Latest News

নির্মেদ শরীর অসম্ভব নয়, প্ল্যাঙ্ক অভ্যাস করুন নিয়মিত, বাড়বে শক্তিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমানোর জন্য অনেকেই অনেক কসরত করেন৷ খাওয়া কমিয়ে দেন, প্রচুর ঘাম ঝরান, তবুও দ্রুত ওজন কমে না! আবার ওজন কমলেও, শরীর হয়ে পড়ে খুব দুর্বল। সব মিলিয়ে মনের মধ্যে অনেক সময় তৈরি হয় হতাশা। হতাশ হবেন না, যদি আপনি নিয়মিত অভ্যাস করেন এই এক্সারসাইজটা। সাফল্য পাবেন অল্প দিনের মধ্যেই।

মেদহীন, সুস্থ শরীর পেতে চাইলে ট্রাই করুন প্ল্যাঙ্ক, ফল পাবেন হাতেনাতে। এটা আপনার পেটের মেদ থেকে শুরু করে শরীরকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। তবে প্রথম দিকে এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। কী ভাবে করবেন এই এক্সারসাইজ সেই প্রশ্ন মনে উঁকি দিতেই পারে! তারও উপায় বাতলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে উপুড় হয়ে হাত দুটিকে মুড়ে মাটিতে রেখে, পায়ের আঙুল মাটিতে টাচ করে, সমান্তরাল ভাবে দেহটাকে শূন্যে রাখতে হবে৷ তাহলে পেটের উপরে চাপ পড়বে, ফলে মেদ কমার সম্ভবনা বাড়ে।

উপকারিতা: 

১. কোর স্ট্রেন্থকে বাড়াতে সাহায্য করে

পেট এবং তার আশেপাশের পেশির ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার মধ্যে দিয়ে কোর স্ট্রেন্থ বাড়াতে সহায়তা করে সাইড প্ল্যাঙ্ক। আর একবার কোর স্ট্রেন্থ বাড়তে শুরু করলে ভুঁড়ি কমতে যেমন সময় লাগে না, তেমনই কোমর এবং পিঠের পেশিও ভাল থাকে। তার সঙ্গে শরীরও টোনড হয়। তাই অল্প সময়েই মেদ ঝরিয়ে ফেলতে চাইলে নিয়ম করে প্ল্যাঙ্ক করতেই হবে।

২. হাত এবং কবজির ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়

এই এক্সারসাইজটা করার সময় শরীরের পুরো ভারটাই হাতের উপর থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই হাত, কবজি এবং কাঁধের ক্ষমতা বাড়তে সময় লাগে না। ফলে কথায় কথায় হাতে-কাঁধে ব্যথা হওয়ার মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও আর থাকে না।

৩. পায়ের পেশিকে শক্তপোক্ত করে

পুরো শরীরের ভার বহন করে পা। ফলে দিনের পর দিন অতিরিক্ত চাপের কারণে পায়ের ক্ষমতা কমে যাওয়াটা তো স্বাভাবিক। তার সঙ্গে আজকাল লেজুড় হয়েছে আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যাও। যে কোনও বয়সেই দেখা দিচ্ছে এই সমস্যা। এই কারণেই তো সময় থাকতে থাকতে পায়ের পেশির ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু এমনটা কীভাবে করবেন ভাবছেন তো? এক্ষেত্রে নিয়ম করে প্ল্যাঙ্ক করতে পারেন, তাতে করে হাঁটুতে এবং পায়ের কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। আবার পায়ের পেশি টোনড হবে।

৪. শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকবে

নিয়মিত প্ল্যাঙ্ক করলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে, সেই সঙ্গে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয়ও তৈরি হয়। ফলে শরীর তরতাজা ও সতেজ হয়ে ওঠে কম সময়ের মধ্যেই। সেই সঙ্গে শিরদাঁড়াকেও ভাল রাখে। ফলে ল্যাপটপ, ভারি বইয়ের ব্যাগের ভর বহন করতে সুবিধা হয়। কুঁজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না, পিঠে কাঁধে ব্যথাও কম হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যাঁরা সারা দিন বসে কাজ করেন, তাঁদের কোমর এবং পিঠের ক্ষমতা ধীরে-ধীরে কমে যায়। সেই সঙ্গে শিরদাঁড়াও দুর্বল হয়ে পরে। এই কারণেই তো এদের নিয়ম করে প্ল্যাঙ্ক এক্সারসাইজ করতে পারেন, উপকার পাবেনই।

৫. হজম ক্ষমতার উন্নতিতে সহায়তা করে

হাজার চেষ্টা করেও কি বদহজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়! ডাক্তার ওষুধ ডায়েট মেনেও ভুগতে হয় পেটের সমস্যাতে! যদি এই সমস্যাতে আপনিও জেরবার হন, তাহলে কাল থেকেই এই এক্সারসাইজ শুরু করে দিন। তাতে মেটাবলিজম রেট বাড়বে, ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে সময় লাগবে না। ফলে ছোট-বড় অনেক রোগই দূরে থাকতে বাধ্য হবে। সঙ্গে শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটিও বাড়বে, যে কারণে কথায়-কথায় চোট-আঘাত লাগার আশঙ্কাও কমবে। প্ল্যাঙ্ক যে শুধুমাত্র শরীরকে ভাল রাখে, এমনটা নয়, মনকেও ভাল রাখে। আপনার মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটবে যদি রোজ অভ্যাস করেন এই এক্সারসাইজটি।

তবে কিছু সেফটি টিপস খেয়াল রাখতে হবে। আপনি যখন এই ব্যায়ামটা করবেন তখন যেন আপনার দেহ একেবারে স্ট্রেট লাইনে থাকে। প্রথমদিকে খুব ধীরে ধীরে শুরু করতে হবে, তারপর আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে।

You might also like