Latest News

প্রথম সারিতে লড়ছেন চিকিৎসকরা, ওঁদের আত্মত্যাগ অতুলনীয়: রানা দাশগুপ্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য পার হয়েছে ১ জুলাই, চিকিৎসক দিবস। ডক্টর বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে পালিত হয় এই দিবস। গত বছরের মতোই এবছরও এমন একটা সময়ে এই দিবসটা এসেছে, যখন চিকিৎসকরা তাঁদের জীবনের এবং পেশার এক অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছেন। এই দিনেই এই যুদ্ধকালীন সময়টি নিয়ে দ্য ওয়ালের মুখোমুখি অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটালের সিইও রানা দাশগুপ্ত।

দ্য ওয়াল: গত দেড় বছরের এই কোভিড পরিস্থিতি, কীভাবে দেখছেন, কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন এই সময়কে?

রানা দাশগুপ্ত: এই শতাব্দীর অন্যতম একটা চ্যালেঞ্জিং সময়। আমরা প্রথম কোভিড চিকিৎসা শুরু করেছিলাম মাত্র ২৩ বেডের একটি ওয়ার্ড দিয়ে। প্রথম রোগী আমাদের এখানে ভর্তি হওয়ার আগেই আমাদের টিম পুরোপুরি তৈরি হয়েছিল। পিপিই কীভাবে পরতে হয়, এটাও তখন শেখার বিষয় ছিল। হাসপাতালের অচিকিৎসক কর্মচারীদেরও ট্রেনিং দেওয়া হয়।

ধীরে ধীরে রোগী বাড়তে শুরু করলে ১০০ বেডের ওয়ার্ড করলাম আমরা। কোভিডের প্রথম ঢেউয়ে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, বহু স্টাফ আক্রান্ত হয়ে গেল। পর্যাপ্ত কর্মচারীই রইল না। কিন্তু সকলের চিকিৎসা আমাদের হাসপাতালেই হয়েছিল। পরে করোনা ওয়ার্ডে কাজ করা স্টাফদের আমরা হাসপাতালেই রাখি, তাঁদের পরিবারের কথা ভেবে।

লকডাউনে বিপদ আরও বাড়ল। তখন আমরা গাড়ি দিতে শুরু করি অফিস থেকে। গাড়ি স্যানিটাইজ করা এবং আরও যা যা নিয়ম মানা, সবই করা হয়। প্রতিটি কর্মীর থেকে ডেটা সংগ্রহ করা শুরু হয়, কারও বাড়িতে কারও জ্বর হয়েছে কিনা, কেউ বাইরে গেছেন কিনা এই সব। পাশাপাশি চলতে থাকে ট্রেনিং।

একসময় বহু স্টাফ কোয়ারেন্টাইন হয়ে গেছিলেন, সংখ্যাটা প্রায় ৫০০। সে সময়ে আমরা সব ডিপার্টমেন্টের কর্মীদেরই সব রকম কাজে লাগাতে শুরু করি। এর পরে রোস্টারও ভাগ করা হয়, যাতে সব কর্মচারীকে হাসপাতালে আসতে না হয়।

পাশাপাশি ছিল প্রতিটি স্টাফের ভয় কাটিয়ে, তাঁদের মনোবল বাড়িয়ে, নিয়মিত পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া। ঝুঁকির মুখে তাঁরা যাতে ভেঙে না পড়েন, সেটা বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল।

প্রথম ঢেউ খানিক স্তিমিত হওয়ার পরে আমরা খানিকটা স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে শুরু করেছিলাম সবে। তার পরেই এল দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ে আমরা অনেক কিছু শিখেছিলাম, সে সময়ে আমাদের কোনও অস্ত্র ছিল না। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভ্যাকসিন আছে আমাদের ঢেউয়ে। ফলে স্টাফেরা খুব বেশি আক্রান্ত না হলেও, রোগীর সংখ্যা এবং বেডের চাহিদা মারাত্মক জায়গায় পৌঁছয়।

একসময়ে প্রায় চারশো রোগী ছিলেন এখানে। পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবাতেও যেন কোনও আপস না করা হয়, সেটাও দেখার বিষয় ছিল। এই সবটা মিলে চ্যালেঞ্জ কিছু কম ছিল না। নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে, দক্ষতার সঙ্গে আমরা সময়টা পার করেছি।

দেখুন কী বলছেন ডাক্তারবাবু।

দ্য ওয়াল: ১ জুলাই ডক্টর্স ডে, এই দিনটার তাৎপর্য আপনার কাছে কতটা?

রানা দাশগুপ্ত: বলে বোঝানো যাবে না। ডাক্তারদের অবদান বিশাল ও অমূল্য। ওঁদের জন্যই হাসপাতালটা চলছে। এই মহামারীর সময়ে ওঁদের আত্মত্যাগ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কেউ দিনের পর দিন হাসপাতালে থেকেছেন, কারও বাড়ির প্রতিটা মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, কেউ বা আবার না-ফেরার দেশেই চলে গেছেন। আমি বলব ওঁরা সকলে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রথম সারির সেনা।

You might also like