Latest News

আবার জন্ম নেওয়ার সুযোগ পেলে চিকিৎসকই হতে চাই: ডক্টর মহেশ গোয়েঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য পার হয়েছে ১ জুলাই, চিকিৎসক দিবস। ডক্টর বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে পালিত হয় এই দিবস। গত বছরের মতোই এবছরও এমন একটা সময়ে এই দিবসটা এসেছে, যখন চিকিৎসকরা তাঁদের জীবনের এবং পেশার এক অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছেন। এই দিনেই এই যুদ্ধকালীন সময়টি নিয়ে দ্য ওয়ালের মুখোমুখি অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের ডিরেক্টর, ডক্টর মহেশ গোয়েঙ্কা।

দ্য ওয়াল: গত দেড় বছরের এই কোভিড পরিস্থিতি, কীভাবে দেখছেন, কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন এই সময়কে?

ডক্টর গোয়েঙ্কা: যখন প্রথম কোভিড ব্রেক করল, আমি তখন ব্রাজিলে ছিলাম। হঠাৎ করে চারদিকে কী যেন হয়ে গেল। কিছুই জানি না, কোনও ধারণাই নেই, কলকাতা কীভাবে ফিরব তখন, সেটাই ভাবছি। আমরা সকলেই পড়াশোনা করে ডাক্তার হয়েছি, এতদিনের কেরিয়ার, কিন্তু এই কোভিড যেন সিলেবাসের বাইরে আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়া একটা সমস্যা। আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। এই অপ্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের কাছে। সোশ্যাল ডিসটেন্সিং, পরিচ্ছন্নতা, মাস্ক পরা ছাড়া আর কোনও অস্ত্রও নেই।

আরও পড়ুন: প্রথম সারিতে লড়ছেন চিকিৎসকরা, ওঁদের আত্মত্যাগ অতুলনীয়: রানা দাশগুপ্ত

গত দেড় বছরে আমরা শিখেছি, এই কোভিড মহামারী একটা পরিবর্তনশীল পদ্ধতির মতো এগিয়ে চলছে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি যেমনটা এগিয়েছে, আমরাও তেমনটা শিখেছি। আমরা পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছি। এসবের মধ্যেই ভ্যাকসিনের আবিষ্কার আমাদের খানিকটা শক্তি জুগিয়েছে। একেবারে শূন্যহাতে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলাম, সেখান থেকে যেন খড়কুটো হলেও কিছু হাতে পাওয়া গেছে। এটা একটা খুব বড় সাফল্যও, গত দেড় বছরে।

দ্য ওয়াল: বিশেষ কোনও চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছেন?

ডক্টর গোয়েঙ্কা: এবছর মার্চে আমরা ভেবেছিলাম, আমরা প্রায় জিতেই গেছি। কিন্তু তখনই ঝাঁপিয়ে পড়ল দ্বিতীয় ঢেউ। এই সময়ে সরকারি, বেসরকারি– সমস্ত ক্ষেত্র, সমস্ত প্রতিষ্ঠান যেভাবে একযোগে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল, যেভাবে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এল, ভাবা যায় না। বহু নন কোভিড হাসপাতালকে কোভিড করা হল, একজন চিকিৎসক কোভিড এক্সপার্ট হোন বা না হোন, তিনিও যেভাবে লড়াই করলেন, তা অনবদ্য। এত অল্প সময়ে এভাবে রুখে দাঁড়ানো সত্যিই উদাহরণ। আমি এইখানেই এই পেশাটার জন্য গর্ববোধ করি। এত কম সময়ে কোভিডের এত বড় দাপটকে যেভাবে সামলালাম আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, তা ভাবা যায় না। তৃতীয় ঢেউ আসবে কিনা, তা কতটা খারাপ হবে আমরা জানি না। কিন্তু যাই হবে, আমরা এখন অনেকটাই প্রস্তুত।

আমি একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট। আমার পক্ষে সম্ভবই নয় রোগীর সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা। একজন রোগী এমার্জেন্সিতে আসছেন, ব্লিডিং হচ্ছে, আমি কীভাবে তখন তাঁর টেস্ট এবং স্ক্যানিং করানোর সময় আলাদা করে নেব, কী করেই বা নিজে দূরে থেকে চিকিৎসা করব। তখন আমায় ঠিক যতটা দরকার ততটা চিকিৎসাও করতে হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হচ্ছে, আমি যেন ওই রোগীর থেকে সংক্রামিত না হই বা ওই রোগী যেন আমার থেকে সংক্রামিত না হন। এটাও একটা খুব বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের কাছে।

এরকম বহু কেস হয়েছে, খুব কাছ থেকে চিকিৎসা করার পরে আমি বা আমার টিমের কোনও সদস্য জানতে পেরেছেন, রোগী করোনা পজিটিভ ছিলেন। কিন্তু এটা হলেও ভয় পাওয়ার, পিছিয়ে আসার, আপস করার কোনও জায়গা নেই। করতে হবে, এটাই চূড়ান্ত একটা ব্যাপার। এটাই আমাদের পেশা।

দেখুন কী বলছেন ডাক্তারবাবু।

দ্য ওয়াল: ১ জুলাই ডক্টর্স ডে, এই দিনটার তাৎপর্য আপনার কাছে কতটা?

ডক্টর গোয়েঙ্কা: এই দিনটা আমাদের চিকিৎসকদের জন্যই। আমরা চিকিৎসকরা এই পেশায় শুধু পরিষেবা দিই না, আমরা নিবেদিত করেছি নিজেদের। এখন চিকিৎসার বাণিজ্যিকরণ হলেও, দিনের শেষে কিছু অভিযোগ থাকলেও এটা একটা নোবেল প্রফেশন। কোনও চিকিৎসক কখনওই ইচ্ছাকৃত ভাবে রোগীর ক্ষতি করেন না, ভুল চিকিৎসা করেন না। কিন্তু একইসঙ্গে, ডক্টররা ভগবান নন। এটাও সকলকে বুঝতে হবে। আমি যদি আবার জন্মানোর সুযোগ পাই, ডাক্তার হয়েই জন্মাতে চাইব।

You might also like