Latest News

ব্রেন টিউমারের সফল মাইক্রোসার্জারি, যুবকের প্রাণ বাঁচাল নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথার ভেতরে গজিয়ে উঠেছিল টিউমার। ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ব্রেনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল। তীব্র মাথা যন্ত্রণায় প্রায় মরণাপন্ন হয়ে গিয়েছিলেন যুবক। জটিল সেই পরিস্থিতি থেকে যুবকের প্রাণ বাঁচান নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতালের অভিজ্ঞ নিউরোসার্জন ডা. অমিতাভ দাস। আধুনিক মাইক্রো-নিউরোসার্জারি পদ্ধতিতে ব্রেনের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ টিউমার অস্ত্রোপচার করে বের করেছেন তিনি। যুবকের শারীরিক অবস্থাও এখন স্থিতিশীল।

জটিল অস্ত্রোপচারে বারে বারেই নজির গড়েছে নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। মাইক্রো-নিউরোসার্জারির আধুনিক পদ্ধতিও রয়েছে এখানে। নারায়ণ মেমোরিয়ালের কনসালট্যান্ট স্পাইন অ্যান্ড নিউরোসার্জন ডা. অমিতাভ দাস বললেন, মাইক্রো-নিউরোসার্জারি করতে যে আধুনিক সরঞ্জাম দরকার তার সবই আছে হাসপাতালে। সার্জারি করতে মাইক্রোস্কোপের সাহায্য নিতে হয়। এই পদ্ধতিতে অনেক কম সময় যন্ত্রণাহীন অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। রোগীও কম দিনে সেরে উঠতে পারেন।

ডাক্তারবাবু বললেন, ওই যুবকের লক্ষণ দেখেই বোঝা গিয়েছিল ব্রেন টিউমারে ভুগছেন। প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব ছিল তাঁর। হাসপাতালে এমআরআই করে ধরা পড়ে মাথার সামনের অংশে ডানদিকে টিউমার হয়েছে। বেশিদিন রোগীকে ফেলে রাখলে প্রাণ সংশয় হতে পারত। এমনিতেও টিউমারের কারণে মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল যুবকের। তাই দ্রুত অস্ত্রোপচারেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে দিন দুই পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাইক্রো-নিউরোসার্জারি সফল হয়েছে।

নিউরোড্রিল নামে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে এই সার্জারি করা হয়েছে। নিউরোসার্জন বললেন, দিল্লি এইমস (অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স)-এ ব্রেন টিউমারের অপারেশনে মাইক্রো-নিউরোসার্জারি পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। দীর্ঘ আট বছর ধরে এই পদ্ধতিতেই ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার করছেন তিনি। নিউরোড্রিল দিয়ে মাথার স্ক্যাল্পের অংশ তুলে পাতলা পর্দা সরিয়ে টিউমার বের করে আনা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় রক্তক্ষরণ যাতে কম হয় সেটা খেয়াল রাখা হয়। নিউরোসার্জারির যে পদ্ধতি তা প্রয়োগ করেই ব্রেন টিউমার সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তারবাবু।

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ এক এক সময়ে এক এক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়া। এ ছাড়াও অনেক সময় রোগীর অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন, রোগীর খিঁচুনি হতে পারে অথবা শরীরের যে কোনো এক দিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যায় অথবা তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে। অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের নিঃসরণের আধিক্য বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পোস্ট সার্জারি পর্বেও অনেকের হাতে-পায়ে ব্যথা, খিঁচুনি হতে দেখা যায়। কিন্তু মাইক্রো-নিউসার্জারির পরে এমন লক্ষণ খুব একটা দেখা যায় না। যে ছেলেটির অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তাঁর মধ্যেও কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছেন নিউরোসার্জন। অস্ত্রোপচারের পরেও তিনি দুই হাত স্বাভাবিক ভাবে নাড়াতে পারছেন, কথাও বলছেন। খাবার খেয়েছেন। ডাক্তারবাবু বলছেন, যুবককে ভেন্টিলেশনে রাখারও দরকার পড়েনি। তাঁকে এখন আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। আর কিছুদিন পরে জেনারেল ওয়ার্ডে দিয়ে দেওয়া হবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like