Latest News

সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন? মেয়েরা কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন?

সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে এখন অনেকেই দেরিতে বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতেও দেরি হয়। তাই অনেকেরই প্রশ্ন থাকে সন্তান নেওয়ার আদর্শ বয়স কত। কোন সময় মিলিত হলে ভাল ফল পাওয়া যাবে, কী কী বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে।

সব মায়েদেরই প্রশ্ন কোন বয়সে মেয়ে সন্তানধারণ করবে, কোন বয়সে গর্ভবতী হলে সুস্থ সন্তানের জন্ম হবে। এইসব নিয়েই মায়েদের প্রশ্নের জবাব দিতে দ্য ওয়ালের ঘরে-বাইরে বিভাগের নতুন সিরিজ ‘মা ও মেয়ে’-তে এবারের বিষয় বেবি-প্ল্যানিং। আর এই বিষয়ে বুঝিয়ে বলেছেন ক্রেডেল ফার্টিলিটি সেন্টারের বিশিষ্ট গাইনোকলজিস্ট ডক্টর এসএম রহমান। ডাক্তারবাবুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তনিমা সেন।

ডাক্তারি শাস্ত্র অনুযায়ী একটি মেয়ে মা হতে গেলে কোন বয়সটা আদর্শ ?

ডাক্তারির দিক থেকে বলতে গেলে মা হওয়ার আদর্শ বয়স হল ২১ থেকে ৩০ বছর। অর্থাৎ একটি মেয়ের ফার্টিলিটি বা উর্বরতা এই বয়সেই সবচেয়ে বেশি থাকে। ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে ওভারিয়ান ফাংশন বা ওভুলেশন কিছুটা ব্যাহত হয়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ভারতীয় মহিলাদের ৩৩ বছরের পর থেকে সন্তানধারণে নানারকম সমস্যা আসতে পারে। প্রথমত, ফার্টিলিটি কমতে থাকে, দ্বিতীয়ত সন্তানধারণ করলেও সন্তানের মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ৩০ বছরের মধ্যে বেবি প্ল্যানিং করা সবচেয়ে ভাল।

মেয়েরা যখন সন্তান নেওয়ার কথা ভাবে, তখন কী কী বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে?

ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে ‘প্রি-কনসেপশনাল কাউন্সেলিং’ । ভারতে এমন ধারণা আগে কম ছিল, এখন বাড়ছে। আমাদের দেশে এখন এই বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। মা হওয়ার কথা ভাবলে মহিলারা এখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেন। সেক্ষেত্রে মেডিক্যাল হিস্ট্রি চেক করা হয়। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড—এই তিনটি দিক মাথায় রাখা হয়। এগুলির কোনও একটি থাকলে সন্তানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অনেকের মৃগী রোগ থাকে, সেক্ষেত্রে দেখা হয় তিনি মা হতে পারবেন কিনা। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা হার্টের রোগ থাকলেও মা হওয়া যায়। তখন আগে থেকেই শরীরকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে গর্ভস্থ শিশু ও মা দুজনের শরীরই সুস্থ থাকতে পারে।

কারও পরিবারে জিনগত রোগ থাকলে তার আলাদা কাউন্সেলিং করা হয়। ক্রোমোজোম টেস্ট বা মাইক্রোঅ্যারে করা হয়। থ্যালাসেমিয়া থাকলে তার স্ক্রিনিং করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। প্রি-ন্যাটাল টেস্ট করে দেখে নেওয়া হয় বাচ্চাটির মধ্যে রোগ আসতে পারে কিনা। তাই আগে থেকে পরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করলে প্রেগন্যান্সিতে কোনও সমস্যা আসবে না।

হবু বাবারা কীভাবে নিজেদের তৈরি রাখবেন?

ছেলেদের ক্ষেত্রে মানসিকভাবে প্রস্তুতি খুব দরকার। যদি ছেলেদের কোনও জেনেটিক রোগ থাকে তাহলেও সেটাও সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রি-ন্যাটাল টেস্ট ও জিনগত সমস্যা আছে কিনা তার কাউন্সেলিং করিয়ে নেওয়া দরকার।

কোন সময়টা মেয়েদের ফার্টিলিটি বেশি থাকে, কখন মিলিত হলে ভাল ফল হবে?

ঋতুচক্রের সাইকেল ২৮ দিনের হলে ১৪ দিনের আশেপাশে ওভুলেশন (ডিম্বানু তৈরির প্রক্রিয়া) হয়। ওভুলেশনের আগে ১৬ দিন বা ১৭ দিনের মাথায় মিলিত হলে ভাল। আবার কারও যদি ৩২ দিনের সাইকেল হয়, তাহলে ১৮ দিনের আশপাশে ওভুলেশন শুরু হয়। ঋতুচক্র যতদিনের তার থেকে ১৪ দিন বাদ দিলে ওভুলেশনের দিন ঠিক করা হয়। সেইমতো তার আগের দুদিন বা পরের তিন থেকে চারদিন মিলিত হওয়ার জন্য ভাল।

সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু দেরি হচ্ছে, কী করবেন?

এই ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন আছে। মেয়ের বয়স যদি ৩৫ বছরের কম হয় তাহলে সময়টা ১২ মাস বা ১ বছর। আর যদি বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয় তাহলে ৬ মাস চেষ্টা করার পরে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভাল। যদি স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই সুস্থ থাকেন, এর পরেও ফার্টিলাইজেশন হচ্ছে না, তাহলে সমস্যা আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। সেক্ষেত্রে টেস্ট টিউব বেবির দিকে যাওয়া যেতে পারে। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ এই দশ বছরে আইভিএফ বা টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে এত চর্চা ছিল না, সামাজিক নানা বাধাও ছিল। ১৯৯০ সালের পর থেকে আইভিএফ নিয়ে অনেক বেশি গবেষণা ও কাজকর্ম হয়েছে, সাফল্যের হারও বেশি।

অনেক বেশি বয়সে বিয়ে করেছেন, মা হতে চাইছেন?

অনেকেই আছেন বেশি বয়সে মা হতে লজ্জা পাচ্ছেন, নানা সমস্যার কথাও ভাবছেন। কিন্তু মা হওয়া একটি মেয়ের অধিকার। সেখানে শারীরিক ও মানসিক দিকটা অনেক বেশি জরুরি। নিজে সুস্থ থাকলেই সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়া যায়।  তাই ভয় পাবার বা লজ্জার কিছু নেই।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like