হ্যাকিং-এর অভিযোগ অনেকটা সায়েন্স ফিকশনের মতো, মানলেন কপিল সিবাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকা প্রবাসী সাইবার বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুজা সোমবার লন্ডনে এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, ২০১৪ সালে ভোটযন্ত্রে কারচুপি করে ভোটে জিতেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবালকে। বিজেপি প্রশ্ন তোলে, সাংবাদিক বৈঠকে কপিল সিবাল কী করছিলেন? কপিল সিবাল জবাবে বলেন, তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত কাজে। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সৈয়দ সুজার অভিযোগ শুনে তাঁর মনে হয়েছে, কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী। এখন সাংবাদিকদের উচিত সত্যটা খুঁজে বার করা।

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেছেন, লন্ডনে যাওয়ার পরে আশিস নামে এক সাংবাদিক আমাকে আমন্ত্রণ করেন। আমি আশিসকে আগে থেকে চিনতাম। সে ছিল লন্ডনের সাংবাদিক বৈঠকের উদ্যোক্তা।

কথা ছিল, ওই সাংবাদিক বৈঠকে সৈয়দ সুজা হাতেনাতে দেখাবেন, কীভাবে ইভিএম হ্যাক করা যায়। কিন্তু তেমন কিছু না দেখিয়ে সৈয়দ সুজা দাবি করেন, ২০১৪ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ভোটযন্ত্র হ্যাক করা হয়েছিল। যদিও ওই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ এদিন বলেন, ওই সাংবাদিক বৈঠকের স্পনসর ছিল কংগ্রেস। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ২০১৪ সালের জনাদেশকে অমান্য করা।

সৈয়দ সুজা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন রবিশংকর প্রসাদ। তিনি বলেন, আমি সাড়ে চার বছর তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলাম। কখনও তাঁর নাম শুনিনি। সে নাকি আমেরিকায় থাকে। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ ঢেকে কথা বলছিল। আমি জানি না, এটা কী রকম নাটক?

সৈয়দ সুজা দাবি করেন, হ্যাকিং-এর কথা জেনে ফেলায় বিজেপি নেতা গোপীনাথ মুন্ডে খুন হন। রবিশংকর প্রসাদ বলেন, তিনি দিল্লিতে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন। এইমসের ডাক্তার সুধীর গুপ্ত তাঁর দেহের ময়না তদন্ত করেন। তিনি বলেছিলেন, ঘাড়ে আঘাত লাগার জন্যই গোপীনাথ মুন্ডের মৃত্যু হয়েছে। এরপরে কীভাবে বলা যায়, তিনি খুন হয়েছেন? সম্পূর্ণ ননসেন্স অভিযোগ।

এদিন সৈয়দ সুজার অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসপি প্রধান মায়াবতী, তেলুগু দেশমের চন্দ্রবাবু নাইডু, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন, আগামী ভোটে ইভিএমের বদলে ব্যালটে ফিরে যাওয়া হোক। কংগ্রেস কিন্তু এসম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছে সতর্কভাবে।

কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি বলেন,  আমরা ইভিএমে হ্যাকিং-এর অভিযোগ সমর্থন করছি না, বিরোধিতাও করছি না। তবে এমন গুরুতর অভিযোগ যখন উঠেছে, তখন তদন্ত হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের উচিত ভোটযন্ত্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

এদিন সৈয়দ সুজার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More