Latest News

৫০ পেরিয়েও যৌন জীবন চনমনে থাকতে পারে পুরুষদের, কীভাবে তা সম্ভব জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর এবং সেক্স, এই দুটি কথায় যদি ছুঁৎমার্গ থাকে, তাহলে বলে রাখা ভাল মনের সঙ্গে শরীরের সঠিক মিলমিশ হলেই সুস্থ ও সুন্দর বিবাহিত জীবনের বুনিয়াদ তৈরি হয়। সম্পর্কের রসায়ন এখানে আলোচ্য বিষয় নয়, যৌনতার পাঠ পড়ানোও উদ্দেশ্যও নয়, তবে সঙ্গমের সঙ্গে সুস্থ শরীরের যে অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক রয়েছে সেটা একবাক্যে স্বীকার করেছেন চিকিৎসক থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তের বিজ্ঞানীরা। শরীর ছুঁয়ে ভালবাসায় যদি তিক্ততা জন্মায় সে শারীরিক অক্ষমতার কারণেই হোক বা মানসিক জটিলতা, তাহলে ছাপ পড়ে সম্পর্কে, নয়, অবসাদ গ্রাস করে মনকেও। ফলে, হৃদরোগ, মাইগ্রেন, ইনসমনিয়া থেকে ক্রনিক রোগ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে।

আসল সমস্যা শুরু হয় ৫০ পার হওয়ার পর থেকে। শারীরিক মিলনে অনীহা জন্মায়, শারীরিক অসুস্থতা বা কোনও রোগের জটিলতাও এর কারণ। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের সমস্যা, ইরেকটাইল ডিসফাংশন নানা রোগ দেখা দিতে থাকে। হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরও সমস্যা তৈরি করে। মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যের তারতম্য এবং মেনোপজের পরবর্তী সময়ে শারীরিক নানা পরিবর্তন সমস্যা তৈরি করতে পারে।  হরমোন থেরাপির মাধ্যমে দেহে হরমোনের সরবরাহ বজায় রাখা এবং ফের ঋতুস্রাব চালু করা সম্ভব। যৌবন ধরে রাখতে এবং পার্টনারকে খুশি রাখতে অনেকেই এই থেরাপি করে থাকেন। অনেকাংশেই যার ফল হয় মারাত্মক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজ্ঞাপনের চমকে ভুলে কোনও রকম জটিল থেরাপি বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ না নিয়ে বিশেষজ্ঞের কাছে কাউন্সেলিং করালে ফল মেলে। কিছু উপায় আছে যেগুলো মেনে চললে ৫০ পেরনোর পরেও শরীরে ও মনে চনমনে থাকা যায়। সঙ্গীকেও খুশি রাখা যায়, সুখী ও সুস্থ সম্পর্কও বজায় থাকে।

ওষুধে নয়, যৌন সমস্যা মিটবে ব্যায়ামে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে ইরেকটাইল ডিসফাংশনে (Erectile Dysfunction) ভুগছেন অসংখ্য পুরুষ। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। উপযুক্ত সমাধানের জন্য কেউ সাহস করে সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আনেন, কেউ আবার পুরুষত্বে ঘা লাগার আশঙ্কায় মুখ বুজে বাজার চলতি নানা পিলের উপর ভরসা রাখেন।  ইরেকটাইল ডিসফাংশন শুধু যৌনজীবনকে ব্যাহত করে তাই নয়, জন্ম দেয় গুরুতর মানসিক সমস্যার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওষুধে নয়, এই সমস্যা মিটবে ব্যায়ামে। সিডেনাফিলের (যার ব্র্যান্ড নাম ভায়গ্রা) থেকেও বেশি কার্যকর এবং নিরাপদ উপায় ব্যায়াম। সপ্তাহে চার দিন মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যায়াম (কার্ডিও বা অ্যারোবিক) সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে অচিরেই।

কোমরের মাপে খেয়াল রাখুন, মেদ বাড়লেই বিপদ

অনিয়মিত ডায়েট, শরীরচর্চার অভাবে চল্লিশের পর থেকেই রক্তচাপ টালমাটাল। তার উপরে সুগার, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল হাজারো সমস্যা। পঞ্চাশ পার হওয়া গৃহবধূ হোক বা অফিসে চাকরি করা মহিলা, শরীরের খেয়াল রাখেন না কেউই। পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। এক্সারসাইজ করতে অনীহা অনেকেরই। তার উপরে তেল-মশলাদার খাবার, প্যাকেটফুড খাওয়ার ঝোঁক অনেকটাই বেড়েছে। যার কারণে মেদও বাড়ছে চড়চড় করে। ওবেসিটির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। আর স্থূলত্ব থেকেই বাসা বাঁধছে একাধিক রোগ। গ্রাস করছে মানসিক অবসাদ। শারীরিক মিলনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের অন্যতম কারণ।

সুস্থ থাক হার্ট

নিয়মিত সঙ্গম এবং পার্টনারের সঙ্গে সুস্থ যৌন সম্পর্ক ভালো রাখে হার্ট।  ‘আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওলজি’তে এই বিষয়ে গবেষণার রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল।  হার্ট সার্জারির পরবর্তী রুটিন জীবনকে ছন্দে ফেরাতে নিয়মিত সঙ্গমের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরাই। কিন্তু যদি হার্টই বিগড়ে যায়, তাহলে ভালবাসার সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে বিশেষ ভাবে হার্টের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। প্রয়োজনে সংকোচ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কার্ডিওভাস্কুলার রোগ একবার শরীরে হানা দিলে তার ফল হতে পারে মারাত্মক।

টেস্টোস্টেরনের সমস্যা

শুক্রাণু তৈরি থেকে শুরু করে যৌন উত্তেজনা, পুরুষের শরীরে সবটাই নিয়ন্ত্রম করে টেস্টোস্টেরন হরমোন। পুরুষ শরীরে টেস্টিস থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ হয়। গবেষণা বলছে, শরীরে এই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কমে গেলেই নানা সমস্যা শুরু হয়। সঙ্গমে অনীহা তৈরি হয়, মানসিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ে। আবার এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। তাই হরমোনের ভারসাম্য রাখা দরকার। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেই প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (পিএসএ) টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রস্রাবে বাধা, রক্ত, কোমরে ব্যাথা হলেও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম এর থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সেই সঙ্গে ধূমপান ও মদ্যপানও এড়িয়ে চলা উচিত। ধূমপায়ীদের বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।


ভাল থাক মন

ভালবাসায় শরীরী শিহরণ তখনই জাগবে, যখন মনের মিল হবে। মন খুশি থাকলে সব ভাল, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মানসিক অবসাদ, অতিরিক্ত স্ট্রেস, উৎকণ্ঠার ছাপ পড়ে সম্পর্কেও। তাই সবচেয়ে আগে মন ঠিক রাখা দরকার। তার জন্য সঙ্গীকে সময় দেওয়া, তার সঙ্গে একান্তে বসে আলোচনা, কাজের ফাঁকেও সময় কাটানো—ম্যাজিকের মতো কাজ করে। দু’তরফেই সমস্যা শুনে যদি তার সমাধান বের করা যায় তাহলেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একে অপরকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। একান্তই নিজেরা না পারলে কাউন্সেলিং করানো দরকার। মানসিক স্থিতি নড়বড়ে হয়ে গেলে সুখের ঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে দেরি হবে না।

You might also like