Latest News

শীতে চুলের হাজারো সমস্যা, মুক্তি দিতে পারে দুর্দান্ত এই লাল চা! রইল রেসিপি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতকাল মানেই চুলের হাজারটা সমস্যা। খুসকি, চুল পড়া, চুল আঠা আঠা হয়ে যাওয়া, পাতলা হয়ে যাওয়া আরও কত কী। বয়স হলেই যে সমস্যা বাড়ছে তাই নয়। কমবয়সিরাও একই সমস্যায় ভুগছেন। বাজার চলতি হাজারটা প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও যখন সুরাহা মিলছে না, তখন একটা সাধারণ চা আপনার চুলের সমস্ত সমস্যা দূর করবে।

আয়ুর্বেদে বলা হয়, চুলের গোড়া মজবুত করে যাবতীয় সমস্যা দূর করে জবা ফুল। শুধু যে চুলের জন্য উপকারী তাই নয়। এমনকি শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও দুর্দান্ত কাজ করে এটি। বাড়িতে খুব সহজেই অল্প যত্নে বেড়ে ওঠা এই ফুলের গুণাগুণ বলে শেষ করা যায় না। তাই যাঁরা বহুদিন ধরে চুলের নানা রকম সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা সহজেই এই ফুল দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।

কী কী সমস্যা দূর করবে ?

১. নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফুলের রস শরীরে কোলাজেনের মাত্রা বাড়ায়। একইসঙ্গে এটা চুলের গোড়া মজবুত করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। নিয়মিত এই চা খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই ফলাফল দেখতে পারবেন।

২. এর মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকায় শুষ্ক চুলের সমস্যা মিটে যায়। ন্যাচারাল কন্ডিশনারের মতো কাজ করে চুল আরও নরম, উজ্জ্বল করে তোলে।

৩. খুসকির সমস্যা দূর করে। যাঁদের চুল তৈলাক্ত ধরনের, গোড়ায় অতিরিক্ত অয়েল সিক্রেশনের ফলে খুসকির সমস্যা দেখা দেয়। এই চা খেলে সেই সমস্যাও দূর হবে।

৪. প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকায় মেলানিন উৎপাদনে সাহায্য করে। এই মেলানিন চুলের স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে যাঁদের চুলের রঙ ফ্যাকাসে বা সাদা হয়ে যায় তাঁরাও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৫. শুধু চুল না, অতিরিক্ত মেদ কমাতেও সাহায্য করে হিবিসকাস টি। মেটাবোলিজমের মাত্রা বাড়ায়, শরীরের ফ্যাট বার্ন করতেও সাহায্য করে।

৬. শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয়। একই সঙ্গে জল খাওয়ার তেষ্টা বাড়ায়। ফলে শরীর দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড থাকে।

৭.নার্ভ সিস্টেমকেও ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হজম শক্তিও বাড়িয়ে তোলে।

৮. শীতে যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে যায় তাঁরাও রেহাই পাবেন এই জবা ফুলের তৈরি চা খেয়ে।

চা বানানোর জন্য লাগবে

২ থেকে ৩টে তাজা জবা ফুল, ৩ কাপ জল, লেবুর রস, মধু, আদা, তুলসী পাতা।

কীভাবে করবেন

একটা বড় পাত্রে জল নিয়ে তাতে জবা ফুলের পাপড়ি দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে ফোঁটাতে হবে। তার পরে গ্যাস বন্ধ করে তাতে আদার রস, তুলসীপাতা, দিয়ে একটা ঢাকনা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। তার পরে লেবুর রস বা মধু মিশিয়ে নেবেন। গরম অবস্থাতেও খেতে পারেন, আবার ঠান্ডা করেও খেতে পারেন।

সর্তকতা

যদিও এটা খুবই উপকারী। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না। অতিরিক্ত খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই সপ্তাহে দু থেকে তিনবার খাওয়ার পরামর্শই ডাক্তাররা দেন। অতিরিক্ত খেলে ব্লাড প্রেশারের রোগীদের নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

You might also like