রবিবার, মার্চ ২৪

সূর্য ডুবলেই বিরাট এই জঙ্গল আলোর চাদরে ঢাকে!! বেশি দূর নয়, জঙ্গলটি এদেশেই

গৌতমী সেনগুপ্ত

সে এক রহস্যে ঘেরা জঙ্গল। ঝুপ করে অন্ধকার নামতেই ঝটপট আলো জ্বলে। হাজার হাজার গাছ- গাছালি পর পর নানা রঙের আলোয় জ্বলে ওঠে। সবুজ-নীল-হলুদ-গোলাপি মিলে সে এক স্বপ্নের অনুভব। পশ্চিমঘাটের অন্যতম গভীর জঙ্গল ভীমশঙ্কর সূর্যাস্তের পর ঠিক এভাবেই আলোয় আলোয় ভরে ওঠে। মুম্বই থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ পেরোলেই আলোয় মাখা  ভীমশঙ্কর জঙ্গল। যেন ম্যাজিক!!

দিনে নানারকমের সবুজ, আর রাতে জঙ্গলের পুরোটাই রঙিন। দেখে মনে হবে সারি সারি টুনি লাইট গাছের ডালে, পাতায় জড়ানো।

কিন্তু কেন? কীভাবে?

আপনার মনে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাওয়া স্বাভাবিক। কারণটা জানলে মনে হবে গোটা ব্যাপারটা ম্যাজিকই বটে।  ভীমশঙ্কর জঙ্গলের গাছের ডালে, পাতায় সেঁটে থাকে এক ধরণের ফাঙ্গাস। যার নাম মায়সিনা। এই বিশেষ ধরণের ফাঙ্গাস জীবন্ত থাকলেই  তার কোষ থেকে নানা রঙের আলো বেরোয়। দিনের বেলায়  আলো সেভাবে দেখা যায় না। রাত হতেই ফাঙ্গাসের আলো তীব্র হয়। গোটা জঙ্গলকে অদ্ভুত ভাবে আলোকিত করে।

মায়সিনা আসলে বায়োলিউমিনেসেন্ট প্রজাতির ফাঙ্গাস। সাধারণত এই ধরণের ফাঙ্গাসের কোষে ফসফরাস থাকে। যার ফলে ফাঙ্গাস থেকে অনায়াসে নীল, সবুজ আলো বেরোয়। ৫০০ থেকে ৬০০ ন্যানোমিটার তীব্রতায় জ্বল জ্বল করে ফাঙ্গাস। আর এই বিশেষ মায়সিনা ফাঙ্গাসেই ঘেরা ভীমশঙ্কর জঙ্গল। জঙ্গলের আনাচে কানাচে থাকা মায়সিনারা অন্ধকারে তেজি হয়ে ওঠে। যা পর্যটকদের কাছে মস্ত বড় আকর্ষণ।

অবশ্য, সব ঋতুতে মায়সিনা সমান ভাবে সক্রিয় নয়। ভেজা মাটি বা গাছেই ফাঙ্গাসের আলোর ছটা বাড়তে শুরু করে। তাই বর্ষাকালে পশ্চিমঘাটের সিক্ত গাছে, ভেজা মাটিতে মায়সিনা যেন নতুন করে জীবন পায়। সূর্য ডুবতেই  বৃষ্টি ভেজা রঙিন মায়সিনারা ভীমশঙ্কর জঙ্গলকে আলোয় মুড়ে রাখে।

মুম্বই থেকে ২৫০ কিমি দূরে বিশাল এই জঙ্গল। দিনে স্নিগ্ধ সবুজ, রাতে নান রঙের আলো মুড়ে রাখে জঙ্গলকে।তবে, জঙ্গলে ঢোকার আগে বুকে সাহস ভরে নেবেন। চিতা বাঘ, সাপ, বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের এই জঙ্গল কিন্তু মায়ার আলোয় আপনাকে তার দিকেই টানবে। আপনিও যেতেই পারেন। তবে, নিরাপত্তার মোড়কে।

ভীমশঙ্কর জঙ্গলের আশেপাশেই বেশ কয়েকটি ফরেস্ট রিসোর্ট রয়েছে। সেখানে থেকেই জঙ্গলে ঘুরতে পারেন পর্যটকরা। ব্যবস্থা করবে মহারাষ্ট্র পর্যটন দফতর। মহারাষ্ট্র পর্যটন দফতরের সরকারি রিসোর্টে আগে বুকিং সেরে রাখলে কোনও চিন্তাই নেই।মহারাষ্ট্র পর্যটন দফতরের ওয়েবাসইটে গিয়েই বুকিং করা যাবে। জঙ্গলের নাইট সাফারির ব্যবস্থা করে দেবে পর্যটন দফতরই। জলাশয়ে ঘেরা জঙ্গল বিশেষ বোটে ঘুরতে পারবেন পর্যটকরা। কিছুটা হেঁটে, কিছুটা সাফারি বাসে, বেশিরভাগই বোটে করে ঘোরা যাবে।

বেছে নিতে হবে আলোয় মাখা জঙ্গলে ঘোরার সঠিক সময়। বর্ষাকালেই সবচেয়ে সুন্দর ভীমশঙ্কর। দিনের বেলায় বৃষ্টি গায়ে মেখে জঙ্গলের আশেপাশের উপজাতিদের গ্রাম ঘুরে নেওয়া যায়। পাশপাশি রয়েছে প্রাচীণ ভীমশঙ্কর মন্দির। রাতে বৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়েই আলোর খেলা দেখা যাবে অনায়াসে। বৃষ্টির জলে সজীব ভীমশঙ্কর রাতে জ্বল জ্বল করবে। মুম্বই থেকে গাড়িতে ৭ ঘণ্টার রাস্তা। বর্ষার শুরুতেই চলে আসা যায় ঘন আলোর এই জঙ্গলে।

কী ভাবছেন? সামনের বর্ষায় ব্যাগ প্যাকে রেইন কোট, ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন না কি!!!

ভীমশঙ্কর কিন্তু আপনাকে ঠকাবে না।

 

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

 

Shares

Comments are closed.