Latest News

সন্তানের সামনে যে আচরণগুলো কখনই করবেন না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটা শিশুই আসলে খুব ভাল শ্রোতা। তাদের সামনে যাই বলা হবে, সেটাই তারা শিখবে, সেটাই তারা বলবে। এমনকি ছোটবেলায় যা শেখে, বড় হওয়ার পরে তারাও একই ধরনের ব্যবহার ফিরিয়ে দেয়। কখনও মনে রেখে পরিবারের থেকে মানসিক দূরত্বও বজায় রাখে। তাই শিশুদের সামনে কিছুটা সংযতই থাকা উচিত।

“চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম!” ঘরে যা দেখবে তাই শিখবে শিশুরা। তাই ফিরিয়ে দেবে সমাজে। সেকারণে বাড়ির প্রত্যেকেরই শিশুদের সামনে অসংযত ব্যবহার করা উচিত নয়। অসংগতিপূর্ণ কোনও কথা বা আচরণই তাদের সামনে করা উচিত নয়।

শব্দ ব্যবহারের আগে খেয়াল রাখুন –

যে ভঙ্গিমায় কথা বলছেন, বা রাগের মাথায় যে যে শব্দগুলো ব্যবহার করছেন, সেগুলোই না বুঝে রপ্ত করে শিশুরা। পরে সর্বসমক্ষে একথা সেকথার মধ্যে সেগুলোই বলে বসে। তাই শিশুদের সামনে কথা বলার সময় সংযত থাকা উচিত।

কারোর সঙ্গে তুলনা করবেন না –

দিদি, বোন, ভাই, দাদা, যেই থাকুক তাদের সঙ্গে কখনই তুলনা করবেন না। এমনকি বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেও না। ছোট থেকেই এর প্রভাবে তাদের মনের উপর চাপ পড়ে। মনে মনে ধরে নেয়, তারা কিছুই পারে না। পরবর্তীতে হীনমন্যতায় ভোগে। তখন তারা যেকোনও কিছু থেকেই সরে আসতে চায়। তাই যে যেমন, তাকে সেভাবেই বড় করে তুলুন।

তাদের কাজে বাধা দেবেন না –

এটা কোরো না, সেটা কোরো না, এগুলো বলে তাদের কাজে বাধা দেবেন না। তার যেমন ইচ্ছে সে ভাবেই করুক। শিখতে শিখতে ভুল হবে‌। তারপর নিজেরাই শুধরে নেবে‌। স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে উঠতে দিন। এতে তাদের মন শক্ত হবে, আগামীর জন্য প্রস্তুত হবে।

ছেলে, মেয়ে বিভাজন সৃষ্টি করবেন না –

মেয়েরা এটা পারে, ছেলেদের ওটা করতে নেই, এটা মেয়েদের কাজ না, ছেলেদের কাঁদতে নেই – সমাজের এই তথাকথিত ভাবধারাকে তাদের মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেবেন না। এটা একুশ শতক। আধুনিক যুগে এভাবে ছেলে মেয়ে বিভাজন সৃষ্টি করে তাদের মনকে প্রভাবিত না করাই ভাল।

মুখের উপর ‘না’ বলবেন না –

কিছু করার আগে, অনুমতি চাইলে, মুখের উপর সরাসরি ‘না’ বলবেন না। এতে তাদের মনে ভয় চলে আসে। তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়।‌ বারংবার ‘না’ শুনলে, তাদের নতুন কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। ফলে ভুল কিছু মনে হলে, বুঝিয়ে বলাই ভাল।

তাদের থেকে দূরে সরে থাকবেন –

ব্যস্ততার সময় হয়তো কথা বলা যায় না বা শিশুদের প্রতিটা কথার উত্তর দেওয়া যায় না। কিন্তু এমন কোনও ব্যবহার করবেন না, যার কারণে ওরা কষ্ট পায়। এতে মনের উপর চাপ পড়ে। পরবর্তীতে দেখা যায় তারা ঠিক মতো মনের কথা খুলেই বলতে পারছে না।

‘শিশুদের মতো আচরণ কর না’ এভাবে বলবেন না –

ছোট থেকেই তারা বড়দের মতো আচরণ করবে, এটা ধরে নেওয়া ভু্ল। তারা ছোট এবং বায়না করা, আবদার করা, কান্নাকাটি করা এগুলো তাদের স্বাভাবিক আচরণ। আদর করে বুঝিয়ে কথা বললেই সমস্যা মিটে যায়। অযথা তাদের মনের উপর চাপ দিয়ে কথা না বলাই ভাল।

You might also like