Latest News

বর্ণময় কাশিমবাজার

রত্না ভট্টাচার্য্য
শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য

বিশেষ প্রয়োজন ও সতর্কতাব্যবস্থা ছাড়া এখনও বাড়ির বাইরে বেরতে মানা। করোনাভাইরাস জনিত লকডাউনের আনলক পর্ব চলছে। বেড়াতে যাওয়ার চ্যাপ্টার আপাতত ক্লোজ। বাসা-বন্দি বাঙালির প্রাণপাখি ছটফট করছে। তবুও ‘পায়ে পায়ে বাংলা’ যথারীতি প্রকাশিত হল। আপাতত ভ্রমণকাহিনি পাঠেই হোক বাঙালির মানসভ্রমণ।

বাংলা-বিহার-ওড়িশার রাজধানী মুর্শিদাবাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগেই বাংলার বিখ্যাত বাণিজ্যকেন্দ্র কাশিমবাজারের আবির্ভাব হয়েছিল। এই কেন্দ্রকে ঘিরে সেখানে দেশি ও বিদেশি বণিকরা ভিড় জমিয়েছিলেন। আনুমানিক ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে ত্রিবেণীর কাছে ভাগীরথীর গতিপথের পরিবর্তন হওয়ার জন্য সরস্বতী নদীতীরের বন্দর সপ্তগ্রামের বাণিজ্য হ্রাস পেতে থাকে। এরপরে বাংলার উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যবর্তী স্থানে আনুমানিক ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দ থেকে কাশিমবাজার বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করতে শুরু করে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে এলে কাশিমবাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য বহুগুণ বেড়ে যায়। সপ্তগ্রাম বন্দরের পরে আর কলকাতা বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে ওঠার মাঝে কাশিমবাজার ছিল বাংলার শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যকেন্দ্র।

বহরমপুর থেকে কাশিমবাজার সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সে সময় পদ্মা ভাগীরথী ও জলঙ্গী নদীবেষ্টিত ত্রিকোণ ভূমিখণ্ড ছিল কাশিমবাজার। তিন দিকে নদী থাকার কারণে জলপথ ও স্থলপথ উভয় দিকেই সুবিধা ছিল। তখন বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদ যেতে নৌকায় একদিন লেগে যেত কারণ এই দুই স্থানের মধ্যে একটা বড় বাঁক ছিল। দুই বাঁকের মধ্যে একটি খাল কেটে ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে পথের সময় কমানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু ভাগীরথীর প্রবাহ এই পথ দিয়ে চলতে শুরু করে। যে নদীর বাঁকে কাশিমবাজার বাণিজ্যকেন্দ্রটি ছিল তা একটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়। পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। যে অঞ্চল একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ, লোকলস্করে ভর্তি থাকত তা আস্তে আস্তে জনশূন্য হতে থাকে। কলকাতা বাণিজ্যকেন্দ্রের অগ্রগতির সঙ্গে লড়াই করে ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কালিকাপুর, শ্রীপুর, ভাটপাড়া, ফরাসডাঙ্গা, কুঞ্জঘাটা, বিষ্ণুপুর, দায়নগর, চুনাখালি প্রভৃতি জনপদ নিয়ে বৃহত্তর কাশিমবাজার ছিল।
কাশিমবাজার থেকে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে, পূর্ব এশিয়ার এবং ইউরোপের নানা দেশে পণ্যদ্রব্য রপ্তানি হত। রেশম ছিল প্রধান পণ্য, নানা রকমের রেশমি কাপড় এখানে তৈরি হত। তাছাড়া সুতির কাপড়, ঘি, লঙ্কা, নীল, মোম, কর্পূর, ফিটকিরি, পারদ, চিনামাটির বাসন, দস্তার সামগ্রী, হাতির দাঁতের জিনিসপত্র-সহ নানা জিনিসের ব্যবসা চলত।

কাশিমবাজারে ইংরেজদের কুঠি ছিল। ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা জব চার্নক এখানে মাসিক ২৫ টাকা বেতনের ইংরেজ কুঠির সহকারী অধ্যক্ষ ছিলেন। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস একজন সাধারণ কর্মচারী ছিলেন। ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার বিবাদ বাধলে নবাব কুঠি আক্রমণ করে ওয়ারেন হেস্টিংসকে বন্দি করে মুর্শিদাবাদে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কাশিমবাজারের কাছে কালিকাপুরে ওলন্দাজদের কুঠি, সৈদাবাদের ফরাসডাঙ্গায় ফরাসিদের কুঠি ও সৈদাবাদের শ্বেতা খাঁর বাজারে আর্মেনীয়দের বাণিজ্য কুঠি ছিল। এছাড়া বাঙালি ব্যবসায়ী, গুজরাতি ও মাড়োয়ারি বণিকরাও এসেছিলেন।

আধুনিক ইতিহাসবিদরা মনে করেন, কাশিমবাজারের আগে নাম ছিল মাসুমাবাজার। রণনিপুণ যোদ্ধা কাশিম খান হুগলি দুর্গ থেকে কয়েকজন সুন্দরী স্ত্রীলোক নিয়ে এসে এখানে রাখেন। তারপর এর নাম হয় কাশিমবাজার। অনেকে মনে করেন কাশিম খানের অকালমৃত্যুতে তাঁর স্মরণে এই স্থানের নাম রাখা হয় কাশিমবাজার। ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’ থেকে জানা যায় কাশিমবাজারের সমৃদ্ধির সময় পরপর গগনস্পর্শী অট্টালিকা এমন ঘন সন্নিবিষ্টভাবে ছিল যে লোকে ছাদের ওপর দিয়ে দুই-তিন ক্রোশ যাতায়াত করতে পারত। যা এখন আরব্য উপন্যাসের গল্প বলে মনে হয়।

কাশিমবাজার বিখ্যাত বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল সতেরো, আঠেরো ও উনিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত। তা যখন উন্নতির শিখরে ছিল তখন তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা বহু কিছুই আজ আর নেই। সেগুলি হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়েছে কাশিমবাজার তথা বাংলার অনেক ঐতিহ্য। এখানে বড় বড় জাহাজ ভেড়ানোর জন্য কাটিগঙ্গার তীরে বড় জাহাজঘাটা ছিল। ভগ্ন অবস্থার সেই জাহাজঘাটার জেটি ও ঘাটের সব ইট ১৯৭৬ সালে তুলে নেওয়ায় পুরনো ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে। কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি, কালিকাপুরের ওলন্দাজ দুর্গ, কুঠি ও গির্জা, শ্বেতা খাঁর বাজারে আর্মেনীয় কুঠি, সৈদাবাদের ফরাসডাঙ্গায় ফরাসি কুঠি, বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে থাকা কুঠি, বড় বড় অট্টালিকা কোনও কিছুর অবশিষ্টাংশ পর্যন্ত নেই। মহাজনটুলিতে বিখ্যাত প্রাচীন নেমিনাথের মন্দির জৈন বণিকরা তৈরি করেছিলেন। প্রস্তরনির্মিত নেমিনাথের মূর্তি উচ্চ আসনে ছিল, তার সঙ্গে মন্দিরের মধ্যে পার্শ্বনাথ-সহ ২৪ জন তীর্থঙ্করের মূর্তি ছিল। মন্দিরের পূর্ব দিকে এক বিশাল উদ্যান ও বড় জলাশয় ছিল যার নাম ছিল মধুগড়। শোনা যায়, বর্গী আক্রমণের সময় জৈন বণিকরা তাঁদের ধনরত্ন এখানে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সব মিলিয়ে এক বিরাট মন্দির এলাকা ছিল নেমিনাথের মন্দির। তার কোনও চিহ্নই আর বর্তমানে নেই, স্থানীয় মানুষরা বলতেও পারেন না মন্দিরের সঠিক অবস্থানের জায়গা। মধুগড় এখন একটি মজা পুকুরে পরিণত হয়েছে। মন্দিরের ২৪ জন তীর্থঙ্করের মূর্তি আজিমগঞ্জের মন্দিরে রক্ষিত আছে। এভাবে বহু মন্দির-দেবালয় আজ ধ্বংসস্তূপ বা মাটিতে মিশে গেছে।

অতীতের গরিমা না থাকলেও এখনও কাশিমবাজারে গিয়ে দাঁড়ালে অতীত বাংলা ও বাঙালির গৌরবের জন্য গর্ববোধ হয়। ইতিহাসের মণিমুক্তো ছড়িয়ে আছে কাশিমবাজারে। মন্দির, মসজিদ আর গির্জার সমাহার এমনভাবে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে রয়েছে খুব কম জায়গায়। এরকম অসাধারণ ঐতিহ্য অবহেলায় নষ্ট হতে দেখে কষ্ট হয়। অনুশোচনা হয় এই ভেবে যে এই বিপুল ঐশ্বর্য পর্যটনের এক বিরাট অংশ হতে পারত। এখনও যেটুকু আছে তার মধ্যে ঘুরে বেড়াতে মন্দ লাগবে না। এছাড়া প্রত্যেক বাঙালির উচিত বাঙালি শিক্ষা-সংস্কৃতির উৎসাহদাতা নন্দী পরিবারের রাজবাড়িটি ঘুরে দেখা।

কাশিমবাজার বড় রাজবাড়ি : কাশিমবাজারের শ্রীপুরে বাংলার অন্যতম রাজবাড়ি হতশ্রী অবস্থায় এখনও দাঁড়িয়ে আছে। সামনের জমি বিক্রি হয়ে বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। আর ক’দিন এই বাড়ি দেখতে পাওয়া যাবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। রাজবাড়ির ভেতরে যাওয়া বন্ধ। বহু ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ছে। অথচ বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকেও এখানে দুর্গাপূজা হত। উত্তরাধিকারীরা বাস করতেন। বাংলার অন্যতম রাজবংশ হিসেবে পরিচিত ছিল এই কাশিমবাজার রাজবংশ। ভালভাবে জানতে হলে আমাদের একটু পিছিয়ে যেতে হবে।

কাশিমবাজার সমৃদ্ধ বন্দর থাকাকালীন নানা দেশের বণিকরা এখানে কুঠি স্থাপন করে বাণিজ্য করতেন। কাশিমবাজার রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণকান্ত নন্দীর পূর্বপুরুষদের এখানে রেশম ও সুপারির ব্যবসা ছিল। কান্তবাবুর একটি মুদির দোকান ছিল বলে তিনি ‘কান্ত মুদি’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলা, ফারসি ও সামান্য ইংরাজি জানতেন। ইংরেজদের কুঠির সামনে তাঁর দোকান থাকায় তাঁর সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক ভাল ছিল। ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে সিরাজউদ্দৌলা কাশিমবাজারে ইংরেজ কুঠি আক্রমণ করলে পলাতক ওয়ারেন হেস্টিংসকে কেউ আশ্রয় দিতে রাজি হননি। কান্তবাবু নবাব সৈন্যের ভয় উপেক্ষা করে হেস্টিংসকে আশ্রয় দিয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে ওয়ারেন হেস্টিংস যখন গভর্নর হন তখন কান্তবাবু বন্ধু গঙ্গাগোবিন্দকে সঙ্গে নিয়ে হেস্টিংসের দরবারে হাজির হলেন। হেস্টিংস পূর্ব উপকারের স্বীকৃতিস্বরূপ কান্তবাবুকে উচ্চ রাজকার্যে নিযুক্ত করেন ও বহু ভূসম্পত্তি প্রদান করেন। পলাতক ওয়ারেন হেস্টিংসকে দুঃসময়ে রক্ষা করার জন্য কাশিমবাজার রাজপরিবারের এই বিশাল সম্পত্তি ও বৈভব। সেই আমলে কান্তবাবু বিশাল জমিদারি অর্জন করেছিলেন আইনি-বেআইনি নানা পথে। তিনি কাশিমবাজারের এই শ্রীপুর রাজপ্রাসাদ ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন।

কৃষ্ণকান্ত নন্দীর মৃত্যুর পর জমিদার হন তাঁর পুত্র লোকনাথ। তারপর তাঁর পুত্র হরিনাথ ও তারপর তাঁর পুত্র কৃষ্ণনাথ নন্দী জমিদার হয়েছিলেন। কৃষ্ণনাথের জন্ম ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শিক্ষাবিস্তারের জন্য বহু টাকা দানও করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন বহরমপুরে এমন কলেজ হবে যেখানে ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আইন ও চিকিৎসাবিদ্যা পড়ানো হবে। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর অকালপ্রয়াণের সময় জানা যায় তিনি একটি উইলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল তৈরির কথা লিখে রেখে গেছেন। রাজা কৃষ্ণকান্ত নন্দীর স্ত্রী মহারানি স্বর্ণময়ীদেবী রাজসম্পত্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বহরমপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। রানি স্বর্ণময়ী ও অন্য বহুজনের দানে কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। দানশীলা স্বর্ণময়ীদেবী দুর্ভিক্ষপীড়িতদের জন্য দান করেছেন, মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হস্টেল তৈরিতেও অনেক দান করেছেন। এরপর উত্তরাধিকারী হন কৃষ্ণনাথের বোনের ছেলে মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী। তিনিও আগের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে বহু জনদরদী কাজ করেছেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে, বিপ্লবীদের সহায়তায়, ভবানীচন্দ্র বোস বিজ্ঞান কলেজে, লুপ্তশিল্প উদ্ধারে, পত্রিকা প্রকাশে, মিউজিক স্কুল ও নাটক স্কুল স্থাপন-সহ বহু কাজে অর্থসাহায্য ও উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন বাংলা ১৩১৪ সনের ১৭ ও ১৮ কার্তিক কাশিমবাজার রাজবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মণীন্দ্রচন্দ্রর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হন শ্রীশচন্দ্র নন্দী ও তারপরে উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন শ্রীশচন্দ্রের পুত্র সোমেন্দ্রচন্দ্র নন্দী।

এখনও এই রাজপ্রাসাদে গেলে বাইরে থেকে দেখে সম্ভ্রম জাগে। বড় বড় থামের রাজপ্রাসাদের গাম্ভীর্য এখনও জানান দেয়। ওয়ারেন হেস্টিংস যখন কাশীর রাজা চৈতসিংহকে আক্রমণ করেন তখন কান্তবাবু তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরাজিত চৈতসিংহের প্রাসাদ থেকে কান্তবাবু একটি পাথরের দালান তুলে নিয়ে আসেন। কাশিমবাজার রাজবাড়ির বৃহৎ ঠাকুর দালান ও বারান্দা কারুকার্যখচিত রক্তাভ গোলাপি পাথরের প্রায় একশোটি থাম ও পঞ্চাশটি পত্রাকৃতি খিলান দিয়ে সজ্জিত। এগুলি কাশী থেকে আনা। এছাড়া চৈতসিংহের প্রাসাদে মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য কাশী রাজমাতার কাছ থেকে কৃষ্ণকান্ত নন্দী বহুমূল্য অলংকার, লক্ষ্মীনারায়ণ শিলা, রামচন্দ্রী মোহর, দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ ও একমুখী রুদ্রাক্ষ পেয়েছিলেন। এগুলি সবই রাজবাড়িতে পূজিত হত, বর্তমানে স্থানান্তরিত হয়েছে। দোতলায় লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের চারপাশে পদ্মের অতি সুন্দর ফুলকারি কাজ ছিল। বিশাল প্রবেশদ্বারে কাঠ খোদাইয়ের কাজ দেখা যায়।

আজ মূল দরজার ওপরে নোটিশ দেওয়া আছে, ‘রাজপ্রাসাদ দর্শন বন্ধ’। অনুমতিসাপেক্ষে প্রবেশ করলে ঐশ্বর্য ও বৈভবের খানিকটা আঁচ পাওয়া যায়। নীচে ঝোপজঙ্গলে সাপের আস্তানা, দোতলায় প্রবেশপথ বন্ধ, বিভিন্ন জায়গায় ছাদ খসে পড়েছে। এখনও হয়তো চেষ্টা করলে রাজপ্রাসাদ বাঁচানো যেতে পারে, না হলে খুব শীঘ্রই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বাংলার ঐতিহ্য ও গর্বের কাশিমবাজার রাজবাড়ি।
বহরমপুরে রাত্রিবাস করে কাশিমবাজার দেখে নেওয়া সুবিধার হবে। বহরমপুরে রাত্রিবাসের ঠিকানা : বহরমপুর টুরিস্ট লজ, ৪৮, কে এন রোড, দূরভাষ : ০৩৪৮২ ২৫৯৭৭১।

কাছেপিঠে আরও নানা জায়গায় বেরিয়ে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লাইনে।

পায়ে পায়ে বাংলা

You might also like