Latest News

বুকের হাড় না কেটেই হবে হার্ট সার্জারি, ঝুঁকিও কম, একাধিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় দেশবিদেশের ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হার্ট সার্জারি মানেই ভয়ঙ্কর এক ট্রমা। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে উত্তেজনার পারদ চড়ে। হৃদপিণ্ডে অস্ত্রোপচার মানেই প্রাণের ঝুঁকি, এমন বদ্ধমূল ধারণা আছে অনেকেরই। হার্ট সার্জারি মানে আগে ছিল বুকের হাড়ে কাটাছেঁড়া করে অতি দীর্ঘ এক জটিল প্রক্রিয়া। বাইপাস সার্জারির নাম শুনলেই আতঙ্কে বুক কাঁপত রোগীর। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ণ উন্নতিতে হার্ট সার্জারি এখন আর জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার নয়। কার্ডিয়াক থেরাপির অনেক আধুনিক পদ্ধতি সামনে এসেছে। এই সংক্রান্ত বিষয়েই এআইআইসিওএন অর্থাৎ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি কনক্লেভ সম্মেলনে জরুরি বক্তব্য রাখলেন দেশ ও বিদেশের প্রখ্যাত হার্ট সার্জনরা।

হার্টের নানা অসুখ ও তার আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েই একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কার্ডিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার তরফে আয়োজিত এই গ্লোবাল কনফারেন্সের নাম এইকন (EIICCON 2021)। এই সম্মেলনে ছিলেন কলকাতার দুই প্রখ্যাত হার্ট সার্জন কনক্লেভের সায়েন্টিফিক চেয়ারম্যান ডক্টর দিলীপ কুমার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডক্টর সুনন্দন শিকদার। তাঁরাই জানালেন দেশে ও বিদেশে হার্ট সার্জারিতে কত উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে আসা হয়েছে। নিত্য নতুন ডিভাইস ব্যবহার করছেন ডাক্তাররা যাতে ঝুঁকি অনেক কম এবং পোস্ট-সার্জারি বা অপারেশনের পরবর্তী সময়ে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাও সম্ভব হচ্ছে।

কলকাতার বিশিষ্ট হার্ট স্পেশালিস্ট ডক্টর ডি রায় ও ডক্টর এম কে দাস আলোচনা করলেন, অ্যান্টিথ্রম্বোটিক্স নিয়ে। এই অ্যান্টিথ্রম্বোটিক হল এক ধরনের ওষুধ যা রক্ত পাতলা রাখে। কোনও জটিল অসুখ বা সংক্রমণজনিত অসুখে রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা দিলে এই ওষুধ দিয়ে তার চিকিৎসা করেন ডাক্তাররা। ডক্টর অশোক শেঠ ও ডক্টর লার্স স্যানডারগার্ডের বক্তব্য ছিল হার্টের ‘ট্রান্সক্যাথিটার অ্যাওর্টিক ভালভ ইমপ্ল্যান্টেশন’ বা টাভি (TAVI) নিয়ে। বর্তমান সময়ে কার্ডিওলজির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে– কার্ডিওলজি ইন্টারভেনশন যেমন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, কার্ডিয়াক ডিভাইস যেমন পেসমেকার, আইসিডি, সিআরটি ইত্যাদি আর স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজ। এই স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজের নতুন দিক হল ‘টাভি’। এটা হল মূলত মিনিমাল ইনভ্যাসিভ সার্জারি যেখানে বুকের হাড় কাটার দরকার পড়ে না। পায়ে ছোট ছিদ্র বা ইনশিসন করে সেখান দিয়েই ভালভে অপারেশন করা হয়। অ্যাওর্টিক ভালভ স্টেনোসিসে আক্রান্ত হলে এই ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

Affordable Tavi / Tavr Treatment Top Surgeons Best Hospitals India

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, টাভি বা মিনিমাল ইনভেসিভ প্রক্রিয়ায় যেহেতু ব্রেস্ট-বোন ক্র্যাক করতে হয় না, তাই এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ নয়, সাইড এফেক্টসও কম। সার্জারির পরে খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন রোগী। আর কোমর্বিডিটির রোগী হলে যাঁদের শরীরে আরও নানা সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারই অনেক নিরাপদ।

IVL for CAD - Shockwave Medical

কানাডার হার্ট সার্জন ডক্টর সঞ্জোগ কালরা ও ভারতের হার্ট সার্জন ডক্টর হিরেমাথ বলেছেন  ‘ইন্ট্রাভাস্কুলার লিথোট্রিপসি (IVL)’ নিয়ে। হৃদপিণ্ডের ধমনীতে অনেক সময় শক্ত চকের মতো হয়ে ক্যালসিয়াম জমে যায়। একে ডাক্তারির ভাষায় বলে ক্যালসিফিকেশন। এই ক্যালসিফিকেশন ব্লকেজ হলে আর্টারি বা ধমনী স্টিফ হতে শুরু করে। তখন এই ব্লক ছাড়ানো হয় অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে। কিন্তু যদি ক্যালসিয়ামের মোটা স্তর জমা হয় তাহলে বেলুন ফাটিয়ে ব্লক খুলে স্টেন্ট বসানো যায় না। তখন আইভিএল বেলুন ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটা প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা হয়, যে কারণে প্রবল বেগে একটা তরঙ্গ ছুটে গিয়ে হার্টের পুরুর ক্যালসিয়াম স্তরকে ভেঙে দেয়। এই পদ্ধতিতে হার্টের কোনও ক্ষতি হয় না, শুধু আর্টারির মধ্যে ক্যালসিয়ামের স্তরটা ভেঙে যায়। সাধারণ অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির বেলুনে তা সম্ভব হয় না। এরপরে অস্ত্রোপচার করে স্টেন্ট বসানো অনেক সহজ হয়ে যায়।

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ধরন ও খাদ্যাভ্যাস হার্টের রোগের অন্যতম কারণ। ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে যা হার্টের রোগের অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর। তাছাড়া, হাইপোথাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, হাই কোলেস্টেরল, হাই ট্রাইগ্লিসারাইড করোনারি আর্টারি ডিজিজের শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ার কারণে শুধু আর্টারিতে ক্যালসিফিকেশন হচ্ছে তাই নয়, থ্রম্বোসিস বা রক্ত জমাট বাঁধার (ব্লাড ক্লট)ঝুঁকি বাড়ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বড় আকার নিচ্ছে। তাই হার্ট সুস্থ ও সতেজ রাখতে হলে লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট সবচেয়ে আগে দরকার।

You might also like