Latest News

ট্রেডমিলে বেশিক্ষণ দৌড়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে, চটজলদি ওজন ঝরাতে গিয়েই কি হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁচাতে পারলেন না ডাক্তারবাবুরা। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন কৌতুকশিল্পী রাজু শ্রীবাস্তব। জিম করতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) হয়েছিল তাঁর। তারপরেই জ্ঞান হারান। টানা ১৫ দিন অচেতন ছিলেন। ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল। মাঝে একবার জ্ঞান ফিরলেও আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জীবনই থেমে গেল। কমবয়সী হোক বা পঞ্চাশোর্ধ, ট্রেডমিল করুন, ওয়েট ট্রেনিং বা কার্ডিও যাই করুন না কেন, সময় ও শরীর বুঝেই করা উচিত। সিদ্ধার্থ শুক্লর কথা মনে আছে তো?জনপ্রিয় এই টিভি স্টার মাত্র চল্লিশেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছিলেন। শোনা গিয়েছিল, মাত্রাতিরিক্ত জিম করাই কাল হয়েছিল তাঁর।

সম্প্রতি বাঁশদ্রোণীর এক তরুণী ঋতিকা দাসের মৃত্যু হয়েছে জিম করতে করতেই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই তরুণী। বুকে ব্যথা (Heart Attack) হচ্ছে বলে জানান বাকিদের। হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতেই সব শেষ।

exercise

ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম করছেন, আপনার শরীরে সইবে তো?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন খবরের কাগজে, অনলাইন মাধ্যমে, টিভির পর্দায় সারা ক্ষণ শরীরচর্চা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এক্সারসাইজ করতে হলে তা সঠিকভাবে করাই উচিত। নানারকম বিজ্ঞাপন দেখে, অ্যাপ নির্ভর ফিটনেস টিপস দেখে ব্যায়াম করতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধাচ্ছেন অনেকে। এখন প্রায়শই শোনা যায় ট্রেডমিলে দীর্ঘক্ষণ দৌড়তে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) হচ্ছে। আপনি রোজ নিয়ম করে জিম বা কার্ডিও করছেন মানেই আপনি ফিট তা কিন্তু হয়। আপনার হার্ট দুর্বল কিনা তা হয়ত আপনি নিজেই জানেন না। এর মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেডমিলে স্পিড বাড়িয়ে ছুটলে হিতে বিপরীত হতে বাধ্য।

Heart Check Up

রাজু শ্রীবাস্তব প্রয়াত, বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর

এখনকার বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে কমদিনে রোগা হতে গিয়ে অনেকেই অতিরিক্ত এক্সারসাইজ করে ফেলছেন যা শরীর সইতে পারছে না। একদিকে যেমন বাড়তি ঘাম ঝরাচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে কম খেয়ে বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলছেন । শরীর সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে না, ফলে ভিটামিন ও মিনারেলসের অনুপাতের তারতম্য হচ্ছে। ফলে নানা অসুখ বাসা বাঁধছে চুপিসারে।

শরীরচর্চার নিয়ম আছে, মেদ ঝরুক ধীরে ধীরেই

অনেকেই চটজলদি ওজন কমাতে গিয়ে স্বল্প সময়ে শর্ট কাট পদ্ধতির সাহায্য নেন। এর ফলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ওজন কমানোর একমাত্র বিজ্ঞানসম্মতভাব পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন ১ ঘণ্টা করে শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি করা দরকার (Health Care)। গা ঘামিয়ে ব্যায়াম বা মর্নিং ওয়াকের বদলে অনেকে স্লিমিং সেন্টারে গিয়ে চটজলদি ওজন ঝরানোর চেষ্টা করেন। এর ফলে সাময়িক কিছুটা ওজন কমলেও নিয়ম না মানলেই আবার বেড়ে যাবে।

Unlock 3: Why it is unwise to re-open gyms - The Week

কী কী নিয়ম মানবেন

প্রথমেই রক্তচাপ, হার্টের অবস্থা ও রক্তে শর্করার মাত্রা জেনে নিয়ে তবেই ওজন কমানোর জন্যে শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি শুরু করতে হবে।

অনেক সময় ওজন কমাতে গিয়ে হাঁটা চলা শুরু করলে বুক ধড়ফড় করে ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ট্রেড মিল টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিত।

খাওয়াদাওয়ার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে ভাবেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে যা ইচ্ছে খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু জাঙ্ক ফুড বা প্রসেস করা খাবার বা বেশি পরিমাণে ভাজাভুজি খেলে শরীরের যে পরিমাণে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়, তা শুধু ব্যায়াম করে সারানো সম্ভব নয়।

অনেকেরই অজান্তে ধমনীতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমতে থাকে। ধমনীর মধ্যে দিয়ে রক্ত সঞ্চালনের সময় ওই জমে থাকা পদার্থের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেখান থেকে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। বিশেষত, অতিরিক্ত পরিশ্রম করার সময় এমন সমস্যা হওয়ার ভয় বেশি থাকে। উত্তেজিত হলে বা বেশি পরিশ্রম করলে স্বাভাবিকের তুলনায় হার্টের স্পন্দন বাড়ে। ফলে হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। জিমে ঘাম ঝরানোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

৪০ বছর বয়সের পরে জিমে যাওয়া শুরু করলে আগে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করান। মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে ও একটা ইসিজি করিয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা থাকলেও তা ধরা পড়ে যাবে। জিম প্রশিক্ষককে চিকিৎসকের করা প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে বা ডাক্তারবাবুর দেওয়া পরামর্শের কথা বলতে হবে। তাহলে সংশ্লিষ্ট ফিটনেস বিশেষজ্ঞ রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ব্যায়াম করতে দেবেন।

দীর্ঘক্ষণ কার্ডিও করা হার্টের পক্ষে ভাল নয়। যাঁরা সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা করে দৌড়ন, তাঁদের শারীরিক ফিটনেস ভাল হলেও হার্টের চার পাশের পেশিগুলি সঙ্কুচিত হতে থাকে। তাতে ঝুঁকি বাড়ে।

ব্লাড প্রেশার খুব বেশি হলে হাল্কা থেকে মাঝারি কার্ডিও বা অ্যারোবিক এক্সারসাইজ এবং সঙ্গে ওয়েট ট্রেনিং করা সবচেয়ে ভাল।

জিম করার পাশাপাশি অনেকেই রোগা হওয়ার ওষুধ খান। এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে হজম ক্ষমতা কমে যায়, অবসাদ বেড়ে যায়।

ক্র্যাশ ডায়েট নয় ব্যালান্সড ডায়েট মানতে হবে

ডায়েট মানে হল ব্যালান্সড চার্ট (Diet)। মানে যার শরীরে যতটা সয়, তাকে ঠিক ততটাই খাবার দেওয়া। আর খাবার দিলেই হল না, তাতে পুষ্টি উপাদান কতটা আছে সেটাও যাচাই করা দরকার। ডায়েট সকলের ক্ষেত্রে সমান নয়। শরীরচর্চা শুরু করলে সেই মতো ডায়েটও মেনে চলতে হবে। অনেকেই ভাবেন এক্সারসাইজ করতে যা খুশি খাওয়া যায় সেটাও যেমন ভুল, তেমনি অনেকে আবার কম খেতে শুরু করেন। সেটাও ভুল।

5 Heart-Healthy Food Swaps | Johns Hopkins Medicine

বয়স, পেশা, রোজকার অভ্যাস, মেডিক্যাল হিস্ট্রি, পরিবারে রোগের ইতিহাস, ইত্যাদি দেখেশুনে যাচাই করে ক্য়ালোরির হিসেব কষে ডায়েট চার্ট বানিয়ে দেন পুষ্টিবিদেরা। এইচার্ট বানানো কিন্তু সহজ কাজ নয়, সবটাই জটিল অঙ্ক। যিনি অ্য়ানিমিয়ায় ভুগছেন তাঁর ডায়েট চার্ট একরকম হবে আবার যাঁর হাই কোলেস্টেরল-ওবেসিটি তাঁর ডায়েট অন্যরকম হবে। কারও চার্টে শুধু প্রোটিন বেশি থাকবে, কেউ আবার কার্বোহাইড্রেট ছুঁতেই পারবেন না। কিন্তু এরপরেও শরীরে ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার সবকিছুর পরিমাণ সমান সমান থাকবে, এনার্জি ফ্লো-ও ঠিক রাখতে হবে।

ব্যালান্সড ডায়েট রোজকার যাপনে মেনে চলাই যায়। এতে আলাদা করে বিশাল খরচের ব্যাপার নেই, ঘরে যা রোজকার খাওয়াদাওয়া তারই একটু এদিক ওদিক করে ডায়েট (Diet) মানা যায়। কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল সব থাকবে ব্যালান্সড ডায়েটে। শাকসবজি, বিশেষ করে সবুজ শাকসবজি, স্যালাড যেন রোজের খাদ্যতালিকায় থাকে। ডাল, রুটি ফাইবারের জোগান অটুট রাখবে। গোটা ফলেও প্রচুর ফাইবার থাকে। আবার ঘি, সর্ষের তেল, তিলের তেল, আখরোট, কাজু, আমন্ড ফ্যাটের চাহিদা পূরণ করবে।

প্রতিদিন খাবার পাতে ৪০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট রাখতে হবে। রাতের দিকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণটা কমিয়ে দিন। সুষম ডায়েট বা ব্যালান্সড ডায়েটে শরীর-রসনাকে বঞ্চিত করে কিছু করা হয় না। সবই খান কিন্তু মেপে আর সময় বুঝে। তাতেই ওজন কমবে সমানুপাতিকভাবে।

You might also like