Latest News

নতুন বছরে মজার কিছু পরম্পরা, যা আজও মেনে চলেন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষশেষের উৎসবে সারা বিশ্বের প্রতিটা মানুষই সামিল হন। সারাবছরের সমস্ত মনখারাপ, গ্লানি মুছে আরও একবার নতুনের জন্য প্রস্তুত হন সকলে। বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে, প্রিয়জনের সঙ্গে, অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে মেতে ওঠেন বছরের শেষদিনটায়।

আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বর্ষবরণের যেমন নানা রীতি রেওয়াজ যেমন আছে, তেমনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা নিয়ম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডিস্কে, নাইটক্লাবে সারারাত পার্টি করে উদযাপন করতে দেখা যায়। তবে কিছু কিছু দেশে বর্ষশেষের উৎসবের রেওয়াজ একেবারেই আলাদা অন্য দেশের থেকে। মজাদার এই নিয়মগুলো জানলে, বছরের শেষদিনটা এই দেশগুলোতে থাকতে ইচ্ছে করবেই।

ডেনমার্ক –

ডেনমার্কের বর্ষশেষের উৎসবের নিয়ম একেবারেই অন্যরকম। যখন সারা বিশ্বের মানুষ নাচ, গানে মেতে ওঠেন সর্বত্র, তখন ডেনমার্কের মানুষেরা কাচের বাসন ভাঙতে ব্যস্ত থাকেন। বছরের শেষদিন সন্ধে থেকেই বাড়ির পুরনো, অব্যবহৃত কাচের বাসন বন্ধুদের বাড়ির সামনে চুপিচুপি ভেঙে আসেন সকলে। যাঁর বাড়ির সামনে যত বেশি কাচের টুকরো জমা থাকবে, সে তত বেশি জনপ্রিয়। এমনটাই ধরে নেন ওখানকার মানুষেরা। বিশেষ কোনও কারণ হয়তো নেই, তবুও অন্যরকম এই মজাদার খেলা ভাঙার খেলা উপভোগ করেন সে দেশের বাচ্চা বুড়ো সকলেই।

চিন –

চিনের যেকোনও উৎসবে নানা রঙের ছোঁয়া থাকে। আলো ঝলমলে শহরগুলো বছরের শেষদিনটাতেও বিশেষভাবে সেজে ওঠে। এখানে নানা রীতি রেওয়াজও রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল বাজি পোড়ানো। রাতে ১২টা বাজার আগে শব্দবাজি এবং আতশবাজির উৎসব হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কারণ সেখানকার মানুষের বিশ্বাস উজ্জ্বল আলো এবং শব্দে অন্ধকার মুছে যায়। আরও একটি নিয়ম আছে এখানে। লাল খামে করে কিছু অর্থ উপহার দেওয়া। বয়সে বড়রা আশীর্বাদ করে ছোটদের এমন উপহার দেন। তবে এইসময় লাল খামেরই ব্যবহার হয় শুধু।

রাশিয়া –

রাশিয়ার বর্ষশেষের উৎসবের রীতি একেবারেই ভিন্ন এবং মজাদার। শেষদিনে একটি কাগজে আগামী বছরের ইচ্ছে বা প্রার্থনা লিখে রাখতে হয়। যে ইচ্ছের কথা কেউ জানবেন না। লেখার পরে সেই কাগজ পুড়িয়ে ফেলতে হয়। পোড়া কাগজের সবটুকু শ্যাম্পেনের গ্লাসে ফেলে রাত ১২টা বাজার আগে খেয়ে ফেলতে হবে। এখনও অনেকেই এই রেওয়াজ মেনে চলেন।

জাপান –

জাপানের বর্ষশেষের উৎসবের নিজস্ব রীতি রয়েছে। যা বছরের পর বছর একভাবে চলে আসছে। এই রেওয়াজটির নাম ‘অমিসোকা’। নিয়ম অনুসারে এখানকার মানুষ আগের দিন বুদ্ধিস্ট টেম্পলে গিয়ে প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে টেম্পলের ঘণ্টা ১০৮ বার বাজাতে হবে।

গুনে গুনে এই নির্দিষ্টবার ঘণ্টা বাজানোর কারণ এটিই যে, মানুষের ঠিক ১০৮টি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এই আকাঙ্ক্ষার কারণেই মানুষের দুঃখ, কষ্ট যাবতীয় কিছু জড়িয়ে। নতুন বছরের আগে ঘণ্টা বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নেতিবাচক ভাবনা, চিন্তা দূর করার প্রার্থনাই করেন।

থাইল্যান্ড –

থ্যাইল্যান্ড হল ভ্রমণপিপাসুদের পার্টি ডেস্টিনেশন। সারাবছরই মজা করতে, ছুটি কাটাতে এখানে পর্যটকদের ভিড় জমে। তবে বর্ষশেষের রেওয়াজ আরও মজাদার এখানে। ‘সংক্রান’ নামের রেওয়াজ অনুযায়ী এখানকার মানুষ একে অন্যের গায়ে জল ছুঁড়ে মজা করেন। কোনও বিশেষ কারণ নেই। নিছক মজা করতেই এমনটা করেন স্থানীয় মানুষরা। বছরের শেষে ওখানে থাকলে রাস্তাতেই দেখতে পারবেন অনেকে হাতে জলের পাত্র, বোতল এইসব নিয়ে ঘুরছে। যেকোনও সময় যে কাউকে ছুড়ে মজা করেন সকলে। তাছাড়াও বাড়িতে পার্টি, মন্দিরে বিশেষ পুজোর রেওয়াজ তো আছেই।

You might also like