Latest News

পৌষ পার্বণে পিঠের স্পেশাল রেসিপি

একটা সময় ছিল, যখন শহর হোক বা গ্রাম, পৌষসংক্রান্তির দিন বাঙালির হেঁশেল ম-ম করত পিঠেপুলি আর পায়েসের গন্ধে। তখন ছিল মাটির উনুন, কাঠের জ্বাল, আর নতুন কেনা মাটির সরায় মা ঠাকুমার হাতে তৈরি হত নানা ছাঁদের পিঠে। সময় বদলেছে, বদলে গেছে আমাদের পাকঘরের চেহারাও। তবু পিঠে নিয়ে বাঙালির নস্টালজিয়া কমেনি এতটুকুও। আজও পৌষ সংক্রান্তি মানেই বাঙালির পিঠে খাওয়ার উৎসব। সংক্রান্তির ঠিক আগেই তিনটি তিন ধরনের পিঠের রেসিপি দিলেন রন্ধন-শিল্পী রুকমা দাক্ষী।

ইছামুড়া
উপকরণ- নারকেল কোড়া ১ কাপ, চালের গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, ১৫০ গ্রাম গুঁড়ো করা ক্ষোয়া ক্ষীর, ২০০ গ্রাম খেজুর গুড় আর সাদা তেল ভাজার জন্য।
প্রণালী– প্রথমে হাল্কা আঁচে নারকেল কোরা, খোয়া ক্ষীর ও গুড় মিশিয়ে পাক দিন। ভালো করে পাক ধরে এলে আঁচ থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে দিন। এবার নারকেলের মিশ্রণে ময়দা ও চালের গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে ঠেসে দিন। যদি মনে হয় ভালো করে আটার মত মাখা হয়নি তাহলে প্রয়োজন মত আরও একটু ময়দা আর চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন। এইবার এই মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে পাশবালিশের আকারে গড়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে এবার ইছামুড়া বেশ লাল লাল করে ভালো ভাবে ভেজে তুলুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে কৌটতে ভরে রেখে দিন। খাবার শেষ পাতে এই মিষ্টি পরিবেশন করুন। ইছা মানে চিংড়ি, এই মিষ্টি যেহেতু গলদা চিংড়ির মাথা ভাজার মত দেখতে হয় তাই এমন নামকরণ এই সুস্বাদু খাদ্যটির।

গুড়ের প্রাণহরা
উপকরণ- ফুল ক্রিম দুধ- ২ লিটার, সাদা ভিনিগার ৩ টেবিল চামচ, জল ১ কাপ, খেজুর গুড় ৩ টেবিল চামচ, কনডেন্স মিল্ক ৩ টেবিল চামচ, ২০০ গ্রাম খোয়া ক্ষীর (গ্রেট করা)।
প্রণালী– প্রথমে দুধ ভালো করে ফোটাতে হবে। দুধ ফুটে উঠলে তাতে ভিনিগার দিন। যখন দেখা যাবে দুধে ছানা কেটে গেছে তখন জল মিশিয়ে ফোটাতে হবে, ফুটে গেলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। ছানা ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে যাতে টক ভাবটা পুরোটা কেটে যায়। ধোওয়া হয়ে গেলে ছানা থেকে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিয়ে ছানাকে দু-ভাগ করে নিতে হবে। এরপর এক ভাগ ছানার সঙ্গে গুড় মিশিয়ে ভালো করে মাখতে হবে প্রায় দশ মিনিট ধরে। ছানা মাখাটা মোলায়েম হতে হবে। এবার একটা ননস্টিক প্যানে মেখে রাখা ছানা ও কনডেন্স মিল্ক দিয়ে মিনিট চারেক মাঝারি আঁচে নাড়তে হবে দেখবেন যখন মিশ্রণটা প্যানের ধার থেকে ছেড়ে আসবে তখন আঁচ থেকে নামিয়ে নিতে হবে। এবার বাকি ছানার সঙ্গে রান্না করা ছানা আবার প্রায় দশ মিনিট ধরে নাড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে পছন্দমত সাইজের বলের আকারে সন্দেশের মত বানিয়ে ফেলে ওপর দিয়ে গ্রেট করা খোয়া ক্ষীর ছড়িয়ে দিলেই রেডি গুড়ের প্রাণহরা।

মুগ সামালি
উপকরণ- মুগ ডাল ১ কাপ, চালের গুঁড়ো ১/২ কাপ, নুন স্বাদমত, কাঁচালংকা কুচি ২ চা চামচ। পুরের জন্য – নারকেল কোরা ১ টি, গুড় ২০০ গ্রাম। ভাজার জন্য – সাদা তেল।
প্রণালী– প্রথমে নারকেল কোরা আর গুড় মিশিয়ে আঁচে চাপান, যখন দেখবেন বেশ পাক ধরেছে তখন গ্যাস থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। অন্য একটা কড়াইতে মুগডাল হাল্কা করে শুকনো খোলায় ভেজে নিতে হবে। ভাজা ডালটা এবার অল্প পরিমান জলে দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে, লক্ষ রাখতে হবে ডালে জলের পরিমাণ যেন বেশি না থাকে এবং ডাল খুব বেশি সেদ্ধ হয়ে একদম গলে না যায়। ডালটা একটু কচা কচা মত রাখতে হবে। ডালের মিশ্রণটা ঠাণ্ডা হলে তাতে পরিমাণ মতো চালের গুঁড়ো, লংকা কুচি আর নুন দিয়ে ভালো করে আটার মত মেখে নিতে হবে। এবার ডালের মণ্ড থেকে লেচি কেটে নিয়ে প্রতিটা লেচির মধ্যে আগে বানিয়ে রাখা নারকেলের পুর ভরে পুলির আকারে গড়ে নিতে হবে। এরপর কড়াইতে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে পিঠেগুলো ভাজতে হবে। পিঠেগুলো সোনালি হয়ে এলে নামিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন মুগ সামালি। গরম হোক বা ঠাণ্ডা শীতের বিকেলে খেতে কিন্তু দারুণ লাগবে এই মুগ সামালি।

You might also like