিক সমস্যাগুলোও স্তিমিত। সুমনার মা-বাবারও চোখের মণি হয়ে উঠেছে ধ্রুব।

    আমরা যখন ছোটো ছিলাম।

    “ধ্রুবর যখন বছর চারেক বয়স, তখন আমার মনে হয়, ওর শৈশবটা পরিপূর্ণ করার জন্য ওর আর একটা সঙ্গী প্রয়োজন। ওর একটা ভাই বা বোন হলে ভাল হতো। আমিও চাইছিলাম, আমার পরিবারটাকে সম্পূর্ণ করতে। চাইছিলাম, ধ্রুবর ছোটবেলার সুন্দর স্মৃতি তৈরি হোক। কিন্তু ধ্রুবকে দত্তক নিতে গিয়ে আমায় যে লড়াইটা করতে হয়েছিল, সেটা ভেবেই পিছিয়ে যাই আমি। আরও এক বার ওই কঠিন টানাপড়েন আমি সামলাতে পারতাম না আর।”– বলেন সুমনা।

    এই সময়ই সমস্যার সমাধান হয়ে সুমনার পাশে দাঁড়ান তাঁর দুই বন্ধু। নাইরোবিরই বাসিন্দা সেই দুই বন্ধুর পরামর্শে, সে দেশেই দ্বিতীয় সন্তানকে দত্তক নেবেন বলে ঠিক করেন সুমনা। এবং সে দেশের দত্তক আইন অনেক বেশি শিথিল ও কার্যকরী হওয়ায়, সমস্যাও ছিল অনেক কম। সুমনা বলেন “আমি শুধু একটা সুস্থ সন্তান চেয়েছিলাম। আর ধ্রুব যেহেতু ছেলে, তাই কন্যসন্তান আমার প্রেফারেন্স ছিল। ব্যস, এতটুকুই। এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পরে, মাত্র ছ’মাস লাগল পাকাপাকি ভাবে দুর্গাকে আমার কোলে পেতে।”

    ছোট্ট দুর্গা।

    হ্যাঁ, দুর্গা। এই নামই রেখেছিলেন সুমনা। স্বেচ্ছায়, সব জেনে, নিজের করে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন কালো চামড়ার, মাথা ভরা কুঁচকোনো চুলের ছোট্ট মেয়েটিকে। এ প্রতিবেদনে কালো চামড়ার বা কুঁচকোনো চুলের কথা আমায় লিখতে না হলে খুবই ভাল হতো, সুমনাও যদি ভুলে যেতে পারতেন ওর চামড়ার রং, তা হলে আরও ভাল হতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের সমাজ আজও এমন একটা জায়গায় অবস্থান করে, যে এত সুন্দর একটি অনুপ্রেরণার গল্প করতে করতেও, সুমনার নাকতলার বাড়িতে বসে আমরা দুর্গার চামড়ার রঙের কথা আলোচনা করতে বাধ্য হলাম।

    মায়ের আদরে।

    হবো না-ই বা কেন? যেখানে ঝরঝরে বাংলা বলার পরেও, অনাবিল হাসিতে প্রতিটা মানুষকে আপন করে নিতে পারার পরেও, নিখুঁত কথা-সুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারার পরেও, নিজে হাতে লুচি বানিয়ে ভেজে খেতে পারার পরেও ১২ বছরের দুর্গাকে প্রায়ই শুনতে হয় প্রকাশ্য ফিসফাস– “এই নিগ্রোটা আবার কোথা থেকে এল রে!”

    সত্যি বলছি, শুনতে শুনতে আমারই রাগ হয়ে যাচ্ছিল। ভাবছিলাম, সদ্য কিশোরী দুর্গা তা হলে কতটা কষ্ট পায়!

    প্রতিবেদকের সঙ্গে সুমনা ও দুর্গা।

    নাইরোবির একটি অনাথআশ্রমে দুর্গাকে দেখে আসার পরে, কিছু দিন সেখানে গিয়ে ছোট্ট পুতুলের মতো গালফোলা মেয়েটার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন সুমনা। তেমনটাই নিয়ম সেখানকার। তার পরে দুর্গার যখন আড়াই মাস বয়স, ধ্রুবর বোন হয়ে সুমনার বাড়িতে এল সে। ছ’মাসের মধ্যে সারা সমস্ত আইনি নিয়ম।

    সেলফি মোমেন্ট।

    এক বছর পরে, ২০১০ সালে পাকাপাকি ভাবে দেশে ফেরেন সুমনা। কোল জুড়ে ধ্রুব-দুর্গা। বাবা গত হয়েছেন। মায়ের বয়স বাড়ছে। শুরু সুমনার নতুন লড়াই।

    “ওদের শিকড় আমি জানি না। ওরাও হয়তো কোনও দিন জানার সুযোগ পাবে না বা পেত না। আমি চেয়েছিলাম, আমার শিকড়টা ওরা চিনুক। আমি চাই, আমার যতটুকু প্রাপ্তি আছে এ পৃথিবীতে, তার সবটুকু দিয়ে ওরা সমৃদ্ধ হোক। প্রতিটা মা-ই কি তাই চান না? সন্তানকে সবটুকু চিনিয়ে এবং ভরিয়ে দেওয়াই কি মাতৃত্বের সার্থকতা নয়?”– প্রশ্ন করেন সুমনা। জানান, এই জায়গা থেকেই প্রতিটা মাতৃত্ব, প্রতিটা পরিবার একই।

    ভাই-বোন।

    সুমনা আরও বললেন, “আমার পরিবারেও ভাইবোনের মারামারি আছে, আমার শাসন আছে, ওদের দিদার আদর আছে, ভালবাসা আছে, সমস্যা আছে– সবটুকু আছে। আমরা আলাদা নই। সকলে ভাবে আলাদা। সেটা সকলের ভাবনার সমস্যা। সমাজের তৈরি করে দেওয়া বজ্রকঠিন ছাঁচটার সমস্যা।”

    শাড়িতে অনন্যা।

    শুনে মনে হচ্ছিল, সত্যিই তো। পরিবারের এক জন ছোট্ট সন্তান, যে পরিবারের বৃদ্ধতম মানুষটির খেয়াল রাখে, অতিথি এলে তাকে আপন করে নেয়, আহ্লাদ হলে মাকে বলে শ্যাম্পু করিয়ে দিতে, সময় পেলে ক্লাসিক্যালে গলা সাধে, ইলিশ মাছ যে কোনও ‘বাঙালি’র চেয়ে বেশি ভাল ভাবে কাঁটা বেছে খেতে পারে, সর্বোপরি সে সুস্থ ও প্রাণচঞ্চল– এই সব কিছুর ওপরে কী করে বড় হতে পারে, ওকে কেমন দেখতে!

    নাইরোবির সেই হোম, যেখান থেকে দুর্গা এসেছিল।

    দুর্গার এখনও কেনিয়ার সিটিজ়েনশিপ আছে। ও ১৫ বছরের জন্য আইনি অনুমতি নিয়ে মায়ের সঙ্গে এ দেশে এসে রয়েছে। “ও আমার সন্তান মানে এই নয়, ওর কোনও কিছু আমি জোর করে ঠিক করে দেব। ও ১৫ বছর বয়সে নিজে সিদ্ধান্ত নেবে, ও এ দেশেই থাকতে চায় কি না। ও ফিরতে চাইলেও আমি বাধা দেব না। সন্তানের ইচ্ছে-অনিচ্ছে, মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াও তো জরুরি।”– বললেন সুমনা।

    জরুরি বলেই, আট বছর বয়সে একটু বুঝতে শেখার পরেই দুর্গা যখন আচমকা এক দিন প্রশ্ন করে বসল, ‘আমার দেশ কই, পরিবার কই, বন্ধু কই, বাড়ি কই…’ তখনই সদলবল নাইরোবি পাড়ি দিয়েছিলেন সুমনা। দুর্গাকে দেখিয়ে এনেছিলেন, তার ‘দেশ’। যে আশ্রম থেকে সে এসেছিল, সেখানে গিয়ে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাও করে আসে সে। চিনে আসে মাটি, বাড়ি, গাছ, আকাশ, মানুষ।

    নাচের বেশে।

    ধ্রুবর অবশ্য তেমন ইচ্ছে হয়নি কখনও। তাই ছোট্টবেলা থেকে “বাবা কোথায়” প্রশ্নটা নিয়ে একাধিক বার সমস্যা ও অপমানের মুখে পড়লেও, আজ, ১৬ বছর বয়সে টিউশন থেকে ফিরে, দিদার বানিয়ে দেওয়া স্যান্ডউইচে কামড় বসিয়ে সে দিব্যি বলে, “এখন এসব নিজের ঘর-বাড়ি-বাবা-মা খোঁজা অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। আমি তো দারুণ আছি মায়ের কাছে!”

    ধ্রুবকেও মুর্শিদাবাদে অনেক বার নিয়ে গিয়েছেন সুমনা, চেনাতে চেয়েছেন তার নিজের জায়গা, নিজের জন্মের ইতিহাস। কিন্তু ধ্রুব প্রতিবারই হাজারদুয়ারি-লালবাগ-খোশবাগের ইতিহাসেই বেশি মুগ্ধ হয়েছে।

    “বাবা কোথায়” প্রশ্নটা যদি ধ্রুবর বেড়ে ওঠার অন্যতম সমস্যা হয়, দুর্গার ক্ষেত্রে তা হলে সেটা, ওর গায়ের রং। ওর কোঁচকানো চুল। দুর্গা নিজেই বলছিল। এমনও হয়েছে, বাসে বা মেট্রোয় দুর্গার সামনেই কেউ ‘গল্প’ করতে শুরু করেছে ওর গায়ের রং নিয়ে, ও কোথা থেকে এসেছে তাই নিয়ে। দুর্গা কখনও উত্তর দিয়েছে, কখনও দেয়নি। কখনও পাশ থেকে সুমনা বলে উঠেছে, “আমি ওর মা। আমায় জিজ্ঞেস করুন।” তখন গালে হাত দিয়ে ‘ও মা, ও বাংলাও বোঝে!’ বলে থেমে গেছেন তাঁরা। “কিন্তু সব জায়গা তো আমার পাহারা দেওযার আয়ত্তে থাকে না!”– আক্ষেপ সুমনার।

    বন্ধুত্ব।

    শুধু এই কারণে, খুব ভাল ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও মার্শাল আর্টস ছেড়ে দিয়েছে দুর্গা। কারণ ক্লাসের বাইরে অপেক্ষা করা অভিভাবকদের কৌতূহল ও আলোচনাগুলো ওর আড়ালে করার সৌজন্যটুকুও রাখতেন না কেউ।

    ছোটোবেলায় এক বার স্কুল থেকে খবর এল, এক ছাত্রের বুকে লাথি মেরেছে দুর্গা।– গল্প করছিলেন সুমনা। পরে জানা গিয়েছিল, বাইপাসের ধারের সেই অভিজাত স্কুলে, রোজ বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছিল ছোট্ট মেয়েটা। শুধু তাই নয়, ওকে রোজ আঘাত করত ওরই এক ‘সহপাঠী’! এক দিন ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে দুর্গার জ্বলে ওঠার দিন ছিল।

    ছোটোবেলায় একাধিক দিন কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে ফিরেছে দুর্গা। কোনও দিন কারপুলের বন্ধুদের অদ্ভুত প্রশ্নের মুখে পড়ে, কোনও দিন স্কুলের গেটের বাইরে কোনও মায়েদের জটলায় হাসাহাসির মুখে পড়ে। পরে ওই স্কুল ছেড়ে দেয়, দুর্গা ও ধ্রুব দু’জনেই।

    “এখন ওরা বড় হয়েছে। এখন ওরা অনেকটা বোঝে। যতটা বোঝে ততটা বলে না, কিন্তু বোঝে সবটাই। কিন্তু ছোটোবেলাটা খুব খুব কঠিন ছিল। তখন হয় ওদের নিয়ে কানাঘুষো চলত, নয় ওদের বলা হতো, ‘তোমরা কত লাকি! তোমরা তোমাদের মায়ের জন্য গর্বিত!’ ছোট বাচ্চা কি গর্ব বোঝে নাকি! ওটাও তো ওদের জন্য একটা সমস্যা!”– বলেন সুমনা।

    সপরিবার।

    দুর্গা স্বভাবগত ভাবে উচ্ছল হলেও, শুধু এই জায়গাটায় এসে চুপ করে যায়। বলছিল, “যখন কেউ আমায় বলেন ‘কোত্থেকে এসেছে রে বাবা’, তখন আমি খুব জোরে তাদের বলতে চাই, আমি যেখান থেকেই আসি না কেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি এখানে থাকি এবং ছোটো থেকে আছি। আমি এখানকারই। আমার রং বা চুল আমার পরিচয় নয়! আমি বলতে চাই এগুলো! কিন্তু বলেও দেখেছি, কোনও তফাত হয় না। অদ্ভুত দৃষ্টিগুলো বদলায় না। আমি জানি না, এ শহর কখনও আমার নিজের হবে কি না।”

    কী বলছে দুর্গা? দেখুন ভিডিও।

    সুমনা বুঝিয়ে বলছিলেন, দুর্গাকে যেমন এ শহর নিজের করতে পারেনি, তেমনই তাঁকেও দুর্গার মা হিসেবে মেনে নিতে পারেনি অনেকেই। কিন্তু মাতৃত্বও শুধুমাত্র শারীরিক একটা বিষয় নয়। মাতৃত্ব ডেভেলপ করার বিষয়। সেটা যে কেউ করতে পারে, যে কারও প্রতি। কারও শৈশবের স্মৃতি যে কোনও কোথাও তৈরি হতে পারে। শুধু দেখার বিষয়, তা কতটা রঙিন হচ্ছে। সন্তানের আপন-পর হয় না!

    সত্যিই তো, একটা মানুষ যখন জন্মায়, তখন তার গায়ে কোনও ট্যাগ থাকে না রঙের, ধর্মের, দেশের। ট্যাগ তো চাপায় সমাজ ও রাষ্ট্র। এমনকী তার জন্মের সময়কার কোনও স্মৃতিও থাকে না। স্মৃতি আস্তে আস্তে তৈরি হয়। সেটা সুন্দর হওয়াটাই জরুরি। সেটা কোনও নির্দিষ্ট ছাঁচে হওয়া জরুরি নয়।

    তবে এখন একটাই ভয় মাঝেমাঝে উঁকি দেয় মায়ের মনে। দুর্গা বড় হচ্ছে। স্কুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়তো কলেজে যাবে, হয়তো চোখের আড়াল হবে। পড়তে যাবে কোথাও, চাকরি করতে যাবে। সেখানেও কি এরকম ভাবেই ‘ডিফারেন্ট’ পরিচয়টা ওর কাছে কাঁটার মতো হয়ে থেকে যাবে? সেই কাঁটা কি ওর জন্য কোনও বিপদ ডেকে আনবে?

    সময় ছাড়া এ উত্তর আর কারও কাছে নেই। তবে এটা আশা করাই যায়, ভালবাসা-অস্ত্রে অসহিষ্ণুতা-অসুর বধ করা কঠিন হলেও হয়তো একেবারে অসম্ভব হবে না দুর্গার পক্ষে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More