Latest News

দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি বিস্ময়কর স্থাপত্যের হদিশ রইল আপনাদের জন্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরো ভারতের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্য । স্থাপত্য, শিল্পসৌন্দর্যের সম্ভারে পূর্ণ গোটা ভারত। উত্তর ভারতের স্থাপত্যের মধ্যে যেমন তাজমহল, লাল কেল্লা থেকে ফতেহপুর সিকরি রয়েছে। রাজস্থানের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক দুর্গগুলো রয়েছে তেমনই কিন্তু কোনওদিক থেকে পিছিয়ে নেই দক্ষিণ ভারতও! স্থাপত্যের প্রতি যদি আপনার টান থেকে থাকে তাহলে উত্তর ভারতের গণ্ডি টপকে আপনাকে আসতে হবে দক্ষিণে। চেন্নাইয়ের বিখ্যাত মন্দির, মহীশূরের প্রাসাদ, হায়দ্রাবাদের গোলকোন্ডা দুর্গ যে আপনাকে আপ্লুত করবেই, সে কথা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়।

বিরুপাক্ষ মন্দির, হাম্পি

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকাতে হয়েছে দক্ষিণ ভারতের হাম্পির এই বিরুপাক্ষ মন্দির। হাম্পির স্মৃতিসৌধের একটি প্রধান অংশ হল এই মন্দির। দ্বিতীয় দেব রায়ের শাসনকালে শিবের অবতার বিরুপাক্ষকে উৎসর্গ করে বানানো হয় এই মন্দির। যদিও চারিদিকে এখন শুধুই ধ্বংসাবশেষ রয়েছে তবে বিরুপাক্ষের মন্দিরটি অক্ষত আছে। এখানে মূল মন্দিরে এখনও উপাসনা করা হয়।

গোলকোন্ডা দুর্গ, হায়দ্রাবাদ

হায়দ্রাবাদের গোলকোন্ডা অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান। এখানকার দুর্গের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। কাকাতিয়ারা এই দুর্গ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করেন। ১৫৯০ সাল পর্যন্ত গোলকোন্ডা কুতুব শাহের রাজধানী ছিল। সবচেয়ে দামি কোহিনূর হিরের জন্য বিখ্যাত এই জায়গা। কথিত আছে, একসময় এখানে খনি থেকে প্রচুর হিরে পাওয়া যেত। আজও সেই ইতিহাসের টানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আছে এখানে।

মীনাক্ষী আম্মান মন্দির, মাদুরাই

এই চমকপ্রদ মন্দিরটি তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের বৈগাঅ নদীর তীরে রয়েছে। শিব ও পার্বতীর এই মন্দির হিন্দুধর্মালম্বীদের কাছে পবিত্র স্থান। এছাড়াও বহু মানুষ শুধুমাত্র মন্দিরের নিখুঁত কারুকার্য দেখার জন্যও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন। মন্দিরের উচ্চতা ১৭০ ফুট উঁচু।

বীরভদ্র মন্দির, লেপাক্ষী

ষোড়শ শতকে অন্ধ্রপ্রদেশে এই মন্দিরটি বানানো হয়। শিবের অবতার হিসেবে বীরভদ্রকে উৎসর্গ করে এই মন্দিরটি বানানো হয়। মন্দিরের দেওয়াল চিত্রগুলো খুবই সুন্দর, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। রামায়ণ, মহাভারতের বিভিন্ন দৃশ্য এখানকার দেওয়ালে আঁকা রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম নন্দী ষাঁড়ের মূর্তি এখানেই রয়েছে।

মাইসোর প্যালেস, কর্ণাটক

মাইসোর প্যালেস ওয়েদিয়ার রাজবংশের আমলে তৈরি। কিন্তু এই তাক লাগানো প্যালেসে আজও ফিসফিস করে কথা বলে নানা ইতিহাস। শোনা যায়, এই রাজবংশকে তাড়া করে বেড়ায় এক অভিশাপ, গত ৪০০ বছর ধরে তা তাড়া করছে। ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে বিজয়নগর সাম্রাজ্য দখল করে ওয়েদিয়াররা। পুরোনো প্রাসাদটি আগুনে পুড়ে যায়, তারপর ১৮৯৭ থেকে ১৯১২ এর মধ্যে আবার নতুন করে প্রাসাদটিকে বানানো হয়। তবে জানা গেছে যে তাজমহলের পরে সব থেকে বেশি পর্যটক আসেন মাইসোরের এই প্যালেসকে দেখতে। প্রতিবছর ৬ মিলিয়ন লোক আসেন দূরদূরান্ত থেকে এখানে ইতিহাসের খোঁজে।

You might also like